
শেরপুরের নকলা উপজেলার চন্দ্রকোনা বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে ব্যাপক জালিয়াতি ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ২০১৫ সালের ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি এবং ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের স্বাক্ষর জাল করে প্রায় ৯ বছর পর ২০২৪ সালে এক শিক্ষিকাকে বিদ্যালয়ে যোগদান করানোর অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসী ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ২৮ জুলাই নিয়োগ দেখিয়ে প্রায় ৯ বছর পর ২০২৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি আলেয়া খাতুন নামের এক শিক্ষিকাকে বিদ্যালয়ে যোগদান করানো হয়। ওই নিয়োগের পক্ষে ২০১৫ সালের ১১ এপ্রিল (শনিবার) দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকার ৪ নম্বর পাতায় একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দাবি করা হলেও অনুসন্ধানে সেদিনের পত্রিকায় এ ধরনের কোনো বিজ্ঞপ্তির অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
এ ছাড়া, ২০১৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত কার্যনির্বাহী সভায় ওই শিক্ষিকাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে কাগজপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ তৎকালীন প্রধান শিক্ষক, শিক্ষক প্রতিনিধি ও অভিভাবক প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দাবি করেছেন, ওই সময় এ ধরনের কোনো নিয়োগই হয়নি এবং নথিপত্রে তাদের স্বাক্ষর সম্পূর্ণ জাল করা হয়েছে।
চন্দ্রকোনা বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রধান শিক্ষক মোখলেছুর রহমান জানান, তার দায়িত্ব পালনকালে এ ধরনের কোনো নিয়োগ হয়নি এবং অভিযুক্ত শিক্ষিকা আলেয়া খাতুনকে তিনি চেনেনও না।
একই দাবি করে তৎকালীন শিক্ষক প্রতিনিধি মো. জাবেদ আলী ও মো. স্বপন খান জানান, নিয়োগসংক্রান্ত কাগজপত্রে তাদের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। এ ছাড়া অভিভাবক প্রতিনিধি নূর মোহাম্মদও এ নিয়োগের বিষয়ে সম্পূর্ণ অজ্ঞতা প্রকাশ করে তার স্বাক্ষর জাল হওয়ার কথা জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত শিক্ষিকা আলেয়া খাতুনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, যথাযথ নিয়ম মেনেই তার নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে।
অন্যদিকে, বর্তমান প্রধান শিক্ষক মো. শরিফুল ইসলামের বক্তব্য জানতে একাধিকবার বিদ্যালয়ে গিয়ে ও মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এর আগেও এ বিদ্যালয়ে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগকে কেন্দ্র করে ৩০ লাখ টাকার আর্থিক লেনদেনের একটি কল রেকর্ড ফাঁস হয়েছিল বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রেজুয়ান জানান, ২০২৪ সালে স্থানীয়ভাবে নতুন করে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এ নিয়োগের বিষয়ে তিনি আগে অবগত ছিলেন না। বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
আরটিভি/টিআর



