
পুরান ঢাকার বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রীকে ধর্ষণের হুমকি দেওয়া বাসের হেলপারকে গ্রেপ্তারে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে ওই প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা। এরপরই তারা আন্দোলন সাময়িকভাবে স্থগিত করে।
রোববার (২১ নভেম্বর) সকাল ৯টা থেকে রাজধানীর বকশিবাজার মোড়ে সড়ক অবরোধ করেন তারা। পরে অভিযুক্ত বাসের হেলপারকে গ্রেপ্তারসহ ৮ দফা দাবি জানিয়ে দুপুর ১২টার দিকে আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দেন তারা।
তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে, শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া নিশ্চিত করা, ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে হয়রানিমূলক আচরণ না করা, শিক্ষার্থীদের বাস থেকে নামানোর সময়ে বাস থামাতে হবে, শিক্ষার্থীদের বাসে উঠতে দেওয়া, বাসে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ধর্ষণের হুমকি প্রদানকারীকে আইনের আওতায় আনা, রায়েরবাগ-শনিআখড়া-কাজলা-সাইনবোর্ড এলাকায় সব ধরনের বাস থামাতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের উঠতে বাধা দেওয়া যাবে না।
দাবি আদায় না হলে আগামীকাল আবারও রাস্তায় নামার ঘোষণা দিয়ে আজকের মতো বিক্ষোভ শেষ করেন শিক্ষার্থীরা। এর আগে সকাল ৯টা থেকে রাজধানীর বকশিবাজার মোড়ে সড়ক অবরোধ করেন তারা।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থী মারিয়া আক্তার বলেন, হাফ ভাড়া দিতে চাওয়ায় আমাদের সহপাঠীকে ধর্ষণের হুমকি দিয়েছে এক বাসের হেলপার। এটা খুবই উদ্বেগজনক ও আতঙ্কের। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। এ ধরনের পরিবহন শ্রমিককে গ্রেপ্তার করে অবশ্যই আইনের আওতায় আনতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা নারীরা বাসে বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হই। নানান অশোভন আচরণ করে বাসের হেলপাররা। আমরা এর প্রতিকার চাই। আমাদের হাফ ভাড়া নিতে হবে, সেই দাবিও জানাই।
অন্য এক শিক্ষার্থী বলেন, বাসে উঠতে চাইলে বাস ঠিকমতো থামায় না। আবার নামার সময় ভালোভাবে নামায় না। আবার নানান ধরনের হয়রানি করে। বিশেষ করে বাসে ওঠা-নামার সময়ে শারীরের স্পর্শকাতর স্থানে তারা টাচ করে। আমরা এসব থেকে পরিত্রাণ চাই।
আজ রোববার সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর বকশীবাজার মোড়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন বদরুন্নেসা কলেজের কয়েকশ’ শিক্ষার্থী।
হুমকির শিকার ওই ছাত্রী জানান, রাজধানীর শনিরআখড়া থেকে কলেজে আসার জন্য ঠিকানা পরিবহনের বাসে ওঠেন তিনি। শনিরাখড়া থেকে কলেজের ভাড়া ১০ টাকা। কিন্তু ওই ছাত্রীর কাছ থেকে ১৫ টাকা ভাড়া রাখা হলে তিনি নিজেকে স্টুডেন্ট বলে ১০ টাকা ফেরত চাইলে চালকের সহকারী তার সঙ্গে খারাপ ভাষায় কথা বলেন। পরে কলেজের সামনে বাস থেকে নেমে যাওয়ার সময়ে তাকে ৫ টাকা দিয়ে ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতনের হুমকি দেন।
ওই ছাত্রী আরও বলেন, বাসটি চলন্ত অবস্থায় থাকায় বাসটির নম্বর মনে রাখতে পারিনি।
কেএফ/টিআই




