ঢাকা শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

ভাড়ায় ডাকাতি করতে বিমানে দেশে, কাজ শেষে ফেরেন ইউরোপে

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৩ পিএম
এআই প্রতীকী ছবি।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে কেন্দ্র করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে একাধিক মাফিয়া ডাকাত চক্র। চক্রগুলো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে টার্গেট করা ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে গাড়ি থেকে নামিয়ে হাতকড়া পরিয়ে তুলে নিয়ে যাচ্ছে। ডাকাতি শেষে চক্রের সদস্যরা দ্রুত ঢাকা ছেড়ে চলে যায় বিদেশে বা প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে। গোয়েন্দারা বলছেন, পেশাদার ডাকাতরাই এখন ভাড়ায় খাটছে। তাদের অনেকের নামে রয়েছে একাধিক মামলা।

ভাড়াটে ডাকাতদের একজন পাবনার চাটমোহর থানার নবীন পূর্বপাড়ার বাসিন্দা মো. শহিদুল ইসলাম (৪৩)। সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশে তার ‘মেসার্স কৃষি ভান্ডার’ নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সবার কাছে সে ব্যবসায়ী হিসাবে পরিচিত হলেও বাস্তবে দুর্ধর্ষ ডাকাত। ডাকাতিতে ব্যবহৃত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পোশাক, হাতকড়া, ওয়াকিটকি সবই রয়েছে তার। শাহজালাল বিমানবন্দর ও এর আশপাশের এলাকায় ডাকাতিতে ভাড়ায় খাটেন তিনি। ডাকাতি শেষে ফের নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বসেন।

তার বিরুদ্ধে ঢাকার সাভার, সিরাজগঞ্জ ও বগুড়ায় তিনটি ডাকাতিসহ মোট পাঁচটি মামলা রয়েছে। শহিদুলের সঙ্গে আরও ছয় থেকে সাতজন রয়েছে, তারাও ভাড়াটে ডাকাত। চক্রটি গত ২৩ জুলাই উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকায় মোহাম্মদ রিয়াজ নামে এক ব্যবসায়ীর ১৫ লাখ টাকা লুটে নেয়। রতন চৌধুরী ওরফে ডালিম নামে এক মাফিয়া তাদের ভাড়া করেছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বিমানবন্দর এলাকায় ভাড়ায় ডাকাতি করাদের আরেকজন মো. জলিল মোল্লা। তার বাড়ি বরিশালের খানপুরে। তার বিরুদ্ধে সারা দেশে ৫টি ডাকাতির মামলা রয়েছে। এরমধ্যে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর থানায় একটি, টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানায় দুটি, ডিএমপির ধানমন্ডি থানায় একটি ও মিরপুর মডেল থানায় একটি মামলা রয়েছে।

আরেক ভয়ংকর ডাকাত বাগেরহাটের বাসিন্দা সৈয়দ নাসির উদ্দিন। তিনি থাকেন ফ্রান্সে। সেখান থেকে ভারতে আসেন বিমানে। ভারত থেকে চোরাই পথে বাংলাদেশে প্রবেশ করে ডাকাতি করেন। তার সঙ্গে থাকেন শ্যালক শামীমসহ ভাড়াটে কিছু ডাকাত। ডাকাতি শেষে ফের একই রুটে চলে যান ফ্রান্সে। এভাবেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দেন নাসির। সবশেষ উত্তরায় এক স্বর্ণের দোকানে ডাকাতির ঘটনায় নাসির ডিবির হাতে ধরা পড়ে।

শুধু শহিদুল, জলিল বা নাসিরই নন, এমন বেশ কয়েকটি চক্র রয়েছে যারা শাহজালাল বিমানবন্দর ও এর আশপাশের এলাকায় ভাড়ায় ডাকাতি করে। এদের মধ্যে আল আমীন গ্রুপ, শাওন গ্রুপ ও ডিবির সাবেক সোর্স ডাকাত শহীদ গ্রুপ অন্যতম। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চাকরিচ্যুত কিছু সদস্যও জড়িয়ে পড়েছে এই ডাকাতিতে। তারা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে থাকে। চক্রের সদস্যরা ডাকাতি শেষে ফের গ্রামে ফিরে যায়। পাঁচ থেকে দশ লাখ টাকার বিনিময়ে ভাড়ায় ডাকাতি করে চক্রগুলো। তবে বিমানবন্দর দিয়ে চোরাচালানের মাধ্যমে বাংলাদেশে আসা স্বর্ণের বড় চালান ডাকাতিতে কোটি টাকাও নিয়ে থাকে এসব ভাড়াটে ডাকাত।

২০২৪ সালের ৬ এপ্রিল ভোরে সিঙ্গাপুর যাওয়ার উদ্দেশে বিমানবন্দরে পৌঁছান কুষ্টিয়ার মো. রাশেদুল ইসলাম। ফ্লাইটের আগে আনুষঙ্গিক কাজ সারতে তিনি ‘ওভারসিজ ট্রেনিং সেন্টার’-এর উদ্দেশে একটি বাসে ওঠেন। বাসের দরজা লক করে যাত্রীবেশে থাকা ৫-৬ জন ডাকাত তার চোখ-মুখ বেঁধে মারধর করে। সর্বস্ব কেড়ে নিয়ে তাকে এমইএস ফ্লাইওভারসংলগ্ন জসিমউদ্দীন গোলচত্বরে নামিয়ে দেওয়া হয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা উত্তরা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. ইলিয়াস কবির বলেন, বিমানবন্দরসহ উত্তরা এলাকায় অপরাধ সংঘটিত করেই অপরাধীরা দ্রুত ঢাকার বাইরে চলে যায়। অনেক কষ্টে তাদের গ্রেফতার করলে অল্প সময়ে তারা জামিনে বের হয়ে ফের অপরাধে জড়াচ্ছে। তবে আমাদের তৎপরতা অব্যাহত থাকায় ডাকাতি অনেকাংশে কমেছে।

স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, বিমানবন্দর ও এর আশপাশের এলাকায় ডাকাতি, ছিনতাইসহ যে কোনো ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে এসআরবি নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি, টহল ও অভিযান পরিচালনা করে আসছে। তিনি বলেন, অপরাধীরা অনেক সময় স্থান, সময় ও কৌশল পরিবর্তন করে অপরাধ সংঘটনের চেষ্টা করে। তাই এ ধরনের অপরাধ সম্পূর্ণ নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর সমন্বিত ও ধারাবাহিক কার্যক্রমের মাধ্যমে আমরা অভিযান পরিচালনা করে থাকি।

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সতর্কীকরণ: প্রবাসীদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নামে ছড়ানো ফটোকার্ডটি ভুয়া
সম্প্রতি, ‘রেমিটেন্স না পাঠালে দেশে আসার সুযোগ নেই প্রবাসীদের: প্রধানমন্ত্রী’ শিরোনামে আরটিভির একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে যা সম্পূর্ণ ভুয়া। 
সতর্কীকরণ: প্রবাসীদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নামে ছড়ানো ফটোকার্ডটি ভুয়া
সিনেমার গল্পকেও হার মানাবে ‘পিচ্চি রাজা’ কাণ্ড
এ যেন কোনো সিনেমার দৃশ্য। প্রিজনভ্যান থেকে দুর্ধর্ষ এক আসামিকে নামিয়ে কিছুদূর হাঁটিয়ে নিয়ে যাওয়া হলো ব্যস্ত সড়কে অপেক্ষমাণ একটি প্রাইভেটকারের কাছে। এরপর পুলিশের এক কর্মকর্তা নিজেই সেই আসামিকে তুলে দিলেন গাড়িতে। তবে এটি কোনো সিনেমার গল্প নয়—ঘটনাটি ঘটেছে রাজধানীর বংশালে।
সিনেমার গল্পকেও হার মানাবে ‘পিচ্চি রাজা’ কাণ্ড
আরটিভির নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি করেন চাকরিচ্যুত প্রতিনিধি বাবু
আরটিভির নাম, লোগো, আইডি কার্ড ও ব্যুম ব্যবহার করে নোয়াখালীতে অনিয়ম, চাঁদাবাজি ও হুমকি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে চাকরিচ্যুত সাবেক জেলা প্রতিনিধি মনির হোসেন বাবুর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে বেগমগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেছে আরটিভি কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে জনসাধারণকে সতর্ক করে বিশেষ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে।
আরটিভির নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি করেন চাকরিচ্যুত প্রতিনিধি বাবু
জনস্বার্থে সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি
এতদ্বারা সর্বসাধারণের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, আরটিভির নোয়াখালী জেলার সাবেক প্রতিনিধি মনির হোসেন বাবু (পিতা- আব্দুর রব মিয়া, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর- ৭৫২০৭০৪৪৮৩২৫৭, ঠিকানা- সোহেল স্টোর, দক্ষিণ হাজীপুর, ব্যাংক রোড, চৌমুহনী, নোয়াখালী)-কে গত ৮ মার্চ ২০২৬ তারিখ থেকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
জনস্বার্থে সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি
অদৃশ্য কারণে দুর্নীতিতে সাজাপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন স্বপদে বহাল
এক কোটি টাকার ওষুধ কিনে পার্বত্য জেলা পরিষদ থেকে চার কোটি টাকার বিল উত্তোলন করার দায়ে বান্দরবান পার্বত্য জেলার সিভিল সার্জন ড. মোহাম্মদ শাহীন হোসাইন চৌধুরীকে বিগত একমাস আগে ওএসডি করা হয়েছিল। কিন্তু কোন এক অদৃশ্য কারনে এই সিভিল সার্জনকে আবারো স্বপদে বহাল করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। ২৭ সেপ্টেম্বর জারি করা এক প্রজ্ঞাপন থেকে এই তথ্য জানা গেছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মহাখালী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে ওএসডি হিসেবে থাকা ডা. মোহাম্মদ শাহীন হোসাইন চৌধুরীকে পুনরায় বান্দরবান পার্বত্য জেলার সিভিল সার্জন চলতি দায়িত্ব পদে পদায়ন করা হয়েছে এবং ২৯ সেপ্টেম্বর তারিখের মধ্যে কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত: এক কোটি টাকার ওষুধ কিনে চার কোটি টাকা উত্তোলন, টেন্ডারে অনিয়ম এবং বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে একটি নিউজ প্রকাশিত হয়। নিউজের সূত্র ধরে ২০ আগস্ট জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে বান্দরবানের সিভিল সার্জন চলতি দায়িত্ব পদ থেকে ঢাকার মহাখালীস্থ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে বদলি করা হয়েছিল। এদিকে, বদলির আদেশ প্রত্যাহারের মতো এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বান্দরবানের বেশ কয়েকজন ​স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা জানান, ১ কোটি টাকার ওষুধ ৪ কোটি টাকায় কেনাসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে সিভিল সার্জন শাহীনের বিরুদ্ধে। এমন পরিস্থিতিতে তাকে ওএসডি করায় সাধারণ মানুষ আশার আলো দেখলেও, এক মাসের মাথায় আবারও একই পদে ফিরিয়ে আনাটা রহস্যজনক। আরটিভি/ এসকেডি
অদৃশ্য কারণে দুর্নীতিতে সাজাপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন স্বপদে বহাল
আরও পড়ুন
‘ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদ’ এখনও শাহজালাল বিমানবন্দরেই আছেন
শাহজালালে ৩ যাত্রীর ব্যাগ থেকে ৬৩১ কার্টন সিগারেট জব্দ
শাহজালালে ১৪ কেজি সোনাসহ ধরা এক মালয়েশিয়ান ও দুই বিমানকর্মী
জাহাজের ‘কাছে গিয়েও’ ফিরে এলো বনদস্যুরা, ঘটনা কী