ঢাকা শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

ইসলামী ব্যাংক থেকে সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ, দুদকের মামলা

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৯ নভেম্বর ২০২৫, ০৪:৩৬ পিএম
ইসলামী ব্যাংক। ফাইল ছবি

প্রভাব খাটিয়ে অবৈধভাবে ইসলামী ব্যাংক থেকে প্রায় সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতি ও আত্মসাতের ঘটনায় ৬৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

রোববার (৯ নভেম্বর) দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে এ মামলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান সংস্থাটির সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মো. তানজির আহমেদ।

আরও পড়ুন

তিনি বলেন, আজ যে মামলার অনুমোদন হয়েছে– আর্থিক ঋণ আত্মসাতের হিসাবে দুদকের সবচেয়ে বড় মামলা। আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ইসলামী ব্যাংক থেকে বিভিন্ন সময়ে সার্কুলারের তোয়াক্কা না করে জাল-জালিয়াতি ও প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ, এস আলম স্টিলস ও এস আলম ট্রেডিং কোম্পানির নামে অনুমোদনবিহীন ঋণের নামে গৃহীত মোট ৯ হাজার ২৮৩.৯৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। যা সুদ-আসলে ১০ হাজার ৪৭৯ কোটি ৬২ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

দুদকের মামলায় আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ইসলামী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান, একাধিক সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক, পরিচালক, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক, বিনিয়োগ কমিটির সদস্য ও এস আলম গ্রুপের মালিকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

অনুসন্ধান অনুমোদনে বলা হয়েছে, ইসলামী ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জেনে-শুনে ঋণগ্রহীতাদের স্বার্থে ব্যাংকের বিনিয়োগ নীতিমালা লঙ্ঘন করেছেন, যা ব্যাংক ও শেয়ারহোল্ডারদের আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, আসামিরা ইচ্ছাকৃতভাবে আর্থিক অনিয়ম ও জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংক ঋণের বড় অঙ্ক আত্মসাৎ করেছেন। এর ফলে ইসলামী ব্যাংক, সাধারণ আমানতকারী ও সরকারের আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এ ঘটনায় ব্যাংকের তৎকালীন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিয়মবহির্ভূতভাবে বিনিয়োগ অনুমোদন দেন। ২০২২ সালের শেষের দিকে ইসলামী ব্যাংকে অস্বাভাবিক ঋণ বিতরণের ঘটনা প্রকাশ্যে আসে।

মামলায় আসামিরা হলেন– ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের সাবেক চেয়ারম্যান, মো. নাজমুল হাসান, সাবেক এমডি মো. মাহবুব উল আলম, মো. আবদুল হামিদ মিয়া, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ওমর ফারুক খান ও মোহাম্মদ মনিরুল মাওলা, সাবেক ইভিপি মিফতাহ উদ্দীন, সাবেক উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ সাব্বির, সাবেক অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ কায়সার আলী, এসডিপি, সিলেট জোন মোহাম্মদ ইহসানুল ইসলাম, সাবেক উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও আইটি প্রধান মোহাম্মদ সিরাজুল কবির, সাবেক উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও আইসিটি উইং প্রধান তাহের আহমেদ চৌধুরী, সাবেক পরিচালক মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, সাবেক চেয়ারম্যান (এক্সিকিউটিভ কমিটি) আবদুল মতিন, সাবেক উপব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু রেজা মো. ইয়াহিয়া, সাবেক চেয়ারম্যান (এক্সিকিউটিভ কমিটি) মো. সাইফুল ইসলাম, সাবেক পরিচালক সিরাজুল করিম, মো. জয়নাল আবেদীন, কাজী শহীদুল আলম, সৈয়দ আবু আসাদ, তানভীর আহমেদ মো. কামরুল হাসান, খুরশিদ-উল-আলম, মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, মো. মোসাদ্দেক উল আলম, মো. জাকির হোসেন, মো. কামাল হোসেন গাজী, সাবেক স্বতন্ত্র পরিচালক মো. ফসিউল আলম, ড. মোহাম্মদ সালেহ জহর, মো. সোলায়মান ও মো. কামাল উদ্দীন, সাবেক এসএডিপি মোহাম্মদ মোস্তাক আহমদ, মোহাম্মদ আলী চৌধুরী, এসইভিপি আহমেদ জোবায়েরুল হক, এসভিপি এস. এম. তানভির হাসান ও সাবেক এভিপি হোসেন মোহাম্মদ ফয়সাল, সাবেক উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আকিজ উদ্দিন, সাবেক বিনিয়োগ প্রধান মো. মনজুর হাসান, সাবেক উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শামসুজ্জামান, সাবেক ডিএমডি মুহাম্মদ সাঈদ উল্লাহ, মো. মোস্তাফিজুর রহমান ছিদ্দিকী, আবুল ফয়েজ মুহাম্মদ কামালউদ্দিন, এসইভিপি মোহাম্মদ উল্লাহ, মো. রফিকুল ইসলাম ও মো. ফরিদ উদ্দিন, সাবেক এসইভিপি মো. আবদুল জব্বার, সাবেক ইভিপি মো. শফিকুর রহমান, সাবেক এএমডি মো. আলতাফ হুসাইন, সাবেক উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলী, সাবেক উপব্যবস্থাপনা পরিচালক হাসনে আলম, এ. এ. এম. হাবীবুর রহমান ও মো. সিদ্দিকুর রহমান ও সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট জি. এম. মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন কাদের।

এ ছাড়াও এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম, এস আলম রিফাইনড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ হাসান, এস আলম কোল্ড রোলড স্টিলসের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর আব্দুস সামাদ ও এমডি ওসমান গনি, গ্লোবাল ট্রেডিং কর্পোরেশনের মালিক রাশেদুল আলম, এস আলম স্টিলসের মালিক সহিদুল আলম, এস আলম গ্রুপের পরিচালক ফারজানা পারভীন, ইম্প্রেস কর্পোরেশনের মালিক মো. ইসমাইল, এপারচার ট্রেডিং হাউসের মালিক এস. এম. নেছার উল্লাহ, দুলারী এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. ছাদেকুর রহমান, আহসান এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. এহসান উদ্দীন, ইউনাইটেড সুপার ট্রেডার্সের মালিক মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী ও আনসার এন্টারপ্রাইজের মালিক আনছারুল আলম চৌধুরী, জেনেসিস টেক্সটাইল এক্সেসরিস অ্যান্ড অ্যাপারেলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহসানুল আলম ও পরিচালক মায়মুনা খানমকে আসামি করা হয়েছে।

আরটিভি/এফএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ফের ৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল রেমিট্যান্স, রিজার্ভও ৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ
জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে ব্যাপক অবদান রেখে চলেছেন প্রবাসীরা। এরই ধারাবাহিকতায় আরও একবার ৩ বিলিয়ন ডলারের ছাড়িয়েছে প্রবাসী আয়। চলতি মাসের ২৯ দিনে ৩০৪ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।   অন্যদিকে ব্যাংক থেকে ডলার কেনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভেও দেখা মিলেছে ইতিবাচক উন্নতির। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ৩৩ বিলিয়ন ডলার বা ৩ হাজার ৩০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে রিজার্ভ, যা গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে, ২০১৭ সালে প্রথমবারের মতো রিজার্ভ ৩৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছিল, আর ২০২১ সালে এ রিজার্ভ পৌঁছেছিল ৪৮ বিলিয়ন ডলারে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় রিজার্ভ নেমে গিয়েছিল ২৬ বিলিয়ন ডলারে। আরও পড়ুন বছরের শেষ দিনে দেশের বাজারে সোনার দামে পতন বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গত মার্চে ৩২৯ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স এসেছিল দেশে, যা এখন পর্যন্ত একক কোনো মাসে দেশে আসা সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়। এরপর চলতি মাসে আবারও ৩০০ কোটি ডলার ছাড়াল রেমিট্যান্স। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে মোট প্রবাসী আয় এসেছে ৩ হাজার ৩৩ কোটি ডলার। তার আগের ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এসেছিল ২ হাজার ৩৯১ কোটি ডলারের প্রবাসী আয়। প্রবাসী আয় বৃদ্ধির কারণে ব্যাংকগুলো থেকে ডলার কিনে চলছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এছাড়া, বিদেশি ঋণও আসছে। এতে বাড়ছে রিজার্ভ। গতকাল মঙ্গলবার রিজার্ভ বেড়ে হয় ৩ হাজার ৩১৮ কোটি ডলার। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের হিসাবপদ্ধতি বিপিএম ৬ অনুযায়ী রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৮৫১ কোটি ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল মঙ্গলবার নিলামের মাধ্যমে সাতটি ব্যাংক থেকে ৮ কোটি ৯০ লাখ ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৩০ পয়সা দরে এসব ডলার কেনা হয়। এর ফলে চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মোট ডলার কেনার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ১৩ বিলিয়ন বা ৩১৩ কোটি ডলার। এর মধ্যে শুধু ডিসেম্বর মাসেই ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বলেন, ডিসেম্বর শেষে ৩৪-৩৫ বিলিয়নে পৌঁছাবে রিজার্ভ। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা কোনো সংস্থার ঋণে নয়, নিজেদের দেশ থেকে ডলার কিনেই রিজার্ভ বাড়ানো হবে। এটাই ভালো সিদ্ধান্ত। আরটিভি/এসএইচএম 
ফের ৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল রেমিট্যান্স, রিজার্ভও ৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ
বছরের শেষ দিনে দেশের বাজারে সোনার দামে পতন
দুইদিনের ব্যবধানে ফের দেশের বাজারে পরিবর্তন হয়েছে সোনার দাম। নতুন সিদ্ধান্তে ভালো মানের; অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনায় ২ হাজার ৭৪১ টাকা কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে সংগঠনটি। বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য কমেছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন নির্ধারিত দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা বিক্রি হবে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ১৬ হাজার ৬০০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৮৫ হাজার ৬৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৫৪ হাজার ৭২৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।  আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে নতুন এ দাম। বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস আরও জানায়, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে আবশ্যিকভাবে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ যুক্ত করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির তারতম্য হতে পারে। এর আগে, সবশেষ গত ২৮ ডিসেম্বর দেশের বাজারে সোনার দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সেদিন ভরিতে ১ হাজার ৫৭৫ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ২৯ হাজার ৪৩১ টাকা নির্ধারণ করেছিল সংগঠনটি; যা ছিল দেশের ইতিহাসে মূল্যবান এই হলুদ ধাতুর সর্বোচ্চ দাম। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ১৮ হাজার ৯৯২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৮৭ হাজার ৭৩২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৫৬ হাজার ৫৩১ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এ নিয়ে চলতি বছর মোট ৯২ বার দেশের বাজারে সমন্বয় করা হলো সোনার দাম; যেখানে দাম বাড়ানো হয়েছে ৬৪ বার, আর কমেছে মাত্র ২৮ বার। আর ২০২৪ সালে দেশের বাজারে  সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল মোট ৬২ বার; যেখানে ৩৫ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৭ বার। এদিকে সোনার দাম কমানো হলেও দেশের বাজারে অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। দেশে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার ৬৫ টাকায়। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৫ হাজার ৭৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৪ হাজার ৯৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ৩ হাজার ৭৩২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সব মিলিয়ে চলতি বছর ১৩ বার সমন্বয় করা হয়েছে রুপার দাম। এর মধ্যে বেড়েছে ১০ বার, আর কমেছে মাত্র ৩ বার। আর গত বছর সমন্বয় করা হয়েছিল ৩ বার। আরটিভি/এসএইচএম
বছরের শেষ দিনে দেশের বাজারে সোনার দামে পতন
এক বছরে সোনার দাম ভরিতে বেড়েছে যত
চলতি ২০২৫ সালজুড়ে সোনার দাম ব্যাপক ওঠানামার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরেই বিদায় নিচ্ছে ২০২৫ সাল। বিদায়ের পথে থাকা বছরটিতে দেশের বাজারে সোনার দামে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা গেছে। বছরজুড়ে সোনার দাম ব্যাপক ওঠা-নামা করতে দেখা গেছে। বছরটিতে সোনার দাম ৯০ বার পরিবর্তন হয়েছে। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ৬৩ বার এবং কমেছে ২৭ বার। এতে এক বছরের মধ্যে এক ভরি সোনার দাম ৮৮ হাজার ৬৩৫ টাকা বা ৬৪ শতাংশ বেড়ে গেছে। সোনার সর্বোচ্চ দামের ক্ষেত্রে হয়েছে একের পর এক রেকর্ড। দেশের বাজারে সোনার দাম নির্ধারণের দায়িত্ব পালন করে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সংগঠনটির সংশ্লিষ্ট কমিটি সর্বশেষ ২৯ ডিসেম্বর বৈঠক করে সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করে, যে দাম ৩০ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে। বাজুসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনায় ২ হাজার ৫০৮ টাকা কমিয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় ২ হাজার ৩৯২ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ১৬ হাজার ৬০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় ১ হাজার ৬৮০ টাকা কমিয়ে নতুন দাম ১ লাখ ৮৫ হাজার ৬৯১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনায় ১ হাজার ৮০৮ টাকা কমিয়ে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৭২৩ টাকা। এটিই দেশের বাজারে সোনার সর্বোচ্চ দাম নয়, দেশের বাজারে ভালো মানের এক ভরি সোনার সর্বোচ্চ দাম ২ লাখ ২৯ হাজার ৪৩১ টাকা। গত ২৯ ডিসেম্বর এই দাম নির্ধারণ করা হয়। এই রেকর্ড দাম নির্ধারণের ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে সোনার দাম কমানো হয়, যা ২০২৫ সালের সর্বশেষ সোনার দাম নির্ধারণ। আরও পড়ুন অবশেষে কমলো সোনার দাম, ভরিতে কত চলতি বছর দেশের বাজারে সোনার দাম প্রথম পরিবর্তন করা হয় ১৬ জানুয়ারি। সেদিন ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের এক ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম ১ হাজার ১৫৫ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৩৯ হাজার ৪৪৩ টাকা। এরপর আরও ৮৯ বার দাম পরিবর্তনের ঘটনা ঘটেছে। দেশের বাজারে এক বছরে এতোবার সোনার দাম আর পরিবর্তন হয়নি। দেশের বাজারে সর্বোচ্চ সংখ্যক সোনার দাম পরিবর্তন হওয়ার পাশাপাশি ২০২৫ সালে রেকর্ড পরিমাণ দাম বাড়ার ঘটনাও ঘটেছে। এক বছরেই ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম বেড়েছে ৮৮ হাজার ৬৩৫ টাকা। দাম বাড়ার হার ৬৪ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ। দেশের ইতিহাসে এক বছরে সোনার এতো দাম আগে কখনো বাড়েনি। তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০০০ সালে ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম ছিলো ৬ হাজার ৯০০ টাকা। এরপর কয়েক দফা বেড়ে ২০১০ সালে ৪২ হাজার ১৬৫ টাকায় উঠে। দেশে এক ভরি সোনার দাম প্রথম ৫০ হাজার টাকা হয় ২০১৮ সালে। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে এক ভরি সোনার দাম ৬০ হাজার ৩৬১ টাকায় উঠে। দেশের বাজারে এক ভরি সোনার দাম প্রথম এক লাখ টাকা হয় ২০২৩ সালের জুলাই মাসে। আর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে এক ভরি সোনার দাম প্রথমবার ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার মাইলফলক স্পর্শ করে। এদিকে গত বছরের শুরুতে ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম ছিলো ১ লাখ ১১ হাজার ৪১ টাকা। আর বছর শেষে দাঁড়ায় ১ লাখ ৩৮ হাজার ২৮৮ টাকা। এ হিসাবে ২০২৪ সালে সোনার দাম বাড়ে ২৫ শতাংশ। আর দেশের বাজারে ভালো মানের সোনার দাম প্রথম দুই লাখ টাকা স্পর্শ করে চলতি বছরের ৭ অক্টোবর। এর পর আরও কয়েক দফা সোনার দাম বাড়ানো হয়। এমনকি বছরের শেষ সময়ে এসে টানা পাঁচবার সোনার দাম বাড়ানো হয়। এতে ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম রেকর্ড ২ লাখ ২৯ হাজার ৪৩১ টাকা হয়। যদিও এরপর কিছুটা দাম কমে বছর শেষ হচ্ছে। চলতি বছর রেকর্ড পরিমাণ দাম বাড়ার কারণে শেষ পাঁচ বছরে দেশে ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম বেড়েছে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৫৭১ টাকা। দাম বাড়ার হার ২৭৫ দশমিক ৯৬ শতাংশ। অন্যভাবে বলা যায় পাঁচ বছরের ব্যবধানে সোনার দাম বেড়ে ৩ দশমিক ৭৬ শতাংশ হয়েছে। আরটিভি/এমএ
এক বছরে সোনার দাম ভরিতে বেড়েছে যত
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সার্ক চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের গভীর শোক
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছে সার্ক চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এসসিসিআই)। এক শোকবার্তায় সংগঠনটি তাকে বাংলাদেশের রাজনীতির একজন অগ্রদূত এবং প্রভাবশালী নেত্রী হিসেবে অভিহিত করেছে। তার প্রয়াণে বাংলাদেশ একজন বিশিষ্ট রাষ্ট্রনায়ককে হারাল বলে মনে করে সার্কভুক্ত দেশগুলোর এই শীর্ষ বাণিজ্যিক সংগঠন। সার্ক চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের প্রেসিডেন্ট মো. জসিম উদ্দিন তার বার্তায় বলেন, বেগম খালেদা জিয়া দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অসাধারণ নেতৃত্ব ও দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছেন। গণতান্ত্রিক অগ্রগতির প্রতি তার গভীর নিষ্ঠা বাংলাদেশের রাজনৈতিক কাঠামো গঠনে অনন্য ভূমিকা রেখেছে, যা ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। জনস্বার্থে তাঁর নিরলস পরিশ্রম ও সুযোগ্য নেতৃত্ব অসংখ্য মানুষের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। আরও পড়ুন মেয়েদের উপবৃত্তি দেওয়া শুরু করেন খালেদা জিয়া শোকবার্তায় সার্ক চেম্বার মরহুমার বিদেহী আত্মার চিরশান্তি কামনা করে মহান আল্লাহর দরবারে বিশেষ দোয়া করেছে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে খালেদা জিয়ার শোকসন্তপ্ত পরিবার, অন্তর্বর্তী সরকার এবং তার আদর্শে অনুপ্রাণিত সাধারণ মানুষের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়। এসসিসিআই প্রার্থনা করেছে যেন এই কঠিন সময়ে তার স্বজন ও অনুসারীরা ধৈর্য ধারণ করার শক্তি পান। দীর্ঘদিন বিএনপির হাল ধরা এবং তিনবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই নেত্রীর মৃত্যুতে শুধু রাজনৈতিক নয়, বাণিজ্যিক ও আন্তর্জাতিক মহলেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সার্ক চেম্বারের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বাংলাদেশের উন্নয়নে তার অবদানের কথা ব্যবসায়িক সমাজ শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে। প্রিয় নেত্রীকে হারানোর এই বেদনাদায়ক মুহূর্তে সংগঠনটি মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছে। আরটিভি/এআর 
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সার্ক চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের গভীর শোক
বাণিজ্যমেলার তারিখ পরিবর্তন
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে সরকার। এজন্য ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সূচি পরিবর্তন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) উপ-পরিচালক মো. রফিকুল ইসলামের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানা গেছে। বেগম জিয়ার মৃত্যুতে মঙ্গলবার সকালে জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে আগামীকাল বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত (৩১ ডিসেম্বর, ১ ও ২ জানুয়ারি) তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ইপিবির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সরকার তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ অবস্থায় ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ১ জানুয়ারি পরিবর্তে ৩ জানুয়ারি (শনিবার) আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আরও পড়ুন অবশেষে কমলো সোনার দাম, ভরিতে কত এরইমধ্যে পাঠানো আমন্ত্রণপত্র প্রযোজ্য থাকবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। আরটিভি/কেআই
বাণিজ্যমেলার তারিখ পরিবর্তন
আরও পড়ুন
১৩২৭ টি-শার্ট, ৫৮৩ শাড়িসহ বেনজীরের জব্দকৃত বিপুল পণ্য ত্রাণ তহবিলে জমা 
এনএসআইয়ের ১৩ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার দুর্নীতি অনুসন্ধানে দুদক
নিয়োগ দিচ্ছে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, আবেদন শেষ ১৭ ডিসেম্বর
শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুদকের অভিযান