ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নে বিজিএমইএ ও জিআইজেড’র সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

বাসস

প্রকাশ : ১১ মে ২০২৬, ০৯:১৩ এএম
পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নে বিজিএমইএ ও জিআইজেড’র সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং জার্মানির আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা জিআইজেড-এর মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। পোশাক শিল্পের উন্নয়নে বিজিএমইএ ও জিআইজেড-এর মধ্যে এটিই প্রথম আনুষ্ঠানিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর।

রোববার (১০ মে) উত্তরাস্থ বিজিএমইএ ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান এবং জিআইজেড-এর ক্লাস্টার কোঅর্ডিনেটর থমাস রল্ফ এর পক্ষে গুনডলফ ক্লেন নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের এই সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।

২০২৬ মে থেকে ২০২৮ সালের ফেব্রুয়ারি মেয়াদের জন্য এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই সমঝোতা স্মারকের আওতায় উভয় পক্ষ বাংলাদেশের পোশাক খাতে টেকসই উন্নয়ন, জ্বালানি দক্ষতা এবং সার্কুলারিটি নিশ্চিত করতে নিবিড়ভাবে কাজ করবে।

সমঝোতা স্মারক অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএ-এর সহ-সভাপতি ভিদিয়া অমৃত খান, সহ-সভাপতি মোহাম্মদ রফিক চৌধুরী, পরিচালক শাহ রাঈদ চৌধুরী, পরিচালক শেখ হোসেন মোহাম্মদ মোস্তাফিজ, পরিচালক এনামুল আজিজ চৌধুরী এবং জিআইজেড বাংলাদেশের এসটিআইএলই-টু প্রকল্পের প্রধান মাইকেল ক্লোডে ও মো. তানভীর মাসুদ।

স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের আওতায় বিজিএমইএ এবং জিআইজেড যৌথভাবে বেশ কিছু লক্ষ্য অর্জনে কাজ করবে। যেখানে এসটিআইএলই-টু এবং এসসিএআইপি প্রকল্পসমূহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এই প্রকল্পগুলোর সফল বাস্তবায়নে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততা বজায় রাখা হবে।

সমঝোতা স্মারকের অধীনে বাস্তবায়িতব্য প্রধান প্রকল্পগুলো-এসটিআইএলই-টু, এসসিএআইপি, ইই৪ডিইভি, টিভিইটি৪আরই, এসওএসআই, স্কিলস৪এসই, সিআইআরসিএলই, পিডিপি।

কার্যক্রমগুলো হলো- পোশাক শিল্পে টেকসই পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং ইইউ বাজারের নতুন শর্তাবলি যেমন, সাপ্লাই চেইন ডিউ ডিলিজেন্স ট্রেসেবিলিটি, সার্কুলারিটি ও ডিকার্বোনাইজেশন বিষয়ে কারখানাগুলোকে প্রস্তুত করা।

আরও পড়ুন

এর আওতায় রেসপন্সিবল বিজনেস হেল্পডেস্ক (আরবিএইচ)’কে আরও শক্তিশালী করা হবে। পোশাক খাতের পরিবেশগত ঝুঁকি মোকাবিলায় কারখানায় উন্নত রাসায়নিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা, পরিবেশ দূষণ কমানো এবং আন্তর্জাতিক পরিবেশগত মানদণ্ড বজায় রাখতে কারিগরি দিকনির্দেশনা প্রদান করা হবে। এটি বাংলাদেশের পোশাক শিল্পকে একটি ক্লিন অ্যান্ড গ্রিন ইন্ডাস্ট্রি হিসেবে বৈশ্বিক ব্র্যান্ডগুলোর কাছে আরও নির্ভরযোগ্য করে তুলবে; কারখানাসমূহে জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি, নিয়মিত এনার্জি অডিট পরিচালনা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদান। শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরিতে সহায়তা এবং টেকসই কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে কর্মীদের আধুনিক দক্ষতা উন্নয়ন। পোশাক খাতের ঝুট ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে ডিজিটাল মার্কেটপ্লেস তৈরি এবং কৌশলগত অংশীদারিত্বের মাধ্যমে নতুন প্রযুক্তির সংযোগ ঘটানো। প্রকৌশল ও ব্যবস্থাপনা পর্যায়ে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে ‘শক্তি কন্যা’ নেটওয়ার্ককে আরও গতিশীল করা।

এই সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নে উভয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি শক্তিশালী সমন্বয় কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। বিজিএমইএ-এর পক্ষে সহ-সভাপতি ভিদিয়া অমৃত খান জার্মান টেকনিক্যাল কো-অপারেশনের প্রধান ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। প্রকল্পের কার্যকর তদারকি ও কৌশলগত যোগাযোগের জন্য জিআইজেড সরাসরি বিজিএমইএ-এর ‘সার্কুলারিটি, ডিকার্বোনাইজেশন অ্যান্ড এনার্জি এফিসিয়েন্সি’ এবং ‘ডেটা অ্যান্ড রেসপন্সিবল বিজনেস হেল্পডেস্ক’ বিষয়ক বিশেষায়িত সাব-গ্রুপ দুটির সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে।

স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, এই অংশীদারিত্ব বাংলাদেশের পোশাক শিল্পকে একটি দায়িত্বশীল এবং পরিবেশবান্ধব বৈশ্বিক হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে মাইলফলক হয়ে থাকবে। জিআইজেড- এর পক্ষ থেকে বাংলাদেশের পোশাক খাতের টেকসই রূপান্তরে তাদের কারিগরি সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা হয়।

আরটিভি/আইএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
তৈরি পোশাকের বাইরে রপ্তানিতে সুবাতাস, পাঁচ খাতে প্রবৃদ্ধি ১২-২৭ শতাংশ
দেশের রপ্তানি খাতে বহুমুখীকরণের সম্ভাবনা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। তৈরি পোশাকের পাশাপাশি রাসায়নিক পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, বিশেষায়িত বস্ত্র, চামড়া এবং প্রকৌশল পণ্যের রপ্তানিতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে এসব খাতের প্রবৃদ্ধি সামগ্রিক রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধিকে ছাড়িয়ে গেছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবর সময়ে দেশের মোট রপ্তানি আয় আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৭০৯ কোটি মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এ সময়ে তৈরি পোশাক খাতের পাশাপাশি বিকাশমান পাঁচটি অপ্রচলিত রপ্তানি খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২ দশমিক ৪৪ শতাংশ থেকে ২৭ শতাংশ পর্যন্ত। খাতভিত্তিক হিসাবে রাসায়নিক পণ্যের রপ্তানি বেড়েছে ২৭ শতাংশ। পাট ও পাটজাত পণ্যে ২৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ, বিশেষায়িত বস্ত্রে ১৬ দশমিক ৫২ শতাংশ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যে ১২ দশমিক ৪৭ শতাংশ এবং প্রকৌশল পণ্যে ১২ দশমিক ৪৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। রপ্তানির এই চিত্র তৈরি পোশাকনির্ভরতা কমিয়ে নতুন নতুন শিল্প খাতকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাবনা তৈরি করছে। একই সঙ্গে উচ্চমূল্য সংযোজনকারী পণ্য উৎপাদন, নতুন বাজার সম্প্রসারণ এবং শিল্পের সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগও সৃষ্টি হচ্ছে। রাসায়নিক ও ওষুধশিল্পে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি রপ্তানি প্রবৃদ্ধিতে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে রাসায়নিক পণ্য খাত। জুলাই-অক্টোবর সময়ে এ খাত থেকে রপ্তানি আয় হয়েছে ১৫ কোটি ৭১ লাখ ৫০ হাজার ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২৭ শতাংশ বেশি। এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে দেশের ওষুধশিল্প। চার মাসে ওষুধ রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ১০ কোটি ১৭ লাখ ৩০ হাজার ডলার। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এ আয় বেড়েছে ৩৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ। শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আন্তর্জাতিক মান ও কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করা, নতুন বাজারে প্রবেশ এবং বিদেশের বাজারে বাংলাদেশি ওষুধের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ায় এ খাতের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হচ্ছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী (অতিরিক্ত সচিব) মোহাম্মদ হাসান আরিফ বাসসকে বলেন, রাসায়নিক পণ্য, বিশেষ করে ওষুধশিল্পের এই অগ্রগতি দেশে উচ্চমূল্য সংযোজনকারী পণ্য উৎপাদনের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রতিফলন। রপ্তানি বহুমুখীকরণে এ খাত ক্রমেই সম্ভাবনাময় চালিকাশক্তি হয়ে উঠছে। পাটপণ্যে বৈশ্বিক বাজারের নতুন সুযোগ পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি আয়ও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে এ খাত থেকে রপ্তানি আয় হয়েছে ৩৪ কোটি ৬৩ লাখ ৭০ হাজার ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ বেশি। বিশ্ববাজারে প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে পরিবেশবান্ধব ও সহজে পচনশীল পণ্যের চাহিদা বাড়ছে। ফলে বাংলাদেশের পাট ও পাটজাত পণ্যের জন্য নতুন বাজার তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে উন্নত দেশগুলোতে পরিবেশবান্ধব পণ্যের চাহিদা এ শিল্পের সম্ভাবনা বাড়াচ্ছে। ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান হাসান আরিফ বলেন, বিশ্বজুড়ে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব পণ্যের ব্যবহার বাড়ায় বাংলাদেশের পাটশিল্পের সামনে বড় সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ জুট গুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজেজিইএ) ভাইস চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে পাটপণ্যের চাহিদা ও রপ্তানির সুযোগ বাড়ায় এ খাতের ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে আফ্রিকার দেশগুলোসহ নতুন নতুন বাজারে রপ্তানি সম্প্রসারণের পাশাপাশি বিদ্যমান বাজারে অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে হবে। কাঁচা পাট রপ্তানি বন্ধে সরকারের সিদ্ধান্তের প্রশংসা করে তিনি বলেন, এ উদ্যোগ স্থানীয় শিল্পের জন্য কাঁচামালের সরবরাহ নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে। এতে দেশে পাটের মূল্য সংযোজন বাড়বে এবং তৈরি পাটপণ্য রপ্তানিতে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। ড. কামরুজ্জামান বলেন, কাঁচা পাট রপ্তানির পরিবর্তে উচ্চমূল্যের পাটপণ্য উৎপাদন ও রপ্তানিতে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। এতে কর্মসংস্থান বাড়বে, রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পাবে এবং বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পাটশিল্পের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে। বিশেষায়িত বস্ত্রে বাড়ছে সম্ভাবনা বিশেষায়িত বস্ত্র খাতেও ভালো প্রবৃদ্ধি হয়েছে। জুলাই-অক্টোবর সময়ে এ খাতের রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ১৪ কোটি ২২ লাখ ২০ হাজার ডলারে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৬ দশমিক ৫২ শতাংশ বেশি। প্রচলিত পোশাকের বাইরে শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত কাপড়, প্রযুক্তিনির্ভর বস্ত্র, স্বাস্থ্যসেবায় ব্যবহৃত বিশেষ উপকরণসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য এ খাতের অন্তর্ভুক্ত। এসব পণ্যে তুলনামূলক বেশি মূল্য সংযোজনের সুযোগ রয়েছে। ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান হাসান আরিফ বলেন, প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো, উৎপাদন সক্ষমতা উন্নত করা এবং উচ্চমূল্য সংযোজনের মাধ্যমে বিশেষায়িত বস্ত্র খাত রপ্তানি বহুমুখীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। চামড়াজাত পণ্যে প্রবৃদ্ধি অব্যাহত দেশের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য খাতও রপ্তানিতে ইতিবাচক ধারা বজায় রেখেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে এ খাত থেকে আয় হয়েছে ৪৬ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১২ দশমিক ৪৭ শতাংশ বেশি। আন্তর্জাতিক মান ও কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করার উদ্যোগ, উচ্চমূল্যের পণ্য উৎপাদনে গুরুত্ব এবং বিদেশি ক্রেতাদের চাহিদা বৃদ্ধির ফলে এ খাতের রপ্তানি আয় বাড়ছে। শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, স্থানীয় কাঁচামালের প্রাপ্যতা এবং পশ্চাৎ-সংযোগ শিল্পের সুযোগ থাকায় চামড়া খাত বাংলাদেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় অপ্রচলিত রপ্তানি খাত। ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান হাসান আরিফ বলেন, পণ্যের মান উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করা এবং নতুন পণ্য উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিলে আন্তর্জাতিক বাজারের উচ্চমূল্যের অংশে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে। প্রকৌশল পণ্যে বাড়ছে রপ্তানি আয় প্রকৌশল পণ্য খাতেও রপ্তানি প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। জুলাই-অক্টোবর সময়ে এ খাত থেকে আয় হয়েছে ২৪ কোটি ৭২ লাখ ৩০ হাজার ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১২ দশমিক ৪৪ শতাংশ বেশি। এ খাতের আওতায় রয়েছে সাইকেল, যন্ত্রপাতির যন্ত্রাংশ, শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণ এবং হালকা প্রকৌশল পণ্য। প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন, উদ্ভাবন এবং উচ্চমূল্য সংযোজনের সুযোগ থাকায় প্রকৌশল পণ্যকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি খাত হিসেবে বিবেচনা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান হাসান আরিফ বলেন, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং দক্ষতা উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়ানো গেলে মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদে প্রকৌশল পণ্য বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস হয়ে উঠতে পারে। রপ্তানি বহুমুখীকরণে অগ্রগতির ইঙ্গিত ইপিবির তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে উদীয়মান পাঁচটি রপ্তানি খাতের প্রতিটিতেই সামগ্রিক রপ্তানি প্রবৃদ্ধির চেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এর মধ্যে রাসায়নিক পণ্যে প্রবৃদ্ধি সামগ্রিক রপ্তানি প্রবৃদ্ধির প্রায় পাঁচ গুণ এবং পাট ও পাটজাত পণ্যে চার গুণের বেশি। অন্যদিকে বিশেষায়িত বস্ত্র, চামড়া ও প্রকৌশল পণ্যেও উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি এখনো তৈরি পোশাক খাত থেকে এলেও অন্যান্য খাতের এই অগ্রগতি রপ্তানি আয়ের উৎস সম্প্রসারণের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান হাসান আরিফ বলেন, সর্বশেষ রপ্তানি পরিসংখ্যান দেশের রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণে উৎসাহব্যঞ্জক অগ্রগতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই প্রবৃদ্ধির ধারা ধরে রাখতে নীতিগত সহায়তা, নতুন বাজার অনুসন্ধান, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং প্রযুক্তির উন্নয়ন জরুরি। তৈরি পোশাকশিল্পের পাশাপাশি নতুন নতুন রপ্তানিমুখী শিল্প গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘ মেয়াদে টেকসই ও প্রতিযোগিতামূলক রপ্তানি প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে বহুমুখী শিল্পভিত্তি গড়ে তোলার বিকল্প নেই। আরটিভি/এসআর  
তৈরি পোশাকের বাইরে রপ্তানিতে সুবাতাস, পাঁচ খাতে প্রবৃদ্ধি ১২-২৭ শতাংশ
বিনা জামানতে ২০ লাখ টাকার ঋণ কর্মসূচি নিয়ে সতর্ক করল বাংলাদেশ ব্যাংক
উপজেলাভিত্তিক তরুণ উদ্যোক্তা অনুসন্ধান, চিহ্নিতকরণ ও অর্থায়ন কর্মসূচি ‘উদ্যোগ’-এর আওতায় বিনা জামানতে ২০ লাখ টাকা ঋণ দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে পরিশোধ করতে হবে ১০ লাখ টাকা, আর ১০ লাখ মিলবে অনুদান হিসেবে। ১ নভেম্বর থেকে দেশের ৫৬টি জেলায় আবেদন গ্রহণও শুরু হয়েছে। এর আগে অক্টোবর মাসে আবেদন নেয়া হয়েছিল বাকি ৮ জেলা থেকে। তবে এবার এই ঋণ কর্মসূচি নিয়ে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এক বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, ঋণ পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভনে কিছু অসাধু ব্যক্তি বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং ও অন্যান্য মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ‘উদ্যোগ’ কর্মসূচির সব কার্যক্রম স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। এই ঋণ প্রাপ্তির নিশ্চয়তা প্রদান কিংবা ঋণ পাইয়ে দেয়ার নামে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে অর্থ প্রদান করা থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ করেছে সংস্থাটি। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, ‘উদ্যোগ’ নামে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফেসবুকসহ অন্য কোনো অফিসিয়াল পেইজ বা চ্যানেল নেই। এ নামে কোনো ভুয়া পেইজ বা অ্যাকাউন্ট খুলে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার কিংবা প্রতারণামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারিও দেয়া হয়েছে। এ ধরনের প্রতারণা নিয়ে সতর্ক থেকে বিভ্রান্তিকর প্রচারণায় প্রভাবিত না হওয়ার জন্য অনুরোধ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আরটিভি/এসআর  
বিনা জামানতে ২০ লাখ টাকার ঋণ কর্মসূচি নিয়ে সতর্ক করল বাংলাদেশ ব্যাংক
আপনার যা লাগছে, সব মুক্ত অ্যাপে থাকছে
বাংলালিংকের মাইবিএল অ্যাপ এখন ‘মুক্ত’!
আপনার যা লাগছে, সব মুক্ত অ্যাপে থাকছে
ঢাকায় বেসরকারি খাতের অংশীদারদের নিয়ে আইডিই বাংলাদেশের সভা
গ্রামীণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে টেকসই পণ্য ও সেবা পৌঁছে দিতে বেসরকারি খাতের সঙ্গে সহযোগিতা, বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরিতে ঢাকায় সভা করেছে আইডিই বাংলাদেশ।  মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাজধানীর শেরাটন হোটেলে আয়োজিত এ সভায় বর্তমান ও সম্ভাব্য বেসরকারি খাতের অংশীদাররা অংশ নেন। এতে কৃষি, পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পুষ্টি এবং জলবায়ু-সহনশীল খাতের বিভিন্ন বাজারভিত্তিক উদ্ভাবন তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে আইডিই বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের অংশীদারদের পণ্য, নমুনা, প্রযুক্তি ও সেবা নিয়ে ১৭টি প্রদর্শনী স্টল ছিল। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ছিল গ্রামীণ ড্যানোন ফুডস লিমিটেড, এটেক, সিপিআইএল, আবেদিন ইকুইপমেন্ট লিমিটেড, বায়ার ক্রপসায়েন্স লিমিটেড বাংলাদেশ, টিএমএসএস, সার্পভ, আরএফএল, সেফপ্যাড বাংলাদেশ, মেটাল, ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি, এসিআই পিএলসি, লাল তীর সিড লিমিটেড, রুরাল সান পাওয়ার, এনআরবিসি ব্যাংক পিএলসি ও এসএমসি। অনুষ্ঠানে বিশেষ বক্তব্য দেন আইডিই গ্লোবালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রিড অ্যান্ড্রু পিটারসন। তিনি বাজারভিত্তিক উদ্যোগের মাধ্যমে কীভাবে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছাতে পারে, তা তুলে ধরেন। কক্সবাজারে সাম্প্রতিক সফরের অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিম্ন আয়ের মানুষ শুধু সহায়তা গ্রহণকারী নন; তাঁরা একই সঙ্গে ক্রেতা, উৎপাদক ও উদ্যোক্তা।  পণ্যের উপযোগী পরিবর্তন, সরবরাহব্যবস্থার শেষ ধাপ পর্যন্ত পৌঁছানোর নেটওয়ার্ক এবং যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে এসব জনগোষ্ঠীর সঙ্গে ব্যবসায়িক সংযোগ তৈরিতে আইডিই কাজ করছে। ২০৩৫ সালের মধ্যে ১০ লাখ উদ্যোক্তাকে ক্ষমতায়িত করার বৈশ্বিক লক্ষ্যও তুলে ধরেন তিনি। আইডিই বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর সমীর কারকি বলেন, বেসরকারি খাতের অংশীদারেরা এমন পণ্য ও সেবা সরবরাহের মাধ্যমে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর বাস্তব সমস্যার সমাধানে ভূমিকা রাখতে পারেন, যা গ্রামীণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে পৌঁছায়। তিনি আইডিই বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ততা কৌশলের আওতায় যৌথ উদ্যোগ, সহবিনিয়োগ ও পণ্য উদ্ভাবনের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন। এ কৌশল আইডিইর বৈশ্বিক লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক। অনুষ্ঠানে বেসরকারি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও বক্তব্য দেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন লাল তীর সিডের পরিচালক তাজওয়ার এম আওয়াল, এসএমসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক তসলিম উদ্দিন, আরএফএলের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা সুকান্ত দাস, সেফপ্যাড বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাহমিদ কে. চৌধুরী, এনআরবিসি ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. তৌহিদুল আলম খান, বায়ার ক্রপসায়েন্স লিমিটেডের কান্ট্রি লিড, ফিল্ড সলিউশনস অ্যান্ড ক্রপসায়েন্স গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগের রাজাউল করিম, টিএমএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাদিদ জামিল, আবেদিন ইকুইপমেন্ট লিমিটেডের মো. আমির হোসেন এবং আরএসপির মো. নাজমুল হাসান। তাঁরা বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ ও বাজার উন্নয়ন নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আইডিই বাংলাদেশ সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য টেকসই সমাধানের সুযোগ বাড়াতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে। প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বাণিজ্যিকভাবে টেকসই বাজারব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে এসব জনগোষ্ঠীর কাছে প্রয়োজনীয় পণ্য, সেবা ও অর্থনৈতিক সুযোগ পৌঁছে দেওয়া। আরটিভি/এসআর
ঢাকায় বেসরকারি খাতের অংশীদারদের নিয়ে আইডিই বাংলাদেশের সভা
ওয়ালটনের ফ্রিজ কিনে ঘরভর্তি ইলেকট্রনিক্স পণ্য উপহার পেলেন চট্টগ্রামের রীমা
এবার দেশের নাম্বার ওয়ান রেফ্রিজারেটর ব্র্যান্ড ওয়ালটনের ফ্রিজ কিনে বিনামূল্যে ঘরভর্তি নানান ইলেকট্রনিক্স পণ্য উপহার পেয়েছেন চট্টগ্রামের চান্দগাঁও এলাকার গৃহিণী আছমা সুলতানা রীমা।
ওয়ালটনের ফ্রিজ কিনে ঘরভর্তি ইলেকট্রনিক্স পণ্য উপহার পেলেন চট্টগ্রামের রীমা
আরও পড়ুন
৭ নভেম্বর দেশের সব পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা: বিজিএমইএ
৩১৮ কারখানা বন্ধ, কাজে নেই ৭ লাখ শ্রমিক
শ্রমিকদের বিক্ষোভে ৩১৮ কারখানা বন্ধ, কাজে নেই ৭ লাখ শ্রমিক: বিজিএমইএ
টেকসই পোশাকশিল্পের রূপান্তর তুলে ধরবে বাটেক্সপোর ইমপ্যাক্ট জোন