ঢাকা বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

অর্থনীতির বাস্তব চিত্র তুলে ধরবে ডিসিসিআই’র ইপিআই সূচক: তাসকীন আহমেদ

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৬ মে ২০২৬, ০৮:২৭ পিএম
‘অর্থনৈতিক অবস্থান সূচক (ইপিআই): ঢাকার সামষ্টিক অর্থনীতির ত্রৈমাসিক মূল্যায়ন’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত। ছবি: সংগৃহীত

প্রচলিত সামষ্টিক অর্থনৈতিক সূচক ও পরিমাপক ব্যবস্থা স্বল্পমেয়াদে অর্থনীতির প্রকৃত অবস্থা ও তাৎক্ষণিক পরিবর্তনের প্রতিফলন ঘটানো যাচ্ছে না। এ প্রেক্ষাপটে ডিসিসিআই প্রণীত ‘অর্থনৈতিক অবস্থান সূচক (ইপিআই)’ নীতিনির্ধারক, উদ্যোক্তা ও গবেষকদের জন্য সময়োপযোগী ও কার্যকর উদ্যোগ হিসেবে কাজ করবে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ।

শনিবার (১৬ মে) রাজধানীতে ডিসিসিআই অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘অর্থনৈতিক অবস্থান সূচক (ইপিআই): ঢাকার সামষ্টিক অর্থনীতির ত্রৈমাসিক মূল্যায়ন’ শীর্ষক সেমিনারে স্বাগত বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

এছাড়া উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের চাপ, বিনিয়োগের মন্থরতা, জ্বালানি অনিশ্চয়তা ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে এক ধরনের চাপ বিরাজ করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিসিসিআই মহাসচিব (ভারপ্রাপ্ত) ড. একেএম আসাদুজ্জামান পাটোয়ারী।

পাটোয়ারী তার প্রবন্ধে বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ পরিকল্পনায় তথ্য ঘাটতি পূরণ ও অর্থনীতির স্বল্পমেয়াদি পূর্বাভাস মূল্যায়নের লক্ষ্যেই ডিসিসিআই ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে ইপিআই প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এই গবেষণায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ও দ্বিতীয় প্রান্তিকের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে।

এতে ৭৬২ জন প্রতিনিধির মতামত নেওয়া হয়, যার মধ্যে উৎপাদন খাতের ৩৩০ জন ও সেবা খাতের ৪৩২ জন প্রতিনিধি ছিলেন।

গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে কৃষিখাতে খাদ্য উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে, জ্বালানি সংকটের কারণে শিল্পখাতে উৎপাদন স্থবির হয়ে পড়েছে ও মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় সেবা খাতের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

ড. একেএম আসাদুজ্জামান পাটোয়ারী কৃষিপণ্যের বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখা, সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নয়ন, এসএমই উদ্যোক্তাদের স্বল্পসুদে ঋণ সুবিধা প্রদান, শিল্পখাতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত, অবকাঠামো উন্নয়ন, সরকারি লাইসেন্সিং সেবায় হয়রানি কমানো, ভ্যাট হার হ্রাস ও বন্দর ব্যবস্থাপনায় গতি আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সেমিনারের আলোচনায় অংশ নিয়ে অর্থনীতিবিদ ও পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই)’র চেয়ারম্যান ড. জায়েদী সাত্তার বলেন, গবেষণাটি বর্তমানে ঢাকা-কেন্দ্রিক হলেও, এটি সারাদেশে সম্প্রসারণ করা গেলে এর গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়বে এবং উদ্যোক্তারা ব্যবসা পরিবেশ মূল্যায়নে কার্যকর দিকনির্দেশনা পাবেন।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ নেসার আহমেদ বলেন, এলডিসি উত্তরণের পর ইউরোপীয় বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা হারালে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে এসএমই খাত। তাই ব্যবসা পরিচালনা ব্যয় কমানো ও ব্যবসাবান্ধব নীতি সহায়তা নিশ্চিতের কোনো বিকল্প নেই।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শিবির বিচিত্র বড়ুয়া বলেন, বর্তমানে দেশের প্রধান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হলো উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রবণতা এবং ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতের দুর্বলতা।

তিনি জানান, ব্যবসা সহজীকরণে সরকার আমদানি নীতিমালা যুগোপযোগী করার কাজ করছে এবং আগামী কয়েক মাসের মধ্যে তা চূড়ান্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ড. মিজানুর রহমান বলেন, বিগত কয়েক বছরে সরকার ও বেসরকারি খাতে ব্যয় আয়ের তুলনায় অনেক বেশি ছিল। একইসঙ্গে বিনিয়োগ স্থবিরতা অর্থনীতির গতি কমিয়ে দিয়েছে।

এ অবস্থা উত্তরণে আর্থিক খাতসহ সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাঠামোগত সংস্কারের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক ড. সৈয়দ মুনতাসির মামুন বলেন, দীর্ঘমেয়াদি শিল্প অর্থায়নে বাংলাদেশ এখনও ব্যাংক খাতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল। অথচ এ ক্ষেত্রে পুঁজিবাজারের ভূমিকা আরও বাড়ানো প্রয়োজন ছিল।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) যুগ্ম সচিব মো. আরিফুল হক বলেন, সরকারি নীতিমালা বাস্তবায়নে এখনও ঘাটতি রয়েছে। তবে সরকারি সেবায় ডিজিটাল ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়ানো গেলে বেসরকারি খাতের ভোগান্তি কমবে।

ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স কর্পোরেশনের (আইএফসি) সিনিয়র প্রাইভেট সেক্টর স্পেশালিস্ট মিয়া রহমত আলী বলেন, যুদ্ধ-বিগ্রহ ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে সৃষ্ট অস্থিরতা মোকাবিলায় উদ্যোক্তাদের জন্য প্রয়োজনীয় নীতি ও আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক-এর প্রধান অর্থনীতিবিদ প্রফেসর ড. আখন্দ মোহাম্মদ আখতার হোসেন বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের কোনো বিকল্প নেই, যদিও এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখনও পিছিয়ে রয়েছে।

মুক্ত আলোচনায় ডিসিসিআই’র সাবেক ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুস সালাম ও সাবেক পরিচালক এম বশিরউল্ল্যাহ ভূইয়্যা অংশ নেন।

এ সময় ডিসিসিআই’র ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী ও সহ-সভাপতি মো. সালিম সোলায়মানসহ পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
চট্টগ্রাম নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে প্রায় ১২০ কোটি টাকা দেবে জাইকা
চট্টগ্রাম নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে প্রায় ১২০ কোটি টাকার সম্ভাব্য অনুদান দিতে যাচ্ছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)।
চট্টগ্রাম নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে প্রায় ১২০ কোটি টাকা দেবে জাইকা
দেশের বাজারে আবারও বাড়ল সোনার দাম
দেশের বাজারে আবারও সোনার দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসেসিয়েশন (বাজুস)। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার গহনার দাম ৩ হাজার ৩২৪ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) প্রাইসিং এন্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের এক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আজ দুপুর ১টা ৪৫ মিনিট থেকে এই দাম কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে বাজুস। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সর্বসম্মতভাবে স্বর্ণ ও রৌপ্যালঙ্কারের ভ্যাটসহ নতুন বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুসারে, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনা বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকায়। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা ২ লাখ ১৩ হাজার ৮৫৯ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের সোনা বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮২ টাকায়। সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার ২৩২ টাকা। এর আগে সোমবার (২ নভেম্বর) সোনার দাম ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা বাড়িয়েছিল বাজুস। তখন ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা। অর্থাৎ দুই দিনের ব্যবধানে আবারও দাম বাড়ানো হলো। সোনার পাশাপাশি রুপার দামও নির্ধারণ করেছে বাজুস। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম রুপার দাম ৩০০ টাকা, ২১ ক্যারেটের ২৯০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ২৫০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ১৯০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাজুস জানিয়েছে, সোনা ও রুপার অলংকারের ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য হবে। বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় ক্রেতার কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। এছাড়া অলংকার এক্সচেঞ্জের ক্ষেত্রে মজুরি ও পাথরের দাম বাদ দিয়ে নির্ধারিত মূল্যের ওপর ১২ শতাংশ এবং পুরোনো সোনা কেনার ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ বাদ দিতে হবে। এক্সচেঞ্জ ও পুরোনো স্বর্ণ কেনার ক্ষেত্রে আলাদাভাবে ভ্যাট বাদ দেওয়া যাবে না। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে নতুন নির্ধারিত দাম কার্যকর থাকবে বলে জানিয়েছে বাজুস। চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ১৩১ বার সোনার দাম সমন্বয় করেছে বাজুস। এর মধ্যে ৬৩ বার দাম বাড়ানো হয়েছে, ৬৭ বার কমানো হয়েছে এবং একবার ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। অন্যদিকে, ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। ওই বছর ৬৪ বার দাম বাড়ানো এবং ২৯ বার কমানো হয়। আরটিভি/এসআর
দেশের বাজারে আবারও বাড়ল সোনার দাম
নতুন দুই গ্যাসকূপ খনন করবে সরকার, চলবে ১০ বছর
দেশের গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে দুটি নতুন কূপ খননের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এসব কূপ থেকে দৈনিক প্রায় ৩ কোটি ঘনফুট গ্যাস উত্তোলনের আশা করা হচ্ছে। ১০ বছরে এসব কূপ থেকে পাওয়া গ্যাসের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা।
নতুন দুই গ্যাসকূপ খনন করবে সরকার, চলবে ১০ বছর
শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান পোশাকশিল্প মালিকদের
পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের পরিপ্রেক্ষিতে কারখানার উৎপাদন সচল রাখতে এবং বোর্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত রেখে শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকরা।
শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান পোশাকশিল্প মালিকদের
ডিএসসিসিকে ৩০০ ওয়েস্ট বিন দিল বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক
পরিচ্ছন্ন, পরিবেশবান্ধব ও বাসযোগ্য নগরী গড়ে তোলার লক্ষ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ৩০০টি ‘টেকসই ও দৃষ্টিনন্দন ওয়েস্ট বিন’ হস্তান্তর করেছে বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক।
ডিএসসিসিকে ৩০০ ওয়েস্ট বিন দিল বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক
আরও পড়ুন
সামগ্রিক রাজস্ব আদায় বৃদ্ধিতে এনবিআরের উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে: ডিসিসিআই
টাইফয়েডের টিকা নিয়ে নতুন তথ্য দিলো ইপিআই
ইপিআই টিকা, যক্ষ্মা-এইডসের ওষুধ কিনতে ৪৬৩ কোটি টাকা অনুমোদন
বন্দরগুলোর উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান