ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

নবম পে-স্কেল: অতিরিক্ত সুবিধা পাবেন যারা

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ৩১ মে ২০২৬, ০৪:৪৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

আলোচিত নবম জাতীয় বেতন কাঠামো আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর করার প্রস্তুতি চলছে। নতুন পে-স্কেলের আওতায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাও অন্তর্ভুক্ত হবেন। সরকারের লক্ষ্য নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের আর্থিক অবস্থার উন্নয়ন করা। আর বিভিন্ন গ্রেডের মধ্যে বিদ্যমান বেতন বৈষম্য কমিয়ে আনা।

নবম জাতীয় পে স্কেল চূড়ান্ত করতে গঠিত সচিব কমিটির এক বৈঠকে প্রস্তাবিত কাঠামো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, নতুন বেতন কাঠামোয় উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের তুলনায় নিম্নস্তরের কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি ও অতিরিক্ত সুবিধার বিষয়টিকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন গ্রেডের মধ্যে বেতনের ব্যবধান কমানোর লক্ষ্যে বেশ কিছু সুপারিশও উপস্থাপন করা হয়েছে।

নতুন পে স্কেলের আওতায় প্রশাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিচার বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সুবিধা পাবেন। একই সঙ্গে স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের জন্যও পৃথক সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে, যাতে সবাই সমভাবে নতুন সুবিধা ভোগ করতে পারেন।

২১ মে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের পুনর্গঠিত কমিটির বৈঠকে জাতীয় বেতন কমিশন, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটির সুপারিশ পর্যালোচনা করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তিনটি প্রতিবেদনের মধ্যে দুটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে বেতন বৃদ্ধি, ভাতা কাঠামো এবং বাজেট সক্ষমতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। তৃতীয় প্রতিবেদনটি পরবর্তী বৈঠকে আলোচনা হবে বলেও জানা যায়।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে আগস্ট বা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় লাগলেও জুলাই থেকেই নতুন বেতন কাঠামোর সুবিধা কার্যকর হবে। পরে গেজেট প্রকাশ হলে চাকরিজীবীরা জুলাই থেকে বকেয়াসহ বর্ধিত সুবিধা পাবেন।

সর্বশেষ, অষ্টম জাতীয় বেতন কাঠামো কার্যকর হয় ২০১৫ সালে। এরপর এক দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। এ সময়ে খাদ্য, বাসাভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও পরিবহন ব্যয়সহ প্রায় সব খাতে ব্যয় বহুগুণ বেড়েছে। ফলে সরকারি চাকরিজীবীদের প্রকৃত আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। বিশেষ করে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীরা সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে। এ কারণে নতুন পে-স্কেলে নিম্ন আয়ের কর্মীদের বেতন বৃদ্ধিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, দীর্ঘদিনের বেতন বৈষম্য কমানো এবং নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই দ্বিতীয় প্রস্তাবটি আলোচনায় এসেছে। তবে সব গ্রেডে সমান হারে ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি দিলে প্রশাসনিক ভারসাম্য বজায় রাখা সহজ হবে বলেও মত রয়েছে।

বর্তমান আলোচনায় থাকা প্রথম প্রস্তাব অনুযায়ী, অধিকাংশ গ্রেডের মূল বেতন ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। সেক্ষেত্রে চতুর্থ গ্রেডের অধ্যক্ষদের বর্তমান ৫০ হাজার টাকার বেসিক বেড়ে ৭৫ হাজার টাকা হতে পারে। ষষ্ঠ গ্রেডের সহকারী অধ্যাপকদের ৩৫ হাজার ৫০০ টাকার বেসিক দাঁড়াতে পারে ৫৩ হাজার ২৫০ টাকায়।

একইভাবে সপ্তম গ্রেডের প্রধান শিক্ষক ও উপাধ্যক্ষদের বেসিক ২৯ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ৪৩ হাজার ৫০০ টাকা এবং নবম গ্রেডের প্রভাষকদের ২২ হাজার টাকা থেকে ৩৩ হাজার টাকায় উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে, দ্বিতীয় প্রস্তাবে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পেতে পারেন নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীরা। আলোচনায় থাকা এ বিকল্প অনুযায়ী, ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন দ্বিগুণ করা হতে পারে।

সেক্ষেত্রে ১১তম গ্রেডের শিক্ষকদের বর্তমান ১২ হাজার ৫০০ টাকার বেসিক বেড়ে ২৫ হাজার টাকায় পৌঁছাতে পারে। ১৬তম গ্রেডের অফিস সহকারীদের ৯ হাজার ৩০০ টাকার বেতন বেড়ে ১৮ হাজার ৬০০ টাকা এবং ২০তম গ্রেডের অফিস সহায়কদের ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ১৬ হাজার ৫০০ টাকা হতে পারে।

নীতিনির্ধারকদের মতে, মূল্যস্ফীতির প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের ওপর। ফলে নতুন পে-স্কেলে তাদের জন্য তুলনামূলক বেশি সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।

তবে কোন প্রস্তাব চূড়ান্ত হবে, সে বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। জাতীয় বেতন কমিশন, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন এবং সশস্ত্র বাহিনীর বেতনসংক্রান্ত সুপারিশ পর্যালোচনার পর সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

নবম পে-স্কেলের চূড়ান্ত কাঠামো নির্ধারণ না হলেও আলোচনায় থাকা দুই বিকল্পের মধ্যে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য বিশেষ সুবিধা রাখার বিষয়টি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

আরটিভি/এসএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বিশ্ববাজারে আবারও কমলো তেলের দাম
বিশ্ববাজারে আবারও কমেছে অপরিশোধিত তেলের দাম। সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে তেল সরবরাহ পুনরায় শুরু হওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনায় বাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমেছে।
বিশ্ববাজারে আবারও কমলো তেলের দাম
আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা
আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের বাজারে সোনার দাম নির্ধারণ করে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সেই অনুযায়ী, বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সর্বশেষ নির্ধারিত দামেই দেশের বাজারে স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে। সবশেষ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সোনার দাম ভরিতে ১ হাজার ৬৯১ টাকা বাড়ায় বাজুস। এর আগে এক দফা দাম বাড়ানো হয়েছিল। দুই দফায় ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম বেড়েছে মোট ২ হাজার ৭৪১ টাকা। বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনা বা পিওর গোল্ডের দাম বাড়ায় সোনার নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন মূল্য অনুযায়ী, দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৪ হাজার ৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯২ হাজার ৩৯৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনা ১ লাখ ৫৭ হাজার ১৭২ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। বাজুসের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নির্ধারিত সোনার দামের সঙ্গে ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যোগ হবে। তবে গহনার নকশা ও মানের ওপর ভিত্তি করে মজুরির পরিমাণ কম-বেশি হতে পারে। এদিকে, দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ১৩২ টাকা। ২১ ক্যারেটের রুপা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৯৫৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৪ হাজার ২৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ৩ হাজার ২০৮ টাকা প্রতি ভরি। অর্থাৎ, আজকের হিসাবে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার মূল দাম ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা। এর সঙ্গে ভ্যাট ও মজুরি যোগ হলে গহনা কিনতে ক্রেতাকে আরও বেশি অর্থ পরিশোধ করতে হবে। আরটিভি/ এমএ
আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় চড়া সবজির বাজার
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা লেগেছে রাজধানীর সবজির বাজারে। ব্যবসায়ীদের দাবি, পরিবহণ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন সবজির দামও বাড়াতে হয়েছে। এতে বাড়তি দামের চাপে পড়েছেন ক্রেতারা।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় চড়া সবজির বাজার
লঞ্চভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়ানোর দাবি
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় এবার যাত্রীবাহী লঞ্চের ভাড়া ৫১ থেকে ৬০ শতাংশ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে অভ্যন্তরীণ নৌপথে যাত্রী পরিবহনকারী লঞ্চ মালিকদের সংগঠন।
লঞ্চভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়ানোর দাবি
জ্বালানির দাম বৃদ্ধি: পথে পথে গণপরিবহনের ভাড়া নৈরাজ্য
দেশের বিভিন্ন রুটে সরকার গণপরিবহনের ভাড়া বাড়ানোর আগেই অতিরিক্ত ভাড়া আদায় শুরু হয়ে গেছে। সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হওয়া এই নৈরাজ্য এখনও চলছে।
জ্বালানির দাম বৃদ্ধি: পথে পথে গণপরিবহনের ভাড়া নৈরাজ্য
আরও পড়ুন
নতুন বেতন স্কেল: সরকারি কর্মচারীর আয় বাড়ল, সাধারণ মানুষের কী
নতুন পে-স্কেলে প্রাথমিকের শিক্ষকদের জন্য দুঃসংবাদ!
নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি, কার বেতন কত হলো
পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপনের দিনক্ষণ নিয়ে সবশেষ যা জানা যাচ্ছে