ঢাকা রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

যুক্তরাষ্ট্রে সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ শুল্ক সুবিধা পেল বাংলাদেশ

বাসস

প্রকাশ : ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:২৩ পিএম
ছবি: বাসস

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বাণিজ্যিক শুল্ক ব্যবস্থায় বাংলাদেশ সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ শুল্কহার পেয়েছে। এর ফলে চীন, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডসহ প্রধান পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর তুলনায় মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা আরও শক্তিশালী হবে।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ১৯৭৪ সালের যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেড অ্যাক্টের ৩০১ ধারার আওতায় জোরপূর্বক শ্রম ব্যবহারের অভিযোগে তদন্ত শেষে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয় (ইউএসটিআর) বিশ্বের ৮৬টি দেশের প্রতিনিধিত্বকারী ৬০টি অর্থনীতির জন্য নতুন শুল্কহার ঘোষণা করেছে।

২৩ জুলাই ঘোষিত এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আজ ওয়াশিংটন সময় রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত নতুন শুল্ক কার্যকর হয়েছে। এর মাধ্যমে ট্রেড অ্যাক্টের ১২২ ধারার আওতায় পূর্বে আরোপিত অস্থায়ী ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্কের পরিবর্তে নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হলো।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর বিদ্যমান মোস্ট ফেভার্ড নেশন (এমএফএন) শুল্কের পাশাপাশি অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।

আরও পড়ুন

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ৮৬টি দেশের মধ্যে মাত্র ১৭টি দেশ সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ শুল্কস্তরে স্থান পেয়েছে। বাংলাদেশও এ তালিকায় থাকায় যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাকসহ সামগ্রিক রপ্তানি বাজারে দেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান অক্ষুণ্ন থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী পোশাক রপ্তানিকারক দেশ চীন, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডকে সর্বোচ্চ ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্কস্তরে রাখা হয়েছে। ফলে এসব দেশের তুলনায় মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের তুলনামূলক সুবিধা আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে, ইউএসটিআর বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার জন্য তিন বছর মেয়াদি ট্যারিফ-রেট কোটা (টিআরকিউ) চালুর বিষয়টি বিবেচনা করছে। এ ব্যবস্থা কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ও বস্ত্র উপকরণ ব্যবহার করে উৎপাদিত পণ্যের ক্ষেত্রে ৩০১ ধারার অতিরিক্ত শুল্ক মওকুফ করা হতে পারে।

এটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা আরও একটি প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা পাবেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বস্ত্র উপকরণের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি সম্প্রসারণেও এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, আন্তর্জাতিক শ্রমমান বজায় রাখা এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি খাতগুলোর টেকসই প্রবৃদ্ধি, নীতিমালা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বাংলাদেশ সরকার।

আরটিভি/এসআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ঘুরে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি
জুলাইয়ে সামান্য কমার পর আগস্টে ঘুরে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি। আগস্টে দেশটিতে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ১০ দশমিক ৫৩ শতাংশ। ফলে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে যুক্তরাজ্যে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে আয় বেড়েছে ৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ।
ঘুরে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি
বিশ্ব পর্যটন দিবস / খাগড়াছড়িতে পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়ছে
পাহাড়, ঝরনা, গুহা আর সবুজের হাতছানিতে প্রতিবছরই বাড়ছে খাগড়াছড়িমুখী পর্যটকের আগ্রহ। আলুটিলা, রিছাং ঝর্ণা, হর্টিকালচার পার্ক, দেবতাপুকুর, মায়াবিনী লেকসহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে ছুটে যাচ্ছেন দেশের নানা প্রান্তের মানুষ। 
খাগড়াছড়িতে পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়ছে
বিশ্ব পর্যটন দিবস / কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি বান্দরবানের পর্যটন শিল্প
বান্দরবানে পর্যটন শিল্প এখনও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি। সম্ভাবনাময় এই পর্যটন অঞ্চল সঠিক পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের অভাবে পিছিয়ে পড়ছে। এই শিল্পকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি। পাহাড়, ঝরনা আর বৈচিত্র্যময় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতির কারণে বান্দরবান পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়। কিন্তু অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সমন্বিত পরিকল্পনার অভাবে এটি কাঙ্ক্ষিত রূপ নিতে পারেনি। স্থানীয় প্রশাসন, পর্যটন করপোরেশন এবং হোটেল-রিসোর্ট মালিকদের মধ্যে কোনো কার্যকর যৌথ রূপরেখা না থাকায় সবকিছু যেন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে— এমনটাই মনে করছেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা। বান্দরবানে নীলাচল, নীলগিরি, মেঘলা, শৈলপ্রপাত, চিম্বুক ও প্রান্তিক লেকসহ সরকারি ও বেসরকারি অসংখ্য পর্যটন স্পট রয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার অপ্রতুলতার কারণে এই খাতের কাঙ্ক্ষিত বিকাশ সম্ভব হচ্ছে না। ভ্রমণে আসা পর্যটকদের মতে, বান্দরবানে পর্যটন শিল্পের বিকাশে কাজ করার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। এর জন্য দরকার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও কিছু কার্যকর উদ্যোগ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই অঞ্চলের প্রাকৃতিক রূপ ও অপার সৌন্দর্য সঠিকভাবে তুলে ধরতে পারলে প্রচুর দেশি-বিদেশি পর্যটক আসবে। তবে বর্তমানে বান্দরবান ভ্রমণ বেশ ব্যয়বহুল এবং যোগাযোগ ব্যবস্থাও পুরোপুরি সুবিধাজনক নয়। অসাধু ব্যবসায়ীদের একটি মহল এই সুযোগটি নিচ্ছে। আবাসন ব্যবস্থা ও যাতায়াতে আরও স্বচ্ছতা আনা গেলে পর্যটক যেমন বাড়বে, তেমনি সরকারের রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি, পর্যটকদের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশের তৎপরতা আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা। বান্দরবান ট্যুর গাইড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বিশ্বজিৎ দাশ (বাপ্পা) বলেন, বান্দরবানে বিদেশি পর্যটকদের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। তবে নির্দিষ্ট কয়েকটি স্পট ছাড়া অন্য কোথাও ভ্রমণের অনুমতি না থাকায় দিন দিন বিদেশি পর্যটক কমে যাচ্ছে। নির্দিষ্ট স্থানগুলোতে একদিনেই ঘোরা শেষ হয়ে যাওয়ায় তারা এক দিনের বেশি থাকতে চান না। বান্দরবান হোটেল-মোটেল ও ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, পর্যটন শহর হিসেবে বাস্তবে বান্দরবানকে সঠিকভাবে সাজানো হয়নি। জেলা শহরের বর্তমান অবস্থা দেখে পর্যটকরা একদিনের বেশি থাকতে চান না। শহরে ময়লা-আবর্জনা, যত্রতত্র পার্কিং এবং চলাচলের ভালো কোনো সুযোগ-সুবিধা নেই। সন্ধ্যার পরে জেলা শহরে বিনোদনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় পর্যটকরা একদিন থেকেই কক্সবাজারমুখী হয়ে যান।  তিনি আরও বলেন, পর্যটকদের মনে আস্থার পরিবেশ তৈরি করা যাচ্ছে না। পর্যটন দিবস এলেই সভা, সেমিনার ও র‍্যালির মতো কিছু কর্মসূচির মধ্যেই সব সীমাবদ্ধ থাকে। আবাসিক হোটেল-মোটেল ও পরিবহনের ভাড়ার কোনো নির্দিষ্ট তালিকা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্ধারিত না থাকায় অতিরিক্ত খরচ গুণতে হয়। ঢাকা-কক্সবাজার বাস ভাড়ার চেয়ে ঢাকা-বান্দরবান বাস ভাড়া অনেক বেশি নেওয়ার কারণে ভ্রমণ ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে। তাছাড়া দুর্গম পাহাড়ি রাস্তা এবং বর্ষায় ধসের কারণে যাতায়াত ঝুঁকিপূর্ণ। পাহাড়ে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক ও জাতিগত অস্থিরতায় পর্যটক আগমন ব্যাহত হলেও বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক স্বাভাবিক রয়েছে। তবে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখার পাশাপাশি বিকল্প বিনোদনের সুযোগ না থাকায় পর্যটক সীমিত হয়ে পড়ছে। এসব বিষয়ে সঠিক নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে দেশি-বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা বহুগুণ বাড়বে। বান্দরবান ট্যুরিস্ট পুলিশের পরিদর্শক মাহবুবুর রহমান বলেন, এখানকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আগের চেয়ে অনেকটাই স্বাভাবিক রয়েছে। বর্তমানে পর্যটকদের জন্য একটি নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন পরিবেশ তৈরি করেছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। বিশ্ব পর্যটন দিবসে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তায় পর্যটন স্পটগুলোতে বিশেষ পুলিশ ফোর্স মোতায়েন করা হবে। পাশাপাশি মোবাইল টিমও নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে। আরটিভি/এসএস
কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি বান্দরবানের পর্যটন শিল্প
দেশের বাজারে আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা 
দেশের বাজারে কমেছে সোনার দাম। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার গহনার দাম ১ হাজার ৬৯১ টাকা কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।
দেশের বাজারে আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা 
সুন্দরবন ঘিরে তৈরি হচ্ছে নতুন পর্যটন সম্ভাবনা
আসন্ন পর্যটন মৌসুমে সুন্দরবনে নতুন করে পর্যটকদের আগমন বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনকে আন্তর্জাতিক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরতে আরও উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পর্যটনসংশ্লিষ্টরা।
সুন্দরবন ঘিরে তৈরি হচ্ছে নতুন পর্যটন সম্ভাবনা
আরও পড়ুন
প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সুখবর
সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনায় জামায়াত আমিরের ক্ষোভ
বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে বড় নিয়োগ, আবেদন যেভাবে
‘আমি বাংলা জানি না, সতীর্থরা আমাকে বোঝাতে ইশারা-ইঙ্গিত ব্যবহার করে’