ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

দেশে পেপ্যাল, পেওনিয়ারের মতো সেবা চালুর পথ খুলল

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ৩০ জুলাই ২০২৬, ১০:০৩ এএম
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে পেপ্যাল ও পেওনিয়ারের মতো আন্তর্জাতিক ডিজিটাল পেমেন্ট ও অর্থ স্থানান্তর সেবা চালুর পথ উন্মুক্ত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নীতিমালার আওতায় দেশের অনুমোদিত ব্যাংকগুলো বিদেশি ডিজিটাল পেমেন্ট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করে আন্তঃসীমান্ত (ক্রস-বর্ডার) ডিজিটাল লেনদেনের সুবিধা চালু করতে পারবে।

বুধবার(২৯ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। আন্তর্জাতিক সেবামুখী বাণিজ্য সহজ করা, ডিজিটাল আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়ানো এবং বৈদেশিক লেনদেন ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও সহজ করার লক্ষ্যেই নতুন এই কাঠামো প্রণয়ন করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মতে, সেবা চালুর জন্য প্রথমে দেশের অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলোকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন নিয়ে বিদেশি পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডারদের সঙ্গে চুক্তি করতে হবে। এরপর নিজস্ব প্রযুক্তিগত অবকাঠামো প্রস্তুত, প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে সংযোগ (ইন্টিগ্রেশন), মাস্টার ডিজিটাল ভ্যালু অ্যাকাউন্ট (ডিভিএ) চালু এবং গ্রাহকদের অ্যাকাউন্ট সংযুক্ত করার কাজ সম্পন্ন করতে হবে।

এ ছাড়া মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা, রিয়েল-টাইম লেনদেন পর্যবেক্ষণ এবং রিপোর্টিং ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে।

তবে নতুন সেবা চালুর নির্দিষ্ট সময়সীমা প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়নি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যাংকগুলোর প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনের ওপর নির্ভর করে ধাপে ধাপে সেবা চালু হবে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ২০২৬ সালের শেষ দিকে পরীক্ষামূলকভাবে (পাইলট) সেবা চালুর সম্ভাবনা রয়েছে।

নতুন নির্দেশনায় ‘ব্যাংক-মধ্যস্থতাকারী কাঠামো’ চালু করা হয়েছে। এর আওতায় ব্যাংকগুলো বিদেশি ডিজিটাল পেমেন্ট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান, অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে সেবা দিতে পারবে।

গ্রাহকদের জন্য ‘ডিজিটাল ভ্যালু অ্যাকাউন্ট (ডিভিএ)’ নামে ডিজিটাল ওয়ালেট চালুর সুযোগ থাকবে। তবে এসব অ্যাকাউন্ট সরাসরি পরিচালিত হবে না; প্রতিটি ডিভিএ সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি ‘মাস্টার ডিভিএ’ বা সেটেলমেন্ট অ্যাকাউন্টের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যক্তি, ব্যবসায়ী ও ফ্রিল্যান্সাররা বৈদেশিক মুদ্রায় বিভিন্ন ধরনের লেনদেন করতে পারবেন। ব্যক্তিগত, চিকিৎসা ও সরকারি কাজে বিদেশ ভ্রমণের অনুমোদিত কোটার আওতায় বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহার করা যাবে। এছাড়া অনলাইনে আন্তর্জাতিক কেনাকাটা বা বিভিন্ন ফি পরিশোধের ক্ষেত্রে প্রতি লেনদেনে সর্বোচ্চ ৩০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত ব্যয় করা যাবে।

সদস্যপদ ফি, তথ্যপ্রযুক্তি-সংক্রান্ত ব্যয়, ভিসা প্রসেসিং ফি এবং অনলাইনে হোটেল বুকিংয়ের অর্থ পরিশোধেও এই ডিজিটাল ওয়ালেট ব্যবহার করা যাবে। এক্সপোর্ট রিটেনশন কোটা (ইআরকিউ) এবং রেসিডেন্ট ফরেন কারেন্সি ডিপোজিট (আরএফসিডি) হিসাবের বিপরীতেও এ সুবিধা পাওয়া যাবে। ইআরকিউ হিসাবধারী প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ তিনজন শীর্ষ কর্মকর্তা ব্যবসায়িক ব্যয়ের জন্য ডিভিএ ব্যবহার করতে পারবেন।

নতুন ব্যবস্থার ফলে ফ্রিল্যান্সার ও ই-কমার্স উদ্যোক্তারা বিদেশ থেকে অর্জিত অর্থ আরও সহজে দেশে আনতে পারবেন বলে মনে করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পাশাপাশি বাংলাদেশে আগত বিদেশি নাগরিক ও পর্যটকরাও দেশের বিভিন্ন মার্চেন্ট পয়েন্টে ডিজিটাল পেমেন্ট করতে পারবেন।

আরও পড়ুন

তবে সেবা চালুর আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে তাদের কারিগরি সক্ষমতা, নিরাপত্তা অবকাঠামো এবং পরিচালন কাঠামোর বিস্তারিত তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগে জমা দিয়ে পূর্বানুমোদন নিতে হবে। একই সঙ্গে গ্রাহক পরিচিতি (কেওয়াইসি), অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধসংক্রান্ত সব বিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে এবং নিয়মিত লেনদেনের তথ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা দিতে হবে।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত অনুমোদন পেল রূপপুর
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা) এই অনুমোদন দিয়েছে।
পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত অনুমোদন পেল রূপপুর
বন্ধ সরকারি কারখানায় ফিরেছে উৎপাদন
বছরের পর বছর বন্ধ পড়ে থাকা সরকারি শিল্পকারখানায় আবারও উৎপাদনের চাকা ঘুরছে। সরকারের উদ্যোগে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) আওতায় এসব কারখানা ইজারা নিয়ে উৎপাদনে ফিরিয়ে আনছে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ। ইতোমধ্যে রাজশাহীর দুটি বন্ধ কারখানায় উৎপাদন শুরু হয়েছে। সেখানে কর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের, যাদের প্রায় ৯০ শতাংশই নারী। বন্ধ হয়ে থাকা সরকারি কলকারখানা পুনরায় চালু করে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম অঙ্গীকার ছিল। সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই বন্ধ সরকারি শিল্পকারখানাগুলোকে বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে আবার উৎপাদনে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ইতোমধ্যে কয়েকটি কারখানা বেসরকারি উদ্যোক্তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের বিপণন পরিচালক কামরুজ্জামান কামাল বলেন, রাজশাহীতে বরেন্দ্র রাজশাহী টেক্সটাইল লিমিটেড ও রাজশাহী জুট মিলস লিমিটেড ইজারা নিয়ে সেখানে ফুটওয়্যার, লাগেজ, লেডিস ব্যাগ, তাঁবু ও ছাতা উৎপাদন করা হচ্ছে। এসব কারখানায় উৎপাদিত পণ্য দেশের বাজারের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। উৎপাদন লাইন আরও সম্প্রসারণ করে আগামী দিনে আরও ১৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। তিনি জানান, গত আগস্টে পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন আরও দুটি জুট মিলও সরকারের কাছ থেকে ইজারা পেয়েছে প্রাণ-আরএফএল। প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে মিল দুটি প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের কাছে হস্তান্তর করা হয়। খুব শিগগিরই এসব মিলেও উৎপাদন শুরু হবে। কামরুজ্জামান কামাল বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে বছরের পর বছর বন্ধ থাকা সরকারি শিল্পকারখানাগুলোকে আবার উৎপাদনের আওতায় আনার ফলে একদিকে অব্যবহৃত সরকারি সম্পদের ব্যবহার বাড়ছে, অন্যদিকে তৈরি হচ্ছে কর্মসংস্থান ও রপ্তানির নতুন সুযোগ। এসব কারখানায় আগে থেকেই বিদ্যুৎ, গ্যাস, সড়ক যোগাযোগ ও ভবনসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর বড় অংশ থাকায় নতুন করে শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার তুলনায় দ্রুত এবং কম খরচে উৎপাদনে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে। প্রাণ-আরএফএলের এই পরিচালক জানান, পিপিপি'র আওতায় দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা মিলগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়ে সরকার আবেদন আহ্বান করে। প্রাণ-আরএফএল আবেদন করার পর সরকারের নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে প্রাথমিকভাবে ৩০ বছরের জন্য এসব মিল বরাদ্দ পায়। তিনি বলেন, ‘মূলত উৎপাদন দ্রুত বাড়ানো এবং অবকাঠামোগত ব্যয় কমানোর লক্ষ্যেই’ বন্ধ সরকারি শিল্পকারখানাগুলো ইজারা নেওয়া হয়েছে। এসব কারখানা শুধু ইট-পাথরের স্থাপনা নয়; একসময় এগুলো ছিল হাজারো মানুষের জীবিকার উৎস। উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে স্থানীয় অর্থনীতি, ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলো। কারখানাগুলো আবার চালু হওয়ায় সেই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও নতুন গতি তৈরি হচ্ছে। বন্ধ কারখানাগুলো পুনরায় চালুর ক্ষেত্রে সরকারের সহযোগিতাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করে কামরুজ্জামান কামাল বলেন, বন্ধ মিলগুলো দ্রুত উৎপাদনে ফিরিয়ে আনতে সরকার প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা করছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে, যা এ ধরনের বিনিয়োগ সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। রাজশাহীর কারখানাগুলোতে উৎপাদনের পাশাপাশি স্থানীয় কর্মসংস্থানের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কামরুজ্জামান কামাল বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত এসব শিল্পকারখানা চালু হওয়ায় স্থানীয় মানুষ, বিশেষ করে নারীরা নিজ এলাকাতেই কাজের সুযোগ পাচ্ছেন। ফলে জীবিকার জন্য তাদের ঢাকা বা অন্য বড় শহরে যেতে হচ্ছে না। এতে পরিবারের আয় বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় বাজার ও অর্থনীতিতেও কর্মচাঞ্চল্য তৈরি হচ্ছে। তিনি বলেন, শ্রমঘন এসব শিল্পে ইতোমধ্যে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। এর প্রায় ৯০ শতাংশই নারী কর্মী। উৎপাদন লাইন সম্প্রসারণের মাধ্যমে আরও ১৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান তৈরির কাজ চলছে। প্রাণ-আরএফএল মনে করছে, বন্ধ কারখানাগুলো চালুর এই উদ্যোগ আরও বড় পরিসরে নেওয়া গেলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও বাড়ানো সম্ভব। বিশেষ করে নারী কর্মসংস্থান বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এসব কারখানা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে কিছু কারখানায় যোগাযোগ ও অবকাঠামোগত সমস্যা রয়েছে বলেও জানান কামরুজ্জামান কামাল। বিশেষ করে খুলনার স্টার জুট মিলের যোগাযোগ সড়ক দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি। তার মতে, সড়ক যোগাযোগের সমস্যা সমাধান করা গেলে সেখানে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ আরও বাড়বে। এছাড়া একটি কারখানায় বড় পরিসরে বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেন তিনি। বন্ধ সরকারি কারখানাগুলো পুনরায় চালু করতে আগ্রহী উদ্যোক্তাদের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা, সহজ বন্ডেড ওয়্যারহাউস ব্যবস্থা, প্রণোদনা এবং স্বল্প সুদের ঋণ সুবিধা দেওয়া গেলে এসব শিল্পকারখানায় আরও বেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন কামরুজ্জামান কামাল। তিনি বলেন, এ ধরনের নীতিসহায়তা নিশ্চিত করা গেলে দীর্ঘদিন অব্যবহৃত সরকারি শিল্পসম্পদকে কাজে লাগিয়ে একই সঙ্গে উৎপাদন, রপ্তানি ও কর্মসংস্থান- তিন ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করা সম্ভব। আরটিভি/টিআর
বন্ধ সরকারি কারখানায় ফিরেছে উৎপাদন
বিশ্ববাজারে আবারও বাড়ল তেলের দাম
পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলা বাড়ায় মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান তেল উৎপাদনকারী অঞ্চল থেকে সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাজারে যার ফলে বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টা ২৭ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের ফিউচার মূল্য ব্যারেলপ্রতি ২ দশমিক ২৮ ডলার বা ২ দশমিক ২৮ শতাংশ বেড়ে ১০২ দশমিক ২৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে মার্কিন বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ১ দশমিক ৬৬ ডলার বা ১ দশমিক ৮৮ শতাংশ বেড়ে ৮৯ দশমিক ৯৪ ডলারে পৌঁছেছে। এর আগে বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা কমেছিল। ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির রেকর্ড মূল্য ও সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঠেকাতে উপসাগরীয় দেশগুলোর বিভিন্ন উদ্যোগের প্রভাবেই ওই দরপতন হয়েছিল। মার্চে চালু করা একটি পরিকল্পনার আওতায় কৌশলগত মজুত থেকে তেল ছাড়ার পাশাপাশি ডিজেল সরবরাহে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছিল আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)। তবে ইরানকে ঘিরে মার্কিন-ইসরায়েল সংঘাত অষ্টম মাসে গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে অক্টোবরে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজের ওপর হামলার ঝুঁকি বেড়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও জ্বালানি এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো। উপসাগরীয় দেশগুলোর উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়লেও গত সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী ট্যাঙ্কারে হামলার সংখ্যা যুদ্ধ শুরুর পর যেকোনো সময়ের তুলনায় সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ফলে উপসাগর থেকে বেশি পরিমাণ অপরিশোধিত তেল পরিবহন হলেও হামলার কারণে পণ্য ও নাবিকদের নিরাপত্তা ব্যয় এবং ঝুঁকি দুটিই বেড়েছে। সর্বশেষ হামলায় কাতারের উত্তরে একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার একাধিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে বহু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস এজেন্সি। এমএসটি মার্কির জ্বালানি বিভাগের প্রধান সল কাভোনিক বলেন, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে জাহাজে ইরানি হামলার হার এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে এবং তা আরও বাড়তে পারে। সীমিত পণ্য প্রবাহ, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং ইরানের পক্ষ থেকে আরও মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা তেলের দামকে ঊর্ধ্বমুখী রাখছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এদিকে এএনজেডের বিশ্লেষক ড্যানিয়েল হাইন্স এক নোটে জানিয়েছেন, আইইএ যে তেল ছাড়ছে, তা সম্ভবত মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর সময় সংস্থাটির ঘোষিত ৪০ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়ার পরিকল্পনারই অংশ। কৌশলগত মজুত থেকে অতিরিক্ত তেল উত্তোলন করা হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে না। তেলের দাম বাড়ার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের মজুতের তথ্যও ভূমিকা রেখেছে। বিশ্বের বৃহত্তম তেল ভোক্তা দেশটিতে অপরিশোধিত তেলের মজুত বিশ্লেষকদের প্রত্যাশার চেয়ে বেশি কমেছে। অন্যদিকে ডিজেলসহ ডিস্টিলেট জ্বালানির মজুতও সামান্য কমেছে। যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ইআইএ) তথ্য অনুযায়ী, ২ অক্টোবর শেষ হওয়া সপ্তাহে দেশটির অপরিশোধিত তেলের মজুত ৩২ লাখ ব্যারেল কমে ৪২ কোটি ৪১ লাখ ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে। অথচ রয়টার্সের এক জরিপে বিশ্লেষকেরা মজুত ১৭ লাখ ব্যারেল কমার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। এ সময়ে ডিজেল ও জেট ফুয়েলসহ ডিস্টিলেট জ্বালানির মজুত ৪২ হাজার ব্যারেল কমে ১০ কোটি ৫১ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে। গত পাঁচ বছরের একই সময়ের গড়ের তুলনায় এই মজুতও উল্লেখযোগ্যভাবে কম। আরটিভি/এসকে
বিশ্ববাজারে আবারও বাড়ল তেলের দাম
চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ১৫ বছরের জন্য পরিচালনায় সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে কনসেশন চুক্তি সই হয়েছে। 
চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি
বিদ্যুৎ উৎপাদনের দ্বারপ্রান্তে রূপপুর
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট বি-টু বা ক্রিটিক্যালিটিতে যাওয়ার অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছে। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বাডরা) এই অনুমোদন দেবে। 
বিদ্যুৎ উৎপাদনের দ্বারপ্রান্তে রূপপুর
আরও পড়ুন
নিউ জার্সিতে পেপ্যালের পরিচয় দিয়ে প্রতারণা, বৃদ্ধ হারালেন অবসরের সঞ্চয়
একীভূত পাঁচ ব্যাংকের প্রশাসকদের সঙ্গে গভর্নরের বৈঠক দুপুরে
বাংলাদেশে আসতে চায় পেপ্যাল, তবে...