
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে ৭৭ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ জেফরি মাস প্রতারণার শিকার হয়েছেন। প্রতারকেরা আন্তর্জাতিক অনলাইন পেমেন্ট সেবা পেপ্যালের পরিচয় দিয়ে তাকে ফোন দেয়, পরে ভুল ব্যাংক লেনদেনের তথ্য দেখিয়ে সোনা কিনতে বাধ্য করে। এই প্রতারণার ফাঁদে বৃদ্ধ জেফরি মাস অবসরের সঞ্চয় থেকে প্রায় ৩ লাখ ৯০ হাজার ডলার হারিয়েছেন।
২০২৪ সালের ৫ জুন মাসের কাছে নরটন অ্যান্টিভাইরাসের নামে একটি ই-মেইল আসে। সেখানে ৬৯১ ডলার ৫ সেন্টের একটি পেমেন্টের কথা জানানো হয়। তিনি এমন কোনো সেবা নেননি বুঝতে পেরে ই-মেইলে দেওয়া হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করেন।
ফোনের অপর প্রান্তের ব্যক্তি নিজেকে পেপ্যালের কর্মকর্তা ‘জেসন গ্রিন’ পরিচয় দিয়ে টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেয়। এর মাধ্যমে প্রতারকেরা মাসের কম্পিউটারের নিয়ন্ত্রণও নিয়ে নেয় বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে প্রতারক মাসকে একটি জাল ব্যাংক স্টেটমেন্ট দেখিয়ে দাবি করে, ভুল করে তার অ্যাকাউন্টে ৩ লাখ ডলার জমা হয়েছে। এই অর্থ ফেরত না দিলে আইআরএসের জরিমানা হতে পারে বলেও ভয় দেখানো হয়।
এরপর আরেক প্রতারক তাকে সোনা কিনে সেই অর্থ ফেরত দেওয়ার পরামর্শ দেয়। প্রতারকদের নির্দেশে মাস নিজের ব্যাংক থেকে ৩ লাখ ডলার স্থানান্তর করে নিউ জার্সির একটি মূল্যবান ধাতু বিক্রেতার কাছে। সেখানে গিয়ে সোনা কিনে তা প্রতারকদের লোকজনের হাতে তুলে দেন।
পরদিন একই কৌশলে তাকে আবার জানানো হয়, তার অ্যাকাউন্টে আরও ১ লাখ ডলার জমা হয়েছে। এবার তিনি ব্যাংক থেকে আরও ৯০ হাজার ডলার তুলে সোনা কেনেন।
পরে বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে মাস পুলিশে অভিযোগ করেন। তদন্তে সোনা সংগ্রহ করতে আসা এক ব্যক্তিকে শনাক্ত করে পুলিশ। জয়নেশ প্যাটেল নামে ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে চুরির অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।
ঘটনার পর মাস তার ব্যাংকের কাছে লেনদেনগুলো ফিরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করলেও অর্থ ফেরত আনা সম্ভব হয়নি বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এই প্রতারণার ঘটনায় মাসের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যেরও গুরুতর প্রভাব পড়ে। প্রচণ্ড মানসিক চাপের কারণে তিনি দুবার জ্ঞান হারান এবং দুইবারই হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। পরে সামাজিক উদ্বেগ ও মানুষের সঙ্গে মেলামেশা এড়িয়ে চলার সমস্যাতেও ভুগেছেন বলে জানান তিনি।
ঘটনাটি নিয়ে মাস ব্যাংক ও সোনা বিক্রেতার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। অভিযোগে ব্যাংকের কর্মীদের বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের লেনদেনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে যথেষ্ট প্রশ্ন না করার অভিযোগও আনা হয়েছে। তবে ব্যাংক ও সোনা বিক্রেতার পক্ষ থেকে অভিযোগের দায় অস্বীকার করা হয়েছে।
অবসরের পর স্ত্রীকে নিয়ে ইউরোপ ভ্রমণ, নাতি-নাতনিদের জন্য অর্থ রাখা এবং সন্তানদের উত্তরাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল মাস দম্পতির। প্রতারণায় সেই সঞ্চয়ের প্রায় অর্ধেক হারানোর পর এখন অন্যদের সতর্ক করতে চান ৭৭ বছর বয়সী এই ব্যক্তি।
আরটিভি/ এসকেডি




