ঢাকা মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩

বাজারে সরবরাহ থাকলেও নাগালের বাইরে ইলিশ

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১২:০৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

বর্ষার ভরা মৌসুমে বাজারে ইলিশের সরবরাহ থাকলেও চড়া দামের কারণে সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে জাতীয় এই মাছ। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে ছোট-বড় বিভিন্ন আকারের ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে।

তবে আকার, ওজন ও মানভেদে কেজিপ্রতি দাম উঠছে প্রায় ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত। ফলে বাজারে ইলিশ থাকলেও তা এখন মূলত ‘সামর্থ্যবান’ ক্রেতাদের মাছ হয়ে উঠেছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাজধানীর পূর্ব রামপুরার বউ বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আকার ও ওজনভেদে ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৬৫০ টাকা থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকা কেজি দরে। ২০০ থেকে ৩০০ গ্রাম ওজনের ছোট ইলিশের দাম কেজিপ্রতি ৬৫০ থেকে ৮০০ টাকা। ৩৫০ থেকে ৪০০ গ্রাম ওজনের মাছ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ২০০ টাকা কেজি দরে।

এছাড়া ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম কেজিপ্রতি ১ হাজার ৭০০ টাকা। আর এক কেজি থেকে ১ কেজি ৩০০ গ্রাম ওজনের মাছ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২ হাজার ৮০০ টাকা কেজি দরে। বড় আকারের ইলিশের ক্ষেত্রে বাজারভেদে দাম আরও বেশি হতে পারে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

এমন দামে ইলিশ কিনতে এসে হতাশ ক্রেতারা। বউ বাজারের ক্রেতা গিয়াসউদ্দিন বলেন, ছোট মাছের দাম তুলনামূলক কম, কিন্তু ভালো আকারের ইলিশ কিনতে গেলে অনেক টাকা লাগছে। আগে মৌসুমে ইলিশ কিনতাম। এবার দাম বেশি হওয়ায় শুধু দেখেই চলে যেতে হচ্ছে। এত দাম দিয়ে এক বেলার জন্য মাছ কেনার সুযোগ নেই।

মাছ বিক্রেতা সবুজ বলেন, বাজারে ইলিশের সরবরাহ আছে, তবে বড় আকারের মাছ তুলনামূলক কম আসছে। মোকাম থেকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে, তাই খুচরা বাজারেও দাম কমানো সম্ভব হচ্ছে না। ছোট ইলিশের দাম কিছুটা কম হলেও বড় মাছের চাহিদা বেশি। সরবরাহ আরও বাড়লে ইলিশের দাম কিছুটা কমতে পারে।

আরও পড়ুন

রাজধানীর অন্যান্য বাজারের চিত্রও প্রায় একই বলে জানা গেছে। কারওয়ান বাজার, মেরুল বাড্ডা, বনশ্রী, রামপুরা, সেগুনবাগিচা ও মগবাজারের বাজারগুলোতে ৭০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি ১ হাজার ৮৫০ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা, এক কেজি বা কাছাকাছি ওজনের মাছ ২ হাজার ২৫০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং এক থেকে দেড় কেজি ওজনের ইলিশ ২ হাজার ৬০০ থেকে ৩ হাজার ১০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে দেখা গেছে।

আরটিভি/এসএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
‘ফ্যামিলি কার্ডে’ সাড়ে ২৮ লাখ মানুষ দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পেতে পারে: বিশ্বব্যাংক
একাধিক খাদ্য ভর্তুকি একত্রিত করা এবং বিদ্যমান নগদ অর্থ কর্মসূচির সঠিক লক্ষ্য নির্ধারণের সঙ্গে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ যুক্ত করার মাধ্যমে দেশে অতিরিক্ত ২৮.৫ লাখ মানুষকে দারিদ্র্য থেকে মুক্তি দেওয়া যেতে পারে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সীমিত সরকারি সম্পদের সর্বোচ্চ সুফল নিশ্চিত করতে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলোকে আরও সুনির্দিষ্টভাবে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দিতে হবে। মঙ্গলবার (০৬ অক্টোবর) প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের নতুন হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।  সবশেষ ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’-এ ২০২৬ ও ২০২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে ৩.৪ শতাংশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে বর্তমানে বিনিয়োগ কার্যক্রম অত্যন্ত মন্থর হয়ে পড়েছে, রপ্তানি তার গতি হারিয়েছে এবং মুদ্রাস্ফীতি অব্যাহতভাবে উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন সাধারণ পরিবারের ক্রয়ক্ষমতা মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে, অন্যদিকে ব্যবসার পরিচালন ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে।  পাশাপাশি আর্থিক খাতের ভঙ্গুরতা ঋণ মধ্যস্থতা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থাকে ধারাবাহিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং সীমিত রাজস্ব সংস্থানের কারণে সরকারি বড় বিনিয়োগ কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তবে এসব বৈরী প্রতিকূলতা সত্ত্বেও, শক্তিশালী রেমিটেন্স প্রবাহ এবং ক্রমবর্ধমান বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের সহায়তায় বাহ্যিক খাত কিছুটা স্থিতিশীলতা দেখাতে সক্ষম হয়েছে। এদিকে জ্বালানি সরবরাহ ক্রমান্বয়ে সহজ হওয়া এবং সরকারের সংস্কার কার্যক্রমের গতি ত্বরান্বিত হলে ২০২৮ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩.৯ শতাংশে উন্নীত হতে পারে বলে আশা করছে বিশ্বব্যাংক। বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের কান্ট্রি ডিরেক্টর জ্যাঁ পেসম বলেন, অর্থনৈতিক মন্দা এড়াতে ও বেসরকারি বিনিয়োগ-চালিত অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির পথে ফিরতে ব্যাংকিং খাত, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ এবং জ্বালানি খাতে দ্রুত ও সাহসী সংস্কার প্রয়োজন। তিনি বলেন, দরিদ্রদের সুরক্ষার পাশাপাশি আরও বেশি ও উন্নত কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কারগুলোকে ত্বরান্বিত করতে বাংলাদেশকে জরুরি ভিত্তিতে সাড়া দিতে হবে। এখন আর বিলম্ব করার সুযোগ নেই, এখনই পদক্ষেপ নেওয়ার উপযুক্ত সময়। সংস্থাটি বলেছে, ২০২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশে দারিদ্র্য ও বৈষম্য উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং গত বছরের তুলনায় প্রায় ২১ লাখ বেশি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে। বর্তমানে দেশে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি একপ্রকার থমকে গেছে এবং বিপুল সংখ্যক নারী তাদের চাকরি হারিয়েছেন। এদিকে ব্যাংকিং খাতের সার্বিক দুর্বলতা আরও তীব্র হয়েছে, যেখানে খেলাপি ঋণের হার ডিসেম্বর ২০২৫-এর ৩০.৬ শতাংশ থেকে আরও বেড়ে জুন ২০২৬-এ ৩৩.২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।  দেশের রাজস্ব আদায়ের চিত্র অত্যন্ত হতাশাজনক; জিডিপির মাত্র ৮.৩ শতাংশ রাজস্ব আদায় হচ্ছে যা বিশ্বজুড়ে অন্যতম সর্বনিম্ন পর্যায় এবং এর ফলে প্রয়োজনীয় জনকল্যাণমূলক খাতে সরকারি ব্যয় সংকুচিত হচ্ছে। অন্যদিকে ২০২৫ অর্থবছরের ৩.৫ শতাংশ থেকে রাজস্ব ঘাটতি বেড়ে ২০২৬ অর্থবছরে জিডিপির ৩.৯ শতাংশে গিয়ে পৌঁছেছে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সামাজিক সুরক্ষা, জ্বালানি এবং কৃষি ভর্তুকি দরিদ্র ও দুর্বল জনগোষ্ঠীকে কিছুটা রক্ষা করতে সাহায্য করলেও বাস্তবতায় প্রায় অর্ধেক দরিদ্রতম পরিবার কোনো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতার মধ্যেই নেই। বিশ্বব্যাংকের মতে, উন্নততর লক্ষ্য নির্ধারণের মাধ্যমে এই সামাজিক কর্মসূচিগুলোর দারিদ্র্য-প্রতিরোধমূলক প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করা সম্ভব। একটি অধিক সংবেদনশীল সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি নিশ্চিত করতে পারে যে সরকারের সীমিত সম্পদ যেন প্রকৃত দরিদ্র ও দুর্বল পরিবারগুলোর কাছে কার্যকরভাবে পৌঁছায়। এ ক্ষেত্রে সরকারের ‘ডাইনামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি’ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন ও সম্প্রসারণ করা গেলে তা লক্ষ্য নির্ধারণ এবং আওতার ঘাটতি মোকাবিলায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ‘বাংলাদেশ উন্নয়ন হালনাগাদ’ মূলত বিশ্বব্যাংক গ্রুপের আঞ্চলিক প্রতিবেদন ‘দক্ষিণ এশিয়া অর্থনৈতিক হালনাগাদ’-এর একটি পরিপূরক অংশ হিসেবে আজ প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে পুরো দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও নীতিগত অগ্রাধিকারগুলো পর্যালোচনা করা হয়েছে। এদিকে শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদার কারণে বিভিন্ন বৈশ্বিক ধাক্কার মুখেও দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলটি অসাধারণ স্থিতিশীলতা দেখিয়েছে, যার ফলে এ বছর দক্ষিণ এশিয়ার প্রবৃদ্ধি ৬.৯ শতাংশে উন্নীত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে প্রতিকূল বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে ২০২৭ সালে এই প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমে ৬.৭ শতাংশে দাঁড়াতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির লক্ষ্য নির্ধারণের পাশাপাশি অর্থনীতির কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। দরিদ্র মানুষের জন্য সহায়তা বাড়ানোর পাশাপাশি সেই সহায়তা যেন সঠিক মানুষের কাছে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ বলে ধারণা করছে সংস্থাটি। আরটিভি/এসআর
‘ফ্যামিলি কার্ডে’ সাড়ে ২৮ লাখ মানুষ দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পেতে পারে: বিশ্বব্যাংক
৭০ বছর পর চালু হল আসাম থেকে বাংলাদেশে নৌপথে পণ্য পরিবহন
প্রায় ৭০ বছর পর ভারতের আসাম রাজ্যের ডিব্রুগড় থেকে আবারও আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য শুরু হয়েছে। 
৭০ বছর পর চালু হল আসাম থেকে বাংলাদেশে নৌপথে পণ্য পরিবহন
তুরস্কে রপ্তানি ‘এক লাফে’ দ্বিগুণ, বড় সুযোগের হাতছানি
জুলাই-সেপ্টেম্বরে তুরস্কে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় হয়েছে ২১ কোটি ৫ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১০ কোটি ৫২ লাখ ১০ হাজার ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে দেশটিতে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে ১০০ দশমিক ১১ শতাংশ।
তুরস্কে রপ্তানি ‘এক লাফে’ দ্বিগুণ, বড় সুযোগের হাতছানি
বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিয়ে বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন
বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ২০২৭ অর্থবছরে ৩.৪ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক, যা ২০২৬ অর্থবছরের পূর্বাভাসের সমান। তবে ২০২৮ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৩.৯ শতাংশ হতে পারে।
বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিয়ে বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন
‘নারী উদ্যোক্তাদের ঋণ ও সেবাপ্রাপ্তি সহজ করতে উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার’
সোমবার (৫ অক্টোবর) শিল্প মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিডব্লিউসিসিআই) একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।
‘নারী উদ্যোক্তাদের ঋণ ও সেবাপ্রাপ্তি সহজ করতে উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার’
আরও পড়ুন
ভরা মৌসুমেও ইলিশের আকাল, দাম আকাশছোঁয়া