ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

পাহাড়ে বিদ্যুৎ নেটওয়ার্কে ২ হাজার ১৪৮ কোটি টাকা অনুমোদন এডিবির

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

পাহাড়ে বিদ্যুৎ নেটওয়ার্কের জন্য ১৭ দশমিক ৫ কোটি ডলার অনুমোদন করেছে এশীয় উন্নয়ন বাংক (এডিবি)। প্রতি ডলার সমান ১২২ টাকা ৭৯ পয়সা ধরে বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ২ হাজার ১৪৮ কোটি টাকা। এডিবি চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলে বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক আধুনিকীকরণ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও সেবার উন্নয়নেও অবদান রাখবে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সংস্থাটির ঢাকা অফিস থেকে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞাপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশের দুর্গম চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলে নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী বিদ্যুতের প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবিকা বৃদ্ধি, অত্যাবশ্যকীয় সেবার উন্নয়ন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে এই ঋণ ব্যবহার করা যাবে।

‌‌‘টেকসই জ্বালানি উন্নয়ন ও চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলে সম্প্রদায়ের ক্ষমতায়ন’ শীর্ষক এই প্রকল্পের অধীনে খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান এই তিন পার্বত্য জেলার ২৬টি দুর্গম উপজেলায় বিদ্যুৎ বিতরণ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণ করা হবে। এর ফলে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ৩৫ হাজার পরিবারসহ অন্তত ৮৮ হাজার অতিরিক্ত পরিবার সরাসরি উপকৃত হবে।

এই প্রকল্পের আওতায় ৮০ মেগাভোল্ট-অ্যাম্পিয়ার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন নতুন ছয়টি ৩৩/১১ কেভি সাবস্টেশন স্থাপন করা হবে। ৫ হাজার ৩২ কিলোমিটার বিতরণ লাইন নির্মাণ করা হবে এবং ১ হাজার ৮৭৪ কিলোমিটার পুরোনো বিতরণ লাইন, চারটি সাবস্টেশন, একটি সুইচিং স্টেশন ও একটি আঞ্চলিক মেরামত কারখানা সংস্কার করা হবে। এই উন্নয়নমূলক পদক্ষেপগুলোর ফলে সিস্টেম লস ও পরিচালনা ব্যয় হ্রাস পাবে, গ্রিডের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে, প্রতি বছর অন্তত ১৯,৩০০ টন কার্বন ডাই অক্সাইড সমতুল্য নির্গমন এড়ানো সম্ভব হবে এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থার সক্ষমতা জোরদার হবে।

বাংলাদেশে এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর কিংফং ঝাং বলেন, কর্মসংস্থান, উদ্যোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং সামাজিক সহনশীলতা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ একটি শক্তিশালী চালিকাশক্তি। এই প্রকল্প চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলের দুর্গম সম্প্রদায়গুলোকে নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সুবিধা প্রদানে সহায়তা করবে। পাশাপাশি এটি জীবিকার সুযোগ বৃদ্ধি করবে, নারীদের অংশগ্রহণকে ত্বরান্বিত করবে এবং একটি টেকসই ও নিম্ন-কার্বন ভবিষ্যতের দিকে বাংলাদেশের রূপান্তরকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

আরও পড়ুন



চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলে প্রায় ১৮.৪ লাখ মানুষ বসবাস করেন, যার অর্ধেকেরও বেশি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। সমগ্র বাংলাদেশে শতভাগ (৯৯%) জাতীয় বিদ্যুৎ সুবিধা অর্জিত হলেও এই অঞ্চলে গ্রিড সংযোগের হার তুলনামূলকভাবে বেশ কম: খাগড়াছড়িতে ৪৯%, রাঙ্গামাটিতে ৪৩% এবং বান্দরবানে ৪১%। ২০৩২ সালের মধ্যে এই প্রকল্পটির মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চলের গ্রিড সুবিধার হার ৬৮%-এ উন্নীত করা এবং সৌর ও পিকু-হাইড্রোপাওয়ারসহ ভবিষ্যতের নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সামাজিক উন্নয়নের অংশ হিসেবে প্রকল্পটি কমপক্ষে ৩০টি সৌরশক্তিচালিত সুপেয় পানি সরবরাহ সুবিধা স্থাপন করবে, যা স্থানীয় কমিউনিটি সংস্থাগুলো পরিচালনা করবে এবং এর নেতৃত্বপর্যায়ে অন্তত ৩০% নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী অধ্যুষিত এলাকার স্কুল, হাসপাতাল, মন্দির ও ক্লিনিকসহ অন্তত ২০টি প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য সোলার ব্যাকআপ সিস্টেম স্থাপন করা হবে।

এডিবি জানায়, প্রকল্পটি সাধারণ মানুষের আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করবে; যেখানে অন্তত এক হাজার জনকে জীবিকায়ন প্রশিক্ষণ, ২০০ জনেরও বেশি উদ্যোক্তাকে বিজনেস ইনকিউবেশন সহায়তা এবং ৩০০ শিক্ষার্থীকে জ্বালানি খাতের ক্যারিয়ার ও দুর্যোগ-সহনশীল শক্তি ব্যবস্থা সম্পর্কিত ওরিয়েন্টেশন প্রদান করা হবে। এটি সেবাদান প্রক্রিয়াকে জোরদার করতে তিনটি গ্রাহক অভিযোগ কেন্দ্র এবং ডিজিটাল মনিটরিং সুবিধাসহ তিনটি ডে-কেয়ার (শিশু পরিচর্যা) কেন্দ্র স্থাপন করবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) কর্মচারীদের গ্রাহকসেবা, বিতরণ পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ, সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং সহনশীল প্রযুক্তির ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

এডিবির এই অর্থায়নের পাশাপাশি, এডিবির মাধ্যমে জাপান সরকার কর্তৃক পরিচালিত ‘জাপান ফান্ড ফর প্রসপারাস অ্যান্ড রেজিলিয়েন্ট এশিয়া অ্যান্ড দ্য প্যাসিফিক’ থেকে ২.৭২ মিলিয়ন ডলারের একটি অনুদান প্রদান করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকার ৩৬.৫৪ মিলিয়ন ডলার এবং বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)-যা প্রয়োগকারী ও বাস্তবায়নকারী সংস্থা হিসেবে কাজ করবে-৪৫.৬৫ মিলিয়ন ডলার অবদান রাখবে।

আরটিভি/এমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
মোংলা বন্দরের রাজস্ব আয়ে নতুন রেকর্ড
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর বাগেরহাটের মোংলা বন্দরে রাজস্ব আয়ে নতুন রেকর্ড করেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বন্দরের রাজস্ব আয় হয়েছে ৩ হাজার ৮৭৯ কোটি ৫১ লাখ টাকা। বেড়েছে জাহাজ, কার্গো ও কনটেইনার হ্যান্ডলিংও। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের অডিটোরিয়ামে বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা বাগেরহাট ও মোংলা প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব তথ্য জানান। তিনি জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ হাজার ৪৭৮ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এর বিপরীতে আয় হয়েছে ৩ হাজার ৮৭৯ কোটি ৫১ লাখ ২০ হাজার টাকা। আগের অর্থবছরের তুলনায় আয় বেড়েছে ৪০৮ কোটি ২৬ লাখ টাকা, অর্থাৎ ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ। এ সময়ে বন্দরে এসেছে ৮১৫টি জাহাজ। কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছে ১ কোটি ২২ লাখ ৫১ হাজার মেট্রিক টন, আর কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে ২৯ হাজার ৭১৪ টিইইউজ। এছাড়া আমদানি হয়েছে ১২ হাজার ৭৫টি রিকন্ডিশন্ড গাড়ি। বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, সক্ষমতা বাড়াতে নতুন সহায়ক জলযান সংগ্রহ এবং কনটেইনার টার্মিনাল ও ইয়ার্ড নির্মাণসহ বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। তবে ১৪৪ কিলোমিটার চ্যানেলের নাব্যতা ধরে রাখা এখনও অন্যতম চ্যালেঞ্জ। চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা আরও জানান, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে। আরটিভি/এসআর  
মোংলা বন্দরের রাজস্ব আয়ে নতুন রেকর্ড
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার এক দিনেই চড়া নিত্যপণ্যের বাজার
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে তেল, রসুন ও সবজিসহ নিত্যপণ্যের বাজারে। এক দিনের ব্যবধানে খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি ১০ টাকা বেড়েছে। 
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার এক দিনেই চড়া নিত্যপণ্যের বাজার
উত্তরাঞ্চলের কৃষির স্বপ্নপূরণে ‘কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়’
উত্তরাঞ্চলের কৃষিশিক্ষা, গবেষণা ও কৃষিভিত্তিক সম্ভাবনাকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে ২০২১ সালের ২২ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয় কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠার পর অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, জনবল সংকটসহ নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও ধীরে ধীরে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি এসেছে।
উত্তরাঞ্চলের কৃষির স্বপ্নপূরণে ‘কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়’
সর্বজনীন পেনশনে শরিয়াহভিত্তিক স্কিম, সংসদে যাচ্ছে বিল
সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় প্রথমবারের মতো শরিয়াহভিত্তিক পেনশন স্কিম চালুর পথে এগোচ্ছে সরকার। নতুন এ স্কিমের আইনগত ভিত্তি তৈরিতে আইনের খসড়া প্রণয়ন করে তা জাতীয় সংসদে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের (এনপিএ) পরিচালনা পর্ষদ ইতোমধ্যে স্কিমটি চালুর প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। এখন শরিয়াহসম্মত বিনিয়োগ, তহবিল ব্যবস্থাপনা, মুনাফা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার কাঠামো চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা-বাসসকে জানান, সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার ইসলামিক বা শরিয়াহভিত্তিক সংস্করণ চালুর জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ লক্ষ্যে আইনের খসড়া প্রণয়ন করে জাতীয় সংসদে পাঠানো হবে। তিনি বলেন, শরিয়াহভিত্তিক স্কিমের কাঠামো, পরিচালনপদ্ধতি, বিনিয়োগ ব্যবস্থা ও অন্যান্য কারিগরি বিষয় নির্ধারণের কাজ চলছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও স্থানীয় পরামর্শকেরা এ বিষয়ে কাজ করছেন। পাশাপাশি স্কিমটির আর্থিক স্থায়িত্ব ও দীর্ঘমেয়াদি দায়-দায়িত্ব নির্ধারণে প্রয়োজনীয় অ্যাকচুয়ারিয়াল বিশ্লেষণ করা হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আইনগত ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর শরিয়াহসম্মত বিনিয়োগনীতির ভিত্তিতে নতুন এ স্কিম চালু করা হলে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় একটি পৃথক বিনিয়োগ ও পরিচালনা কাঠামো যুক্ত হবে। এতে শরিয়াহভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পেনশন সুবিধা নিতে আগ্রহী জনগোষ্ঠীর জন্য অংশগ্রহণের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের চতুর্থ বৈঠকে সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচির শরিয়াহভিত্তিক সংস্করণ চালুর প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সভায় সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা ও অংশগ্রহণ বাড়ানোর লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। শরিয়াহভিত্তিক স্কিমের বিষয়ে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, নতুন এ স্কিমে শরিয়াহসম্মত বিনিয়োগের মাধ্যমে পেনশন তহবিল পরিচালনার কাঠামো তৈরি করা হবে। তহবিলের অর্থ কোথায় এবং কীভাবে বিনিয়োগ করা হবে, পরিচালন ব্যয় ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কী হবে—এসব বিষয় পর্যালোচনা করে কার্যকর কাঠামো নির্ধারণ করা হচ্ছে। শরিয়াহভিত্তিক স্কিম চালুর পাশাপাশি বিদ্যমান সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় অংশগ্রহণকারীদের জন্যও বেশ কিছু সুবিধা সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে পেনশনারের মৃত্যুর পর তার স্বামী বা স্ত্রী কিংবা নির্ধারিত সুবিধাভোগীর পেনশন পাওয়ার বয়সসীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্তটি অন্যতম। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কোনো পেনশনার মারা গেলে তার স্বামী বা স্ত্রী ৮০ বছর বয়স পর্যন্ত পেনশন সুবিধা পাবেন। আগে এ সুবিধা পাওয়ার বয়সসীমা ছিল ৭৫ বছর। পেনশনার নিজে জীবদ্দশায় আজীবন পেনশন সুবিধা পাবেন। এদিকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সর্বজনীন পেনশন তহবিলের বিনিয়োগের বিপরীতে গ্রাহকদের মুনাফার হারও বাড়ানো হয়েছে। এ অর্থবছরের জন্য মুনাফার হার ১১ দশমিক ৬৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১১ দশমিক ৭২ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে এ হারে মুনাফা প্রদানের অনুমোদন দেওয়া হয়। সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার আওতা আরও বাড়াতে সরকারি মালিকানাধীন যেসব প্রতিষ্ঠান ও কোম্পানির কর্মীরা প্রচলিত সরকারি পেনশন সুবিধা পান না, তাদের ‘প্রগতি’ স্কিমের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কোন কোন প্রতিষ্ঠানকে এ ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে এবং কী প্রক্রিয়ায় তা বাস্তবায়ন করা হবে, তা পরবর্তী সময়ে নির্ধারণ করা হবে। একই সঙ্গে বিদেশে যাওয়ার আগে কর্মীদের ‘প্রবাস’ স্কিম সম্পর্কে অবহিত করা এবং তাদের নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে বিদেশগামী কর্মীদের বিদেশে যাওয়ার আগেই সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হবে। বর্তমানে সর্বজনীন পেনশনে পেনশন পাওয়ার বয়স ৬০ বছর। এ বয়সসীমা কমিয়ে ৫৫ বছর করার বিষয়ে পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে আলোচনা হলেও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এ বিষয়ে অ্যাকচুয়ারিয়াল বিশ্লেষণের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। সর্বজনীন পেনশন তহবিল থেকে অংশগ্রহণকারীদের ঋণ দেওয়ার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রেও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তহবিলের অর্থ বিনিয়োগ করে কাঙ্ক্ষিত রিটার্ন নিশ্চিত করা এবং ঋণ দেওয়ার ফলে পেনশনভোগীদের স্বার্থ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা বিবেচনায় নিয়ে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। পেনশন কর্মসূচির সঙ্গে স্বাস্থ্যবিমা যুক্ত করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। কোন মডেলে স্বাস্থ্যবিমা চালু করা যেতে পারে এবং এতে পেনশন তহবিলের ওপর কী ধরনের আর্থিক প্রভাব পড়বে, তা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করে পেনশনের মুনাফা দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে এসব বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। নতুন গ্রাহক বাড়াতে নিবন্ধন কার্যক্রমে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রণোদনাও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসসহ বিভিন্ন মাধ্যমে সর্বজনীন পেনশনে গ্রাহক নিবন্ধন করা হচ্ছে। আগে একজন নতুন গ্রাহক নিবন্ধনের জন্য ১৫ টাকা প্রণোদনা দেওয়া হলেও তা বাড়িয়ে ২৫ টাকা করা হয়েছে। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের আর্থিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়াতে সরকারি নিরীক্ষার পাশাপাশি একটি বেসরকারি চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ফার্মের মাধ্যমে আর্থিক কার্যক্রম নিরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে তহবিলের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও বিনিয়োগ কার্যক্রমে অতিরিক্ত নিরীক্ষা কাঠামো যুক্ত হবে। দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক নিরাপত্তার আওতায় আনার লক্ষ্যে ২০২৩ সালের ১৭ আগস্ট সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালু করা হয়। বর্তমানে প্রগতি, সুরক্ষা, সমতা ও প্রবাস—এই চারটি স্কিম চালু রয়েছে। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর শুরু পর্যন্ত চারটি স্কিমে মোট নিবন্ধিত গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার। তাদের জমা করা মোট অর্থের পরিমাণ প্রায় ২৮৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা। এর মধ্যে ‘সমতা’ স্কিমে নিবন্ধিত হয়েছেন ২ লাখ ৮৭ হাজার ২২৪ জন। তাদের জমা করা অর্থের পরিমাণ ৫৬ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। প্রবাসীদের জন্য চালু করা ‘প্রবাস’ স্কিমে নিবন্ধিত হয়েছেন ১ হাজার ১৭১ জন এবং এ স্কিমে মোট জমা হয়েছে ১১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। তবে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় প্রত্যাশিত হারে অংশগ্রহণ না বাড়ার প্রেক্ষাপটে নতুন উদ্যোগগুলো নেওয়া হচ্ছে। শরিয়াহভিত্তিক নতুন স্কিম চালু, পেনশনারের মৃত্যুর পর স্বামী বা স্ত্রীর পেনশন পাওয়ার বয়সসীমা বৃদ্ধি, বিনিয়োগের মুনাফা নির্ধারণ, সরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের অন্তর্ভুক্তি এবং নিবন্ধনে প্রণোদনা বাড়ানোর মতো পদক্ষেপের মাধ্যমে কর্মসূচির আওতা বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় শরিয়াহভিত্তিক স্কিম চালুর অনুমোদনের মধ্য দিয়ে বিদ্যমান চারটি স্কিমের পাশাপাশি নতুন একটি কাঠামো তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে এ স্কিম চালুর আগে আইনগত কাঠামো প্রণয়ন, সংসদীয় প্রক্রিয়া, বিনিয়োগনীতি নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় অ্যাকচুয়ারিয়াল ও কারিগরি বিশ্লেষণ সম্পন্ন করতে হবে। এসব প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই নতুন স্কিম চালুর পরবর্তী কার্যক্রম নির্ধারিত হবে। ফলে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় শরিয়াহভিত্তিক স্কিম শুধু নতুন একটি স্কিম সংযোজনের উদ্যোগ নয়; বরং বিদ্যমান পেনশন ব্যবস্থার বিনিয়োগ কাঠামো, অংশগ্রহণের পরিধি ও সুবিধার ধরন আরও বিস্তৃত করার চলমান উদ্যোগের অংশ হিসেবে এটি সামনে এসেছে। আইনগত কাঠামো চূড়ান্ত করে জাতীয় সংসদে পাঠানো এবং পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার ওপরই এর বাস্তবায়নের পরবর্তী ধাপ নির্ভর করবে। আরটিভি/এসকে
সর্বজনীন পেনশনে শরিয়াহভিত্তিক স্কিম, সংসদে যাচ্ছে বিল
প্রভিডেন্ট ফান্ডে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সুখবর
চলতি অর্থবছরেও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাধারণ ভবিষ্যৎ তহবিল বা জিপিএফে জমা টাকার ওপর সর্বোচ্চ ১৩ শতাংশ মুনাফা দেবে সরকার। টাকার পরিমাণ অনুযায়ী তিনটি স্তরে এ মুনাফার হার নির্ধারণ করা হয়েছে। গত অর্থবছরেও একই হারে মুনাফা দেওয়া হয়েছিল।
প্রভিডেন্ট ফান্ডে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সুখবর
আরও পড়ুন
অটোরিকশায় চার্জ দিতে গিয়ে প্রাণ গেল চালকের
আজ যেসব এলাকায় টানা ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না
জাতীয় গ্রিডে সৌরবিদ্যুৎ সরবরাহে ইউনিয়ন পরিষদকে ‘বড় বরাদ্দ’
পানির ৩৩ ফুট গভীরেও বিদ্যুৎ উৎপাদনে সফল চীনা সোলার প্যানেল