ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩

তিন বছরের মধ্যে চায়ের উৎপাদনে রেকর্ড

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৪ পিএম
প্রতীকী ছবি

চলতি বছরের শুরু থেকেই চা উৎপাদনে আশাব্যঞ্জক ধারা অব্যাহত রয়েছে। বছরের প্রথম ছয় মাসে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধির পর জুলাইয়েও উৎপাদনে ইতিবাচক চিত্র দেখা গেছে। যদিও গত বছরের জুলাইয়ের তুলনায় চলতি বছরের একই মাসে উৎপাদন কিছুটা কমেছে, তবে বছরের প্রথম সাত মাসের সামগ্রিক হিসাবে গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ চা উৎপাদিত হয়েছে। এতে চলতি বছরের নির্ধারিত উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের সম্ভাবনাও আরও জোরালো হয়েছে।

চা বোর্ডের কর্মকর্তা ও বাগান মালিকরা বলছেন, চলতি বছর আগাম বৃষ্টিপাত, অনুকূল আবহাওয়া, পর্যাপ্ত সার বরাদ্দসহ বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে চা উৎপাদনে গতি এসেছে। এর সঙ্গে চায়ের ন্যূনতম মূল্যস্তর নির্ধারণ, বাজারে ভালো দাম ও চাহিদা থাকায় বাগান মালিকরাও চা চাষ ও পরিচর্যায় আগ্রহ বাড়িয়েছেন। ফলে উৎপাদনের ধারাও ইতিবাচক রয়েছে।

বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, চায়ের ধারাবাহিক চাহিদা ও রপ্তানি সম্ভাবনাকে বিবেচনায় নিয়ে এ খাতে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ে তদারকি বাড়ানোর পাশাপাশি বাগানগুলোতে সার, কীটনাশকসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ যথাসময়ে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। বৃষ্টিপাত না থাকলে কৃত্রিমভাবে পানি ছিটানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে চায়ের দামও ভালো। সব মিলিয়ে এর ইতিবাচক ফল পাওয়া যাচ্ছে।

চা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১০ কোটি ২৯ লাখ ১৮ হাজার কেজি চা উৎপাদিত হয়। এরপর ২০২৪ সালে উৎপাদন নেমে আসে ৯ কোটি ৩০ লাখ ৪২ হাজার কেজিতে। ২০২৫ সালে উৎপাদন কিছুটা বেড়ে দাঁড়ায় ৯ কোটি ৪৯ লাখ ২৭ হাজার কেজি। তবে ২০২৪ ও ২০২৫— দুই বছরই নির্ধারিত উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি।

চলতি বছরে চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ কোটি ৪০ লাখ কেজি। এর মধ্যে জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত প্রথম সাত মাসে উৎপাদন হয়েছে ৪ কোটি ২৭ লাখ ৪১ হাজার কেজি।

চা বোর্ডের বুলেটিনের তথ্য বলছে, ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত দেশে চা উৎপাদিত হয়েছিল ৩ কোটি ৫৯ লাখ ৮ হাজার কেজি। ২০২৪ সালের একই সময়ে উৎপাদন ছিল ৩ কোটি ৫৭ লাখ ৪০ হাজার কেজি। সেই হিসাবে চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে ২০২৫ সালের তুলনায় উৎপাদন বেড়েছে ১৯ দশমিক ০৩ শতাংশ বা ৬৮ লাখ ৩৩ হাজার কেজি। আর ২০২৪ সালের তুলনায় বেড়েছে ১৯ দশমিক ৫৯ শতাংশ বা ৭০ লাখ ১ হাজার কেজি।

তবে শুধু জুলাই মাসের হিসাবে গত বছরের তুলনায় কিছুটা পিছিয়েছে চলতি বছর। এ বছরের জুলাইয়ে ১ কোটি ২১ লাখ ১০ হাজার কেজি চা উৎপাদিত হয়েছে। অথচ ২০২৫ সালের জুলাইয়ে উৎপাদন হয়েছিল ১ কোটি ৩৪ লাখ ৮৯ হাজার কেজি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে জুলাইয়ে উৎপাদন কমেছে ১৩ লাখ ৭৯ হাজার কেজি।

অন্যদিকে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে চা উৎপাদিত হয়েছিল ১ কোটি ১৪ লাখ ৩৫ হাজার কেজি। সে হিসাবে চলতি বছরের জুলাইয়ে ওই বছরের তুলনায় উৎপাদন ৬ লাখ ৭৫ হাজার কেজি বেশি হয়েছে।

এর আগে জুন মাসেও উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা যায়। ২০২৫ সালের জুনে ৯৮ লাখ ২৫ হাজার কেজি চা উৎপাদিত হলেও চলতি বছরের জুনে উৎপাদন হয়েছে ১ কোটি ২৪ লাখ ৫ হাজার কেজি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে জুনে উৎপাদন বেড়েছে ৮২ লাখ ১২ হাজার কেজি বা ২৬ শতাংশ।

জুন পর্যন্ত চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে মোট ৩ কোটি ৬ লাখ ৩১ হাজার কেজি চা উৎপাদিত হয়, যা গত বছরের প্রথম ছয় মাসের তুলনায় ৩৬ শতাংশ বেশি। জুলাইয়ে এসে প্রবৃদ্ধির হার কিছুটা কমলেও প্রথম সাত মাসের হিসাবে গত দুই বছরের তুলনায় ১৯ শতাংশের বেশি উৎপাদন প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে চা।

বাগান মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ টি অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) সভাপতি কামরান তানভিরুর রহমান বলেন, চা খাতে ভালো প্রবৃদ্ধির জন্য অনুকূল আবহাওয়ার পাশাপাশি নিলামে ভালো দাম পাওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। এবার চায়ের ন্যূনতম মূল্যস্তর থাকায় বাগান মালিকরা ভালো দাম পাচ্ছেন। ফলে বাগানের পরিচর্যাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এ কারণেই এবার উৎপাদন ভালো হচ্ছে।

আরও পড়ুন

চা বোর্ডের তথ্যমতে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৫ লাখ ৭৩ হাজার কেজি, ফেব্রুয়ারিতে ২৪ হাজার কেজি, মার্চে ২৫ লাখ ৫৮ হাজার কেজি, এপ্রিলে ৫৯ লাখ ১৮ হাজার কেজি, মে মাসে ৯১ লাখ ৫৩ হাজার কেজি, জুনে ১ কোটি ২৪ লাখ ৫ হাজার কেজি এবং জুলাইয়ে ১ কোটি ২১ লাখ ১০ হাজার কেজি চা উৎপাদিত হয়েছে।

গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের মার্চে ১২ লাখ ২৩ হাজার কেজি, এপ্রিলে ৩৬ লাখ ৪৬ হাজার কেজি, মে মাসে ৫ লাখ ৫ হাজার কেজি এবং জুনে ২৫ লাখ ৮০ হাজার কেজি বেশি চা উৎপাদিত হয়েছে।

সব মিলিয়ে চলতি বছরের প্রথম সাত মাসের উৎপাদন চা খাতে গত তিন বছরের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। বছরের বাকি সময়ে অনুকূল আবহাওয়া ও উৎপাদন সহায়ক পদক্ষেপ অব্যাহত থাকলে নির্ধারিত ১০ কোটি ৪০ লাখ কেজির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের সম্ভাবনা আরও বাড়বে।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
উত্তরাঞ্চলের কৃষির স্বপ্নপূরণে ‘কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়’
উত্তরাঞ্চলের কৃষিশিক্ষা, গবেষণা ও কৃষিভিত্তিক সম্ভাবনাকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে ২০২১ সালের ২২ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয় কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠার পর অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, জনবল সংকটসহ নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও ধীরে ধীরে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি এসেছে।
উত্তরাঞ্চলের কৃষির স্বপ্নপূরণে ‘কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়’
সর্বজনীন পেনশনে শরিয়াহভিত্তিক স্কিম, সংসদে যাচ্ছে বিল
সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় প্রথমবারের মতো শরিয়াহভিত্তিক পেনশন স্কিম চালুর পথে এগোচ্ছে সরকার। নতুন এ স্কিমের আইনগত ভিত্তি তৈরিতে আইনের খসড়া প্রণয়ন করে তা জাতীয় সংসদে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের (এনপিএ) পরিচালনা পর্ষদ ইতোমধ্যে স্কিমটি চালুর প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। এখন শরিয়াহসম্মত বিনিয়োগ, তহবিল ব্যবস্থাপনা, মুনাফা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার কাঠামো চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা-বাসসকে জানান, সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার ইসলামিক বা শরিয়াহভিত্তিক সংস্করণ চালুর জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ লক্ষ্যে আইনের খসড়া প্রণয়ন করে জাতীয় সংসদে পাঠানো হবে। তিনি বলেন, শরিয়াহভিত্তিক স্কিমের কাঠামো, পরিচালনপদ্ধতি, বিনিয়োগ ব্যবস্থা ও অন্যান্য কারিগরি বিষয় নির্ধারণের কাজ চলছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও স্থানীয় পরামর্শকেরা এ বিষয়ে কাজ করছেন। পাশাপাশি স্কিমটির আর্থিক স্থায়িত্ব ও দীর্ঘমেয়াদি দায়-দায়িত্ব নির্ধারণে প্রয়োজনীয় অ্যাকচুয়ারিয়াল বিশ্লেষণ করা হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আইনগত ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর শরিয়াহসম্মত বিনিয়োগনীতির ভিত্তিতে নতুন এ স্কিম চালু করা হলে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় একটি পৃথক বিনিয়োগ ও পরিচালনা কাঠামো যুক্ত হবে। এতে শরিয়াহভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পেনশন সুবিধা নিতে আগ্রহী জনগোষ্ঠীর জন্য অংশগ্রহণের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের চতুর্থ বৈঠকে সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচির শরিয়াহভিত্তিক সংস্করণ চালুর প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সভায় সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা ও অংশগ্রহণ বাড়ানোর লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। শরিয়াহভিত্তিক স্কিমের বিষয়ে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, নতুন এ স্কিমে শরিয়াহসম্মত বিনিয়োগের মাধ্যমে পেনশন তহবিল পরিচালনার কাঠামো তৈরি করা হবে। তহবিলের অর্থ কোথায় এবং কীভাবে বিনিয়োগ করা হবে, পরিচালন ব্যয় ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কী হবে—এসব বিষয় পর্যালোচনা করে কার্যকর কাঠামো নির্ধারণ করা হচ্ছে। শরিয়াহভিত্তিক স্কিম চালুর পাশাপাশি বিদ্যমান সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় অংশগ্রহণকারীদের জন্যও বেশ কিছু সুবিধা সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে পেনশনারের মৃত্যুর পর তার স্বামী বা স্ত্রী কিংবা নির্ধারিত সুবিধাভোগীর পেনশন পাওয়ার বয়সসীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্তটি অন্যতম। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কোনো পেনশনার মারা গেলে তার স্বামী বা স্ত্রী ৮০ বছর বয়স পর্যন্ত পেনশন সুবিধা পাবেন। আগে এ সুবিধা পাওয়ার বয়সসীমা ছিল ৭৫ বছর। পেনশনার নিজে জীবদ্দশায় আজীবন পেনশন সুবিধা পাবেন। এদিকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সর্বজনীন পেনশন তহবিলের বিনিয়োগের বিপরীতে গ্রাহকদের মুনাফার হারও বাড়ানো হয়েছে। এ অর্থবছরের জন্য মুনাফার হার ১১ দশমিক ৬৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১১ দশমিক ৭২ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে এ হারে মুনাফা প্রদানের অনুমোদন দেওয়া হয়। সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার আওতা আরও বাড়াতে সরকারি মালিকানাধীন যেসব প্রতিষ্ঠান ও কোম্পানির কর্মীরা প্রচলিত সরকারি পেনশন সুবিধা পান না, তাদের ‘প্রগতি’ স্কিমের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কোন কোন প্রতিষ্ঠানকে এ ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে এবং কী প্রক্রিয়ায় তা বাস্তবায়ন করা হবে, তা পরবর্তী সময়ে নির্ধারণ করা হবে। একই সঙ্গে বিদেশে যাওয়ার আগে কর্মীদের ‘প্রবাস’ স্কিম সম্পর্কে অবহিত করা এবং তাদের নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে বিদেশগামী কর্মীদের বিদেশে যাওয়ার আগেই সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হবে। বর্তমানে সর্বজনীন পেনশনে পেনশন পাওয়ার বয়স ৬০ বছর। এ বয়সসীমা কমিয়ে ৫৫ বছর করার বিষয়ে পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে আলোচনা হলেও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এ বিষয়ে অ্যাকচুয়ারিয়াল বিশ্লেষণের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। সর্বজনীন পেনশন তহবিল থেকে অংশগ্রহণকারীদের ঋণ দেওয়ার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রেও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তহবিলের অর্থ বিনিয়োগ করে কাঙ্ক্ষিত রিটার্ন নিশ্চিত করা এবং ঋণ দেওয়ার ফলে পেনশনভোগীদের স্বার্থ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা বিবেচনায় নিয়ে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। পেনশন কর্মসূচির সঙ্গে স্বাস্থ্যবিমা যুক্ত করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। কোন মডেলে স্বাস্থ্যবিমা চালু করা যেতে পারে এবং এতে পেনশন তহবিলের ওপর কী ধরনের আর্থিক প্রভাব পড়বে, তা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করে পেনশনের মুনাফা দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে এসব বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। নতুন গ্রাহক বাড়াতে নিবন্ধন কার্যক্রমে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রণোদনাও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসসহ বিভিন্ন মাধ্যমে সর্বজনীন পেনশনে গ্রাহক নিবন্ধন করা হচ্ছে। আগে একজন নতুন গ্রাহক নিবন্ধনের জন্য ১৫ টাকা প্রণোদনা দেওয়া হলেও তা বাড়িয়ে ২৫ টাকা করা হয়েছে। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের আর্থিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়াতে সরকারি নিরীক্ষার পাশাপাশি একটি বেসরকারি চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ফার্মের মাধ্যমে আর্থিক কার্যক্রম নিরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে তহবিলের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও বিনিয়োগ কার্যক্রমে অতিরিক্ত নিরীক্ষা কাঠামো যুক্ত হবে। দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক নিরাপত্তার আওতায় আনার লক্ষ্যে ২০২৩ সালের ১৭ আগস্ট সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালু করা হয়। বর্তমানে প্রগতি, সুরক্ষা, সমতা ও প্রবাস—এই চারটি স্কিম চালু রয়েছে। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর শুরু পর্যন্ত চারটি স্কিমে মোট নিবন্ধিত গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার। তাদের জমা করা মোট অর্থের পরিমাণ প্রায় ২৮৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা। এর মধ্যে ‘সমতা’ স্কিমে নিবন্ধিত হয়েছেন ২ লাখ ৮৭ হাজার ২২৪ জন। তাদের জমা করা অর্থের পরিমাণ ৫৬ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। প্রবাসীদের জন্য চালু করা ‘প্রবাস’ স্কিমে নিবন্ধিত হয়েছেন ১ হাজার ১৭১ জন এবং এ স্কিমে মোট জমা হয়েছে ১১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। তবে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় প্রত্যাশিত হারে অংশগ্রহণ না বাড়ার প্রেক্ষাপটে নতুন উদ্যোগগুলো নেওয়া হচ্ছে। শরিয়াহভিত্তিক নতুন স্কিম চালু, পেনশনারের মৃত্যুর পর স্বামী বা স্ত্রীর পেনশন পাওয়ার বয়সসীমা বৃদ্ধি, বিনিয়োগের মুনাফা নির্ধারণ, সরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের অন্তর্ভুক্তি এবং নিবন্ধনে প্রণোদনা বাড়ানোর মতো পদক্ষেপের মাধ্যমে কর্মসূচির আওতা বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় শরিয়াহভিত্তিক স্কিম চালুর অনুমোদনের মধ্য দিয়ে বিদ্যমান চারটি স্কিমের পাশাপাশি নতুন একটি কাঠামো তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে এ স্কিম চালুর আগে আইনগত কাঠামো প্রণয়ন, সংসদীয় প্রক্রিয়া, বিনিয়োগনীতি নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় অ্যাকচুয়ারিয়াল ও কারিগরি বিশ্লেষণ সম্পন্ন করতে হবে। এসব প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই নতুন স্কিম চালুর পরবর্তী কার্যক্রম নির্ধারিত হবে। ফলে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় শরিয়াহভিত্তিক স্কিম শুধু নতুন একটি স্কিম সংযোজনের উদ্যোগ নয়; বরং বিদ্যমান পেনশন ব্যবস্থার বিনিয়োগ কাঠামো, অংশগ্রহণের পরিধি ও সুবিধার ধরন আরও বিস্তৃত করার চলমান উদ্যোগের অংশ হিসেবে এটি সামনে এসেছে। আইনগত কাঠামো চূড়ান্ত করে জাতীয় সংসদে পাঠানো এবং পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার ওপরই এর বাস্তবায়নের পরবর্তী ধাপ নির্ভর করবে। আরটিভি/এসকে
সর্বজনীন পেনশনে শরিয়াহভিত্তিক স্কিম, সংসদে যাচ্ছে বিল
প্রভিডেন্ট ফান্ডে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সুখবর
চলতি অর্থবছরেও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাধারণ ভবিষ্যৎ তহবিল বা জিপিএফে জমা টাকার ওপর সর্বোচ্চ ১৩ শতাংশ মুনাফা দেবে সরকার। টাকার পরিমাণ অনুযায়ী তিনটি স্তরে এ মুনাফার হার নির্ধারণ করা হয়েছে। গত অর্থবছরেও একই হারে মুনাফা দেওয়া হয়েছিল।
প্রভিডেন্ট ফান্ডে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সুখবর
চট্টগ্রামে আমনের আবাদে স্বস্তি, মাঠজুড়ে সবুজের ঢেউ
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চট্টগ্রামে এবার ১ লাখ ৭৯ হাজার ৯৮০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর বিপরীতে ইতোমধ্যে আবাদ হয়েছে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৬৬০ হেক্টর, যা লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ১০০ শতাংশ। ফলে নির্ধারিত সময়ের আগেই লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে আমন আবাদ।
চট্টগ্রামে আমনের আবাদে স্বস্তি, মাঠজুড়ে সবুজের ঢেউ
বিশ্ববাজারে আবারও বাড়ল তেলের দাম
টানা কয়েক দফা দরপতনের পর বিশ্ববাজারে আবারও বেড়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির পাশাপাশি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্ভাব্য কূটনৈতিক যোগাযোগের বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন বিনিয়োগকারীরা। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় ভোরে ব্রেন্ট ক্রুডের নভেম্বরের ফিউচার প্রতি ব্যারেলে ২২ সেন্ট বা দশমিক ২২ শতাংশ বেড়ে ১০০ দশমিক ৫৭ ডলারে লেনদেন হয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআইয়ের অক্টোবরের চুক্তির মেয়াদ মঙ্গলবার শেষ হচ্ছে। দিনের শুরুতে এ চুক্তির দাম ২ সেন্ট বা দশমিক শূন্য ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯৫ দশমিক ৮০ ডলারে ওঠে। এদিকে বাজারে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হওয়া নভেম্বরের ডব্লিউটিআই চুক্তির দামও বেড়েছে। এ চুক্তির দাম ১৩ সেন্ট বা দশমিক ১৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯২ দশমিক ৪৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান কূটনৈতিক তৎপরতার সম্ভাব্য অগ্রগতি আগামী দিনে তেলের দামের গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। সূত্র: রয়টার্স আরটিভি/এসকে
বিশ্ববাজারে আবারও বাড়ল তেলের দাম
আরও পড়ুন
মুক্তির আগেই গিনেস বুকে আল্লু অর্জুনের ‘রাকা’
আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে রেকর্ড
ডেঙ্গুতে আরও ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে নতুন ভর্তি ১৪৯২
চার বছরেই বিশ্বরেকর্ড গড়ল এলেনা