ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

লিটারে ১০ টাকা বেড়েছে মিল্কভিটা দুধের দাম, নেপথ্যে যে কারণ

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৪৯ পিএম
পাস্তুরিত তরল দুধের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় ইউনিয়ন লিমিটেড। ছবি: সংগৃহীত

বাজারে মিল্কভিটা ব্র্যান্ডের পাস্তুরিত তরল দুধের দাম লিটারে ১০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এতে খুচরা দোকানে মিল্কভিটার প্রতি লিটার দুধ এখন বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়। গত ৫ আগস্ট থেকে বাড়তি এ দাম কার্যকর হয়েছে।

মিল্কভিটার দুধ উৎপাদন করে বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় ইউনিয়ন লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, প্রান্তিক পর্যায়ে খামারিদের কাছ থেকে দুধ সংগ্রহের দাম ও প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যয় বেড়েছে। এ কারণে খুচরা পর্যায়ে দুধের দাম বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া, ১ আগস্ট থেকে বাড়ানো হয়েছে খামারি পর্যায়ে দুধ সংগ্রহের মূল্যও।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারে মিল্কভিটার নতুন দামের দুধের প্যাকেট বিক্রি হচ্ছে। তাতে ৫০০ মিলিলিটারের (আধা লিটার) স্ট্যান্ডার্ড দুধ (লো ফ্যাট) ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ছিল ৫৫ টাকা। আর আধা লিটার টোন্ড মিল্ক বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকায়, যা আগে ৫০ টাকা ছিল।

তবে, প্রাণ ও ফার্মফ্রেশ (আকিজ ডেইরি)-এর মতো অন্যান্য বেসরকারি কোম্পানির প্যাকেটজাত তরল দুধ বিক্রি হচ্ছে আগের দামেই। আধা লিটারের প্রাণ, আড়ং ও ফার্মফ্রেশ দুধ বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়।

পাস্তুরিত তরল দুধের পাশাপাশি টোল্ড মিল্ক, ফ্লেভার্ড মিল্ক, ঘি, মাখন, ননিযুক্ত গুঁড়া দুধ, ননিবিহীন গুঁড়া দুধ, মিষ্টি দই, টক দই, রসগোল্লা, সন্দেশ, চিজ, কেকসহ ২৫ ধরনের পণ্য বাজারজাত করে মিল্কভিটা। প্রায় সব ধরনের পণ্যের দামই বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

মিল্কভিটা কর্তৃপক্ষের দাবি, প্যাকেজিং সামগ্রী, গোখাদ্যসহ সহায়ক সবকিছুর দাম বেড়েছে। সেই সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ায় তাদের উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। প্রতিষ্ঠানটির হিসেবে বর্তমানে প্রতি লিটার দুধ উৎপাদনে আগের তুলনায় তাদের ১১ থেকে সাড়ে ১১ টাকা খরচ বেড়েছে। দুগ্ধ খামারিরাও বারবার তাদের উৎপাদিত দুধের দাম বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছিল। সব মিলিয়ে দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। দুধের পাশাপাশি মিল্কভিটার অন্যান্য দুগ্ধজাত পণ্যের দামও বাড়ানো হয়েছে।

মিল্কভিটার চেয়ারম্যান এস এম আমীর হামজা শাতিল বলেন, আমরা হিসাব করে দেখেছি যে প্রতি লিটার দুধের উৎপাদন ব্যয় ১১ থেকে সাড়ে ১১ টাকা বেড়েছে। আমরা সেই খরচ হিসাব করে প্রতিষ্ঠানকে লাভজনক কিংবা অন্তত সমান সমান রাখার স্বার্থে আমরা দুধের দাম বাড়িয়েছি।

তিনি জানান, মিল্কভিটার কারখানাগুলোতে বিদ্যুৎ বিল একলাফে ৫৫–৫৬ লাখ টাকা থেকে বেড়ে ৭২–৭৪ লাখ টাকায় পৌঁছেছে। গ্যাস–সংকটের কারণে কারখানাতে এখন এলপিজি গ্যাস ব্যবহার করতে হচ্ছে। এ কারণে ব্যয় বেড়েছে। এর আগে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় খামারি ও বিপণন পর্যায়ে পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে।

উৎপাদন খরচের পাশাপাশি প্রাথমিক খামারিদের স্বার্থ রক্ষার বিষয়টিও উল্লেখ করেন মিল্কভিটার চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, গোখাদ্য ও পরিবহনের খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় অন্য বেসরকারি কোম্পানিগুলো খামারিদের থেকে তুলনামূলক বেশি দাম দিয়ে দুধ কিনে নিচ্ছে। ফলে মিল্কভিটার দুধ সংগ্রহ কমে যাচ্ছিল। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তারা ১ আগস্ট থেকে খামারি পর্যায়ে লিটারপ্রতি দুধের দাম তিন টাকা বাড়িয়েছে।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
৮ মাসে বিদেশ গেছে সাড়ে ৪ লাখ কর্মী, আসছে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার
বিশ্বের ১০৯ দেশে বৈধভাবে কর্মসংস্থানের উদ্দেশে গত ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত ৪ লাখ ৪৩ হাজার ২১ জন রেমিট্যান্স যোদ্ধা পাড়ি জমিয়েছেন। একই সময়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২৫ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
৮ মাসে বিদেশ গেছে সাড়ে ৪ লাখ কর্মী, আসছে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার
এলপিজির বাজার তদারকিতে যেসব নির্দেশনা দিল সরকার
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) একগুচ্ছ নির্দেশনা দিয়েছে সরকার।
এলপিজির বাজার তদারকিতে যেসব নির্দেশনা দিল সরকার
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নেদারল্যান্ডসের মন্ত্রীর সাক্ষাৎ, বাণিজ্য-বিনিয়োগে আগ্রহ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন নেদারল্যান্ডসের বৈদেশিক বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতাবিষয়ক মন্ত্রী শুর্দ শুর্দসমার নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধিদল। 
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নেদারল্যান্ডসের মন্ত্রীর সাক্ষাৎ, বাণিজ্য-বিনিয়োগে আগ্রহ
১২ দিনে এলো ১৫ হাজার ৮৬৭ কোটি টাকার প্রবাসী আয়
চলতি অক্টোবর মাসের প্রথম ১২ দিনে ১২৯ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় পাঠিয়েছেন বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা। বাংলাদেশি মুদ্রায় (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ধরে) এর পরিমাণ ১৫ হাজার ৮৬৭ কোটি টাকা।
১২ দিনে এলো ১৫ হাজার ৮৬৭ কোটি টাকার প্রবাসী আয়
ওমানের সঙ্গে সিইপিএ চুক্তির উদ্যোগ, বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে চায় বাংলাদেশ
ওমানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ সম্প্রসারণে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সিইপিএ) স্বাক্ষরের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ।  বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, ওমানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে কার্যকর অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে রূপ দিতে চায় বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানো, বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্র চিহ্নিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ওমানের রাষ্ট্রদূত জামিল বিন হাজি বিন ইসমাইল আল বালুশির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ওমান বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনাময় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ অংশীদার। সিইপিএ চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। বৈঠকে ওমানের রাষ্ট্রদূত ভারতের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বাংলাদেশের সঙ্গেও অনুরূপ চুক্তি সম্পাদনের প্রস্তাব দেন। বাণিজ্যমন্ত্রী এ প্রস্তাবকে স্বাগত জানান। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রস্তুতি ও সম্ভাব্যতা সমীক্ষার ভিত্তিতে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন। রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের সঙ্গে ওমানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলেন, দেশটিতে কর্মরত প্রায় সাত লাখ বাংলাদেশি ওমানের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। এ সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) এবং ওমান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সমন্বয়ে বাংলাদেশ-ওমান যৌথ বিজনেস কাউন্সিল গঠনের ওপর গুরুত্ব দেন বাণিজ্যমন্ত্রী। এ লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে ভার্চ্যুয়াল বৈঠক এবং পরে দুই দেশের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের পারস্পরিক সফরের বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে ওমানের সোহর, দুকম ও সালালাহ বন্দর এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরেন রাষ্ট্রদূত। এসব অঞ্চলের সুবিধা কাজে লাগিয়ে মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। এ ছাড়া ওমানের ঐতিহ্যবাহী ‘কুমা’ টুপি তৈরিতে বাংলাদেশের নারী কারিগরদের অবদানের প্রশংসা করেন রাষ্ট্রদূত। তিনি শ্রমবাজার সম্প্রসারণ, ব্যবসায়িক ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন। বৈঠকে বাণিজ্যসচিব মো. আতাউর রহমান খান, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং ওমান দূতাবাসের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। আরটিভি/এসআর
ওমানের সঙ্গে সিইপিএ চুক্তির উদ্যোগ, বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে চায় বাংলাদেশ
আরও পড়ুন
মেয়েকে তালাক করিয়ে প্রকাশ্য বাজারে দুধ দিয়ে গোসল মায়ের
দুধ খেতে গিয়েই হাঁপিয়ে যায় শিশু, যে বিপদের সংকেত 
কফিতে দুধ মিশিয়ে খেলে শরীরে যে পরিবর্তন ঘটে
ফ্যাটি লিভার থাকলে দুধ-চা খাওয়া যাবে? জেনে নিন