ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে শেরপুরে পাটের উৎপাদন

বাসস

প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৪৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়া ও অধিক ফলনে জেলায় সোনালি আঁশে সুদিন ফিরেছে। বিগত বছরের থেকে এ বছর বেশি দাম পাওয়ায় কৃষকরা পাট চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়ার কারণে পাটের অধিক উৎপাদনে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। শেরপুরে উৎপাদিত পাটের বাজারমূল্য প্রায় ৪০ কোটি টাকা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শেরপুর সদর উপজেলার মাঠজুড়ে সবুজের সমারোহ। চাষিরা কোথাও পাট কাটছেন, কোথাও আঁটি বেঁধে পানিতে জাগ দিচ্ছেন, আবার কেউ কেউ জাগ দেয়া পাটের আঁশ ছাড়াতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এছাড়া জলাশয়ের পাশে খাটানো বাঁশ ও বিভিন্ন কাঠের আড়ায় পাটের আঁশ ছাড়িয়ে শুকানো ও পাটকাঠি সংগ্রহের কাজ করছেন কৃষক-কৃষাণিরা। কাঙ্ক্ষিত দাম পাওয়ার আশায় বছরের অন্য সময়ের তুলনায় এ সময়ে মাঠে কৃষকের ব্যস্ততা বেড়েছে দ্বিগুণ। তাই গ্রামীণ জনপদে কৃষক-কৃষাণিরা মেতে উঠেছেন পাট উৎসবে।

জেলা কৃষি বিভাগ জানায়, এক যুগ আগেও জেলায় পাট চাষির সংখ্যা ছিল অনেক কম। বর্তমানে হেক্টর প্রতি পাটের গড় উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় চলতি বছর বেড়েছে পাট চাষিদের সংখ্যা। তাই চলতি বছর ১ হাজার ৯১১ হেক্টর লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে পাটের আবাদ হয়েছে ১ হাজার ৯১২ হেক্টরে। এসব জমি থেকে ৪ হাজার ১৫ মেট্রিক টন পাট উৎপাদন হবে।

ইতোমধ্যে জেলায় ৯০ শতাংশ জমির পাট কাটা শেষ হয়েছে। যেখানে বিঘা প্রতি পাটের গড় ফলন ১০ থেকে ১২ মণ।

কৃষকরা বলছেন, বিঘা প্রতি পাট চাষে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা খরচ হয় এবং মুনাফা থাকে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। এছাড়া প্রতি পাটখড়ির আঁটি ৮০ থেকে ১শ’ টাকা দরে বিক্রি করে বাড়তি আয় হচ্ছে।

এদিকে জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে পাটের কেনাবেচা জমে উঠেছে। কৃষকের কাছ থেকে পাট কিনছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। পরে এসব পাট যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। তাই বাজারে পাটের চাহিদা থাকায় উৎপাদিত পাটের ন্যায্য মূল্য নিয়ে আশাবাদী কৃষি বিভাগ।

তবে কৃষকেরা জানান, সিন্ডিকেট করে মধ্যস্বত্বভোগী ও ব্যবসায়ীরা যেন পাটের দাম কমাতে না পারে সেদিকে সরকারের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। তা না হলে একদিকে যেমন কৃষকদের পাট চাষে আগ্রহ কমবে। অন্যদিকে পাটের ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হবেন পাট চাষিরা।

সদরের চরমোচারিয়া ইউনিয়নের মুন্সিরচর গ্রামের পাট চাষি সাইদুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, পাট চাষে এবার ফলন যেমন ভালো হয়েছে, তেমনি পাটের আঁশের মানও ভালো হয়েছে। সময়মতো বৃষ্টি পাওয়ায় সেচ খরচও কমেছে। তবে উৎপাদন খরচের তুলনায় ন্যায্য দাম নিশ্চিত হলে কৃষকরা আগামীতে পাট চাষে বেশি আগ্রহী হবেন। এজন্য সরকার ও কৃষি বিভাগের সহযোগিতা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে শেরপুর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুসলিমা খানম নীলু গণমাধ্যমকে বলেন, চলতি বছর পাটের চাষ বৃদ্ধিতে জেলা পাট অধিদপ্তর থেকে প্রায় ৮ হাজার কৃষকের মাঝে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ১ কেজি করে পাট বীজ প্রদান করা হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, পরিবেশ বান্ধব বলে বাংলাদেশে পাটের বহুমুখী ব্যবহার দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে দেশে ও বিদেশে পাটের চাহিদা বাড়ছে। বাড়তি মূল্য পাওয়ার কারণে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন এবং পাট চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
হিলিতে বাড়ছে কাঁচামরিচ চাষ, দামে খুশি কৃষকরা
দিনাজপুরের সীমান্তঘেঁষা হাকিমপুর হিলি উপজেলায় দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে কাঁচামরিচের চাষাবাদ। অন্যান্য ফসলের তুলনায় কম খরচ, সহজ পরিচর্যা এবং বাজারে ভালো দাম পাওয়ার কারণে কাঁচামরিচ চাষে ঝুঁকছেন স্থানীয় কৃষকরা। অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষি বিভাগের সঠিক পরামর্শে এবার মরিচের ফলনও হয়েছে চমৎকার। কাঙ্ক্ষিত ফলনের পাশাপাশি বাজারে চড়া দাম পাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন উপজেলার মরিচ চাষিরা।
হিলিতে বাড়ছে কাঁচামরিচ চাষ, দামে খুশি কৃষকরা
লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে রোপা আমনের আবাদ, কৃষকের মুখে হাসি
অনুকূল আবহাওয়া ও খাল পুনঃখনন কর্মসূচির ফলে খুলনা অঞ্চলের চার জেলায় চলতি মৌসুমে রোপা আমন ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করেছে। নিচু এলাকার জলাবদ্ধতা দূর হওয়া এবং সুষম বৃষ্টিপাতের কারণে কৃষকরা এবার অধিক পরিমাণে রোপা আমনের চাষ করেছেন বলে জানিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তারা।
লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে রোপা আমনের আবাদ, কৃষকের মুখে হাসি
পান রপ্তানি নিয়ে ‘সুখবর’
রোববার (৪ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক এ আদেশ দেন।
পান রপ্তানি নিয়ে ‘সুখবর’
চলতি বছর সুখবর পাচ্ছেন ৪৩ লাখ কৃষক
কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, ৪৩ লাখ কৃষক এ বছর কৃষক কার্ড পাবেন। পাইলট পর্যায়ের উদ্বোধনী দিনে কৃষক কার্ডের উপকরণ প্রণোদনা পাচ্ছেন ১ লাখ ৪৭ জন কৃষক। 
চলতি বছর সুখবর পাচ্ছেন ৪৩ লাখ কৃষক
ভালো ফলনের প্রত্যাশায় আমন চাষে ব্যস্ত কৃষকেরা
কয়েক দিন আগেও আমন ধানের জমির মাটি ছিল ফেটে চৌচির ও শুষ্ক। এখন বৃষ্টিতে সেই শুকিয়ে যাওয়া জমিতে পানি জমেছে। পানি পেয়ে আমন ধানের সবুজ পাতাগুলোও সতেজ হয়ে উঠেছে। কোথাও কোথাও বাতাসে দুলছে ধানের শীষ, আবার কোথাও শীষ বের হওয়ার প্রস্তুতি চলছে। দীর্ঘদিন বৃষ্টির অভাবে আমন ধান নিয়ে কৃষকদের যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতে তা অনেকটাই দূর হয়েছে। অতিরিক্ত সেচ খরচের ওপরও চাপ কমেছে। এখন ভালো ফলনের আশায় কৃষকরা জমির পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার বিভিন্ন এলাকার আমন ক্ষেত ঘুরে দেখা যায়, কয়েক দিনের বৃষ্টিতে জমিতে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা ফিরে এসেছে। পানি পেয়ে শুকিয়ে যাওয়া ধানের চারাগুলোও নতুন প্রাণ ফিরে পেয়েছে। বিস্তীর্ণ মাঠ এখন সবুজে সবুজে ভরে উঠছে। কৃষকরা বলছেন, আমন ধানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এই বৃষ্টি তাদের জন্য স্বস্তির বার্তা বয়ে এনেছে। সময়মতো বৃষ্টি হওয়ায় সেচের প্রয়োজনীয়তা কমেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার আমনের ভালো ফলন হবে বলে তারা আশা করছেন। উপজেলার নিমপাড়া ইউনিয়নের ভাটপাড়া গ্রামের কৃষক আলিম উদ্দিন বলেন, ‘বৃষ্টি না হওয়ায় জমি শুকিয়ে যাচ্ছিল। ধানের চারাগুলোও কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছিল। সেচ দিতে হলে বাড়তি খরচ হতো। এখন বৃষ্টি হওয়ায় জমিতে প্রয়োজনীয় পানি এসেছে। এতে ধানের চারাগুলোও সতেজ হয়েছে। আবহাওয়া এমন ভালো থাকলে ফলন ভালো হবে বলে আমি আশা করছি।’ চারঘাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা জানান, আমন ধানের বৃদ্ধি, ফুল আসা ও দানা গঠনের পর্যায়ে জমিতে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা থাকা জরুরি। সাম্প্রতিক বৃষ্টি জমিতে আর্দ্রতা ফিরিয়ে এনেছে, যা ধান চাষের জন্য ইতিবাচক। তবে জমিতে অতিরিক্ত পানি যাতে দীর্ঘ সময় জমে না থাকে, সে বিষয়েও কৃষকদের সতর্ক থাকতে হবে। চারঘাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষিবিদ আল মামুন হাসান বলেন, ‘আমন ধানের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও ভালো ফলনের জন্য জমিতে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা থাকা জরুরি। সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতের ফলে জমিতে আর্দ্রতা ফিরে এসেছে, যা ধান চাষের জন্য উপকারী।’ তিনি আরও বলেন, এই সময়ে কৃষকদের নিয়মিতভাবে তাদের ধানের ক্ষেত পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। কোনো রোগ বা পোকামাকড়ের আক্রমণ দেখা দিলে দ্রুত কৃষি বিভাগের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সঠিক সময়ে যথাযথ পরিচর্যা করা হলে, কাক্সিক্ষত ফলন পাওয়া সম্ভব হবে বলে আমি আশা করছি। বরেন্দ্র অঞ্চল হিসেবে পরিচিত নওগাঁর রানীনগর উপজেলায় আটটি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন রোপা আমন ধানের সবুজ গাছের বর্ণিল সমারোহের দেখা মিলছে। চলতি রোপা আমন মৌসুমে কৃষকরা ভালো ফলনের আশা করছেন। শেষ মুহূর্তে বড় কোনো রোগবালাই দেখা না দেওয়ায় কৃষকরা এখন আমন ক্ষেতের পরিচর্যায় সময় কাটাচ্ছেন। কৃষি বিভাগ মনে করছে, স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শে কৃষকরা আধুনিক পদ্ধতিতে আগাম ধান চাষ করায় এবং কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকায় চলতি মৌসুমে রোপা আমনের ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। চলতি বছর উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে ১৯,০৭০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও শেষ পর্যন্ত প্রায় ১৮,৫০০ হেক্টর জমিতে ধান রোপণ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং সময়মতো চারা রোপণ, নিবিড় পরিচর্যা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং সময়মতো সেচ ও সারের কোনো ঘাটতি না থাকায় চলতি মৌসুমে ধানের ভালো ফলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উপজেলার অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষিবিদ জাহিদুল ইসলাম জানান, কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের সচেতন করতে এবং সঠিক সময়ে চারা রোপণ, নিবিড় তদারকি, সার ও কীটনাশক প্রয়োগ, সারের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, সময়মতো সেচ ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধা প্রদান, আধুনিক পদ্ধতির ব্যবহার ও ফসলকে রোগবালাইমুক্ত রাখার বিষয়ে পরামর্শ দিতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে গ্রামে গ্রামে উঠান বৈঠক করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে রানীনগর উপজেলায় রোপা আমন ধানের বেশ ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। সূত্র: বাসস আরটিভি/আইএম
ভালো ফলনের প্রত্যাশায় আমন চাষে ব্যস্ত কৃষকেরা
আরও পড়ুন
চেক ডিজঅনার মামলায় ‘বড় খেসারত’ দিলেন ব্যবসায়ী
বগুড়ায় মাইক্রোবাসে তুলে নেওয়ার চার দিন পর স্কুলছাত্রী উদ্ধার
শেরপুরে মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় ছাত্রদল নেতার ওপর হামলা, বিচার দাবি
৪০০ কলাগাছ কেটে ফেলার অভিযোগ, ন্যায়বিচার চান কৃষক