ঢাকা সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩

সার নিয়ে সুখবর, দেশে চাহিদার চেয়েও মজুত ১৬ লাখ টন বেশি

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:১৩ পিএম
বিভিন্ন রকম সার। ছবি: সংগৃহীত

দেশে কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখতে রবি ও বোরো মৌসুমে সারের চাহিদার তুলনায় ১৫ লাখ ৮৪ হাজার মেট্রিক টন বেশি সরবরাহ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। একইসঙ্গে কৃষকের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে সময়মতো সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার জেলাভিত্তিক চাহিদার বিপরীতে শতভাগ সার বরাদ্দের উদ্যোগ নিয়েছে।

সরকারি হিসাবে, দেশে সারের চাহিদা ৩৫ লাখ ৮৭ হাজার মেট্রিক টন। এর বিপরীতে প্রস্তুত সরবরাহ ৫১ লাখ ৭১ হাজার মেট্রিক টন। ফলে চাহিদার তুলনায় প্রায় ১৫ লাখ ৮৪ হাজার মেট্রিক টন অতিরিক্ত সরবরাহের প্রস্তুতি রয়েছে। এর পাশাপাশি আগামী অক্টোবর মাসের জন্য ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি সারের নির্ধারিত চাহিদার বিপরীতে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোতে সমপরিমাণ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং অধিশাখার ১৪ সেপ্টেম্বরের এক চিঠি ও সংযুক্ত জেলাওয়ারি বরাদ্দ তালিকা থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। নথিতে ২০২৬ সালের অক্টোবর মাসের চাহিদার বিপরীতে বিভিন্ন উৎস থেকে সার বরাদ্দ দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

তথ্যানুযায়ী, অক্টোবর মাসে দেশের ৬৪ জেলার জন্য টিএসপি সারের মোট চাহিদা ৭০ হাজার ৫২ মেট্রিক টন এবং পুরো পরিমাণই বিএডিসির মাধ্যমে বরাদ্দ করা হয়েছে। একইভাবে ডিএপি সারের মোট চাহিদা ১ লাখ ৫০ হাজার ৯১০ মেট্রিক টন। এর মধ্যে বিসিআইসি ১ হাজার মেট্রিক টন এবং বিএডিসি ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯১০ মেট্রিক টন বরাদ্দ করেছে। অর্থাৎ চাহিদার পুরো পরিমাণই বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয়েছে।

এ ছাড়া অক্টোবর মাসে এমওপি সারের মোট চাহিদা ৯৩ হাজার ৬৫৪ মেট্রিক টন এবং সমপরিমাণ সারই জেলাওয়ারি বরাদ্দ করা হয়েছে। ফলে তিন ধরনের নন-ইউরিয়া সারের অক্টোবরের মোট জেলাভিত্তিক চাহিদা দাঁড়ায় প্রায় ৩ লাখ ১৪ হাজার ৬১৬ মেট্রিক টন, যার বিপরীতে সমপরিমাণ বরাদ্দের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের নথিতে দেখা যায়, চাহিদার ভিত্তিতে প্রতিটি জেলার জন্য আলাদা পরিমাণ নির্ধারণ করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ কোনো একক কেন্দ্রীয় বরাদ্দের পরিবর্তে মাঠ পর্যায়ের কৃষি চাহিদাকে বিবেচনায় নিয়ে জেলাভিত্তিক সরবরাহ পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ ব্যবস্থাকে কৃষকের প্রয়োজনের সঙ্গে সার সরবরাহের সরাসরি সমন্বয় হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

সার সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখতে বর্তমান সরকার শুধু জেলাভিত্তিক বরাদ্দের ওপর নির্ভর না করে আমদানির ধারাবাহিকতাও বজায় রেখেছে। গত ৯ সেপ্টেম্বর সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখা এবং কৃষকদের জন্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে মোট ১ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন এমওপি, ডিএপি ও ইউরিয়া সার আমদানির তিনটি প্রস্তাব অনুমোদন করে। এর মধ্যে বেলারুশ থেকে ৩০ হাজার টন এমওপি, মরক্কো থেকে ৪০ হাজার টন ডিএপি এবং সৌদি আরব থেকে ৪০ হাজার টন ইউরিয়া আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়।

এর আগে আগস্টেও বিভিন্ন দেশ থেকে মোট ৩ লাখ ৬৫ হাজার মেট্রিক টন সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। এর মধ্যে সৌদি আরব থেকে ইউরিয়া এবং রাশিয়া থেকে এমওপি আমদানির প্রস্তাব ছিল।

এ ছাড়া সার ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করতে চলতি বছর জাতীয় পর্যায়ে সমন্বয় ও পরামর্শক কমিটি গঠন এবং ৬৪ জেলায় সার মনিটরিং সেল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ইউরিয়া ৪ লাখ ১৮ হাজার টন, টিএসপি ৩ লাখ ৪৩ হাজার টন, ডিএপি ৩ লাখ ২ হাজার টন এবং এমওপি ১ লাখ ৭৮ হাজার ৯০০ টন মজুত ছিল।

পাশাপাশি পরিবহনের পথে ছিল টিএসপি ১ লাখ ২৮ হাজার ২০০ টন, ডিএপি ১ লাখ ১৪ হাজার ৬০০ টন এবং এমওপি ১ লাখ ৮৯ হাজার ৪০০ টন। ৬৪ জেলায় সার মনিটরিং সেল গঠনের তথ্যও সংসদে জানানো হয়েছে।

বর্তমান বিএনপি সরকারের সার ব্যবস্থাপনায় জোর দেওয়া হচ্ছে চাহিদা নিরূপণ, জেলা-ভিত্তিক বরাদ্দ, আগাম আমদানি, পরিবহনাধীন মজুত এবং মাঠ পর্যায়ের মনিটরিং—এই সমন্বিত ব্যবস্থার ওপর। ২০২৬ সালের সমন্বিত সার ডিলার ও বিতরণ নীতিমালাও এ ব্যবস্থাপনার অংশ।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক নথিতে আগামী অক্টোবরের জন্য ৬৪ জেলার চাহিদা আলাদাভাবে বিবেচনায় নেওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে লক্ষণীয়। টিএসপি, ডিএপি ও এমওপির ক্ষেত্রে চাহিদার বিপরীতে পূর্ণ বরাদ্দ নিশ্চিত হওয়ায় সরবরাহ ঘাটতির ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি কৃষকের প্রয়োজনের সময় সার পাওয়ার সুযোগ বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

কৃষি উৎপাদনের অন্যতম প্রধান উপকরণ সার। ফলে উৎপাদন মৌসুমের আগে জেলা-ভিত্তিক চাহিদা নির্ধারণ করে আগাম বরাদ্দ দেওয়া এবং একই সঙ্গে আমদানি ও মজুত নিশ্চিত করার বর্তমান উদ্যোগকে কৃষি খাতে সরকারের আগাম প্রস্তুতি ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনার সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর সার ব্যবস্থাপনায় সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হিসেবে উঠে আসছে—‘চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ, আগাম আমদানি এবং মাঠ পর্যায়ে সরাসরি মনিটরিং’। বিএনপি সরকারের কৃষিবান্ধব নীতির বাস্তব প্রয়োগ হিসেবে অক্টোবরের জেলাভিত্তিক শতভাগ সার বরাদ্দকে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম বলেন, সার ব্যবস্থাপনায় বর্তমান সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হচ্ছে চাহিদাভিত্তিক পরিকল্পনা ও আগাম প্রস্তুতি। শুধু সার আমদানি বা মজুত করাই নয়, কোন এলাকায় কতটুকু সার প্রয়োজন, কখন প্রয়োজন এবং কীভাবে তা কৃষকের কাছে পৌঁছানো হবে— এসব বিষয় সমন্বিতভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে মাঠপর্যায়ে সার সরবরাহ ও বিতরণ কার্যক্রম নিবিড়ভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, কৃষকের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সরকার সার সরবরাহে কোনো ধরনের ঘাটতি তৈরি হতে দেবে না। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে সার পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছেন। কোথাও চাহিদার তুলনায় সরবরাহে কোনো সমস্যা দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জানতে চাইলে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান বলেন, কৃষকের প্রয়োজনের সময় সার নিশ্চিত করতে সরকার শুরু থেকেই আগাম ও সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। মাঠপর্যায়ের প্রকৃত চাহিদা নিরূপণ করে জেলাভিত্তিক বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। অক্টোবর মাসের জন্য টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি সারের চাহিদার বিপরীতে শতভাগ বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলে চলতি মৌসুমে সার নিয়ে কৃষকের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।

সচিব বলেন, কিছু জায়গায় বিতরণে অনিয়ম হওয়ায় কিছুটা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছিল। তবে সরকারের তৎপরতা এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার ফলে সমস্যার দ্রুত সমস্যার সমাধান হয়েছে।

তিনি বলেন, সার ব্যবস্থাপনায় সরকারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে—কৃষকের কাছে সঠিক সময়ে, সঠিক পরিমাণে এবং ন্যায্যমূল্যে সার পৌঁছে দেওয়া। এজন্য আমদানি, মজুত, জেলাভিত্তিক বরাদ্দ, পরিবহন ও বিতরণ—প্রতিটি ধাপ সমন্বিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোথাও কোনো ঘাটতি বা অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সচিব আরও বলেন, কৃষি উৎপাদনের ধারাবাহিকতা রক্ষায় সার সরবরাহকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকারের কৃষিবান্ধব নীতির অংশ হিসেবে উৎপাদন মৌসুমের আগেই চাহিদা নির্ধারণ ও বরাদ্দ নিশ্চিত করা হচ্ছে, যাতে কৃষককে শেষ মুহূর্তে সার সংগ্রহের জন্য বাড়তি চাপ বা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়তে না হয়।

তিনি বলেন, সরকারের এ উদ্যোগের ফলে একদিকে কৃষকের আস্থা বাড়বে, অন্যদিকে সময়মতো সার প্রয়োগের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা ধরে রাখা সম্ভব হবে। কৃষক ভালো থাকলে কৃষি ভালো থাকবে, আর কৃষি ভালো থাকলেই দেশের খাদ্যনিরাপত্তা ও অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় কৃষি মন্ত্রণালয় সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও সতর্কতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। সূত্র: বাসস

আরটিভি/আইএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
পান রপ্তানি নিয়ে ‘সুখবর’
রোববার (৪ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক এ আদেশ দেন।
পান রপ্তানি নিয়ে ‘সুখবর’
চলতি বছর সুখবর পাচ্ছেন ৪৩ লাখ কৃষক
কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, ৪৩ লাখ কৃষক এ বছর কৃষক কার্ড পাবেন। পাইলট পর্যায়ের উদ্বোধনী দিনে কৃষক কার্ডের উপকরণ প্রণোদনা পাচ্ছেন ১ লাখ ৪৭ জন কৃষক। 
চলতি বছর সুখবর পাচ্ছেন ৪৩ লাখ কৃষক
ভালো ফলনের প্রত্যাশায় আমন চাষে ব্যস্ত কৃষকেরা
কয়েক দিন আগেও আমন ধানের জমির মাটি ছিল ফেটে চৌচির ও শুষ্ক। এখন বৃষ্টিতে সেই শুকিয়ে যাওয়া জমিতে পানি জমেছে। পানি পেয়ে আমন ধানের সবুজ পাতাগুলোও সতেজ হয়ে উঠেছে। কোথাও কোথাও বাতাসে দুলছে ধানের শীষ, আবার কোথাও শীষ বের হওয়ার প্রস্তুতি চলছে। দীর্ঘদিন বৃষ্টির অভাবে আমন ধান নিয়ে কৃষকদের যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতে তা অনেকটাই দূর হয়েছে। অতিরিক্ত সেচ খরচের ওপরও চাপ কমেছে। এখন ভালো ফলনের আশায় কৃষকরা জমির পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার বিভিন্ন এলাকার আমন ক্ষেত ঘুরে দেখা যায়, কয়েক দিনের বৃষ্টিতে জমিতে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা ফিরে এসেছে। পানি পেয়ে শুকিয়ে যাওয়া ধানের চারাগুলোও নতুন প্রাণ ফিরে পেয়েছে। বিস্তীর্ণ মাঠ এখন সবুজে সবুজে ভরে উঠছে। কৃষকরা বলছেন, আমন ধানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এই বৃষ্টি তাদের জন্য স্বস্তির বার্তা বয়ে এনেছে। সময়মতো বৃষ্টি হওয়ায় সেচের প্রয়োজনীয়তা কমেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার আমনের ভালো ফলন হবে বলে তারা আশা করছেন। উপজেলার নিমপাড়া ইউনিয়নের ভাটপাড়া গ্রামের কৃষক আলিম উদ্দিন বলেন, ‘বৃষ্টি না হওয়ায় জমি শুকিয়ে যাচ্ছিল। ধানের চারাগুলোও কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছিল। সেচ দিতে হলে বাড়তি খরচ হতো। এখন বৃষ্টি হওয়ায় জমিতে প্রয়োজনীয় পানি এসেছে। এতে ধানের চারাগুলোও সতেজ হয়েছে। আবহাওয়া এমন ভালো থাকলে ফলন ভালো হবে বলে আমি আশা করছি।’ চারঘাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা জানান, আমন ধানের বৃদ্ধি, ফুল আসা ও দানা গঠনের পর্যায়ে জমিতে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা থাকা জরুরি। সাম্প্রতিক বৃষ্টি জমিতে আর্দ্রতা ফিরিয়ে এনেছে, যা ধান চাষের জন্য ইতিবাচক। তবে জমিতে অতিরিক্ত পানি যাতে দীর্ঘ সময় জমে না থাকে, সে বিষয়েও কৃষকদের সতর্ক থাকতে হবে। চারঘাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষিবিদ আল মামুন হাসান বলেন, ‘আমন ধানের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও ভালো ফলনের জন্য জমিতে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা থাকা জরুরি। সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতের ফলে জমিতে আর্দ্রতা ফিরে এসেছে, যা ধান চাষের জন্য উপকারী।’ তিনি আরও বলেন, এই সময়ে কৃষকদের নিয়মিতভাবে তাদের ধানের ক্ষেত পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। কোনো রোগ বা পোকামাকড়ের আক্রমণ দেখা দিলে দ্রুত কৃষি বিভাগের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সঠিক সময়ে যথাযথ পরিচর্যা করা হলে, কাক্সিক্ষত ফলন পাওয়া সম্ভব হবে বলে আমি আশা করছি। বরেন্দ্র অঞ্চল হিসেবে পরিচিত নওগাঁর রানীনগর উপজেলায় আটটি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন রোপা আমন ধানের সবুজ গাছের বর্ণিল সমারোহের দেখা মিলছে। চলতি রোপা আমন মৌসুমে কৃষকরা ভালো ফলনের আশা করছেন। শেষ মুহূর্তে বড় কোনো রোগবালাই দেখা না দেওয়ায় কৃষকরা এখন আমন ক্ষেতের পরিচর্যায় সময় কাটাচ্ছেন। কৃষি বিভাগ মনে করছে, স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শে কৃষকরা আধুনিক পদ্ধতিতে আগাম ধান চাষ করায় এবং কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকায় চলতি মৌসুমে রোপা আমনের ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। চলতি বছর উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে ১৯,০৭০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও শেষ পর্যন্ত প্রায় ১৮,৫০০ হেক্টর জমিতে ধান রোপণ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং সময়মতো চারা রোপণ, নিবিড় পরিচর্যা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং সময়মতো সেচ ও সারের কোনো ঘাটতি না থাকায় চলতি মৌসুমে ধানের ভালো ফলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উপজেলার অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষিবিদ জাহিদুল ইসলাম জানান, কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের সচেতন করতে এবং সঠিক সময়ে চারা রোপণ, নিবিড় তদারকি, সার ও কীটনাশক প্রয়োগ, সারের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, সময়মতো সেচ ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধা প্রদান, আধুনিক পদ্ধতির ব্যবহার ও ফসলকে রোগবালাইমুক্ত রাখার বিষয়ে পরামর্শ দিতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে গ্রামে গ্রামে উঠান বৈঠক করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে রানীনগর উপজেলায় রোপা আমন ধানের বেশ ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। সূত্র: বাসস আরটিভি/আইএম
ভালো ফলনের প্রত্যাশায় আমন চাষে ব্যস্ত কৃষকেরা
বরেন্দ্র অঞ্চলে আগাম সবজি চাষে আশার আলো
সকালের রোদের তেজ তখনও পুরোপুরি বাড়েনি, কিন্তু রাজশাহীর গোদাগাড়ীর গোলাই গ্রামের কৃষকরা তখন থেকেই মাঠে পুরোদমে কাজে ব্যস্ত।
বরেন্দ্র অঞ্চলে আগাম সবজি চাষে আশার আলো
সবজির বাজারে আগুন, ঘি ঢালছে জ্বালানি তেলের দাম
চলতি সপ্তাহে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর রাজধানীর বাজারে নতুন করে বাড়তে শুরু করেছে সবজির দাম। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেগুন, ঝিঙা, পটোল, ধুন্দল, করলা ঢ্যাঁড়শসহ বিভিন্ন সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
সবজির বাজারে আগুন, ঘি ঢালছে জ্বালানি তেলের দাম
আরও পড়ুন
সাড়ে ৬ লাখ জেলে পরিবারকে ‘বড় সুখবর’ দিলো সরকার
চলতি বছর সুখবর পাচ্ছেন ৪৩ লাখ কৃষক
পে-স্কেল নিয়ে এবার সুখবর পেতে যাচ্ছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা
কিডনি রোগীদের জন্য বড় সুখবর