
দিনাজপুরে বাড়ছে কলার চাষ। জেলার ১৩ উপজেলায় কমবেশি কলা উৎপাদন হলেও বীরগঞ্জ ও কাহারোলে মেহের সাগর কলার আবাদ বেশি হচ্ছে। অল্প পুঁজি ও ভালো লাভের কারণে কৃষকদের আগ্রহও বাড়ছে। কাহারোল উপজেলার দশমাইল মোড়ে জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বসে উত্তরাঞ্চলের দ্বিতীয় বৃহত্তম কলার হাট। এ হাটে প্রতিদিন কোটি টাকার কলা বিক্রি হয়।
ভোর ৫টা থেকে বেচাকেনা শুরু হয়ে সকাল ১০টার মধ্যে শেষ হয়। প্রতিদিন গড়ে ১৬ থেকে ২০টি ট্রাকে কলা দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হয়।
হাটের ইজারাদার মো. মিজান জানান, বড় ট্রাকে প্রায় ৭০০ এবং ছোট ট্রাকে ৪৫০ কাঁদি কলা ধরে। মৌসুমে লোড-আনলোডের কাজে যুক্ত থাকেন অন্তত ১০০ শ্রমিক।
কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর বীরগঞ্জে ৩১৫ হেক্টর, কাহারোলে ৩২৫ হেক্টর এবং পুরো জেলায় প্রায় ১ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে কলার আবাদ হয়েছে।
কাহারোলের কৃষক সুমন আলী জানান, এক বিঘা জমিতে কলা চাষে তার খরচ হয়েছে ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা। কলা বিক্রি করে পেয়েছেন ২ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। এতে লাভ হয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার টাকা।
ঢাকার ব্যবসায়ী আকবর আলী জানান, গত বছর ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকায় কেনা এক কাঁদি কলা এবার ৬০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে।
কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, অন্যান্য ফসলের তুলনায় লাভ বেশি হওয়ায় কলা চাষে আগ্রহ বাড়ছে। তবে হিমাগারের অভাবে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ কলা নষ্ট হচ্ছে। পাশাপাশি মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যও কৃষকদের জন্য সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আরটিভি/এমএইচজে

