ঢাকা শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

‘গ্রাহকশূন্য’ সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের শাখা

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৯:১৫ পিএম
সংগৃহীত ছবি

পাঁচটি ব্যাংক একীভূত হয়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করলেও সাধারণ গ্রাহক এখনো টাকা তুলতে পারছেন না।

ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামি ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামি ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামি ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক একীভূত হওয়ার পর গঠিত এই নতুন ব্যাংকের শাখাগুলোতে গ্রাহকের ভিড় উধাও হয়ে গেছে। বহুবার চেষ্টা করেও টাকা না পাওয়ায় আমানতকারীরা শাখায় আসা কমিয়ে দিয়েছেন, ফলে দেখা দিয়েছে এক ধরনের নীরবতা।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের শাখাগুলো ঘুরে দেখা গেছে, যে শাখাগুলো একসময় গ্রাহকের আনাগোনায় সরগরম থাকতো, এখন সেখানে হাতেগোনা কয়েকজন গ্রাহক দেখা যায়।

ব্যাংকের গ্রাহক পলাশ বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন সরকারই তাদের টাকা ফেরত দেবে, কারণ ব্যাংক এখন সরকারি মালিকানায়। তবে ডিপিএস ভাঙলে ঘোষিত প্যাকেজের সুবিধাও পাবেন না তিনি।

আরও পড়ুন

এক্সিম ব্যাংকের মতিঝিল শাখার কর্মকর্তারা জানান, উপর থেকে কোনো লিখিত নির্দেশনা না থাকায় তারা গ্রাহকের টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে কিছু বলতে পারছেন না।
ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামি ব্যাংকের এক শাখার ব্যবস্থাপক মো. তৌফিক বলেন, বাজেট থেকে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের জন্য ২০ হাজার কোটি টাকা ছাড় করা হলেও সে টাকা এখনো শাখা পর্যায়ে আসেনি। লিখিত নির্দেশনা ছাড়া তারা গ্রাহকদের টাকা দিতে অপারগ।

এদিকে, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া জানিয়েছেন, সরকারি মালিকানায় একটি ইসলামি ব্যাংক চালু হওয়া দেশের জন্য ইতিবাচক বার্তা। তিনি মন্তব্য করেন, গ্রাহকের আস্থা ফিরিয়ে আনাই হবে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কাজ।

তিনি আরও বলেন, ব্যাংকটি পূর্ণাঙ্গভাবে দাঁড় করাতে বেশ কিছু কারিগরি দল কাজ করছে এবং আইনগতভাবে পাঁচ ব্যাংককে একীভূত করা এবং ব্যাংকের ভিশন-মিশন চূড়ান্ত করাই এখন প্রধান অগ্রাধিকার।

গত ৩০ নভেম্বর ব্যাংকিং খাতের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’ ব্যাংক হিসেবে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বারবার তারল্য সহায়তা দেওয়ার পরও এসব ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা উন্নতি হয়নি, বরং শেয়ারবাজারে তাদের শেয়ারের দাম ব্যাপকভাবে কমে গেছে এবং প্রায় সব ব্যাংকের নেট অ্যাসেট ভ্যালু (এনএভি) এখন ঋণাত্মক।

এই নাজুক পরিস্থিতিতেই একত্রীকরণের মাধ্যমে নতুন ব্যাংক গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

নতুন ব্যাংকটির মোট পেইড-আপ ক্যাপিটাল নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার ২০ হাজার কোটি টাকা দেবে, এবং বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা আসবে আমানতকারীদের শেয়ার থেকে। প্রাথমিকভাবে অনুমোদিত মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকা।

এর আগে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ৯ নভেম্বর সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের প্রাথমিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।

অর্থনীতিবিদরা এই সিদ্ধান্তকে দেশের ব্যাংকিং খাতের ইতিহাসে একটি অভূতপূর্ব সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন, যা দুর্বল ব্যাংকগুলোকে উদ্ধার এবং ইসলামী ব্যাংকিং খাতে আস্থা পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আরও পড়ুন

এর আগে, গত ৫ নভেম্বর আর্থিকভাবে দুর্বল পাঁচটি শরিয়াভিত্তিক ব্যাংককে অকার্যকর ঘোষণা করে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

ব্যাংকগুলো ভয়াবহ তারল্য সংকটের কারণে কর্মীদের বেতন দিতে হিমশিম খাচ্ছে। আর্থিক এ সংকটে এসব ব্যাংকের কর্মীদের বেতন কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিকী বলেন, ৩৫০ কোটি টাকা তারল্য সহায়তা রেখে নতুন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের অন্তর্ভুক্ত ৫ ব্যাংক কর্মীদের বেতন কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ব্যাংকগুলোর চরম তারল্য সংকট ও আর্থিক অনিয়মের কারণে এই পদক্ষেপ দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন গভর্নর। তবে এই সিদ্ধান্ত পুনর্গঠনের অংশ ও সাময়িক বলে জানিয়েছেন মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিকী।

তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বাজারভিত্তিক বেতন পাবেন কর্মকর্তারা।

তবে একীভূত করার সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। রিটে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে।
১৮ নভেম্বর শহিদুল ইসলাম নামে এক সাধারণ বিনিয়োগকারীর পক্ষে ব্যারিস্টার মাহসিব হোসাইন এ রিট দায়ের করেন।

আরটিভি/এএইচ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
৫ ব্যাংকের গ্রাহকদের জন্য বড় সুখবর
একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংকের লাখো গ্রাহকের জন্য বড় স্বস্তির খবর দিল বাংলাদেশ ব্যাংক। আলোচিত পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীদের হিসাব নতুনভাবে গঠিত ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’-এ স্থানান্তরের প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। এই প্রক্রিয়া শেষ হলেই গ্রাহকরা নিজ নিজ ব্যাংকের বিদ্যমান চেক বই ব্যবহার করে টাকা তুলতে পারবেন। সম্প্রতি  বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এসব তথ্য জানান। অনিয়ম, দুর্বল ব্যবস্থাপনা ও ঋণ খেলাপির চাপে দেশের কয়েকটি ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে তীব্র তারল্য সংকটে পড়ে। এর মধ্যে সবচেয়ে সংকটে থাকা পাঁচটি ইসলামী ব্যাংককে একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’ গঠনের অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এই ব্যাংকগুলো হলো এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র জানান, আগামী সপ্তাহের মধ্যেই আমানত স্থানান্তরের কাজ সম্পন্ন হতে পারে। প্রক্রিয়া শেষ হলে এই পাঁচ ব্যাংকের সব গ্রাহকের জমা অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের হিসাবে স্থানান্তরিত হবে। এরপর গ্রাহকরা তাদের পুরোনো চেক বই ব্যবহার করে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত তুলতে পারবেন। অবশিষ্ট আমানত সম্পূর্ণ সুরক্ষিত থাকবে এবং তাতে প্রচলিত হারে মুনাফাও দেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, নতুন এই ব্যাংক রাষ্ট্র মালিকানাধীন হওয়ায় আমানতকারীদের আস্থা ধীরে ধীরে ফিরে আসবে। এতে অতিরিক্ত টাকা তোলার চাপও অনেকটাই কমে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।প্রাথমিকভাবে একজন গ্রাহক একবারে দুই লাখ টাকার বেশি তুলতে পারবেন না। তবে ধাপে ধাপে উত্তোলনের সীমা বাড়ানো হবে। যাদের হিসাবে দুই লাখ টাকার কম রয়েছে, তারা একবারেই পুরো টাকা তুলতে পারবেন। আর যাদের হিসাবে দুই লাখ টাকার বেশি জমা আছে, তারা চাইলে প্রতি তিন মাস অন্তর এক লাখ টাকা করে সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত টাকা তুলতে পারবেন। ৬০ বছরের বেশি বয়সী ও গুরুতর রোগে আক্রান্ত আমানতকারীদের ক্ষেত্রে এই সীমা শিথিল রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে তারা যেকোনো পরিমাণ অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন।  সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় স্থাপন করা হয়েছে রাজধানীর সেনাকল্যাণ ভবনে। ব্যাংকটির পরিশোধিত মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার দিচ্ছে ২০ হাজার কোটি টাকা এবং আমানতকারীদের শেয়ার থেকে আসবে ১৫ হাজার কোটি টাকা। অনুমোদিত মূলধন ধরা হয়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংকে বর্তমানে প্রায় ৭৫ লাখ আমানতকারীর মোট জমা রয়েছে এক লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা। বিপরীতে ঋণের পরিমাণ এক লাখ ৯৩ হাজার কোটি টাকা, যার বড় অংশই খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। সারা দেশে এসব ব্যাংকের রয়েছে ৭৬০টি শাখা, ৬৯৮টি উপশাখা, ৫১১টি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট এবং ৯৭৫টি এটিএম বুথ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আশা, এই একীভূতকরণের মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা ফিরবে এবং গ্রাহকদের আস্থার সংকট কাটবে। আরটিভি/এএ 
৫ ব্যাংকের গ্রাহকদের জন্য বড় সুখবর
সাপ্তাহিক ছুটির দিন হলেও আজ ব্যাংক খোলা 
সাপ্তাহিক ছুটির দিন হলেও আজ সারা দেশে ব্যাংক খোলা থাকবে। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানায় বাংলাদেশ ব্যাংক। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে প্রার্থীদের জামানত ও ভোটার তালিকার সিডি কেনার অর্থ ব্যাংক ড্রাফট বা পে-অর্ডার বা ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে জমার সুবিধার্থে শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) তফসিলি ব্যাংকের সব শাখা খোলা থাকবে। আরও পড়ুন শনিবার ব্যাংক খোলা রাখা নিয়ে যা জানাল কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২৯ ডিসেম্বর।  এর আগে, ২৫ ডিসেম্বর বড় দিন উপলক্ষে ছুটি ছিল এবং গতকাল ছিল শুক্রবার।   আরটিভি/আইএম 
সাপ্তাহিক ছুটির দিন হলেও আজ ব্যাংক খোলা 
শনিবার ব্যাংক খোলা রাখা নিয়ে যা জানাল কেন্দ্রীয় ব্যাংক
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিলের সুবিধার্থে আগামী শনিবার সারাদেশে সব তফসিলি ব্যাংক খোলা থাকবে। নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে আজ বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংককে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে। সেই অনুযায়ী সব ব্যাংকের সব শাখা খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।  বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তি এই তথ্য জানায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকটি। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে প্রার্থীদের জামানত ও ভোটার তালিকার সিডি কেনার অর্থ ব্যাংক ড্রাফট বা পে-অর্ডার বা ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে জমার সুবিধায় ২৭ ডিসেম্বর তফসিলি ব্যাংকের সব শাখা খোলা থাকবে। এর আগে নির্বাচন কমিশনের চিঠিতে বলা হয়, ২৯ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। তবে এর আগে টানা তিন দিনের ছুটির কবলে পড়ছে দেশ। ২৫ ডিসেম্বর যিশুখ্রিষ্টের জন্মদিন (বড়দিন) উপলক্ষে সাধারণ ছুটি। এরপর ২৬ ও ২৭ ডিসেম্বর শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। আরও পড়ুন বাংলাদেশের তরুণদের কর্মসংস্থানে ১৫ কোটি ডলার দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী, প্রার্থীদের মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জামানত এবং ভোটার তালিকার সিডি ক্রয়ের টাকা ব্যাংক ড্রাফট, পে-অর্ডার বা ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে জমা দিতে হয়। টানা তিন দিন ব্যাংক বন্ধ থাকলে প্রার্থীদের পক্ষে এই অর্থ জমা দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়বে। এই সংকট নিরসনে আগামী শনিবার সারা দেশে সব তফসিলি ব্যাংক খোলা রাখার পদক্ষেপ নিতে বাংলাদেশ ব্যাংককে অনুরোধ জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এর ফলে প্রার্থীরা ওই দিন ব্যাংকিং কার্যক্রম সম্পন্ন করে তাঁদের প্রয়োজনীয় পে-অর্ডার বা ট্রেজারি চালান সংগ্রহ করতে পারবেন। ১১ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা করে। সেই অনুযায়ী প্রার্থীরা এখন মনোনয়নপত্র সংগ্রহের কাজ করছেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আরটিভি/এস
শনিবার ব্যাংক খোলা রাখা নিয়ে যা জানাল কেন্দ্রীয় ব্যাংক
আরও কমতে পারে সঞ্চয়পত্রের মুনাফা হার, কার্যকর ১ জানুয়ারি থেকে 
জানুয়ারি থেকে নতুন নির্ধারিত সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার আবারও কমানোর প্রস্তাব করেছে অর্থমন্ত্রণালয়ের অর্থবিভাগ। অর্থ উপদেষ্টার অনুমোদন হলেই কার্যকর হবে এই হার। প্রস্তাব অনুমোদন হলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) পরিপত্র জারি করবে। অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে সঞ্চয়পত্রে সর্বোচ্চ মুনাফার হার ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন হার ৯ দশমিক ৭২ শতাংশ। নতুন প্রস্তাবে গড়ে দশমিক ৫ শতাংশ মুনাফা কমানোর প্রস্তাব রয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ রোববার রাতে বলেন, প্রস্তাবটি এখনো আমার কাছে আসেনি। তবে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধির স্বার্থে ব্যাংকারদের দিক থেকে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কিছুটা কমানোর একটা দাবি আছে। সার্বিক স্বার্থ বিবেচনায় রেখেই আমরা সিদ্ধান্ত নেব। তবে কম অঙ্কের বিনিয়োগে মুনাফার হার তুলনামূলক বেশি রাখা হবে এবং বড় অঙ্কের বিনিয়োগে হার হবে কম। ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা বা এর কম বিনিয়োগে মুনাফা বেশি এবং এর বেশি বিনিয়োগে মুনাফা কম নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। সরকার গত ৩০ জুন আয় ও ঋণ ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে নিয়মিত সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেয়। তখন গড় মুনাফার হার কিছুটা কমিয়ে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, ছয় মাস পর আবার হার পুনর্নির্ধারণ করা হবে।৩১ ডিসেম্বর সেই ছয় মাসের মেয়াদ পূর্ণ হচ্ছে। এ বিষয়ে আইআরডি সচিব মো. আবদুর রহমান খান বলেন, মুনাফার হার বাড়ছে না কমছে, বলতে পারব না। পুরো বিষয়টি এখন অর্থ বিভাগ দেখছে। অর্থ বিভাগের সুপারিশ এলে আমরা পরিপত্র জারি করব। জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের অধীন বিভিন্ন সঞ্চয়পত্রের মধ্যে পরিবার সঞ্চয়পত্র সবচেয়ে জনপ্রিয়। বর্তমানে এ সঞ্চয়পত্রে সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে পাঁচ বছর মেয়াদ শেষে মুনাফার হার ১১ দশমিক ৯৩ শতাংশ এবং সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ। গত ১ জুলাইয়ের আগে এ হার ছিল ১২ শতাংশের বেশি। এ ছাড়া পেনশনার সঞ্চয়পত্রে সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে মেয়াদ শেষে মুনাফার হার ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ এবং বেশি বিনিয়োগে ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ। পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে মুনাফা ১১ দশমিক ৮৩ শতাংশ, বেশি বিনিয়োগে ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ। তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে মুনাফার হার ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ এবং বেশি বিনিয়োগে ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ। ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকের মেয়াদি হিসাবে তিন বছর মেয়াদ পূর্ণ হলে সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে মুনাফা ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ এবং বেশি বিনিয়োগে ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ। তবে ওয়েজ আর্নার ডেভেলপমেন্ট বন্ড, ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ড, ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ড ও ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকের সাধারণ হিসাবের মুনাফার হারে কোনো পরিবর্তন আসছে না বলে জানা গেছে। এদিকে বেসরকারি ব্যাংকের উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকার বলেন, সঞ্চয়পত্রের মুনাফা বেশি হলে স্বাভাবিক কারণেই সঞ্চয় চলে যায় সরকারি তহবিলে। এ হার একটু কমলে তা ব্যাংকে আসবে, যা বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই–অক্টোবর) সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে সরকার নিট ২ হাজার ৩৬৯ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। এর আগের ২০২৪–২৫ অর্থবছরে নিট ঋণ ছিল ঋণাত্মক, প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা। গত অক্টোবর শেষে সঞ্চয়পত্রে সরকারের মোট ঋণের স্থিতি দাঁড়ায় ৩ লাখ ৪১ হাজার কোটি টাকা। আরটিভি/এএ 
আরও কমতে পারে সঞ্চয়পত্রের মুনাফা হার, কার্যকর ১ জানুয়ারি থেকে 
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে আবারও সুখবর
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩২ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।  বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) এ তথ্য নিশ্চিত করেন তিনি। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সবশেষ তথ্যানুযায়ী, ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ৩২ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ এখন ২৭ দশমিক ৮২ বিলিয়ন ডলার।  এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩২ দশমিক ১২ বিলিয়ন ডলার। আর আইএমএফের নির্ধারিত বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে যা ছিল ২৭ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলার। এ ছাড়া, গত ৯ নভেম্বর আন্তঃদেশীয় লেনদেন নিষ্পত্তিব্যবস্থা এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) বিল পরিশোধের পর গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩১ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ অনুযায়ী ২৬ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের মে-জুন মেয়াদের আমদানি ব্যয়ের বিপরীতে বাংলাদেশ জুলাইয়ে আকুকে ১ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছিল, যা ছিল তখন পর্যন্ত বড় অঙ্কের বিল। এরপর ২০২৩ সালজুড়ে দ্বিমাসিক আকুর বিল কমে ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের নিচে ছিল। তবে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর থেকে এটি আবার বাড়তে শুরু করে। চলতি বছরের মে-জুনে বিলের পরিমাণ পৌঁছে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারে, যা গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। প্রসঙ্গত, নিট রিজার্ভ গণনা করা হয় আইএমএফের বিপিএম-৬ পরিমাপ অনুসারে। মোট রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদি দায় বিয়োগ করলে নিট বা প্রকৃত রিজার্ভের পরিমাণ পাওয়া যায়। আরটিভি/কেএইচ
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে আবারও সুখবর
আরও পড়ুন
নিয়োগ দিচ্ছে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, আবেদন শেষ ১৭ ডিসেম্বর
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক আগামী সপ্তাহের মধ্যে গ্রাহকদের টাকা দেওয়া শুরু করতে পারে
অনুমোদন পেল ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’
ইসলামী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ওবায়েদ উল্লাহ কারাগারে