
উত্তরবঙ্গের ট্রেন ভ্রমণ ও যাতায়াতে ভোগান্তি কমাতে ৩১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার অবকাঠামো উন্নয়ন পরিকল্পনা ও প্রকল্প গ্রহণ করেছে সরকার।
এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দিনাজপুর, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারীসহ উত্তরবঙ্গের মানুষের যাতায়াত আরও সহজ হবে। পাশাপাশি হিলি স্থলবন্দরের বাণিজ্য ও কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ হওয়াসহ স্থানীয় অর্থনীতিতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে রেলপথের দূরত্ব ১১৪ কিলোমিটার কমবে বলে রেল সূত্র জানিয়েছে। ফলে ৫ ঘণ্টায় দিনাজপুর পৌঁছানোর সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দিনাজপুর পার্বতীপুর রেলওয়ে বিভাগের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ হাসানুজ্জামান গণমাধ্যমকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, গত ১৩ অক্টোবর দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলায় অবস্থিত লোকোমোটিভ রেল কারখানা পরিদর্শন শেষে স্থানীয় রেল বিভাগের কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীদের সঙ্গে বৈঠকে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌ পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম সরকারের এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। রেল বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর পরিকল্পনা অনুযায়ী, দিনাজপুর-ঢাকা রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বগুড়া-সিরাজগঞ্জ নতুন রেলপথ স্থাপনের জন্য পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে শেখ হাসান হাসানুজ্জামান বলেন, দেশের রেলওয়ের সক্ষমতা বাড়াতে নতুন করে ৮০টি লোকোমোটিভ আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরমধ্যে ৩০টি লোকোমোটিভ ক্রয়ের প্রস্তাব জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদিত হয়েছে। দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এসব লোকোমোটিভ ক্রয় করা হবে। এগুলো দেশে পৌঁছাতে আরও দুবছর সময় লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এছাড়াও রেলওয়ের সক্ষমতা বাড়াতে নতুন লোকোমোটিভ সংগ্রহের পাশাপাশি প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা চলছে। দ্রুততম সময়ে এসব লোকোমোটিভ সংগ্রহ করা গেলে রেলওয়ের কার্যক্রম আরও গতিশীল করা সম্ভব হবে।
দীর্ঘদিন ধরে উত্তরাঞ্চলের দিনাজপুর, পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও জনগণকে এতদিন যমুনা সেতু পার হয়ে হাটিকুমরুল, এলেঙ্গা কিংবা বগুড়া শহরের সরু রাস্তায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকা পড়ে থাকতে হতো। ট্রেনের যাত্রীদের শান্তাহার-ঈশ্বরদী হয়ে শত কিলোমিটার ঘুরে ঢাকায় আসতে হতো। সেই অবর্ণনীয় ভোগান্তি দূর করতে সড়ক ও রেল যোগাযোগে মন্ত্রণালয় এ মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
এদিকে এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংকের (এআইআইবি) অর্থায়নে নির্মিত হচ্ছে বগুড়া-সিরাজগঞ্জ সরাসরি ডুয়েল গেজ রেলওয়ের কর্ড লাইন পথ। এতে ব্যয় হচ্ছে ১২ হাজার ৪শ’ ৪২ কোটি টাকা। নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে ট্রেনের দূরত্ব কমবে ১১৪ কিলোমিটার। ফলে সান্তাহার ও ঈশ্বরদী যেতে সময় বাঁচবে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা।
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সহায়তায় এলেঙ্গা-হাটিকুমরুল-রংপুর মহাসড়কে ১৯ হাজার ৫৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৯০ কিলোমিটার মহাসড়কের নির্মাণ কাজের ৯৫ শতাংশেরও বেশি সম্পন্ন হয়েছে। এতে থাকছে সার্ভিস লেনসহ ৬ লেনের সুবিধা, ৯টি ফ্লাইওভার ও ২২টি ওভারপাস।
সিরাজগঞ্জ হাটিকুমরুলের ৭৭ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। হাটিকুমরুল আন্তর্জাতিক ইন্টারচেঞ্জটি চালু হলে উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলার গাড়ি কোনো সিগন্যাল ছাড়াই চোখের পলকে ঢাকা বা নিজ জেলায় চলে যাবে।
দিনাজপুর সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম বাসস’কে বলেন, দিনাজপুর-ঢাকা রেল বিভাগের রেলপথ উন্নয়নের সাথে শহরের ভেতরে ৪ লেন, শহর কেন্দ্রিক যানজট দূর করতে খুব শিগগির কাজ শুরু হবে। দিনাজপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল ও শহরের সংযোগ সড়কগুলোকে ৪ লেনে রূপান্তরের কাজ খুব শিগগির শুরু হবে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন।
সৈয়দ জাহাঙ্গীর বলেন, হিলি স্থল বন্দরের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য এবং দিনাজপুরের বিখ্যাত কাটারি ভোগ চাল, লিচু ও আলু মাত্র কয়েক ঘণ্টায় দ্রুতগামী ট্রেনযোগে রাজধানী ঢাকায় পৌঁছে যাবে। প্রায় ৩১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ডুয়েলগেজ রেলপথও ৬ লেনের মহাসড়ক নির্মাণ দিনাজপুর তথা রংপুর বিভাগের সর্বস্তরের জনগণ যৌক্তিক বলে মনে করেন।
দিনাজপুর, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী, রংপুর ও বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও জয়পুরহাটের মানুষের জন্য এই ডুয়েলগেজ রেলপথ এবং ৬ লেন মহাসড়ক নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি।
বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দিনাজপুরসহ উত্তরাঞ্চলের মানুষের জনদুর্ভোগ লাঘবে রেলপথ ও ৬ লেনের মহাসড়ক নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেবেন বলে সংসদ সদস্য আশা ব্যক্ত করেন।
আরটিভি/এমএইচজে


