ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

তিতাস-২৮ কূপ থেকে বাণিজ্যিকভাবে গ্যাস উৎপাদন শুরু

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৫২ পিএম
ছবি: আরটিভি

দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে রাষ্ট্রীয় গ্যাস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিএফসিএল) তিতাস-২৮ নং কূপ থেকে বাণিজ্যিকভাবে গ্যাস উৎপাদন শুরু হয়েছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে এর উদ্বোধন করেন।

এরপর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করতে চাই জ্বালানি খাতের সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে যে বড় ধরনের একটি ঘাটতি রয়েছে। আমরা যে পরিকল্পনা নিয়েছি ২০৩০ এর মধ্যে জ্বালানি অবকাঠামো বাড়ানোর যে পরিকল্পনা নিয়েছি, পরিকল্পনা মাফিক কাজ শেষ করতে পারলে আমরা আশা করি সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে ঘাটতি সুন্দরভাবে পূরণ করতে পারবে। এতে শিল্প, বিদ্যুৎ, গৃহস্থালি খাত যে সমস্যায় নিপতিত হয়েছে তা স্থায়ীভাবে সমাধান হবে।

চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিসিডিসি (CCDC) কর্তৃক খননকৃত ৩৬০১ মিটার গভীরতার এ কূপ থেকে প্রতিদিন ১২ থেকে ১৩ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। মূসক ও আয়করসহ এতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২০০ কোটি টাকা।

​উদ্বোধন শেষে প্রতিমন্ত্রী ও অতিথিবৃন্দ তিতাস-৩১ ও তিতাস-২৯ গভীর অনুসন্ধান কূপের খনন কাজ পরিদর্শন করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল, এমপি এবং জ্বালানি সচিব মো. জিয়াউল হক।

জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধির ক্রমাগত প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে "তিতাস ও কামতা ফিল্ডে ৪টি মূল্যায়ন-কাম-উন্নয়ন কূপ খনন" শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় কূপসমূহ খননের জন্য সমন্বিত খনন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান CNPC Chuanqing Drilling Engineering Company Ltd. (CCDC), China- এর সঙ্গে গত ১০ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে সম্পাদিত চুক্তির আওতায় তিতাস ২৮ নং কূপের খনন কার্যক্রম ১৫-১২-২০২৫ তারিখে শুরু হয়ে ১৯-০৬-২০২৬ তারিখে সমাপ্ত করা হয়।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুই ইউনিটে স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা স্থাপন
পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ও দ্বিতীয় ইউনিটে স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা (এপিসিএস) স্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে। পাশাপাশি, প্রথম ইউনিটের পরীক্ষামূলক চালনা কার্যক্রমে সহায়তা দিতে যুক্ত করা হয়েছে অপারেটর ইনফরমেশন সাপোর্ট সিস্টেম (ওআইএসএস)। রাশিয়ার বাইরে রোসাটমের নির্মিত কোনও পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রথমবারের মতো এ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুই ইউনিটে স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা স্থাপন
গ্যাসকূপ খনন নিয়ে সরকারের ‘বড় পরিকল্পনা’
চলতি অর্থবছরে ৩০টি কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি কূপ খননের কাজ চলছে। স্থলভাগে (অনশোরে) মোট ১৫০টি গ্যাসকূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
গ্যাসকূপ খনন নিয়ে সরকারের ‘বড় পরিকল্পনা’
বন্ধ সরকারি কারখানায় ফিরেছে উৎপাদন
বছরের পর বছর বন্ধ পড়ে থাকা সরকারি শিল্পকারখানায় আবারও উৎপাদনের চাকা ঘুরছে। সরকারের উদ্যোগে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) আওতায় এসব কারখানা ইজারা নিয়ে উৎপাদনে ফিরিয়ে আনছে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ। ইতোমধ্যে রাজশাহীর দুটি বন্ধ কারখানায় উৎপাদন শুরু হয়েছে। সেখানে কর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের, যাদের প্রায় ৯০ শতাংশই নারী। বন্ধ হয়ে থাকা সরকারি কলকারখানা পুনরায় চালু করে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম অঙ্গীকার ছিল। সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই বন্ধ সরকারি শিল্পকারখানাগুলোকে বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে আবার উৎপাদনে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ইতোমধ্যে কয়েকটি কারখানা বেসরকারি উদ্যোক্তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের বিপণন পরিচালক কামরুজ্জামান কামাল বলেন, রাজশাহীতে বরেন্দ্র রাজশাহী টেক্সটাইল লিমিটেড ও রাজশাহী জুট মিলস লিমিটেড ইজারা নিয়ে সেখানে ফুটওয়্যার, লাগেজ, লেডিস ব্যাগ, তাঁবু ও ছাতা উৎপাদন করা হচ্ছে। এসব কারখানায় উৎপাদিত পণ্য দেশের বাজারের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। উৎপাদন লাইন আরও সম্প্রসারণ করে আগামী দিনে আরও ১৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। তিনি জানান, গত আগস্টে পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন আরও দুটি জুট মিলও সরকারের কাছ থেকে ইজারা পেয়েছে প্রাণ-আরএফএল। প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে মিল দুটি প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের কাছে হস্তান্তর করা হয়। খুব শিগগিরই এসব মিলেও উৎপাদন শুরু হবে। কামরুজ্জামান কামাল বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে বছরের পর বছর বন্ধ থাকা সরকারি শিল্পকারখানাগুলোকে আবার উৎপাদনের আওতায় আনার ফলে একদিকে অব্যবহৃত সরকারি সম্পদের ব্যবহার বাড়ছে, অন্যদিকে তৈরি হচ্ছে কর্মসংস্থান ও রপ্তানির নতুন সুযোগ। এসব কারখানায় আগে থেকেই বিদ্যুৎ, গ্যাস, সড়ক যোগাযোগ ও ভবনসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর বড় অংশ থাকায় নতুন করে শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার তুলনায় দ্রুত এবং কম খরচে উৎপাদনে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে। প্রাণ-আরএফএলের এই পরিচালক জানান, পিপিপি'র আওতায় দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা মিলগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়ে সরকার আবেদন আহ্বান করে। প্রাণ-আরএফএল আবেদন করার পর সরকারের নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে প্রাথমিকভাবে ৩০ বছরের জন্য এসব মিল বরাদ্দ পায়। তিনি বলেন, ‘মূলত উৎপাদন দ্রুত বাড়ানো এবং অবকাঠামোগত ব্যয় কমানোর লক্ষ্যেই’ বন্ধ সরকারি শিল্পকারখানাগুলো ইজারা নেওয়া হয়েছে। এসব কারখানা শুধু ইট-পাথরের স্থাপনা নয়; একসময় এগুলো ছিল হাজারো মানুষের জীবিকার উৎস। উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে স্থানীয় অর্থনীতি, ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলো। কারখানাগুলো আবার চালু হওয়ায় সেই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও নতুন গতি তৈরি হচ্ছে। বন্ধ কারখানাগুলো পুনরায় চালুর ক্ষেত্রে সরকারের সহযোগিতাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করে কামরুজ্জামান কামাল বলেন, বন্ধ মিলগুলো দ্রুত উৎপাদনে ফিরিয়ে আনতে সরকার প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা করছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে, যা এ ধরনের বিনিয়োগ সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। রাজশাহীর কারখানাগুলোতে উৎপাদনের পাশাপাশি স্থানীয় কর্মসংস্থানের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কামরুজ্জামান কামাল বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত এসব শিল্পকারখানা চালু হওয়ায় স্থানীয় মানুষ, বিশেষ করে নারীরা নিজ এলাকাতেই কাজের সুযোগ পাচ্ছেন। ফলে জীবিকার জন্য তাদের ঢাকা বা অন্য বড় শহরে যেতে হচ্ছে না। এতে পরিবারের আয় বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় বাজার ও অর্থনীতিতেও কর্মচাঞ্চল্য তৈরি হচ্ছে। তিনি বলেন, শ্রমঘন এসব শিল্পে ইতোমধ্যে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। এর প্রায় ৯০ শতাংশই নারী কর্মী। উৎপাদন লাইন সম্প্রসারণের মাধ্যমে আরও ১৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান তৈরির কাজ চলছে। প্রাণ-আরএফএল মনে করছে, বন্ধ কারখানাগুলো চালুর এই উদ্যোগ আরও বড় পরিসরে নেওয়া গেলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও বাড়ানো সম্ভব। বিশেষ করে নারী কর্মসংস্থান বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এসব কারখানা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে কিছু কারখানায় যোগাযোগ ও অবকাঠামোগত সমস্যা রয়েছে বলেও জানান কামরুজ্জামান কামাল। বিশেষ করে খুলনার স্টার জুট মিলের যোগাযোগ সড়ক দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি। তার মতে, সড়ক যোগাযোগের সমস্যা সমাধান করা গেলে সেখানে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ আরও বাড়বে। এছাড়া একটি কারখানায় বড় পরিসরে বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেন তিনি। বন্ধ সরকারি কারখানাগুলো পুনরায় চালু করতে আগ্রহী উদ্যোক্তাদের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা, সহজ বন্ডেড ওয়্যারহাউস ব্যবস্থা, প্রণোদনা এবং স্বল্প সুদের ঋণ সুবিধা দেওয়া গেলে এসব শিল্পকারখানায় আরও বেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন কামরুজ্জামান কামাল। তিনি বলেন, এ ধরনের নীতিসহায়তা নিশ্চিত করা গেলে দীর্ঘদিন অব্যবহৃত সরকারি শিল্পসম্পদকে কাজে লাগিয়ে একই সঙ্গে উৎপাদন, রপ্তানি ও কর্মসংস্থান- তিন ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করা সম্ভব। আরটিভি/টিআর
বন্ধ সরকারি কারখানায় ফিরেছে উৎপাদন
উৎপাদন শুরুর ২ দিনের মাথায় আবারও বন্ধ যমুনা সার কারখানা 
জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে যমুনা সার কারখানা দীর্ঘ আট মাস পর চালু হওয়ার দুই দিনের মাথায় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে আবারও বন্ধ হয়েছে।
উৎপাদন শুরুর ২ দিনের মাথায় আবারও বন্ধ যমুনা সার কারখানা 
সরকারের বড় সাফল্য: ৭ মাসে ৩২ কূপ খনন, পাওয়া গেছে বিপুল গ্যাস
জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার ও আমদানিনির্ভরতা কমাতে দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগে গতি এসেছে। বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত সাত মাসে দ্রুত গতিতে ৩২টি কূপের খননকাজ সম্পন্ন হয়েছে। এসব কূপ থেকে দৈনিক প্রায় ১৪৮ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফ) গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।
সরকারের বড় সাফল্য: ৭ মাসে ৩২ কূপ খনন, পাওয়া গেছে বিপুল গ্যাস
আরও পড়ুন
১৩৫ জনকে নিয়োগ দেবে তিতাস গ্যাস, এসএসসি পাসেই আবেদন
মুখ থুবড়ে পড়ল নারায়ণগঞ্জের দেড়শ কারখানা, যা জানা যাচ্ছে
মঙ্গলবার দুই জেলায় টানা ১৬ ঘণ্টা থাকবে না গ্যাস
ঢাকার যেসব এলাকায় দুপুর থেকে টানা ৬ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না