ঢাকা শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩

ইউরোপে ডেনিম রপ্তানিতে শীর্ষে বাংলাদেশ

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

ইউরোপের ডেনিম বাজারে সরবরাহকারী হিসেবে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। তবে চলতি বছরের প্রথম আট মাসে এ বাজারে বাংলাদেশের ডেনিম রপ্তানিতে মূল্য কমেছে। জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে ৮৬ কোটি ৯১ লাখ ৩০ হাজার ইউরো মূল্যের ডেনিম পণ্য গেছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এ আয় ৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ কম।

তবে আগস্টে রপ্তানিতে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষণ দেখা গেছে। ওই মাসে বাংলাদেশ থেকে ইইউতে ডেনিম রপ্তানি বেড়েছে ১২ দশমিক ৭১ শতাংশ। এতে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।

বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের (বিএভি) সংকলিত ইউরোস্ট্যাটের তথ্য বিশ্লেষণে এসব চিত্র উঠে এসেছে।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি-আগস্ট সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো মোট ২৯৫ কোটি ৬২ লাখ ১০ হাজার ইউরো মূল্যের ডেনিম আমদানি করেছে। আগের বছরের একই সময়ে আমদানির পরিমাণ ছিল ৩০৯ কোটি ২২ লাখ ৭০ হাজার ইউরো। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বাজারটির মোট আমদানি কমেছে ৪ দশমিক ৪০ শতাংশ।

শীর্ষে বাংলাদেশ, কমেছে বাজার হিস্যা

ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডেনিম বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান এখনও প্রথম। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে ইইউর মোট ডেনিম আমদানির ২৯ দশমিক ৪০ শতাংশ এসেছে বাংলাদেশ থেকে। এ সময়ে বাংলাদেশ রপ্তানি করেছে ৮৬ কোটি ৯১ লাখ ৩০ হাজার ইউরো মূল্যের ডেনিম পণ্য।

তবে গত বছরের একই সময়ে বাংলাদেশের বাজার হিস্যা ছিল ২৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ। অর্থাৎ রপ্তানি আয় কমার পাশাপাশি বাজারে বাংলাদেশের অংশও কিছুটা কমেছে।

বাংলাদেশের পর ইইউর ডেনিম সরবরাহকারী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে পাকিস্তান ও তুরস্ক। জানুয়ারি-আগস্ট সময়ে পাকিস্তান থেকে ৫২ কোটি ৫৪ লাখ ৯০ হাজার ইউরো এবং তুরস্ক থেকে ৪৩ কোটি ৮২ লাখ ৫০ হাজার ইউরো মূল্যের ডেনিম আমদানি করেছে ইইউ।

বাংলাদেশের রপ্তানি কমেছে ৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সামগ্রিক ডেনিম আমদানি হ্রাসের তুলনায় বেশি। ফলে শীর্ষ অবস্থান ধরে রাখলেও বাজারে নিজেদের অংশ বাড়াতে পারেনি বাংলাদেশ।

আগস্টে বাড়লো রপ্তানি

বছরের প্রথম সাত মাসে দুর্বল অবস্থানের পর আগস্টে বাংলাদেশের ডেনিম রপ্তানিতে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে। ওই মাসে বাংলাদেশ থেকে ইইউতে ১৩ কোটি ৪ লাখ ৮০ হাজারের কাছাকাছি—সুনির্দিষ্ট হিসাবে ১৩ কোটি ৪ লাখ ৮০ হাজার ইউরো মূল্যের ডেনিম রপ্তানি হয়েছে। আগের বছরের আগস্টের তুলনায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২ দশমিক ৭১ শতাংশ।

আগস্টে ইইউর মোট ডেনিম আমদানিও বেড়েছে। এ মাসে আমদানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৩ কোটি ১৬ লাখ ১৬ হাজার ইউরো, যা আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ১১ দশমিক ২৩ শতাংশ বেশি।

অর্থাৎ আগস্টে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সামগ্রিক বাজারের প্রবৃদ্ধির চেয়ে বেশি ছিল। ওই মাসে ইইউর ডেনিম আমদানিতে বাংলাদেশের অংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৩১ দশমিক ১৭ শতাংশ। গত বছরের আগস্টে এ হার ছিল ৩০ দশমিক ৭৬ শতাংশ।

বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের (বিএভি) প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, আগস্টে ইইউর ডেনিম আমদানিতে যে অতিরিক্ত প্রবৃদ্ধি হয়েছে, তার প্রায় ৩৫ শতাংশ এসেছে বাংলাদেশ থেকে। এ প্রবৃদ্ধির ফলে জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ে যে ৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ পতন ছিল, আট মাস শেষে তা কমে ৫ দশমিক ৮৫ শতাংশে নেমে এসেছে।

বাজার ধরে রাখতে দ্রুত সরবরাহে গুরুত্ব

ইউরোপের ডেনিম বাজারে বাংলাদেশের শীর্ষ অবস্থান এখনো শক্তিশালী। আগস্টের প্রবৃদ্ধিও রপ্তানির সম্ভাবনা সম্পর্কে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে শুধু কম দামে পণ্য সরবরাহ করলেই এ বাজারে অবস্থান ধরে রাখা যাবে না।

বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইউরোপের ক্রেতাদের নতুন ক্রয়াদেশ পেতে দ্রুত পণ্য সরবরাহ, ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন এবং অল্প সময়ে নকশা ও পণ্যে পরিবর্তন আনার সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ভৌগোলিকভাবে কাছাকাছি সরবরাহকারী দেশগুলো এ ক্ষেত্রে সুবিধা পেতে পারে।

এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের ডেনিম শিল্পের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে রপ্তানির গতি বাড়ানোর পাশাপাশি ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী দ্রুত ও নমনীয়ভাবে পণ্য সরবরাহ করা। আগস্টের প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পারলে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সরকারের বড় উদ্যোগ / ৫৯২ কোটি টাকায় দুই কূপ খনন, জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে ‘বিপুল গ্যাস’
দেশের অভ্যন্তরীণ বৃহত্তম গ্যাস উৎপাদন ক্ষেত্র তিতাসে দুটি অনুসন্ধানমূলক ও উন্নয়ন কূপ খননের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৯২ কোটি টাকা। 
৫৯২ কোটি টাকায় দুই কূপ খনন, জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে ‘বিপুল গ্যাস’
রপ্তানি বাণিজ্যে নতুন দিগন্ত, দক্ষিণ আমেরিকায় ৩ মাসে ‘বিপুল আয়’
প্রচলিত বাজারের বাইরে রপ্তানি সম্প্রসারণের উদ্যোগের অংশ হিসেবে দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোতে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি বাড়ানোর চেষ্টা জোরদার করা হয়েছে। 
রপ্তানি বাণিজ্যে নতুন দিগন্ত, দক্ষিণ আমেরিকায় ৩ মাসে ‘বিপুল আয়’
বাংলাদেশে অবকাঠামো ও শিল্প খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সিঙ্গাপুর
বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, পণ্য পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা এবং শিল্প খাতে বিনিয়োগের সুযোগ অনুসন্ধানে আগ্রহ প্রকাশ করেছে সিঙ্গাপুর। বিশেষ করে দেশের টার্মিনাল উন্নয়ন ও পরিচালনায় সম্পৃক্ত হওয়ার বিষয়ে দেশটির আগ্রহ রয়েছে।
বাংলাদেশে অবকাঠামো ও শিল্প খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সিঙ্গাপুর
চা খাতের উন্নয়নে সরকারের ‘বড় পরিকল্পনা’
দেশের চা খাতের উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, উৎপাদন ব্যয় কমানো, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং বাগানের আর্থিক সক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে সমন্বিত উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে সহজ শর্তে ঋণ, সুদ কমানো, পুরোনো চা গাছের পরিবর্তে নতুন গাছ লাগানো, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং অব্যবহৃত জমিতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।
চা খাতের উন্নয়নে সরকারের ‘বড় পরিকল্পনা’
তুলা উৎপাদন নিয়ে সরকারের ‘বড় পরিকল্পনা’
তুলা উন্নয়ন বোর্ডের (সিডিবি) নির্বাহী পরিচালক মো. রেজাউল আমিন বলেন, দেশের ৫০টিরও বেশি জেলায় তুলার উৎপাদন বাড়াতে আমরা স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছি।
তুলা উৎপাদন নিয়ে সরকারের ‘বড় পরিকল্পনা’
আরও পড়ুন
মহাবিপর্যয়ে ইউরোপ, ৫০ হাজার প্রাণহানি
ইউরোপের তিন দেশ থেকে ফেরত পাঠানো হ‌লো ৩৫ বাংলাদেশিকে
প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে দেশের ৫০০ মেরিন ক্যাডেটের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর সুযোগ
জ্বালানির দামে ক্ষোভ, ইউরোপে বাড়ছে কট্টর ডানপন্থীদের সমর্থন