
তদন্তের আশ্বাসে দীর্ঘ সাড়ে ৯ ঘণ্টা পর অনশন প্রত্যাহার করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উর্দু বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (৫ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পানি ও বিস্কুট খাইয়ে অনশন ভাঙান রাবি উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার।
এ সময় উপাচার্য বলেন, আমরা আশা করেছিলাম, উর্দু বিভাগই বিষয়টার সমাধান করতে পারবে। একাডেমিক বিষয়গুলো নির্ভর করে বিভাগের ওপর। এখানে প্রশাসনের কিছু করার নাই। কিন্তু যেহেতু ছাত্ররা আমাদের কাছে এসেছে, সেহেতু বিষয়টা খতিয়ে দেখার জন্য কাল (মঙ্গলবার) আমরা একটা তদন্ত কমিটি গঠন করব। তারা এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে। প্রতিবেদন অনুযায়ী ছাত্ররা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিবিধান অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা নেব।
অনশন প্রত্যাহারের বিষয়ে আন্দোলনকারী জাহিদ হাসান নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, উপাচার্য স্যারের আশ্বাসে আমরা অনশন ভেঙেছি। আর কিছুদিন অপেক্ষা করে দেখি কী হয়। দিনব্যাপী অনশনের কারণে আমাদের পাঁচজন সহপাঠী অসুস্থ হয়ে এখন মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসাধীন।
এর আগে দ্বিতীয় সেমিস্টার পরীক্ষায় ফল বিপর্যয়ের সমাধান না পাওয়ায় সোমবার বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম প্রশাসনিক ভবনের সামনে আমরণ অনশনে বসেন উর্দু বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা।
ওই সময় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা বলেন, তাদের দ্বিতীয় সেমিস্টারের প্রকাশিত ফলাফল পুরোটাই অসঙ্গতিপূর্ণ এবং বিভাগের শিক্ষকেরা উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে তাদের ফল বিপর্যয় করে দিয়েছে। পাঁচ-ছয়বার সময় নিয়েও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের সমস্যাগুলোর সমাধান দিতে পারেননি। এ জন্য তারা আমরণ অনশনে বসেছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে মাদুর পেতে ‘সময় নয়, ফলাফল চাই’, ‘প্রাপ্য ফলাফল বুঝিয়ে দিতে হবে’, ‘হুমকি-ধমকির বিচার চাই’ এ ধরনের বিভিন্ন স্লোগান সম্বলিত ব্যানার হাতে নিয়ে অনশনে বসেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা। রৌদ্রের মাঝে অনশনে বসায় ২৬ শিক্ষার্থীর মধ্যে নুসরাত প্রিয়া এবং মনিজা আক্তার মনি নামের দুজন শিক্ষার্থীকে অসুস্থ হয়ে পড়তে দেখা গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে ৩৫ জন নিয়মিত ও তিনজন অনিয়মিত শিক্ষার্থী রয়েছেন। তারা প্রত্যেকেই প্রথম সেমিস্টারে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তাদের দ্বিতীয় সেমিস্টারের পরীক্ষা গত ১২ এপ্রিল শুরু হয়ে ২১ এপ্রিল শেষ হয়। পরে দীর্ঘ চার মাস পর গত ২৫ আগস্ট ফল প্রকাশিত হয়। এতে ৩৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩০ জনের ফল প্রকাশিত হয়। ৬ জন নিয়মিত ও দুজন অনিয়মিত শিক্ষার্থীর ফল প্রকাশিত হয়নি এবং ছয়জন শিক্ষার্থী একটি করে কোর্সে ফেল করেছেন।
বাকি শিক্ষার্থীদের মধ্যে শুধু তিনজন শিক্ষার্থী সিজিপিএ-৩ এর ওপরে এবং সবাই সিজিপিএ-৩ এর নিচে পেয়েছেন। এ ছাড়া প্রথম সেমিস্টারের সিজিপিএ-৩.৯১ পেয়ে প্রথম হওয়া শিক্ষার্থী নিশাত তাসনিম দ্বিতীয় সেমিস্টারে পেয়েছেন সিজিপিএ-৩.২৮, প্রথম সেমিস্টারে সিজিপিএ-৩.৮৩ পেয়ে দ্বিতীয় হওয়া শিক্ষার্থী ফৌজিয়া তুরানী দ্বিতীয় সেমিস্টারে পেয়েছেন সিজিপিএ-২.৭৩ এবং প্রথম সেমিস্টারে সিজিপিএ-৩.৭৫ পেয়ে তৃতীয় হওয়া শিক্ষার্থী মো. আলম দ্বিতীয় সেমিস্টারে পেয়েছেন সিজিপিএ-২.৬২।
এ ঘটনায় অনশনে বসা ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বায়জীদ হোসেন বলেন, আমাদের দ্বিতীয় সেমিস্টারের প্রকাশিত ফলাফল পুরোটাই অসঙ্গতিপূর্ণ ও উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে আমাদের ফলাফল খারাপ করে দেওয়া হয়েছে। সেই প্রতিবাদে দীর্ঘদিন ধরে আমরা আন্দোলন করে আসছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গেও প্রায় ১৫ বার আলোচনায় বসেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমরা কোনো সমাধান পাইনি। আমরা সেটির সমাধানের জন্যই মূলত আজকে অনশনে বসেছি। আমরা আমাদের ফল পুনর্মূল্যায়ন চাই।
এর আগে, ফল পুনর্মূল্যায়নের দাবিতে সভাপতির কক্ষে তালা দেওয়ার পাশাপাশি অনির্দিষ্টকালের জন্য উর্দু বিভাগ বন্ধ ঘোষণাসহ নানাভাবে আন্দোলন করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা।




