
মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাম্প্রতিক আচরণকে ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ আখ্যা দিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। সমিতির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, সংবাদপত্রের মাধ্যমে জানা যায় যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত বিএনপি সমর্থিত ‘মায়ের ডাক’ নামক একটি সংগঠনের আহ্বানে ২০১৩ সালে একজন বিশেষ ব্যক্তির নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ শুনতে ঢাকা শহরের একটি বাড়িতে উপস্থিত হন। একই সময়ে খবর পেয়ে ‘মায়ের কান্না’ নামক সংগঠনের কর্মীরা তাদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি তাকে অবহিত করার জন্য একটি স্মারকলিপি দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ বিষয়ে তিনি কোনো কর্ণপাত করেননি।
বৃহস্পতিবার (১৫ ডিসেম্বর) সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. নিজামুল হক ভূঁইয়ার স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এসব অভিযোগ করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, মায়ের কান্না নামক সংগঠনটি সামরিক স্বৈরাচার জেনারেল জিয়ার সময়ে ১৯৭৭-৭৮ সালে বিচারের নামে হত্যা ও গুমের যে ঘটনা ঘটেছে এতে যারা স্বজন হারিয়েছেন তাদের মানবাধিকার রক্ষার আবেদন নিয়ে রাষ্ট্রদূতের শরণাপন্ন হয়েছিল। এদের কথা শুনতে অপারগতা মার্কিন রাষ্ট্রদূতের দ্বৈত আচরণের বহিঃপ্রকাশ, যা দুঃখজনক বলে মন্তব্য করা হয় বিবৃতিতে।
সম্প্রতি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে এবং রাজনৈতিক বিষয়ে কয়েকটি দেশের কূটনীতিক যেভাবে বক্তব্য রাখছেন ও অংশগ্রহণ করছেন তা দৃষ্টিকটু ও কূটনৈতিক শিষ্টাচারের লঙ্ঘন জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, পরিতাপের বিষয় হলো যে পশ্চিমা দেশগুলো যেমন- যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও যুক্তরাজ্য আমাদের বিভিন্ন সময়ে মানবাধিকারের কথা বলে। অথচ তারাই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের স্বঘোষিত খুনি ও একাত্তরের বুদ্ধিজীবী হত্যাকারীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি যে কোনো ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সর্বদা সোচ্চার। মার্কিন রাষ্ট্রদূতসহ যারা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার রক্ষার দাবি করেন তাদের সুস্পষ্ট বক্তব্য দাবি করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথিতযশা শিক্ষকসহ দেশের শ্রেষ্ঠ বুদ্ধিজীবীদের পরিকল্পিত হত্যার ঘটনা, ৭১-এর গণহত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং বিভিন্ন সামরিক শাসনামলে হত্যা ও গুমের যে ঘটনা ঘটেছিল তার বিষয়ে বক্তব্য দিন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে বিদেশি কূটনীতিকদের শিষ্টাচার বজায় রেখে মানবাধিকার রক্ষায় সরকারকে সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়।




