
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শহিদ বুদ্ধিজীবী ডা. মোহাম্মদ মোর্তজা মেডিকেল সেন্টারের প্রধান মেডিকেল অফিসার পদে অযোগ্য প্রার্থী নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্ত পূরণ ছাড়াই প্রাথমিকভাবে প্রার্থী নির্বাচন করেছে সিলেকশন বোর্ড। যা আগামী কয়েকদিনের মধ্যে সিন্ডিকেট সভায় চূড়ান্ত হবে বলে জানা যায়।
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ বুদ্ধিজীবী ডা. মোহাম্মদ মোর্তজা মেডিকেল সেন্টারের শূন্য চীফ মেডিকেল অফিসার পদ পূরণের জন্য বাংলাদেশী স্থায়ী নাগরিকদের নিকট থেকে দরখাস্ত আহ্বান করা হয়। এতে প্রার্থীর যোগ্যতা হিসেবে প্রার্থীকে এম.বি.বি এস এবং যে কোনো অনুমোদিত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি বা ডিপ্লোমাধারী চাওয়া হয়। এ ছাড়াও শিক্ষাজীবনের সকল পরীক্ষায় কমপক্ষে দ্বিতীয় বিভাগ অথবা শ্রেণির কথা বলা হয়। অভিজ্ঞতা হিসেবে প্রার্থীকে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে ১৫ (পনেরো) বছরের পেশাগত দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়।
গত ৪ ডিসেম্বর এ পদের জন্য অনুষ্ঠিত হওয়া মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগের জন্য প্রাথমিকভাবে প্রার্থী নির্বাচন করে সিলেকশন বোর্ড। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ডার ১৯৭৩ প্রথম স্ট্যাটিউটসের ২৮ ধারা অনুযায়ী চীফ মেডিকেল অফিসার পদে নিয়োগের জন্য এ বোর্ড গঠিত হয়।
সিলেকশন বোর্ডের তরফ থেকে জানা যায়, চিফ মেডিকেল অফিসার পদের জন্য বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান মেডিকেল অফিসার ডা. হাফেজা জামানকে নিয়োগের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যা চলতি মাসের শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় চূড়ান্ত করা হবে। তবে মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী বাকি প্রার্থীদের অভিযোগ ডা. হাফেজা বেগম এ পদের জন্য অযোগ্য।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন প্রার্থী জানান, বিজ্ঞপ্তির শর্ত হল এম.বি.বি এস পাশের পর স্নাতকোত্তর ডিগ্রী বা ডিপ্লোমাধারী হতে হবে। কিন্তু তিনি ( হাফেজা বেগম) স্নাতকোত্তর ডিগ্রী করেছেন, তা বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) আইন-২০১০ এর অনুমোদিত নয়। তিনি একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স (পাবলিক হেলথ্) ডিগ্রি করেন যা অনুমোদিত নয়।
এ বিষয়ে প্রথমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ ও সিলেকশন বোর্ডের সদস্য ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি বলেন, আমি তো আর সবকিছু বলতে পারবো না। আপনি উপাচার্যের অফিসে যোগাযোগ করেন।
আরেক সিলেকশন বোর্ডের সদস্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদের ডিন ড. সীতেশ চন্দ্র বাছারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, যেটা করা হয়েছে সম্পূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিবিধান অনুযায়ী করা হয়েছে। এ বিষয়ে উপাচার্যের সঙ্গে কথা বললে ভালো হয়। পরে তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের যে বিজ্ঞপ্তি আছে সেখানে ওরকম কিছু বলা নাই যে, অমুক যায়গা থেকে স্নাতকোত্তর করতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. শাহরিয়ার নবী এ বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলেন। যিনি সিলেকশন বোর্ডের সদস্য ছিলেন। তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এখানে স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্ব দিয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিএমডিসির কোনো শব্দ লেখা ছিল না। যেমন আমরা মেডিকেল কলেজগুলোতে যখন নিয়োগ দেই; আমরা বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করে দেই যে বিএমডিসি স্বীকৃত ডিগ্রিপ্রাপ্ত হতে হবে। তবে আমি এ অভিযোগের সঙ্গে একমত। ইদানীং প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এরকম বিভিন্ন ডিগ্রি দিচ্ছে। ব্যক্তিগত স্বার্থে নয় বরং আমি একজন মেডিকেল প্রফেশনের মানুষ হিসেবে এর ঘোরতর আপত্তি জানাই।
অভিযোগের সঙ্গে একমত জানিয়ে তিনি বলেন, বোর্ডে আমি আমার বক্তব্য পেশ করছি। জানিনা পরবর্তী সিদ্ধান্ত কি। যাই-ই দিক না কেনো বিশ্ববিদ্যালয় স্বীকৃত হতে পারে। কিন্তু ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিগুলো যদি স্বীকৃত হয়, তাহলে বিএমডিসি কি ভূমিকা পালন করবে? বলে তিনি প্রশ্ন করেন।
তিনি আরও বলেন, আমি মনে করি যে, মেডিকেল বোর্ডের প্রোমোশনে আসলে এ ডিগ্রিটা বিএমডিসি কর্তৃক স্বীকৃত হওয়া উচিত। এটা আমার বক্তব্য, যেটা আমিও চাই। কিন্তু এখানে আমার বক্তব্য তো সবকিছু না। আমার কাছে বিজ্ঞপ্তির ভেতরেই একটা টেকনিক্যালি ফল্ট (ভুল) রয়েছে বলে মনে হয়েছে।
বর্তমান শহিদ বুদ্ধিজীবী ডা. মোহাম্মদ মোর্তজা মেডিকেল সেন্টারের ভারপ্রাপ্ত প্রধান ডা, হাফেজা জামান বলেন, আমার এগুলো কিছু জানা নেই। মূলত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এগুলো বুঝবে। আমি পরীক্ষা দিয়েছি, এরপর বাকি কোনো কিছুই আমি জানি না। আমি খুব চাপে আছি, প্লিজ আমাকে এখন ডিস্টার্ব করবেন না।
কোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স করেছেন জানতে চাইলে ডা. হাফেজা জামান বলেন, আমি প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি থেকে মাস্টার্স (পাবলিক হেলথ্) করেছি।
এ বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলতে রাজি হয়নি সিলেকশন বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান। তিনি শুধু বলেন, কোথায় কি নিয়ম আছে জানি না। এই নিয়োগ প্রক্রিয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী হবে বলে তিনি ফোন রেখে দেন।




