ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

পরিমার্জন হচ্ছে ২০২৭ সালের পাঠ্যবই, ফিরছে প্রকৃত ইতিহাস

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৫ মে ২০২৬, ১১:২৭ এএম
পাঠ্যবইয়ের পুরনো ছবি

আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তকে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত বিচ্যুতি ও একপেশে ইতিহাস সংশোধন করে প্রকৃত সত্য তুলে ধরার উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)।

একইসঙ্গে পাঠ্যবইয়ে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস যুক্ত করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এনসিটিবির চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুল হক পাটওয়ারী এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, নতুন সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী পাঠ্যবই পরিমার্জন এবং একটি যুগোপযোগী নতুন শিক্ষাক্রম চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

মাহবুবুল হক পাটওয়ারী বলেন, অতীতে পাঠ্যপুস্তকে ইতিহাসের যে বিচ্যুতি ঘটেছিল, এবার তা বিশেষজ্ঞ কমিটির মাধ্যমে নিরপেক্ষভাবে সংশোধন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধে আমাদের বীর নায়কদের কার কী অবদান, তা সঠিকভাবে পাঠ্যবইয়ে স্থান পাবে। ইতিহাসের একপেশে স্বীকৃতি সংশোধন করে প্রকৃত সত্য তুলে ধরা হবে। এ ছাড়া ৯০-এর গণঅভ্যুত্থান থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের সঠিক ও বিস্তারিত ইতিহাস পাঠ্যবইয়ে যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এনসিটিবি চেয়ারম্যান জানান, মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠ্যপুস্তক পরিমার্জনের অংশ হিসেবে গত ৪ থেকে ৭ মে পর্যন্ত বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে চার দিনব্যাপী নিবিড় আবাসিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাশাপাশি প্রাথমিকের বই পরিমার্জনের কাজও চলমান রয়েছে।

তিনি আরও জানান, মাধ্যমিক পর্যায়ের ৯৭টি এবং প্রাথমিক পর্যায়ের ৩৬টি বই পরিমার্জনে দেশের প্রায় ৩২০ জন বিশেষজ্ঞ কাজ করছেন। তাদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) গবেষক এবং অভিজ্ঞ স্কুলশিক্ষক রয়েছেন।

মাধ্যমিকের বই পরিমার্জনের কাজ শেষ করে এখন প্রাথমিকের বই নিয়ে কাজ চলছে। আগামী জুলাইয়ের মধ্যেই সব কাজ শেষ করে মুদ্রণের প্রস্তুতি নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

এনসিটিবি চেয়ারম্যান বলেন, প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ইংরেজি ভার্সনসহ সব স্তরের মোট ৬০১টি পাঠ্যপুস্তক পরিমার্জন করা হবে। শিক্ষার্থীরা যাতে ২০২৭ সালের শুরুতেই পরিমার্জিত ও নির্ভুল বই হাতে পায়, সে লক্ষ্যেই দ্রুত কাজ এগিয়ে চলছে।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ এবং পড়াশোনাকে আনন্দদায়ক করতে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে তিনটি নতুন বৈচিত্র্যময় বই যুক্ত করা হচ্ছে।

এর মধ্যে চতুর্থ শ্রেণির জন্য ‘খেলাধুলা ও সংস্কৃতি’ বিষয়ক একটি বই প্রণয়ন করা হচ্ছে। শিশুদের শারীরিক কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করা এবং ডিজিটাল আসক্তি কমাতে সাতটি গেমসের ভিত্তিতে বইগুলো সাজানো হয়েছে।

এ ছাড়া ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বই প্রণয়ন করা হচ্ছে, যাতে তারা আনন্দের সঙ্গে শিখতে পারে। পর্যায়ক্রমে এটি অন্য শ্রেণিতেও যুক্ত করা হবে।

আরও পড়ুন

কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল শিক্ষা (টিভিই) বিষয়ে একটি উদ্দীপনামূলক বইও আগামী বছর যুক্ত করা হচ্ছে।

আইসিটি বইয়ের আমূল পরিবর্তন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বর্তমান বইগুলো অনেকটাই পুরোনো হয়ে গেছে। আমরা ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বইগুলো প্রায় নতুনভাবে সাজাচ্ছি। সেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটানো হয়েছে।’

মাহবুবুল হক পাটওয়ারী বলেন, বর্তমান সরকার তার নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী শিক্ষার্থীবান্ধব নতুন কারিকুলাম নিয়ে কাজ করছে। এর মূল দর্শন হবে ‘অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিক্ষা’। এতে বইয়ের সংখ্যা কমবে এবং ব্যবহারিক শিক্ষার পরিধি বাড়বে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘২০২৭ সালের জন্য আমরা পাঠ্যবই পরিমার্জনের কাজ করছি। তবে ২০২৮ শিক্ষাবর্ষে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি একটি পূর্ণাঙ্গ নতুন কারিকুলামও হতে পারে।’

অভিভাবকদের উদ্দেশে এনসিটিবি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা বর্তমানে ২০১২ সালের কারিকুলাম অনুসরণ করছি। আমরা বিশ্বাস করি, শিক্ষার্থীরা যখন আনন্দের সঙ্গে শিখবে, তখন অভিভাবকরাও এটি পছন্দ করবেন।’

২০২৭ সালের জানুয়ারির প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীরা ইতিহাসের বিচ্যুতিমুক্ত, নির্ভুল ও আধুনিক পাঠ্যপুস্তক হাতে পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন এনসিটিবি চেয়ারম্যান।

সূত্র: বাসস

আরটিভি/আইএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শনিবারের ছুটি নিয়ে যা জানা গেলো
দুর্গাপূজা উপলক্ষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি শুরু হলেও আগামী শনিবার (১৭ অক্টোবর) সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অফিস খোলা থাকবে। এদিন শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও শিক্ষার্থীরা ফরম পূরণসহ বিভিন্ন জরুরি প্রশাসনিক কাজ সম্পন্ন করতে পারবেন।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শনিবারের ছুটি নিয়ে যা জানা গেলো
জগন্নাথ হল ট্র্যাজেডি: শোক দিবসে আজ বন্ধ ঢাবি
১৯৮৫ সালের ১৫ অক্টোবর রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের ছাদ ধসে প্রাণ হারান ৪০ জন।
জগন্নাথ হল ট্র্যাজেডি: শোক দিবসে আজ বন্ধ ঢাবি
তুমুল মারামারিতে রণক্ষেত্র নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতালে ভর্তি ৬
টুর্নামেন্ট চলাকালীন সময়ে অন্য গ্রুপের বল সীমানায় আসার সূত্র ধরে কয়েক দফা সংঘর্ষে জড়িয়েছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এতে ছয় শিক্ষার্থী গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তুমুল মারামারিতে রণক্ষেত্র নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতালে ভর্তি ৬
রাবিতে ঢুকে শিক্ষার্থীর মোবাইল টান দিয়ে নিয়ে গেল ছিনতাইকারী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) রাতে এক শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে গেছে দুই ব্যক্তি। 
রাবিতে ঢুকে শিক্ষার্থীর মোবাইল টান দিয়ে নিয়ে গেল ছিনতাইকারী
‘স্কুলবাসের নিচে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে ছেলে, গলায় ঝুলছে আইডি কার্ড’
রাজধানীর আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের জলসিঁড়ি শাখার ক্যাম্পাসে বাসচাপায় দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী শাহরিয়ার সায়ন (৮) নিহতের ঘটনায় স্কুল কর্তৃপক্ষের গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন তার বাবা সাজু আহমেদ সেলিম। এ ঘটনায় তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি। তবে আইনি প্রক্রিয়ায় জড়াতে চান না বলে জানিয়েছেন নিহত শিশুটির বাবা। বুধবার (১৪ অক্টোবর) ভোরে সায়নের মরদেহ নিয়ে ঢাকার খিলক্ষেত থেকে পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার মাজপাড়া ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামে পৌঁছান স্বজনরা। পরে সকাল ৯টার দিকে জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এর আগে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে স্কুল ক্যাম্পাসে বাসচাপায় প্রাণ হারায় শিশু সায়ন। সে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের জলসিঁড়ি শাখার দ্বিতীয় শ্রেণির ‘সি’ শাখার শিক্ষার্থী ছিল। সায়নের বাবা সাজু আহমেদ সেলিম ঢাকার খিলক্ষেতের বটতলা এলাকায় বসবাস করেন। তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। তার স্ত্রী শারমিন খাতুন গৃহিণী। দুই সন্তানের মধ্যে সায়ন ছিল বড়। ছোট মেয়ে শাহরিনের বয়স চার বছর। নিহত সায়নের চাচা সোহেল রানা জানান, আগামী ১২ নভেম্বর সায়নের নবম জন্মদিন উদ্‌যাপনের কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় শিশুটিকে হারিয়ে পুরো পরিবার ভেঙে পড়েছে। তিনি বলেন, ‘সবাই খুব ভেঙে পড়েছে। সায়নের বাবা-মাকে সান্ত্বনা দিতে পারছি না। বাসচালকের অবহেলায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।’ ছেলের মৃত্যুর ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে বাবা সাজু আহমেদ সেলিম বলেন, প্রতিদিন বেলা ৩টায় সায়নের ক্লাস শেষ হতো। এরপর ৩টা ১৫ থেকে ৩টা ২০ মিনিটের মধ্যে স্কুলবাস ছাড়ত। দুর্ঘটনার সময় তিনি ধানমন্ডিতে নিজের কর্মস্থলে ছিলেন। তিনি বলেন, ‘স্কুল থেকে বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে আমাকে ফোন দিয়ে দ্রুত স্কুলে যেতে বলা হয়। মোটরসাইকেল নিয়ে ৪০ মিনিটের মধ্যে স্কুলে পৌঁছাই। সেখানে গিয়ে যা দেখলাম, তা দেখার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। বাসের নিচে আমার ছেলে সায়ন রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। স্কুলড্রেস পরা, গলায় আইডি কার্ড ঝুলানো। আমার দুনিয়া যেন অন্ধকার হয়ে গেল।’ সাজু আহমেদ জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ ও সেনাসদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তিনি ছেলের মরদেহ বুঝে নেন। পরে স্কুলব্যাগ ও স্কুলড্রেসও তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। তিনি আরও জানান, পরে স্কুলের অধ্যক্ষের সহায়তায় সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখেন। তার দাবি, ফুটেজে একটি বাসকে ক্যাম্পাস থেকে বের হতে দেখা যায়। ওই বাসে কোনো সহকারী ছিলেন না। এ সময় তার ছেলে হয়তো খেলাধুলা করছিল। বাসটি বাম দিকে বাঁক নেওয়ার সময় সায়ন বাম পাশের চাকার নিচে চাপা পড়ে। সাজু আহমেদ সেলিম বলেন, ‘এত বড় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রায় ২০টি বাস এবং কয়েক হাজার শিক্ষার্থী। সেখানে এমন অবহেলা মেনে নেওয়া যায় না। ক্যাম্পাসের ভেতরে চালক বাস চালাচ্ছেন, অথচ তার সঙ্গে কোনো হেলপার বা সহকারী নেই। হাজারো শিশুর উপস্থিতিতে চালক কীভাবে সতর্কতা ছাড়া বাস চালান? এ ঘটনায় স্কুল কর্তৃপক্ষ ও বাসচালকের গাফিলতি রয়েছে।’ ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ার কারণ জানিয়ে তিনি বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য সন্তানের মরদেহ কাটাছেঁড়া করা, মামলা পরিচালনার ঝামেলা, চাকরির ব্যস্ততা ও সময়ের অভাব সব মিলিয়ে তিনি আইনি প্রক্রিয়ায় জড়াতে চান না। দেশের বিচারব্যবস্থার প্রতিও তার আস্থা নেই বলে জানান তিনি। সাজু আহমেদ বলেন, ‘তাই লিখিত দিয়ে সন্তানের মরদেহ নিয়ে এসেছি। তবে ওই লিখিতপত্রে দাবি জানিয়েছি, এ ঘটনা তদন্ত করে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে যেন স্কুল কর্তৃপক্ষ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।’ সন্তান হারানোর শোকের মধ্যেও সায়নের মৃত্যুর ঘটনায় যথাযথ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি। আরটিভি/এসকে
‘স্কুলবাসের নিচে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে ছেলে, গলায় ঝুলছে আইডি কার্ড’
আরও পড়ুন
ইতিহাসে আজকের এই দিনে
বাস্তবতা বুঝতে হলে কিছুদিন বেকার থাকা প্রয়োজন: খুবি শিক্ষক খুরশীদ
ইতিহাসে আজকের এই দিনে
ইতিহাসে আজকের এই দিনে