ঢাকা শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

প্রাথমিকের ৩ লাখ ৮৩ হাজার শিক্ষক পাচ্ছেন একটি করে ট্যাব

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ১০:১২ এএম
কাল্পনিক ছবি

প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে ৪১ হাজার ৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৫) অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। পাঁচ বছর মেয়াদি এ কর্মসূচির আওতায় দেশের ৩ লাখ ৮৩ হাজার ৬২৪ জন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষককে একটি করে ট্যাব দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

চলতি বছরের জুলাই থেকে ২০৩১ সালের জুন পর্যন্ত কর্মসূচিটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। শিক্ষকদের প্রযুক্তিনির্ভর পাঠদান নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ বিতরণও থাকবে এ কর্মসূচির আওতায়।

বুধবার (৪ নভেম্বর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় পিইডিপি-৫ অনুমোদন দেওয়া হয়। সভা শেষে শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি।

তিনি জানান, প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ৩৩ হাজার ২০৩ কোটি ৪৮ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ৭ হাজার ৮৮৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা সংস্থানের লক্ষ্য রয়েছে।

পিইডিপি-৫-এর আওতায় নতুন বিদ্যালয় স্থাপন, পুরোনো বিদ্যালয় সংস্কার, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন এবং শিক্ষার্থীদের জুতা, স্কুল ড্রেস ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে প্রকল্পটি অনুমোদন পেলেও এর কয়েকটি খাতের ব্যয় নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। বিশেষ করে ৪৩৬ কোটি টাকার পরামর্শক প্যাকেজসহ কয়েকটি অঙ্গের বরাদ্দ যৌক্তিকীকরণের বিষয়ে পর্যবেক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রকল্পের কিছু কার্যক্রম ও পদের ব্যয় রাজস্ব খাত থেকে বহন করা প্রয়োজন। এ কারণে আগামী দুই বছরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যয় রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রকল্প সমাপ্তির পরবর্তী কার্যক্রম এবং প্রকল্প সমাপ্তি প্রতিবেদন (পিসিআর) নিয়েও নির্দেশনা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, পিইডিপি-৫ একটি বড় কর্মসূচি। এতে প্রাথমিক শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ সব কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দ্রুত কর্মসূচিটি বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় একনেক অনুমোদন দিয়েছে। তবে পরিকল্পনা কমিশনের সব পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনা যুক্ত করে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) সংশোধন করে জমা দিতে হবে।

এর আগে গত ১৫ এপ্রিল জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছিলেন, দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে মোট ৩ লাখ ৭৬ হাজার ৪৮৯ জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। এর মধ্যে চলমান চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় ইতোমধ্যে ১ লাখ ৩০ হাজার শিক্ষককে ইংরেজি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি শুরু হলে অবশিষ্ট শিক্ষকদেরও ইংরেজি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
শিশুর প্রকৃত শিখন নিশ্চিতে সমন্বিত উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার: ববি হাজ্জাজ
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে শুধু বিদ্যালয়ের অবকাঠামো নির্মাণ বা শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নয়। বরং প্রতিটি শিশু বিদ্যালয়ে এসে কী শিখছে, তার মৌলিক শিক্ষার ভিত্তি কতটা মজবুত হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার সার্বিক উন্নয়নে সরকার শিখনফল, পুষ্টি, শিক্ষক উন্নয়ন, কার্যকর মনিটরিং এবং জবাবদিহিতাকে সমান গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলা পরিষদে আয়োজিত ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ফিডিং কর্মসূচি’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় প্রধান শিক্ষকদের ওরিয়েন্টেশন এবং প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা কি আমাদের সন্তানদের প্রাথমিক শিক্ষার মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত ও যথাযথ শিক্ষা দিতে পারছি? আমার মনে হয়, এখনো আমরা সেই জায়গায় পৌঁছাতে পারিনি। তবে এর অর্থ এই নয় যে, শিক্ষকরা চেষ্টা করছেন না কিংবা তাদের দায়িত্ব পালনে ঘাটতি রয়েছে। আমাদের দেখতে হবে, কোথায় কোথায় ঘাটতি রয়েছে এবং সম্মিলিতভাবে কীভাবে সেগুলো দূর করা যায়। শিক্ষকদের বিদ্যালয়ের সমস্যা, প্রয়োজন ও উন্নয়নসংক্রান্ত প্রস্তাব সরাসরি তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি। শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক পর্যায়েই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে। পরবর্তী সময়ে মাধ্যমিকে যাওয়ার পথে এ সংখ্যা আরও বাড়ছে। কোনো শিশুই যেন বিদ্যালয়ের বাইরে না থাকে, সে লক্ষ্যে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ে তাদের ধরে রাখা এবং নিয়মিত শিখন কার্যক্রমে সম্পৃক্ত রাখাও এ কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)-এর সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের বয়স অনুযায়ী আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পুষ্টিমান বিবেচনায় রেখে খাবারের মান নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কর্মসূচির আওতায় বিদ্যালয়গুলোতে খাবার সংরক্ষণের জন্য স্টোরেজ সুবিধা গড়ে তোলার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি খাবারের গুণগত মান নিয়ে কোনো সমস্যা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করে প্রয়োজনীয় পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরিতে পাঠানোর নির্দেশনা দেন তিনি। এক্ষেত্রে গুজব বা অসম্পূর্ণ তথ্যের পরিবর্তে যথাযথ পরীক্ষা ও তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৫) অনুমোদিত হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষার অবকাঠামো ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় উন্নয়নে নতুন উদ্যোগ বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে। তবে উন্নয়ন প্রকল্পের সুফল পেতে নির্মাণকাজের প্রতিটি পর্যায়ে যথাযথ তদারকি ও গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার কিংবা অনিয়মের কারণে যেন নতুন অবকাঠামো দ্রুত নষ্ট না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৩১ লাখ শিক্ষার্থী স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। ভবিষ্যতে এ কর্মসূচি সম্প্রসারণ করে ২০২৭ সালে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ শিক্ষার্থীকে এর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এত বড় পরিসরে কর্মসূচি বাস্তবায়নে কার্যকর ব্যবস্থাপনা, স্থানীয় অংশগ্রহণ এবং যথাযথ তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। সভায় সভাপতিত্ব করেন হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. জি. এম. সরফরাজ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. রেজা কিবরিয়া, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির বাংলাদেশের হেড অব প্রোগ্রাম জেসি উড, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক এবং বাহুবল উপজেলা নির্বাহী অফিসার। সভায় বাহুবল উপজেলার সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরে প্রতিমন্ত্রী হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলার বিষ্ণুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দারাগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি বিদ্যালয় দু’টিতে চলমান স্কুল ফিডিং কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে খাবার বিতরণ ও খাবারের গুণগত মান, সংরক্ষণ এবং পরিবেশন ব্যবস্থার খোঁজখবর নেন। আরটিভি/টিআর
শিশুর প্রকৃত শিখন নিশ্চিতে সমন্বিত উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার: ববি হাজ্জাজ
‘কারিগরি শিক্ষার উন্নয়নে চীনের সঙ্গে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করতে হবে’
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের সূচনা হয়েছিল। তার সেই সম্পর্কের ধারাবাহিকতা আজও বজায় রয়েছে।
কারিগরি শিক্ষার উন্নয়নে চীনের সঙ্গে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী
এইচএসসিতে ফেল করা শিক্ষার্থীদের সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা
বুধবার (৪ নভেম্বর) বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এইচএসসিতে ফেল করা শিক্ষার্থীদের সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা
এইচএসসি সম্পূরক পরীক্ষা কবে, অংশ নিতে পারবেন যারা
এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য সুখবর।
এইচএসসি সম্পূরক পরীক্ষা কবে, অংশ নিতে পারবেন যারা
সড়কে প্রাণ গেল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর, মোবাইলে লেখা ছিল ‘শরতের ঝরা পাতার মতো মৃত্যু’
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের শিক্ষার্থী মাইশা মুশফিরাত।
সড়কে প্রাণ গেল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর, মোবাইলে লেখা ছিল ‘শরতের ঝরা পাতার মতো মৃত্যু’
আরও পড়ুন
প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কারে ৫ বিষয়ে অগ্রাধিকার প্রতিমন্ত্রীর
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ১৮০ কর্মকর্তাকে ‘বিশেষ নির্দেশনা’
সরকারি বরাদ্দে ‘নয়ছয়’ ও শিক্ষকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ
প্রাথমিকের নতুন কারিকুলামে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে দুই দক্ষতা