রাকসু জিএস আম্মারসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের 

রাবি সংবাদদাতা, আরটিভি নিউজ

বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬ , ০৯:৫৬ পিএম


রাকসু জিএস আম্মারসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের 
রাকসু সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার। ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) গত ২৭ জুলাই সংঘটিত সহিংসতায় মারধরের শিকার হওয়া শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসানের বাবা রাকসু সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার ও সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) সালমান সাব্বিরসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। 

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজশাহীর একটি আদালতে এ মামলা দায়ের করেন। 

দায়ের করা মামলায় সংস্কৃত বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসানকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং আরও ১৭-১৮ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। 

আরও পড়ুন

অন্য আসামিরা হলেন— রাকসুর তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক   নাজমুস সাকিব, রাবি শাখা ছাত্রশিবিরের প্রচার সম্পাদক মেহেদী সজিব, সিনেট সদস্য ফাহিম রেজা, আরিফুর ইসলাম, আহসান উল্লাহ ফাইহান, সিফাত আর সালেহ ও নুরুল ইসলাম শহীদ। 

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২৭ জুলাই দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ১টার মধ্যে অভিযুক্তরা ছুরি, লোহার রড, বেল্ট ও বাঁশের লাঠি নিয়ে মাহমুদুলকে ধাওয়া করে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের ভেতরে ও বাইরে ঘিরে ফেলে।

অভিযোগ অনুযায়ী, আম্মার লোহার রড দিয়ে মাহমুদুলের মাথা ও কপালে আঘাত করেন। সালমান সাব্বিরও তার মাথায় আঘাত করেন, ফলে মাহমুদুলের বাম চোখে গুরুতর জখম হয়। এছাড়া অন্য আসামিরাও তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও অভিযোগ করা হয়, চারজন আসামি মাহমুদুলকে মাটিতে ফেলে বুক ও গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন।

মামলায় বলা হয়েছে, পরে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অন্যরা মাহমুদুলকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলে অভিযুক্তরা তাকে জোরপূর্বক অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামিয়ে আবারও মারধর করে। পরবর্তীতে মাহমুদুলকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মাহমুদুলের বাবা জানান, ঘটনার দিন বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তিনি ফেসবুকের মাধ্যমে ঘটনার খবর জানতে পারেন। পরে হাসপাতালে গিয়ে তিনি ছেলেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দেখতে পান।

মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়, ২৮ জুলাই মতিহার থানায় মামলা করতে গেলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানান এবং আদালতের মাধ্যমে আইনি প্রতিকার চাইতে পরামর্শ দেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হযরত আলী বলেন, আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আদেশ দেননি। বরং তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর কাছে পাঠিয়েছেন।
তিনি দাবি করেন, মাহমুদুলের বাবা আবেগপ্রবণ হয়ে মামলাটি দায়ের করেছেন। 

উল্লেখ্য, গত ২৬ জুলাই সংস্কৃত বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী তার নিজ বিভাগের জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থী মহসিন আলমের বিরুদ্ধে প্রেমের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ায় হুমকির অভিযোগ আনেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীসহ কয়েকজনের সঙ্গে ওইদিন রাতে একটি সভায় বসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০১৭-১৮ বর্ষের আনাস, একই বিভাগের শিক্ষার্থী হাসিব, সংস্কৃত বিভাগের মাহমুদুল হাসানসহ কয়েকজন সেখানে যান। পরে তারা অভিযোগটি অস্বীকার করে প্রক্টরের সঙ্গে উচ্চবাচ্য করেন। 

এ বিষয়ে সোমবার দুপুরে একটি সভা ডাকেন প্রক্টর। সভায় রাকসু নেতারা আনাসের মোবাইল ফোন চেক করে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ হিল গালিবসহ কয়েকজন নেতার সঙ্গে আনাসের ছবি খুঁজে পান। এরপর তাকে প্রক্টর দপ্তরে আম্মার ও সালমান সাব্বির মারধর করেন। পরে দুপুরেই প্রক্টর বিষয়টির সাময়িক সমাধান করে দেন এবং আনাসসহ বাকিরা প্রক্টর দপ্তর থেকে চলে আসেন।

এ ঘটনার জেরে বিকাল ৩টার দিকে আনাস, হাসিব, মাহমুদুলসহ কয়েকজন রাকসু ভবনে ঢুকে আম্মারসহ কয়েকজনের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এতে রাকসুর তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক নাজমুস সাকিব আহত হন। 

হামলা চালানোর পর আনাসসহ সঙ্গীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পাঠকক্ষে আশ্রয় নেন। পরে শিবির ও রাকসু নেতারা পাঠকক্ষের ফটক থেকে প্রক্টরকে ধাক্কা দিয়ে পাঠকক্ষে প্রবেশ করেন। ভেতরে ঢুকেই তারা ওই শিক্ষার্থীদের মারধর করেন।  

আরটিভি/এসআর

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission