
ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ডিআইইউ)-এর সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী অভি ইসলামের বিরুদ্ধে ফেসবুকে জুলাই নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও নারী হেনস্তার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে মুচলেকা নিয়ে এক মাসের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) কলা ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. সাজ্জাদ হোসেনের নেতৃত্বে শুনানি বোর্ড জিজ্ঞাসাবাদ করে। অভিযুক্ত তার অপরাধ স্বীকার করায় তাকে এক মাসের জন্য বহিষ্কার করা হয়।
শুনানি বোর্ডে আরও ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-কল্যাণ উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. শাহ আলম চৌধুরী, প্রক্টর অধ্যাপক ড. আবুল কালাম আজাদ, সহকারী অধ্যাপক সাজ্জাদ হোসেন শোভন ও সহকারী প্রক্টর ড. শামীম হামিদী।
সভাসূত্রে জানা গেছে, মূলত অভি ইসলাম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে জুলাই নিয়ে বিভিন্ন ধরনের কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন। এছাড়া জুলাইয়ের পক্ষে থাকা নারীদের নিয়ে অশালীন বক্তব্য দেন। অভিযুক্ত অভি ইসলাম ও তার বাবা শুনানি বোর্ডের কাছে উপস্থিত হয়ে অপরাধ স্বীকার করে অনুতপ্ত হন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ না করার অঙ্গীকার করেন।
অভি ইসলাম বলেন, আমি প্রচলিত আইনে নিষিদ্ধ একটি রাজনৈতিক দলের হয়ে কার্যক্রম করেছি এবং আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছি। ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ করব না বলে মুচলেকা দিচ্ছি।
অন্যদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, বিশ্ববদ্যালয়ে কোন ঝামেলা হলেই ডীন স্যারদের ডেকে সমাধান করতে হয়৷ অথচ আমাদের একজন প্রশাসনিক প্রধান প্রক্টর রয়েছেন৷ তিনি পুতুলের মতো ভূমিকায় থাকেন৷ সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে না পারলে এই পদে থেকে তো লাভ নেই৷
তিনি বলেন, এই বিষয়টি সমাধান করার কথা ছিলো প্রক্টর অফিসে কিন্তু প্রক্টর স্যার এটি সমাধান করতে না পারায় ডীন স্যারের নেতৃত্বে এই শুনানী বোর্ড গঠন করা হয়েছে। তাহলে প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে প্রক্টর স্যারের কাজ টা কি? দায়িত্বের জায়গায় আমরা প্রক্টরকে সফল মনে করি না।
এ বিষয়ে কলা ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক সাজ্জাদ হোসেন বলেন, মূলত তার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। সুতরাং তাকে এক মাসের জন্য বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আরটিভি/এমএম


