
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) এক নেতাকে থাপ্পড় মারার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দিনভর ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের উত্তেজনার পর রাতে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নতুন আহ্বায়ক কমিটি প্রকাশিত হয়েছে।
এ নিয়ে গত রাত সাড়ে ১১টার দিকে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের ফেসবুক পেজে এক অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই নতুন কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আগামী তিন মাসের জন্য ২৮ সদস্যের এক আহ্বায়ক কমিটি প্রকাশ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে মেহেদী হাসান হাফিজকে আহ্বায়ক এবং ২৭ জনকে যুগ্ম-আহ্বায়ক করে ৩ মাসের জন্য এই কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উক্ত কমিটির মেয়াদ শেষে সাংগঠনিক কার্যক্রম ও রাজনৈতিক সক্রিয়তা বিবেচনায় পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে।
এর আগে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর পৌনে ২টার দিকে ছাত্রশিবিরের এক নেতাকে থাপ্পড় মারার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দিনভর উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি তদন্ত করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এদিকে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ইবি ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণাকে প্রত্যাখ্যান করে উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল।
এখই লেখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করতে দেখা যায়। শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. মাসুদ রুমী মিথুন, সদস্য সচিব রাফিজ আহমেদ ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার পারভেজ এই নিন্দা জানিয়েছে।
নেতৃবৃন্দ ফেসবুকে লিখেছেন, শনিবার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও নিন্দনীয়। ছাত্রলীগকে সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর আওতায় নিষিদ্ধ করা হয়েছে, সেই সংগঠনের নামে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন কমিটি ঘোষণা কোনোভাবেই স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড হিসেবে বিবেচিত হতে পারে না।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কোনো নিষিদ্ধ সংগঠনের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জায়গা হতে পারে না। আমরা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল কোনো নিষিদ্ধ সংগঠনের সন্ত্রাসী রাজনীতিকে ক্যাম্পাসে পুনর্বাসনের সুযোগ দেবে না। তবে আমরা প্রতিশোধের রাজনীতিতেও বিশ্বাস করি না। ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত কোনো শিক্ষার্থী যদি কোনো অপরাধে জড়িত না থাকে, তার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগতভাবে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রশ্নই আসে না। কিন্তু নিষিদ্ধ সংগঠনের ব্যানারে প্রকাশ্য সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করার সুযোগও দেওয়া যাবে না।
আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অবিলম্বে এই কমিটি ঘোষণার বিষয়ে অবস্থান পরিষ্কার করার এবং ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ সংগঠনের কোনো ধরনের সাংগঠনিক কার্যক্রম বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং একটি গণতান্ত্রিক ও শিক্ষাবান্ধব ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠার পক্ষে। আমরা কোনো দল বা সংগঠনের প্রতি অন্ধ বিদ্বেষ চাই না; আমরা চাই সবার জন্য একই আইন, একই নিয়ম এবং একই ন্যায়বিচার।
নিষিদ্ধ সংগঠনের নামে ক্যাম্পাসে সন্ত্রাস, দখলদারিত্ব ও আধিপত্যের রাজনীতি পুনঃপ্রতিষ্ঠার যেকোনো অপচেষ্টা রাজনৈতিক ও আইনিভাবে মোকাবিলা করা হবে।
আরটিভি/এমএম




