ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে মাভাবিপ্রবি প্রক্টরের পদত্যাগ

মাভাবিপ্রবি প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৫৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

গুরুতর অনিয়ম, অভিযুক্তদের সুরক্ষা প্রদান এবং প্রশাসনিক বিতর্কের জেরে শিক্ষার্থীদের তীব্র আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেছেন মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) প্রক্টর ড. মো. ইমাম হোসেন।

বুধবার (৮ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. সাজ্জাদ ওয়াহিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রক্টরের পদত্যাগের পর প্রক্টরিয়াল কমিটির জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে সহকারী প্রক্টর মো. নান্নুর রহমানকে সাময়িকভাবে এই পদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, দ্রুতই পূর্ণ মেয়াদে নতুন প্রক্টর নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

আরও পড়ুন

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, প্রক্টরের বিরুদ্ধে বেশ কিছু দিন ধরেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ দানা বাঁধছিল। অভিযোগ রয়েছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কতিপয় শিক্ষককে শাস্তির হাত থেকে বাঁচাতে প্রক্টর পরিকল্পিতভাবে ‘সেইফ এক্সিট’ বা নিরাপদ প্রস্থানের সুযোগ করে দিয়েছেন। বিশেষ করে, বিগত ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের বিরোধিতাকারী সাবেক সহকারী প্রক্টর শাকিল মাহমুদ শাওনসহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের দাবি, অভিযুক্ত অনেককে প্রক্টরের প্রচ্ছন্ন সহযোগিতায় দেশের বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এসব বিষয়ে একাধিকবার লিখিত অভিযোগ দিলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। সর্বশেষ আল্টিমেটাম শেষে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ শুরু করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। চাপের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত ড. মো. ইমাম হোসেন পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

শিক্ষার্থীদের আরও অভিযোগ, রাজনীতি নিষিদ্ধ ক্যাম্পাসে প্রক্টর একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রভাব খাটাতেন এবং সহকর্মী ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে অপেশাদার ও স্বৈরাচারী আচরণ করতেন। সংকটের সময় শিক্ষার্থীদের পাশে না দাঁড়িয়ে উল্টো তুচ্ছ বিষয়ে হয়রানি ও হস্তক্ষেপ করতেন, যা তার স্বৈরাচারী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ।

আরটিভি/এমআই

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
জুডিসিয়াল সার্ভিস পরীক্ষায় জজ হলেন তিন শিক্ষার্থী, ববিতে খুশির বন্যা
১৮তম বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) আইন বিভাগের তিন শিক্ষার্থী সিভিল জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর এ তথ্য জানা যায়। বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশনের (বিজেএসসি) অধীনে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষাসহ বিভিন্ন ধাপের পরীক্ষা শেষে তাদের সিভিল জজ পদে সুপারিশ করা হয়। সুপারিশপ্রাপ্ত তিন শিক্ষার্থী হলেন, আইন বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের ৭ম ব্যাচের জান্নাতুল আইশা, ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের ৬ষ্ঠ ব্যাচের জয়ন্ত হালদার এবং ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের ৪র্থ ব্যাচের মো. নাইম হোসাইন। প্রকাশিত ফলাফলে জান্নাতুল আইশা ১৫তম এবং জয়ন্ত হালদার ৬৭তম স্থান অর্জন করেছেন। একই পরীক্ষায় মো. নাইম হোসাইনও সিভিল জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। তিন শিক্ষার্থীর এ সাফল্যে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। সাফল্যের অনুভূতি জানিয়ে জয়ন্ত হালদার বলেন, দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, ধৈর্য ও একাগ্রতার পর এই সাফল্য অর্জন করতে পেরে তার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। এই দীর্ঘ ও কঠিন যাত্রায় পরিবার, শিক্ষক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের অবদান অপরিসীম উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের দোয়া, ভালোবাসা ও সমর্থন ছাড়া এ পথ অতিক্রম করা সম্ভব হতো না। তিনি আরও বলেন,মেধা তালিকায় ৬৭তম স্থান অর্জন করেছি। আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন, যেন অর্পিত দায়িত্ব সততা, নিষ্ঠা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে পালন করতে পারি। এ বিষয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের চেয়ারম্যান ড. কাইসার আহমেদ বলেন, সিভিল জজ পদে সুপারিশপ্রাপ্ত আমাদের তিন কৃতী শিক্ষার্থী জান্নাতুল আইশা, নাইম হোসাইন ও জয়ন্ত হালদারকে আইন বিভাগের পক্ষ থেকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আশা করি, তারা কর্মক্ষেত্রে নিজেদের মেধা, দক্ষতা ও সততার মাধ্যমে দেশ, জাতি ও বিচার বিভাগের সেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ও আইন বিভাগের সুনাম অক্ষুণ্ন রাখবে। তিনি বলেন, তাদের এই সাফল্য বিভাগের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করবে। ভবিষ্যতেও বিভাগের শিক্ষার্থীরা সাফল্যের এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। আরটিভি/এসকে
জুডিসিয়াল সার্ভিস পরীক্ষায় জজ হলেন তিন শিক্ষার্থী, ববিতে খুশির বন্যা
‘আমি যেকোনো সংকট মোকাবিলায় প্রস্তুত, চ্যালেঞ্জ নিতেও অভ্যস্ত’
১৯৭৯ সালের ২২ নভেম্বর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহের শান্তিডাঙ্গা-দুলালপুরে স্বাধীনতার পরবর্তী প্রথম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পরবর্তীতে মানসম্মত উচ্চশিক্ষার সম্প্রসারণে জ্ঞান সঞ্চারণ ও নতুন জ্ঞানের উদ্ভাবন এবং সেই সঙ্গে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার অভীষ্ট লক্ষ্যকে সামনে রেখে ধর্মতত্ত্ব ও ইসলামী শিক্ষার পাশাপাশি যুগোপযোগী আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা-গবেষণার ক্ষেত্র সম্প্রসারিত করা, দ্রুত অগ্রসরমান বিশ্বের সঙ্গে পরিচিতি ঘটানো এবং জাতীয় জীবনের সর্বক্ষেত্রে নেতৃত্বদানের উপযোগী সৎ, নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন, বিজ্ঞানমনস্ক, সৃজনশীল, অসাম্প্রদায়িক, উদারনৈতিক, মানবমুখী, দূরদর্শী ও প্রগতিশীল নাগরিক সৃষ্টি করার লক্ষ্যে জাতীয় শিক্ষানীতির আলোকে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার উদ্দেশ্যে পাঠদান করে যাচ্ছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি)।   ‘গবেষণাধর্মী, বাস্তবানুগ উচ্চশিক্ষাই হোক টেকসই উন্নয়নের হাতিয়ার’ স্লোগানকে সামনে রেখে ১৭৫ একর জুড়ে সবুজ ঘেরা বিশ্ববিদ্যালয়টির লক্ষ্য পূরণে নানামুখী পদক্ষেপ নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান কার্যক্রম, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, অ্যাকাডেমিক মানোন্নয়ন, গবেষণা, আসন্ন সমাবর্তন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতাসহ নানা বিষয় নিয়ে আরটিভি’র ইবি সংবাদদাতা রবিউল আলমের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে কথা বলেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান। আরটিভি: আপনি দায়িত্ব নেওয়ার পরে কী কী দৃশ্যমান উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন? উপাচার্য: আমি দায়িত্ব গ্রহণের পর ইউরোপ কান্ট্রি যথা ফিনল্যান্ড, ডেনমার্ক, সুইডেনে গিয়েছি। সেখানে চারটি ইউনিভার্সিটিতে কাজ করেছি। সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল— শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম আরও কীভাবে গতিশীল করা যায় তা নিয়ে কাজ করা। ধারাবাহিকতায় ওখান থেকে ফিরে এসে আমি কিছু ইনিশিয়েটিভ নিয়েছি; তন্মধ্যে নতুন শিক্ষার্থীদের একটা বড় ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম আয়োজন, জাপানিজ শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি, বিশেষ করে ২+২ প্রোগ্রামের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, এরপর তৃতীয় ভাষা হিসেবে চাইনিজ ভাষা শিক্ষা কোর্স চালুকরণ অর্থাৎ কনফুসিয়াস সোসাইটি নামে তৃতীয় ভাষা চালুর ব্যাপারে আমরা উদ্যোগ গ্রহণ করেছি, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত ব্র্যাকের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি। যেখানে ‘ক্যারিয়ার হাব’ প্রতিষ্ঠা লাভ করবে। এটি একটি বড় ধরনের অ্যাচিভমেন্ট বলে আমি মনে করি। যেখানে শিক্ষার্থীরা দক্ষতা, কর্মস্পৃহা ও স্বপ্নপূরণে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। আরেকটা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে যেটি আগামী মাসের ৩ তারিখ অনুষ্ঠিত হবে— ‘বিশ্ববিদ্যালয় ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল কোলাবোরেশান’। যেখানে মাননীয় অর্থ উপদেষ্টা উপস্থিত থাকবেন। বাংলাদেশের প্রায় ২০টি সুনামধন্য কোম্পানি অংশ নেবেন। এতে তিনটি উদ্দেশ্য— প্রথমত কোম্পানির সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ইন্টার্ন সহজকরণ, দ্বিতীয়ত ইন্ডাস্ট্রি রিলেটেড কিছু কোর্সে কারিকুলাম অনুপ্রবেশ করানো, তৃতীয় কোম্পানিগুলো ডিমান্ড অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের তৈরি করা। আগামী অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলে এগুলো উত্থাপন করা হচ্ছে। ইন্টারনাল পজিটিভ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছি। যেমন- পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান, রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে কিছু বৃক্ষরোপণও করেছি। আগামী ২৯ তারিখ ডেঙ্গু সচেতনতা ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে আরেকটি কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। আরটিভি: দায়িত্ব গ্রহণের পর কোন কোন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছেন? উপাচার্য: আমি যোগদান গ্রহণের পর অনেকগুলো চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছি। প্রথম চ্যালেঞ্জ ছিল বড় ধরনের আর্থিক সংকটের মধ্যে দায়িত্ব নেওয়া। শুরুতে এতটাই খারাপ অবস্থা যে বেতনভাতা দেওয়ার মতো সামর্থ্য ছিল না। জাস্ট আমার আগের প্রশাসন কোনো কিছু যাচাই-বাছাই ছাড়া ডেইলি লেবার হিসেবে ১৬৭ জনকে নিয়োগ দেয়। এর আগেও থোক (চুক্তিভিত্তিক কর্মী)-এ নিয়োগ দিয়েছে। সব মিলে ৩৭০-৭৫ জন মতো। যাদের প্রতিমাসে বেতন দিতে হয় ২০ লাখ টাকা যা ইউজিসি আমাদেরকে অনুমোদন দেয়নি। আরেকটি সংকট হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ে এক শিক্ষার্থী ও একজন শিক্ষিকা হত্যাকাণ্ড। এই ঘটনা মূলত শিক্ষার্থীদের মধ্যে একজন শিক্ষকের মৃত্যু যেরকম, তার সহপাঠীও সেইম। আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করছি যাতে ঘটনাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি হয়। শিক্ষিকা হত্যাকাণ্ডটার ইন্টারনাল তদন্ত কমিটির রিপোর্ট সিন্ডিকেটে আসলে আমরা উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করে দিয়েছি। এটিও আমাদের কাছে চলে আসছে। আগামী সিন্ডিকেটে উঠবে। অলমোস্ট শেষ পর্যায়ে। শিক্ষিকার মৃত্যুর সঙ্গে পুলিশকেও তাগাদা দিয়েছি, যাতে দ্রুত চার্জশিট জমা দেয়। শিক্ষার্থী সাজিদ হত্যার বিষয়ও সার্বক্ষণিক খোঁজ খবর নিচ্ছি। এগুলো আমার জন্য চ্যালেঞ্জ। যে-কোনো সংকট মোকাবিলায় প্রস্তুত, বরং আমি চ্যালেঞ্জ নিতে অভ্যস্ত।  আরটিভি: শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসন ও খাবারের মান বৃদ্ধি নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কী?  উপাচার্য: এই মুহূর্তে আটটি বিদ্যমান হল রয়েছে। এর মধ্যে আরেকটি উদ্বোধন হবে আগামী মাসে। পাশাপাশি তিনটি হল নির্মাণাধীন (একটি ছাত্রী হল এবং দুটি ছাত্র হল)। আশা করি এই প্রকল্প আগামী ২৭ সালের জুনে মেয়াদ শেষ হচ্ছে। ভিজিলেন্স টিম নিয়মিত তদারকি করছে। আমাদের আবাসিক এলাকায় শিক্ষকরা বা কর্মকর্তারা বসবাস করছেন না, কারণ ক্যাম্পাসে যে পরিমাণে বাড়ি ভাড়া কর্তন করা হয় সরকারি রুলস অনুযায়ী, তারা হিসেব করে দেখে যে এর চেয়ে অর্ধেক টাকায় তারা কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহে বসবাস করতে পারে। ফলে এই ভবনগুলো ফাঁকা থাকে। আগামী সিন্ডিকেটে এই ইস্যুটা আমি তুলব। আমরা এই ভবনগুলো কোনো একটা কাজে ব্যবহার করতে চাই যাতে নিরাপত্তার ঝুঁকি থেকে আমরা রক্ষা পেতে পারি, ভবনগুলো যেন সুরক্ষায় থাকে। আবাসিক হল ঘোষণা করলে তো অনেকাংশ চাপ কমে যাবে। এদিকে হলগুলোর প্রভোস্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করে দুটি বিষয়ে গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— হলের ডাইনিংয়ের খাবারের মানোন্নয়ন এবং সিট বরাদ্দ। সিট বরাদ্দের ক্ষেত্রে সবসময় মেধাকে প্রাধান্য দিতে হবে। একই সঙ্গে বিভাগভিত্তিক মেধাক্রম অনুসরণ করে প্রত্যেক বিভাগের শিক্ষার্থীরা যাতে সিট বরাদ্দ পান, তা নিশ্চিত করতে হবে। আমরা ইতোমধ্যে নীতিমালা তৈরি করেছি। আরটিভি: আসন্ন সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রাক্তন শিক্ষার্থী হিসেবে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মীরা উপস্থিত হতে পারবে কিনা, নিরাপত্তার ইস্যু নিয়ে কী ভাবছেন?  উপাচার্য: আমরা পঞ্চম সমাবর্তন অনুষ্ঠানের তারিখ ঘোষণা করে ইতোমধ্যে একটা কমিটি গঠন করে দিয়েছি। সমাবর্তন শুধু ক্যাম্পাসের নিরাপত্তার ইস্যু না, বরং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার বিষয়ও জড়িত। যেহেতু কমিটি গঠন করা হয়েছে, তারা একটা সুপারিশ করবে। আমরা রাষ্ট্রীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করব। এখন তো বলা যাচ্ছে না, কমিটির সুপারিশ মোতাবেক পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আরটিভি: বিদেশি শিক্ষার্থী শূন্যের কোটায়, আন্তর্জাতিক মান বাড়ানোর ক্ষেত্রে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে? উপাচার্য: বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। শাহ আজিজুর রহমান হলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক ‘ইন্টারন্যাশনাল ব্লক’ রয়েছে। সেখানে যেন শুধু বিদেশি শিক্ষার্থীরাই সিট পান, সে বিষয়ে হল প্রভোস্টদের নজর দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স দপ্তরটাকে শক্তিশালী করা হচ্ছে। কিছুটা সময় নিয়ে সব কিছু ঢেলে সাজানো হবে।  আরটিভি: অ্যাকাডেমিক মান উন্নয়নসহ সেশনজট নিরসনে কী কী পরিকল্পনা নিয়েছেন?  উপাচার্য: আগামী অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলে পরীক্ষার খাতায় রোল নম্বরের পরিবর্তে কোডিং ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া পরীক্ষায় অসদুপায় বা নকল রোধে পরীক্ষা কেন্দ্রে কড়াভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার কক্ষে প্রবেশের সময় ডিভাইস নিয়ে যেতে পারবে না। চেক করে প্রবেশ করানো হবে। সেশনজট নিরসনে প্রতিটি বিভাগে অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যথাযথ ক্লাস নেওয়া হচ্ছে কিনা তাও নজরদারিতে রাখা হবে।  আমাদের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে স্টুডেন্টদের সবচেয়ে বেশি অ্যাট্রাকশনের জায়গাটা হচ্ছে জব কর্নার, যেটি অলরেডি একটা স্পেস আমরা বৃদ্ধি করেছি। আমি প্ল্যান করেছি যে আমাদের এই দ্বিতীয় প্রশাসন ভবনে ফাইনালি যখন কাজ শুরু হবে। খুব শীঘ্রই আমরা লাইব্রেরির দ্বিতীয় তলায় আরও বড় জব কর্নার স্পেস করব। আর ডিজিটাল সিস্টেম গভর্নমেন্টের একটি পরিকল্পনা হচ্ছে প্রতিটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অটোমেশন সিস্টেম বা ইউনিক আইডি চালুর, আমরা সার্বক্ষণিকভাবে এ ব্যাপারে কানেক্টেড আছি। আরটিভি: ইবির গবেষণাখাত কিছুটা নিম্নমানের, এনিয়ে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কিনা? উপাচার্য: গবেষণা ক্ষেত্রে যে ফান্ড আসে, আমরা চাই যে গবেষণার কার্যক্রমটি প্রকৃত অর্থেই গবেষণামূলক কাজের সাথে ইনভলভ থাকুক এবং এটি যেন একটা স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিতার মধ্যে থাকে। গবেষণার শুধুমাত্র একটি পেপার সাবমিট করা নয়, এর মধ্য দিয়ে ইনোভেটিভ কিছু ক্রিয়েশন থাকবে। আর যেহেতু শিক্ষা খাতে ২% জিডিপি বরাদ্দ করা হচ্ছে, এটি অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাদের জায়গা থেকে সর্বোচ্চ পরিমাণে এর সৎ ব্যবহার, অর্থের যথোপযুক্ত প্রয়োগ এবং অর্থের অপপ্রয়োগ যাতে না হয় সে ব্যাপারে আমরা যথেষ্ট সতর্ক থাকব। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এটিকে সামনে ৫ শতাংশে নিয়ে যাবে। যদি সঠিকভাবে ব্যবহার করি তাহলে শিক্ষাখাত ব্যাপক পরিবর্তন ঘটবে। আরটিভি: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য উদ্দেশ্য পূরণে কী কী উদ্যোগ নিয়েছেন? উপাচার্য: শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান আধুনিক শিক্ষা ও ইসলামি শিক্ষার সমন্বয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য এটি প্রতিষ্ঠা করেছেন। আমরা সেই লক্ষ্য পূরণে কাজ করে যাচ্ছি। আগামী অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেটে বড় ধরনের কিছু দৃশ্যমান পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। তবে ভালো কিছু আসছে সেটা বলতে পারি। আরটিভি/এমএইচজে
‘আমি যেকোনো সংকট মোকাবিলায় প্রস্তুত, চ্যালেঞ্জ নিতেও অভ্যস্ত’
ইবির একই কক্ষের ৩ বন্ধু এখন বিচারক
ক্যাম্পাস জীবনে একই ছাদের নিচে একই কক্ষে পড়াশোনা করতেন তিন বন্ধু। নিয়মিত গ্রুপ স্টাডি করতেন তারা। ১৬তম বিজেএস-এ একজন সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পর দুইবার ব্যর্থ হলেও হাল ছাড়েননি অপর দুই বন্ধু। এবার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আইন বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের তিন শিক্ষার্থী ও সাদ্দাম হোসেন হলের একই কক্ষের তিন বন্ধুই এখন সিভিল জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। তারা হলেন—১৬তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় সুপারিশপ্রাপ্ত আরিফ হোসাইন এবং সর্বশেষ প্রকাশিত ১৮তম বিজেএস পরীক্ষায় সুপারিশপ্রাপ্ত মো. আনোয়ার হোসেন ও শাকির আলম। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদ্দাম হোসেন হলের ৪২২ নম্বর কক্ষে একসূত্রে বাঁধা পড়েছিল এই তিন সহপাঠীর স্বপ্ন ও সংগ্রামের পথচলা। ১৬তম বিজেএস পরীক্ষায় আরিফ হোসাইন প্রথম জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে বাকি দুই বন্ধুর জন্য অনুপ্রেরণার দুয়ার খুলে দেন। তিনি বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, মহান রবের প্রতি কৃতজ্ঞতা, যিনি আমাদের তিন বন্ধুকে এমন সম্মান দিয়েছেন। সকলের জন্য শুভকামনা ও ভালোবাসা। সর্বশেষ প্রকাশিত ১৮তম বিজেএস-এ সুপারিশপ্রাপ্ত শাকির আলম বলেন, প্রথমেই মহান আল্লাহ তাআলার প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা, যিনি আমাকে এই জায়গায় নিয়ে এসেছেন। টানা দুইবার ব্যর্থ হওয়ার পরও হাল ছাড়িনি। তৃতীয়বারের চেষ্টায় উত্তীর্ণ হয়েছি। কুরআনের সেই আয়াত মনে পড়ে যায় যে, শিগগিরই তোমার রব তোমাকে এত বেশি দেবেন যে তুমি খুশি হয়ে যাবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর থেকেই আমার ইচ্ছে ছিল যে একদিন বিচারক হয়ে দেশ ও দেশের মানুষের জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করব। পরিবার ও সমাজের এ ব্যাপারে উৎসাহিত করতে অবদান আছে। পাশাপাশি উৎসাহিত হয়েছি বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় ভাই-আপুদের সুপারিশপ্রাপ্ত হতে দেখে। আমার সবচেয়ে বড় ভালো লাগা, সাদ্দাম হোসেন হলের ৪২২ নম্বর কক্ষ থেকে আমরা তিনজনই জজ হয়েছি। তারা জানান, ক্যাম্পাস জীবনে সাদ্দাম হোসেন হলের ৪২২ নম্বর কক্ষটি ছিল তাদের পড়াশোনা ও একে অপরকে সহযোগিতা করার মূল কেন্দ্র। গভীর রাতের দীর্ঘ পড়াশোনা, গ্রুপ ডিসকাশন এবং লক্ষ্যপূরণের অদম্য ইচ্ছা তাদের এই যৌথ সাফল্যের পেছনের মূল শক্তি হিসেবে কাজ করেছে। আইন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হালিমা খাতুন বলেন, আমাদের বিভাগ প্রতিবছরই জুডিশিয়ারিতে ভালো করে থাকে। এবার আরও ভালো করেছে। এই ধারা অব্যাহত থাকবে, আশা করি। যারা জুডিশিয়ারিকে প্রফেশন হিসেবে নিতে চান, তাদের গাইডলাইন দেওয়া থেকে শুরু করে তাদের বেজলাইন দৃঢ় করতে আমরা কাজ করব। জুডিশিয়ারি একটি মহৎ পেশা। আমাদের বিভাগের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করছি। অন্যদিকে তিন রুমমেট বন্ধু জজ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। তারা ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেছে। তারা আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। উল্লেখ্য, বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ১৮তম জুডিশিয়াল সার্ভিসের (বিজেএস) চূড়ান্ত ফল প্রকাশিত হয়। ফলাফল অনুযায়ী, সর্বশেষ তথ্য অনুসারে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে ১৪ জন, আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগ থেকে ৪ জন এবং আল-ফিকহ অ্যান্ড ল’ থেকে ১ জন সিভিল জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। আরটিভি/টিআর
ইবির একই কক্ষের ৩ বন্ধু এখন বিচারক
শেষ ছয় জজ নিয়োগ পরীক্ষার পাঁচটিতেই প্রথম রাবির শিক্ষার্থীরা
বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় ধারাবাহিক সাফল্য ধরে রেখেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীরা। সর্বশেষ ছয়টি বিজেএস পরীক্ষার মধ্যে পাঁচটিতেই মেধাতালিকায় প্রথম স্থান অর্জন করেছেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় প্রকাশিত ১৮তম বিজেএস পরীক্ষার ফলাফলে দেশসেরা হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আরিফুল করিম সিয়াম। এর আগে ১৩তম থেকে ১৬তম বিজেএস পরীক্ষায় টানা চারবার প্রথম হন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র ও ফলাফল বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, ১৩তম থেকে ১৮তম—সর্বশেষ ছয়টি বিজেএস পরীক্ষার মধ্যে পাঁচটিতেই প্রথম হয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ সময় ১৩তম, ১৪তম, ১৫তম ও ১৬তম পরীক্ষায় টানা চারবার রাবির শিক্ষার্থীরা প্রথম হওয়ার পর ১৭তম পরীক্ষায় অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শীর্ষস্থান অর্জন করেন। ১৮তম পরীক্ষায় সিয়ামের সাফল্যের মাধ্যমে আবারও মেধাতালিকার শীর্ষে রাবি। ১৩তম বিজেএস পরীক্ষায় প্রথম হন শিউলী নাহার। ১৪তম বিজেএস পরীক্ষায় প্রথম হন সুমাইয়া নাসরিন। ১৫তম বিজেএসে প্রথম স্থান অর্জন করেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আশিক-উজ-জামান। ১৬তম বিজেএস পরীক্ষায়ও শীর্ষস্থান ধরে রাখেন রাবির শিক্ষার্থী নুসরাত জেরিন জেনি। তবে ১৭তম বিজেএস পরীক্ষায় এ ধারাবাহিকতার অবসান ঘটে। ওই পরীক্ষায় প্রথম হন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হালিমাতুস সাদিয়া। এর ফলে রাবির শিক্ষার্থীদের টানা চারবার প্রথম হওয়ার ধারাটি থেমে যায়। পরবর্তী ১৮তম বিজেএস পরীক্ষায় আরিফুল করিম সিয়ামের প্রথম হওয়ার মাধ্যমে আবারও শীর্ষস্থান ফিরে আসে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। ১৮তম বিজেএসে প্রথম হওয়া আইন বিভাগের শিক্ষার্থী আরিফুল করিম সিয়াম তার সাফল্যের বিষয়ে বলেন, আমার যতটুকু সামর্থ্য ছিল, তা দিয়ে ভালো করার চেষ্টা করেছি। বাকিটা মহান আল্লাহর দান। অনেকেই হয়তো আমার চেয়েও বেশি যোগ্য ছিলেন, কিন্তু দিন শেষে সৃষ্টিকর্তা যাকে ইচ্ছা কবুল করেন। ভবিষ্যতে এ পরীক্ষায় অংশ নিতে আগ্রহীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এই দীর্ঘ যাত্রায় যেন কেউ ধৈর্য না হারায়। প্রস্তুতি নিতে গিয়ে প্রতিদিন সমান সাফল্য আসবে না, কখনো ঘাটতি থাকবে, কখনো ভালো হবে। কিন্তু পড়াশোনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং নিয়মিত পরীক্ষার মাধ্যমে নিজেকে একটু একটু করে ঝালিয়ে নেওয়া খুবই জরুরি। সাফল্যের বিষয়ে অনুভূতি প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. সাঈদা আনজু বলেন, খুবই ভালো লাগছে শুনে। রাবির আইন বিভাগ থেকে আবারও দেশসেরা হয়েছে—এটা অবশ্যই আমার জন্য, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য গর্বের। সিয়ামসহ ১৮তম বিজেএসে যে ২০০ জন উত্তীর্ণ হয়েছে, তাদের সবাইকে প্রাণঢালা অভিনন্দন জানাচ্ছি। আরটিভি/টিআর  
শেষ ছয় জজ নিয়োগ পরীক্ষার পাঁচটিতেই প্রথম রাবির শিক্ষার্থীরা
১৮তম বিজেএস পরীক্ষায় জজ পদে সুপারিশপ্রাপ্ত খুবির ৬ শিক্ষার্থী
১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় সিভিল জজ পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) আইন ডিসিপ্লিনের ছয় শিক্ষার্থী। বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের অধীনে অনুষ্ঠিত এ পরীক্ষার বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে তারা সিভিল জজ পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। ২৩ সেপ্টেম্বর (বুধবার) ১৮তম বিজেএস পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর এ তথ্য জানা যায়। সুপারিশপ্রাপ্তরা হলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮ ব্যাচের মাহবুবা সুলতানা এবং ১৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী নাসিম বিল্লাহ, হাফসা বিনতে আইয়ুব, সজল আহমেদ বাপ্পী, কামরুজ্জামান বাদশা ও ২০ ব্যাচের নাজমুল ইসলাম সিয়াম। মেধাতালিকায় হাফসা বিনতে আইয়ুব ৭ম, সজল আহমেদ বাপ্পী ৮ম, নাজমুল ইসলাম সিয়াম ৩০তম, কামরুজ্জামান বাদশা ৫৭তম এবং নাসিম বিল্লাহ ৬৫তম স্থান অর্জন করেছেন। বিজেএস পরীক্ষায় সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে নাসিম বিল্লাহ বলেন, “সর্বপ্রথম সৃষ্টিকর্তার নিকট অশেষ শুকরিয়া। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর আমরা ছিলাম তৃতীয় ব্যাচ। আমাদের সিনিয়র ব্যাচ যখন জুডিশিয়ারির পরীক্ষা দিতেন, আমরা খুবই আগ্রহ নিয়ে তাদের সাফল্যের খবর শোনার জন্য অপেক্ষা করতাম। অনেক পরিশ্রমের পরও আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে এ সাফল্য ধরা দিচ্ছিল না। কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ, ১৮তম বিজেএস পরীক্ষায় আমাদের ছয়জন সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছি।” তিনি আরও বলেন, আমাকে এই দিনে নিয়ে আসার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান আমাদের শিক্ষকদের, আমাদের সিনিয়রদের, আমার জুনিয়রদের, আমার খাজা হলের সকল মানুষের এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি মানুষের। অনেক অনেক ধন্যবাদ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়। সকলের নিকট দোয়া চাই, যেন বিচারক হিসেবে ন্যায় ও সুষ্ঠু বিচার প্রতিষ্ঠিত করতে পারি। এছাড়াও সজল আহমেদ বাপ্পী বলেন, আইন ডিসিপ্লিন তথা খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অনন্য ইতিহাসের সাক্ষী হতে পেরে নিজেকে গর্বিত মনে করছি। আমার সকল শুভাকাঙ্ক্ষীর কাছে দোয়া চাই, যাতে সারাজীবন ন্যায়ের পথে থাকতে পারি এবং মানুষের জন্য সবসময় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারি। এ বিষয়ে আইন ডিসিপ্লিনের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক পুনাম চক্রবর্তী বলেন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এবারই প্রথমবারের মতো বিচারক হিসেবে কয়েকজন শিক্ষার্থী সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। আইন ডিসিপ্লিন প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই প্রথম ১৪ জন ভাইভায় অংশগ্রহণ করে তাদের মধ্যে ছয়জন জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। এটি শুধু আইন ডিসিপ্লিনের জন্য নয়, পুরো খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যও অত্যন্ত গর্বের বিষয়। আমরা আশা করি, ভবিষ্যতেও এই সাফল্যের ধারা অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি বর্তমান শিক্ষার্থীরাও যেন এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে ভালো করতে পারে, সে জন্য আইন ডিসিপ্লিনের শিক্ষকরা তাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনা দিয়ে যাবেন। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন দেশের অধস্তন আদালতের বিচারক নিয়োগের জন্য বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষা আয়োজন করে। প্রাথমিক, লিখিত ও মৌখিকসহ বিভিন্ন ধাপের পরীক্ষার মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থীদের বাছাই করা হয়। আরটিভি/টিআর  
১৮তম বিজেএস পরীক্ষায় জজ পদে সুপারিশপ্রাপ্ত খুবির ৬ শিক্ষার্থী
আরও পড়ুন
রাবির ৯৯ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা
কায়রোর আইন শামস বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীন বরণে উচ্ছ্বসিত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের বড় সুযোগ দিল যুক্তরাষ্ট্র, আবেদন শেষ ২৩ সেপ্টেম্বর
রাবি শিক্ষার্থীকে মারধর ও স্টেশনে ভাঙচুরের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন