ঢাকা রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩

বেরোবিতে ছাত্রদলের কঠোর অবস্থান, চার ঘন্টা পর পরিস্থিতি অনেকটা শান্ত

বেরোবি সংবাদদাতা, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০২৬, ১০:১৯ এএম
‎বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ছাত্রদলের অবস্থান কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে । ছবি: আরটিভি

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ছাত্রদলের অবস্থান কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কয়েক ঘণ্টা উত্তেজনা বিরাজ করার পর মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাতের দিকে ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি অনেকটাই শান্ত হয়েছে। সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ক্যাম্পাসজুড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। এতে রংপুর মহানগর ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরাও অংশ নেন। রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত কর্মসূচি চলতে দেখা যায়।

এ সময় বেরোবি ছাত্রদলের কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে উপস্থিত ছিলেন রংপুর মহানগর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জহির আলম নয়ন, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ইমরান হোসেন, সদস্য সচিব নূর হাসান সুমন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব জাকারিয়া ইসলাম জিম, জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শরীফ নেওয়াজ জোহা, সদস্য সচিব আফতাবুজ্জামান সুজন, মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক আল ইমরান সুজন, সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম রবি এবং অন্যান্য নেতাকর্মীরা।

আরও পড়ুন
Web-Image.
‎বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ছাত্রদলের অবস্থান কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে । ছবি: আরটিভি

কর্মসূচিতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করেন। এ সময় একটি ব্যানার টাঙিয়ে তাতে জুতা নিক্ষেপ করতেও দেখা যায়।

রাত ৮টার দিকে বক্তব্যে জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শরীফ নেওয়াজ জোহা বলেন, ছাত্রদল লড়তে জানে, জীবন দিতেও জানে। কেউ রংপুরকে অশান্ত করার চেষ্টা করলে তার দায়ভার তাদেরই নিতে হবে।

রংপুর মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক বলেন, আমরা সতর্ক করে দিতে চাই, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবিরের কোনো জায়গা নেই।

অন্যদিকে, ইসলামী ছাত্রশিবির বিকেল সাড়ে ৫টায় কর্মসূচির ঘোষণা দিলেও রাত পর্যন্ত ক্যাম্পাসে তাদের উপস্থিতি দেখা যায়নি।

Web-Image
‎বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ছাত্রদলের অবস্থান কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে । ছবি: আরটিভি

এদিকে, সম্ভাব্য সংঘর্ষের আশঙ্কায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে।

এর আগে সোমবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে অন্তত পাঁচজন আহত হন। ওই ঘটনার পর থেকেই ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

পরিস্থিতি বিবেচনায় মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. ফেরদৌস রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অতিথি, দর্শনার্থীসহ সব ধরনের বহিরাগতদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। একই সঙ্গে বাইসাইকেল, মোটরসাইকেল, রিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়িসহ বিভিন্ন যানবাহনের প্রবেশেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। আমরা সার্বক্ষণিক নজরদারিতে আছি। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত এবং আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী বলেন, সোমবারের (৩ আগস্ট) ঘটনার পর দুই ছাত্র সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। আজকের (৪ আগস্ট) কর্মসূচি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নয়, এটি রংপুর মহানগর ছাত্রদলের কর্মসূচি।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, ক্যাম্পাসে স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বিধবা নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ রাবি অধ্যাপকের বিরুদ্ধে
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক বিধবা নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুর রহমান। তিনি ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিভাগের সভাপতি। গত ১৫ সেপ্টেম্বর অভিযোগকারী নারী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, লিগ্যাল সেল ও সাংবাদিকদের কাছে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেন। তবে এর তিন দিন পর, আজ ১৯ সেপ্টেম্বর ওই নারী অভিযোগটি প্রত্যাহার করেছেন। অভিযোগপত্রে তিনি লিখেছেন, প্রফেসর মাহবুবুর রহমান বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে গত এক বছর ধরে যৌন সম্পর্ক করেছেন, কিন্তু এখন বিয়ে নিয়ে তালবাহানা করছেন। তাই আমার অভিযোগ আমলে নিয়ে এ বিষয়ে ব্যবস্থা করার জন্য আকুল আবেদন জানাই। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী নারী বলেন, আমাদের বাসা একই এলাকায়। আমাদের মধ্যে একটা আত্মীয়তার সম্পর্কও ছিল। এ ছাড়া আমার মেয়ে রাজশাহীতে পড়াশোনা করে। আমার স্বামী মারা যাওয়ার পর আমি রাজশাহী চলে আসি। এখানে মেয়েকে নিয়ে একটা বাসায় থাকি। পরিচিত হওয়ায় মাহবুব স্যারের সঙ্গে মাঝে মধ্যে দেখা-সাক্ষাৎ হতো। এভাবে কিছুদিন চলার পর হঠাৎ তিনি আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। তখন আমি “না” করে দিই। তার স্ত্রী-সন্তান আছে, তারা বিদেশে থাকেন—এটা আমি জানতাম। আমাকে তিনি বলেন, তাদের (নিজের পরিবার) সঙ্গে পাঁচ বছর ধরে তার কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি আরও বলেন, কিছুদিন পর আমার মেয়ে গ্রামের বাসায় গেলে তিনি আমাকে তার বাসায় ডাকেন এবং বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আমার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক করেন। এরপর আরও দু-তিন দিন আমাকে বাসায় নিয়ে যান। আমি বিয়ের কথা বললে একদিন আমাকে থাপ্পড় দেন। ঘটনা জানাজানি হওয়ার ভয়ে তিনি আমাকে বিয়ে করতে রাজি হন। এরপর তিনি আমার বাড়িতে গিয়ে আমার কাছে মাফ চেয়ে বিয়ে করেন। সে সময় পাঁচজন শিক্ষার্থী সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে একজন আমাদের বিয়ে পড়ান। তবে পরদিন কাবিন রেজিস্ট্রির সময় তার আগের বৈবাহিক অবস্থার বিষয়টি সামনে এলে তিনি কাবিননামায় স্বাক্ষর না করেই চলে যান। এখন তিনি আমাকে স্ত্রীর স্বীকৃতি দিচ্ছেন না। আমি স্ত্রীর স্বীকৃতি চাই—এটাই আমার দাবি। তবে অভিযোগের তিন দিন পর তা প্রত্যাহার করেন ওই নারী। প্রত্যাহারপত্রে তিনি লিখেছেন, প্রফেসর ড. মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে আমি অবৈধ সম্পর্কের যে অভিযোগটি করেছিলাম, সেটা ব্যক্তিগত ঝামেলা এবং অন্যদের প্ররোচনায় করা হয়েছিল। উনি সম্পূর্ণ নির্দোষ, আমার আর কোনো অভিযোগ নেই। আমি অভিযোগটি প্রত্যাহার করে নিলাম। এ বিষয়ে তিনি সাংবাদিককে বলেন, একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। এখন সব ঠিক হয়ে গেছে। আপনাদের কিছু করতে হবে না। তাদের বিয়ে পড়ানো সেই সাবেক শিক্ষার্থীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমরা সেদিন পাঁচজন উপস্থিত ছিলাম। তাদের বিয়ে হয়েছিল। মাঝে একটা সমস্যা হয়েছিল, তা এখন মিটমাট হয়ে গেছে। এ বিষয়ে জানতে ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুর রহমানকে কল দিলে তিনি ‘ব্যস্ত আছি’ বলে কল কেটে দেন। পরবর্তীতে তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, অভিযোগপত্রটি আমরা পেয়েছি। আমরা এ বিষয়ে কাজ করছি। প্রাথমিক সত্যতা পেলে সিদ্ধান্ত জানাতে পারব। আরটিভি/টিআর
বিধবা নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ রাবি অধ্যাপকের বিরুদ্ধে
আওয়ামী লীগের ‘লকডাউন’ কর্মসূচির প্রতিবাদে জবি ছাত্রদলের বিক্ষোভ
নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কথিত ‘লকডাউন’ কর্মসূচির প্রতিবাদে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্রদলের একাংশ বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে।
আওয়ামী লীগের ‘লকডাউন’ কর্মসূচির প্রতিবাদে জবি ছাত্রদলের বিক্ষোভ
অপ্রতীমের জানাজা আগামীকাল সকাল ১০টায়
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে নিহত কিশোর ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের জানাজার নামাজ আগামীকাল রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের মাঠে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম।
অপ্রতীমের জানাজা আগামীকাল সকাল ১০টায়
অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে কুবিতে রোববার ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশরাত শাহরিয়ার অপ্রতিমের নৃশংস হত্যাকাণ্ডে আগামীকাল রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘সাধারণ শোক’ ঘোষণা করা হয়েছে। এদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগের ক্লাস ও পূর্বনির্ধারিত পরীক্ষা স্থগিত থাকবে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. মজিবুর রহমান মজুমদার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অপ্রতিমের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার গভীরভাবে শোকাহত ও স্তব্ধ। বিশ্ববিদ্যালয় এ বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে এবং মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছে। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামীকাল ২০ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘সাধারণ শোক’ ঘোষণা করা হয়েছে। এদিন সম্মানিত শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অবগতির জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগের ক্লাস ও পূর্বনির্ধারিত পরীক্ষাসমূহ স্থগিত থাকবে। স্থগিত পরীক্ষার নতুন সময়সূচি পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগ নোটিশের মাধ্যমে জানাবে। আরটিভি/টিআর
অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে কুবিতে রোববার ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত
ব্যাকটেরিয়ার কালচারেই যবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের ‘বৈজ্ঞানিক শিল্প’
চোখে দেখা যায় না, অথচ জীবনের প্রতিটি স্তরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে আছে—অণুজীবের সেই অদৃশ্য জগত এবার পেট্রি ডিশে দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। কখনো গোলাপ, কখনো গাছের মতো শাখা-প্রশাখা, কখনো কোষ কিংবা বিভিন্ন প্রতীকী অবয়ব। রং-তুলির আঁচড় নয়, এসব নকশা তৈরি হয়েছে বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়ার কালচার ও স্বাভাবিক বৃদ্ধিকে কাজে লাগিয়ে। আর এই ব্যতিক্রমী বৈজ্ঞানিক উপস্থাপনার পেছনে রয়েছে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের হাত। আন্তর্জাতিক অণুজীব দিবস উপলক্ষে অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত নানা কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রদর্শিত হয় এসব ব্যাকটেরিয়াল কালচার। র‍্যালি, সমাবেশ, অণুজীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের গ্র্যান্ড ফাইনাল, ইনোভেশন শোকেস, ‘মাইক্রোবস ডিসকভারি কর্নার’ ও বায়োফার্টিলাইজার প্রদর্শনীর পাশাপাশি পেট্রি ডিশে তৈরি এসব ফর্মেশন বিশেষভাবে নজর কাড়ে দর্শনার্থীদের। শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন কালচার মিডিয়ায় ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি ঘটিয়ে তৈরি করেছেন নান্দনিক এসব ফর্মেশন। কোথাও ব্যাকটেরিয়ার কলোনি ছড়িয়ে পড়েছে গাছের ডালপালার মতো, কোথাও ফুটে উঠেছে ফুলের অবয়ব। আবার কোনো পেট্রি ডিশে দেখা গেছে কোষের প্রতিকৃতি, কোনোটি যেন প্রকৃতির কোনো দৃশ্য। দূর থেকে দেখলে এগুলোকে সাধারণ শিল্পকর্ম মনে হলেও কাছে গেলেই বোঝা যায়, এসবের প্রতিটি রেখা ও নকশার পেছনে রয়েছে অণুজীবের বৃদ্ধি। প্রদর্শনীতে থাকা পেট্রি ডিশগুলোর একটিতে দেখা যায় ‘The Eternal Tree’—ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিকে ব্যবহার করে গাছের মতো একটি বিস্তৃত ফর্মেশন। অন্যটিতে ‘The Prokaryotic Cell’, যেখানে অণুজীববিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ একটি ধারণাকে শিল্পের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে। রয়েছে ‘Roses’, ‘The Phoenix’, ‘The Pursuit of Knowledge’, ‘Swimming’ ও অন্যান্য সৃজনশীল ফর্মেশনও। প্রতিটি কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কালচার মিডিয়া ও অণুজীবের পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। শুধু নান্দনিকতা নয়, এসব প্রদর্শনীতে অণুজীববিজ্ঞানের ব্যবহারিক শিক্ষাটিও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। Escherichia coli, Staphylococcus aureus, Staphylococcus epidermidis, Klebsiella pneumoniae এবং বিভিন্ন Vibrio প্রজাতির ব্যাকটেরিয়ার কালচার প্রদর্শনের পাশাপাশি E. coli-এর জন্য MacConkey ও EMB এবং Vibrio প্রজাতির জন্য TCBS-এর মতো কালচার মিডিয়ায় অণুজীবের বৈশিষ্ট্যপূর্ণ বৃদ্ধিও দেখানো হয়েছে। বিভিন্ন পেট্রি ডিশে ব্যাকটেরিয়ার কলোনির রং, আকার, বিস্তার ও বৃদ্ধির ধরনও আলাদা। ফলে একই প্রদর্শনীতে দর্শনার্থীরা যেমন অণুজীবের বৈচিত্র্য সম্পর্কে ধারণা পেয়েছেন, তেমনি শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে কালচার, পর্যবেক্ষণ ও গবেষণার অভিজ্ঞতারও একটি বাস্তব চিত্র দেখতে পেয়েছেন। অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের আয়োজিত এই প্রদর্শনীর মূল আকর্ষণ ছিল অদৃশ্যকে দৃশ্যমান করে তোলা। সাধারণত ব্যাকটেরিয়া বলতে চোখের সামনে কোনো দৃশ্যমান অবয়ব কল্পনা করা কঠিন। কিন্তু উপযুক্ত কালচার মিডিয়া ও নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে তাদের বৃদ্ধিকে কাজে লাগিয়ে শিক্ষার্থীরা সেই অদৃশ্য জগতকেই পেট্রি ডিশে নান্দনিক রূপ দিয়েছেন। এ আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতায় তাই বিজ্ঞান ও শিল্পের এক ভিন্ন ধরনের মেলবন্ধন দেখা গেছে। একদিকে তারা শিখেছেন কীভাবে নির্দিষ্ট কালচার মিডিয়ায় ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণ করতে হয়, অন্যদিকে সেই বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়াকেই ব্যবহার করেছেন দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করার মতো সৃজনশীল উপস্থাপনায়। আন্তর্জাতিক অণুজীব দিবসের মূল আয়োজনেও অণুজীবের গুরুত্ব, গবেষণা ও জনসচেতনতার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান র‍্যালিতে শিক্ষার্থীদের প্রদর্শিত ব্যানার ও প্ল্যাকার্ডে বিশেষ করে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (AMR)-সংক্রান্ত সচেতনতামূলক বার্তার প্রশংসা করেন। বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক ড. সেলিনা আক্তারও মানবদেহ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অণুজীবের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। সেই বড় আয়োজনের ভেতরে পেট্রি ডিশে তৈরি এসব ব্যাকটেরিয়াল ফর্মেশন যেন অণুজীববিজ্ঞানের আরেকটি গল্প বলেছে—যে জীবকে খালি চোখে দেখা যায় না, তাকেও বিজ্ঞান, পর্যবেক্ষণ ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে মানুষের সামনে দৃশ্যমান করে তোলা সম্ভব। যবিপ্রবির অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের এই আয়োজন তাই কেবল একটি প্রদর্শনী নয়; এটি তাদের ব্যবহারিক জ্ঞান, গবেষণামুখী চিন্তা ও সৃজনশীলতারও এক অভিনব প্রকাশ। আরটিভি/টিআর
ব্যাকটেরিয়ার কালচারেই যবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের ‘বৈজ্ঞানিক শিল্প’
আরও পড়ুন
বেরোবি শহীদ ফেলানী হলের রিডিং ও সেমিনার রুমের উদ্বোধন
ডেঙ্গু প্রতিরোধে বেরোবি ছাত্রদলের পরিচ্ছন্নতা অভিযান
২ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করল ছাত্রদল
সরকারি নিয়োগে ভাইভায় নম্বর বাড়ানোর প্রতিবাদে বেরোবিতে বিক্ষোভ