ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

সংঘাত এড়িয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কৌশলী অবস্থানে ছাত্রদল-ছাত্রশিবির

রাবি সংবাদদাতা, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০২৬, ০৫:২০ পিএম
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক। ছবি: আরটিভি

দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘাত, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও উত্তেজনার ঘটনা ঘটলেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) এখন পর্যন্ত দুই সংগঠনের মধ্যে সরাসরি সংঘাতের তেমন কোনো চিত্র দেখা যায়নি। বরং ক্যাম্পাসে নিজেদের সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও মুখোমুখি সংঘাত এড়িয়ে অপেক্ষাকৃত কৌশলী অবস্থান রয়েছে উভয় সংগঠন।

সাম্প্রতিক সময়ে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, সরকারি আলিয়া মাদ্রাসাসহ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা আলোচনায় এসেছে। ক্যাম্পাসগুলোতে এসব সংঘাতের পর রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

তবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত অনেকটাই ভিন্ন। ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও তা সরাসরি সংঘাতে রূপ নেয়নি। উভয় সংগঠনই নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানো, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে ক্যাম্পাসে অবস্থান জানানোর দিকে বেশি মনোযোগী বলে মনে করছেন ক্যাম্পাস সংশ্লিষ্টরা।

যদিও এর আগে হল দখলের অভিযোগ এনে উভয় সংগঠন একে অপরকে দোষারোপ করেছে। এ নিয়ে মানববন্ধনও করেছে শাখা ছাত্রশিবির। তবে ছাত্রদল সরাসরি অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং ছাত্রশিবির উদ্দেশ্যপ্রণোধিত ভাবে মিথ্যাচার করছে বলে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ জানানো হয়।

এদিকে গত কয়েকদিন আগে প্রেমঘটিত একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রক্টর অফিসে রাকসু জিএস কর্তৃক এক শিক্ষার্থী কে প্রকাশ্যে মারধর এরপর রাকসু ভবনে হামলা পরবর্তীতে অভিযুক্তদের লাইব্রেরিতে ডুকে মারধর ঘটনায় ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজমান ছিলো। এ সংঘর্ষের জন্য ছাত্রদল শিবিরকে দায়ী করে করে ক্যাম্পাসে বিভিন্ন কর্মসূচিও পালন করে।

আরও পড়ুন

মুখোমুখি অবস্থান নয়, সংগঠন গোছানোর চেষ্টা

রাবিতে ছাত্ররাজনীতির সাম্প্রতিক বাস্তবতায় আবাসিক হল, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাংগঠনিক যোগাযোগ, বিভিন্ন ইস্যুতে কর্মসূচি এবং কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদকে ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দুই সংগঠনই নিজেদের প্রভাব ধরে রাখতে চাইছে। তবে সরাসরি সংঘাতে গেলে সাংগঠনিক ও রাজনৈতিকভাবে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে—এমন হিসাব থেকেই উভয় পক্ষ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টরা।

অন্য ক্যাম্পাসের সংঘাতেও রাবিতে সতর্কতা

দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল-শিবির সংঘাতের পর রাবিতেও বিষয়টি নিয়ে সতর্কতা তৈরি হয়েছে। এর আগেও দেশের অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষের প্রতিবাদে রাবি ছাত্রদল কর্মসূচি পালন করেছে।

ক্যাম্পাস সংশ্লিষ্টদের মতে, বাইরে সংঘাতের ঘটনা ঘটলেও রাবিতে সেটির সরাসরি প্রতিফলন না ঘটিয়ে দুই পক্ষই হয়তো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। বিশেষ করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘাতবিরোধী মনোভাব এবং ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখার চাপও সংগঠনগুলোর অবস্থানে প্রভাব ফেলছে।

যা বলছেন ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের শীর্ষনেতারা

বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাসের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে আপনি বা আপনার দল কি ভাবছে এমন প্রশ্নের জবাবে শাখা ছাত্রদল সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী আরটিভিকে বলেন, ছাত্রদল একটি বিশাল ও ঐতিহ্যবাহী ছাত্রসংগঠন। এই সংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মী বিভিন্ন সময়ে গুম, খুন, নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। সর্বশেষ জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানেও ছাত্রদলের ১৪২ জন নেতাকর্মী শাহাদাত বরণ করেছেন। ফলে সাধারণ শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও দেশবাসীর ছাত্রদলের প্রতি অনেক প্রত্যাশা রয়েছে। সেই প্রত্যাশার জায়গা থেকেই ছাত্রদলকে অত্যন্ত দায়িত্বশীল আচরণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয়। কারও উস্কানিতে ছাত্রদল সিদ্ধান্ত নেয় না, নেবেও না। পরিস্থিতি, শিক্ষার্থীদের স্বার্থ, সংগঠনের নীতি ও দেশের বৃহত্তর স্বার্থ বিবেচনা করেই ছাত্রদল তার কর্মসূচি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। আমাদের লক্ষ্য কোনো সংঘাত সৃষ্টি করা নয়, বরং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অন্যায়ের প্রতিবাদ করা এবং ক্যাম্পাসে একটি নিরাপদ, গণতান্ত্রিক ও সহাবস্থানমূলক পরিবেশ নিশ্চিত করা।

তবে বিগত সময়ে ক্যাম্পাসে সংঘর্ষ নিয়ে তিনি কিছুটা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং বিচারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, রাবিতে কিছুদিন আগেও সংঘাত হয়েছে, বিশেষ করে শিবির বনাম সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে। শিক্ষার্থীদের ওপর যে কোনো হামলা, নিপীড়ন বা অন্যায়ের বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে ছাত্রদল শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে সংহতি জানিয়ে প্রতিবাদ করছে। আমরা চাই, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

তিনি আরও বলেন, শিবির মানেই সন্ত্রাস এটা দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত সত্য। তাদের আদর্শ ও রাজনৈতিক দর্শন নিয়ে দেশের মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন রয়েছে, বিশেষ করে পাকিস্তানপন্থী রাজনীতির ঐতিহাসিক ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। অপরদিকে, ছাত্রদলের রাজনৈতিক বিশ্বাসের মূল জায়গা হলো,। সবার আগে বাংলাদেশ, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র। তাই আদর্শগতভাবে ছাত্রদল কোনো বিদেশমুখী বা দেশবিরোধী রাজনৈতিক দর্শনকে সমর্থন করে না।

একই বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মেহেদী হাসান আরটিভিকে বলেন, ক্যাম্পাসে গনতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখার জন্য বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্রশিবির সবসময় কাজ করে যাচ্ছে। সে জায়গা থেকে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি রাবি শান্ত ক্যাম্পাস এটা যেনো এভাবেই থাকে। আমরা কোনো সংঘাতে জড়াতে চাইনা, সংঘাতের দিকে যেতেও চাইনা। শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে যা যা করা দরকার তাই করতেছি এবং ভবিষ্যতেও তাই করবো।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের উপর আঘাত করা হচ্ছে। সে জায়গা থেকে আমরা সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাচ্ছি, এখানে যেনো কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। আমাদের শান্ত এই রাবি যেনো কোনো প্রকার ক্ষতির সম্মুখীন না হয়। শিক্ষার্থীরা যেনো অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে তাদের পড়াশোনা করতে পারে, আমরা এর জন্য খুবই আন্তরিক।

তিনি আরও বলেন, কেউ যদি কোনো উস্কানিমূলক কথাবার্তা বা ফেসবুকে উস্কানীমূলক পোস্ট করে তাহলে আমরা সে উস্কানিতে পা দেবো না। কেউ যদি সংঘাতে জড়াতেও চাইও তাহলে আমরা চেষ্টা করবো সেটাকে কিভাবে প্রতিরোধ বা প্রতিহত করা যায়।

যা ভাবছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন

ক্যাম্পাসে সুষ্ঠু রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখতে সর্বদা সচেতন রয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান আরটিভিকে বলেন, এখন পর্যন্ত ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে বলে আমরা মনে করছি। যেহেতু রাজনৈতিকভাবে সংঘাতগুলো তৈরি হচ্ছে বেশিরভাগ তাই আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উভয়পক্ষের সাথে যোগাযোগ রাখছি। এখন পর্যন্ত আমরা কোনো ধরনের আশংকা দেখছি না। যদি কোনোভাবে সংঘাত হয়ও তাহলে আমাদের পুলিশ প্রশাসন আছে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য। তবে ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের সংঘাত হওয়ার বিন্দুমাত্র কোনো আশংকা এখন পর্যন্ত নেই।

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
হলে সিট না পেয়ে থাকতে হচ্ছে বাইরে, দিতে হচ্ছে ‘বড় মাশুল’
প্রতিষ্ঠার দুই দশক পেরিয়ে গেলেও শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারেনি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ফলে শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে সবশেষ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা ৯ হাজার ৮১৪ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৪৮০৫ জন এবং ছাত্রী ৫০০৯ জন। বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে দুইটি ছাত্র হল ও দুটি ছাত্রী হল রয়েছে। এসব হলে মোট ২৮৫৮ জন শিক্ষার্থীর আবাসনের সুযোগ রয়েছে। মোট শিক্ষার্থীর মাত্র ২৯ দশমিক ১২ শতাংশ আবাসন সুবিধা পাচ্ছেন। বাকি প্রায় ৭০ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী আবাসন সুবিধা থেকে বঞ্চিত।  তথ্য অনুযায়ী, ছাত্রদের দুইটি হলে মোট আসন রয়েছে ১৪৯৪টি। এতে প্রায় ৩১.০৯ শতাংশ ছাত্র হলে থাকার সুযোগ পাচ্ছেন। অন্যদিকে ছাত্রীদের দুটি হলে রয়েছে ১৩৬৪টি আসন। এতে প্রায় ২৭.২৩ শতাংশ ছাত্রী থাকার সুযোগ পাচ্ছেন।  শুধু তাই নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বল্প আসনের হলগুলোতে রয়েছে নানান সমস্যা। শিক্ষার্থীরা বলছেন, হলে সহজে সিট পাওয়া যায় না। দ্বিতীয় বর্ষে সিট পেলেও নানান ভোগান্তির শিকার হতে হয়। আর স্নাতকোত্তরে হলে সিট পেতে দৌড়ঝাঁপ করা লাগে। এরপরও সবাই পান না। এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আবাসন সংকটের কারণে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী মেস কিংবা বাসা ভাড়া করে থাকছেন। এই সংকট কাজে লাগিয়ে ক্যাম্পাসের আশপাশের এলাকাগুলোতে যত্রতত্র গড়ে উঠেছে মেস ও ফ্ল্যাট ভাড়া দেওয়ার রমরমা ব্যবসা। এসব মেস ও বাসায় প্রতিনিয়ত লোডশেডিং, বিশুদ্ধ পানির সংকট, স্যানিটেশন ব্যবস্থা না থাকায় মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। অনাবাসিক শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের ভাড়া বাড়ি বা মেসে থেকে আসা-যাওয়া করেন। তাদের অনেকেই বলেছেন, বাড়ি ও মেসের ভাড়া অনেক বেড়ে গেছে। খরচ জোগাতে গিয়ে তাদের হিমশিম খেতে হয়। এ ছাড়া মেসে খাবারের মানও তেমন ভালো নয়। ফিল্ম এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের অনাবাসিক শিক্ষার্থী ইরিন জাহান ইকরা বলেন, বিদ্যুৎ সংকট এখন দেশের জাতীয় সমস্যায় পরিণত হয়েছে। হলে সিট না হওয়ার কারণে বাইরে মেসে থাকতে হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে বিদ্যুৎ থাকলেও আমরা অনাবাসিক শিক্ষার্থীরা চরম বিদ্যুৎ সংকটে ভুগছি, যা আমাদের পড়াশোনায় ভীষণভাবে প্রভাব ফেলছে। মেসের ভাড়া এবং সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করার কারণে প্রতি মাসে অনেক বেশি খরচ হচ্ছে। যা বহন করা একজন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান হিসেবে কষ্টকর বটে। এছাড়া বাহিরের মেছগুলোতে মেয়েদের নিরাপত্তাজনিত সমস্যাও রয়েছে।  নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী আহমেদ আসিফ আনাস জানান, লোডশেডিং সমস্যা সঙ্গে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল আর বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশের বাসা গুলার পরিবেশ ও মান অনুযায়ী ভাড়া বেশি। কোনো কিছুর সুযোগ সুবিধা তেমন নেই বললেই চলে। বাসার কোনো সুবিধা নেই আবার কিছু খারাপ বা নষ্ট হলে নিজেরা কোনো দায়ভার নেয় না। বাড়িওয়ালাদের ব্যবহার শিক্ষার্থীবান্ধব না। এসব কারণে পড়াশোনারও ক্ষতি হচ্ছে।  এ বিষয়ে ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. মো. আশরাফুল আলম বলেন, আমাদের চারটি হল রয়েছে এবং আরও দুটি হল নির্মাণাধীন রয়েছে। আবাসিক সংকট রয়েছে, এ বিষয়ে আমি অবগত। আমরা এর আগেও প্রশাসনকে নির্মাণাধীন হল দুটি দ্রুত চালু করার জন্য জানিয়েছি। প্রশাসন আমাদের আশ্বস্ত করেছে, দ্রুতই হল দুটি চালু হবে। আশা করছি, হল দুটি চালু হলে আবাসিক সংকট অনেকটাই কেটে যাবে। এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মোশারফ হোসেন বলেন, অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় আমি মনে করি, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের আবাসনের ক্ষেত্রে বেশ এগিয়ে আছে। আমাদের চারটি হলে মোট শিক্ষার্থীর ৩০ শতাংশের অধিক শিক্ষার্থী অবস্থান করতে পারে। এছাড়াও আমাদের নতুন দুটি হল তৈরি হচ্ছে। আমাদের নতুন এই দুটি হল সেপ্টেম্বর মাসেই হস্তান্তর করার কথা।  তিনি বলেন, আমরা আশা করি, এ বছরই সেখানে অ্যালটমেন্ট দিতে পারব। হলের প্রায় সব কাজই শেষ। আমরা ফার্নিচারেরও অর্ডার দিয়ে দিয়েছি। এই মাসে হল দুটি বুঝে পেলে সেখানে আরও ৩ হাজার শিক্ষার্থীর আবাসন নিশ্চিত হবে। এতে আমরা ৫০ শতাংশ আবাসন সুবিধার আওতায় চলে আসব। আরটিভি/এসএস
হলে সিট না পেয়ে থাকতে হচ্ছে বাইরে, দিতে হচ্ছে ‘বড় মাশুল’
ঠিকানা সংকটে জবি শিক্ষার্থীরা, হারাচ্ছেন সময়-স্বস্তি
বিশ্ববিদ্যালয় মানে শুধু শ্রেণিকক্ষ, লাইব্রেরি কিংবা পরীক্ষা নয়। বিশ্ববিদ্যালয় মানে শিক্ষার্থীর বেড়ে ওঠার জায়গা, নিজের মতো করে সময় কাটানোর সুযোগ এবং একটি নিরাপদ ঠিকানা। কিন্তু জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশের কাছে সেই ঠিকানার গল্প এখনও অসম্পূর্ণ। দীর্ঘদিনের আবাসন সংকটে কেউ থাকছেন দূরের মেসে, কেউ প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা পথ পাড়ি দিয়ে ক্যাম্পাসে আসা-যাওয়া করছেন। আবার কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আবাসন-সংশ্লিষ্ট উদ্যোগের সীমিত সুবিধার ওপর নির্ভর করছেন। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে বাড়তি বাসাভাড়া, খাবার ও যাতায়াতের খরচ, শারীরিক ক্লান্তি এবং মানসিক চাপ। পুরান ঢাকার ব্যস্ত নগরজীবনের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসন সংকট তাই কেবল থাকার জায়গার সমস্যা নয়। এটি তাদের সময়, অর্থ, পড়াশোনা এবং স্বাভাবিক বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ব্যস্ত শহরে অস্থায়ী জীবন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের চারপাশে পুরান ঢাকার ব্যস্ততা। সরু সড়ক, যানবাহনের চাপ, মানুষের ভিড় আর প্রতিদিনের কর্মব্যস্ততার মধ্যেই চলে শিক্ষার্থীদের জীবন। ক্লাস শেষ হওয়ার পরও অনেকের দিন শেষ হয় না। শুরু হয় বাস ধরার তাড়া, যানজট পেরিয়ে বাসায় ফেরার সংগ্রাম কিংবা মেসে ফিরে যাওয়ার দীর্ঘ পথ। কেউ থাকেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের এলাকায়, কেউ আবার মিরপুর, উত্তরা, সাভার, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ কিংবা মুন্সিগঞ্জের মতো দূরবর্তী এলাকা থেকে প্রতিদিন ক্যাম্পাসে আসা-যাওয়া করেন। ফলে দিনের একটা উল্লেখযোগ্য সময় কেটে যায় রাস্তায়। দীর্ঘ যাত্রার প্রভাব শুধু সময়ের ওপরই পড়ে না, ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্ট, পরীক্ষা কিংবা গবেষণামূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রতিদিনের যাতায়াতও শিক্ষার্থীদের জীবনের একটি বড় অংশ হয়ে দাঁড়ায়। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ক্যাম্পাসে পৌঁছানোর পর অনেকের শরীর-মনেই থাকে ক্লান্তির ছাপ। হল শুধু থাকার জায়গা নয়, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনেরও অংশ একজন শিক্ষার্থীর কাছে হলের অর্থ কেবল একটা বিছানা বা মাথা গোঁজার জায়গা নয়। হল মানে রাত জেগে পড়াশোনা করার সুযোগ, পরীক্ষার আগে বন্ধুদের সঙ্গে প্রস্তুতি, অসুস্থ হলে পাশে কাউকে পাওয়া কিংবা ক্লাস শেষে ক্যাম্পাসেই থেকে যাওয়ার সুযোগ। হল মানে অনেকের কাছে দ্বিতীয় একটি পরিবার। এখানেই তৈরি হয় বন্ধুত্ব, স্মৃতি ও বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের নানা অভিজ্ঞতা। ক্যাম্পাসের সঙ্গে শিক্ষার্থীর সম্পর্কও আরও গভীর হয়। কিন্তু জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী এখনও সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত। বিশেষ করে ছেলে শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো আবাসিক হল না থাকায় তাদের বড় অংশকে বাইরের মেস কিংবা পরিবারের বাসার ওপর নির্ভর করতে হয়। নারী শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক সুবিধা থাকলেও শিক্ষার্থীর সংখ্যার তুলনায় তা প্রয়োজনের তুলনায় সীমিত। পুরোনো সংকট, দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সংকটের ইতিহাসও বেশ পুরোনো। বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের আগে জগন্নাথ কলেজের অধীনে থাকা কয়েকটি হল পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন কারণে শিক্ষার্থীদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। সময়ের সঙ্গে এসব আবাসিক স্থাপনা নিয়ে দখল, নিয়ন্ত্রণ ও মালিকানা সংক্রান্ত নানা জটিলতাও তৈরি হয়েছে। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর শিক্ষার্থীরা নতুন করে হল উদ্ধারের দাবিতে আন্দোলনে নামেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন সময়ে আইনি সহায়তা ও উদ্যোগের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা— নিরাপদ ও পর্যাপ্ত আবাসনের— বাস্তবায়ন এখনও পুরোপুরি দৃশ্যমান নয়। ফলে বছরের পর বছর ধরে জবিয়ানদের কাছে হলের দাবি শুধু একটি আন্দোলনের বিষয় নয়, এটি তাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনের সঙ্গে যুক্ত একটি প্রশ্ন। সরকার যায়, প্রশাসন যায় কিন্তু জবিয়ানদের এই হলের সমস্যা সমাধান হয় না। শুধু প্রতিশ্রুতির মধ্যেই থমকে যায় জবিয়ানদের জীবন। মেসজীবনে বাড়ছে খরচ, চাপ পড়ছে পকেটে হল না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় মেসে থাকা অনেক শিক্ষার্থীর জন্য এক ধরনের বাধ্যবাধকতা। পুরান ঢাকা, সূত্রাপুর, লক্ষ্মীবাজার, গেন্ডারিয়া, যাত্রাবাড়ীসহ আশপাশের এলাকায় সিট ভাড়া করে থাকেন অনেকে। মেসে থাকার সঙ্গে যুক্ত হয় বাসাভাড়া, খাবার, বিদ্যুৎ, পানি, ইন্টারনেট ও যাতায়াতের খরচ। সব মিলিয়ে একজন শিক্ষার্থীর মাসিক ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। শিক্ষার্থীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মোটামুটি একটি মেসে থাকা ও দৈনন্দিন খরচ মিলিয়ে মাসে প্রায় ১০ হাজার টাকা বা তারও বেশি ব্যয় হতে পারে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য এই বাড়তি ব্যয় বড় চাপ হয়ে দাঁড়ায়। কেউ পরিবারের সীমিত আয়ের ওপর নির্ভর করেন, আবার কেউ নিজের খরচ চালাতে টিউশনি বা অন্য কাজ করেন। ফলে অনেক শিক্ষার্থীকে পড়াশোনার পাশাপাশি একাধিক টিউশনি করতে হয়। এতে অর্থনৈতিক চাপ কিছুটা সামাল দেওয়া গেলেও কমে যায় পড়াশোনা, বিশ্রাম কিংবা নিজের দক্ষতা উন্নয়নের সময়। মেসজীবনের সমস্যা শুধু অর্থনৈতিক নয়। ব্যক্তিগত পরিসরের অভাব, পড়াশোনার উপযুক্ত পরিবেশ, নিরাপত্তা এবং মানসিক স্বস্তির বিষয়গুলোও শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন ভাবতে হয়। প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা ব্যয় হচ্ছে রাস্তায় আবাসন সংকটের আরেকটি বড় প্রভাব পড়ে যাতায়াতে। দূরবর্তী এলাকা থেকে প্রতিদিন ক্যাম্পাসে আসা শিক্ষার্থীদের দিনের একটা বড় অংশ চলে যায় রাস্তায়। ঢাকার যানজট, গণপরিবহনের ভিড় এবং দীর্ঘ যাত্রা মিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছানোর আগেই অনেকের দিনের শক্তি ক্ষয় হয়ে যায়। সকালে বাস ধরার জন্য তাড়াহুড়া, এরপর যানজট পেরিয়ে ক্লাসে পৌঁছানো এবং দিন শেষে আবার একই পথ ধরে বাড়ি ফেরা— এই বাস্তবতা অনেক শিক্ষার্থীর নিত্যদিনের সঙ্গী। বাসায় ফিরে আবার অনেককে টিউশনি করতে হয়। ফলে পড়ার টেবিলে বসার মতো মানসিক ও শারীরিক শক্তি অনেক সময় অবশিষ্ট থাকে না। ক্লান্ত শরীর তখন চায় শুধু একটু বিশ্রাম। এর প্রভাব পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের শিক্ষাজীবনেও। ক্লাসের বাইরে লাইব্রেরিতে সময় দেওয়া, গবেষণা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, সংগঠন কিংবা নিজের দক্ষতা উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত সময় অনেকের হাতেই থাকে না। বিকেল গড়াতেই অনেক শিক্ষার্থীর চিন্তা থাকে— কীভাবে দ্রুত বাস ধরবেন, কখন বাসায় পৌঁছাবেন এবং পরদিন আবার কখন বের হতে হবে। ক্যাম্পাসে থেকেও যেন থাকার জায়গা নেই আবাসিক সুবিধা শিক্ষার্থীদের শুধু থাকার সুযোগ দেয় না, এটি তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে একটি স্থায়ী সম্পর্ক তৈরি করে। ক্লাস শেষে ক্যাম্পাসে থাকা, বন্ধুদের সঙ্গে আলোচনা, দলগত পড়াশোনা, সাংস্কৃতিক চর্চা কিংবা রাত পর্যন্ত লাইব্রেরিতে সময় দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয় আবাসনের মাধ্যমে। কিন্তু জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থীকে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ক্যাম্পাস ছাড়ার হিসাব করতে হয়। দূরের বাসায় ফিরতে হবে, মেসে ফিরতে হবে কিংবা শেষ বাস ধরতে হবে— এই চিন্তা অনেক সময় তাদের ক্যাম্পাসকেন্দ্রিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ সীমিত করে। এর সঙ্গে রয়েছে ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত বসার ও অবসর কাটানোর জায়গার সীমাবদ্ধতা। ফলে আড্ডা, দলগত পড়াশোনা, গবেষণা কিংবা সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমের জন্যও অনেক শিক্ষার্থীকে সময় ও জায়গার সংকটের মুখোমুখি হতে হয়। অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়লেও তাদের বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের একটা বড় অংশ যেন ক্যাম্পাসের বাইরেই কাটে। সংকটের মধ্যেও থেমে নেই জবিয়ানদের স্বপ্ন তবে আবাসন সংকট, দীর্ঘ যাতায়াত কিংবা বাড়তি খরচ— কোনোটিই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এগিয়ে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষাকে থামিয়ে রাখতে পারেনি। বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার মধ্যেও তারা অ্যাকাডেমিক ফলাফল, গবেষণা, বিতর্ক, সংস্কৃতি, খেলাধুলা, সংগঠন ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় নিজেদের সক্ষমতার পরিচয় দিয়ে চলেছেন। বিদেশে উচ্চশিক্ষা, বিসিএস, ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতিতেও অনেক শিক্ষার্থী নিজেদের জায়গা তৈরি করছেন। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা ও নিয়োগ পরীক্ষায় জবিয়ানদের সাফল্যও উল্লেখযোগ্যভাবে দেখা গেছে। তবে এই সাফল্যের পেছনে থাকা ব্যক্তিগত সংগ্রামের গল্পটি অনেক সময় আড়ালেই থেকে যায়। দীর্ঘ যাতায়াত, বাড়তি খরচ কিংবা থাকার অনিশ্চয়তার মধ্যেও শিক্ষার্থীরা নিজেদের লক্ষ্য ধরে রাখছেন। প্রয়োজন পরিকল্পিত ও টেকসই আবাসন আবাসন সংকটের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা, অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও মানসিক স্বস্তির বিষয়গুলো সরাসরি জড়িত। তাই এই সমস্যার সমাধানও হতে হবে দীর্ঘমেয়াদি ও পরিকল্পিত। পর্যাপ্ত ও নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করা গেলে শিক্ষার্থীদের দৈনিক যাতায়াতের সময় কমবে, বাড়তি ব্যয়ের চাপ কমবে এবং পড়াশোনা ও গবেষণায় আরও বেশি সময় দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ও সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমেও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়তে পারে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সংকট নিরসনে বিভিন্ন সময়ে নানা উদ্যোগ ও আশ্বাস সামনে এসেছে। এখন শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা— এসব উদ্যোগ যেন বাস্তবায়নের পর্যায়ে পৌঁছায় এবং দীর্ঘদিনের আবাসন সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান তৈরি হয়। কারণ একটি বিশ্ববিদ্যালয় শুধু ভবন, শ্রেণিকক্ষ কিংবা সনদ দিয়ে পূর্ণতা পায় না। শিক্ষার্থীর নিরাপদে থাকা, পড়াশোনা করা, সময়কে নিজের মতো করে কাজে লাগানো এবং স্বাভাবিক পরিবেশে বেড়ে ওঠার সুযোগও একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হলের দাবি তাই কেবল কয়েকটি ভবনের দাবি নয়। এটি সময় বাঁচানোর দাবি, বাড়তি খরচ কমানোর দাবি, নিরাপত্তার দাবি এবং একটি স্বাভাবিক বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের দাবি। হয়তো সেই দিনও আসবে, যখন জবি শিক্ষার্থীদের ক্লাস শেষে বাসের সময় নিয়ে দুশ্চিন্তা করতে হবে না। দূর-দূরান্ত থেকে প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা পথ পাড়ি দিতে হবে না। মেসের বাড়তি খরচ কিংবা থাকার নিরাপত্তা নিয়েও ভাবতে হবে না। সেদিন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শুধু হাজারো তরুণের স্বপ্ন পূরণের প্রতিষ্ঠান থাকবে না— হয়ে উঠবে তাদের নিরাপদ ঠিকানা, আপন ঠিকানা। আরটিভি/এসএস
ঠিকানা সংকটে জবি শিক্ষার্থীরা, হারাচ্ছেন সময়-স্বস্তি
ফজলুর রহমানের বক্তব্য নিয়ে জকসুর প্রতিবাদ
লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে ভাইভায় ফোন করে চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু)।
ফজলুর রহমানের বক্তব্য নিয়ে জকসুর প্রতিবাদ
ববি শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে সওজ কর্মকর্তা, ঘটনা কী
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) সংলগ্ন বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কের সংস্কারকাজ শুরু না হওয়ায় বরিশাল সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলামের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
ববি শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে সওজ কর্মকর্তা, ঘটনা কী
বোনকে ফিরে পেতে খুবি শিক্ষার্থীর আকুতি
‘রূপা কোথায়, জানি না’ নাবালিকা বোনকে ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় এমন অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সবুজ দাস।
বোনকে ফিরে পেতে খুবি শিক্ষার্থীর আকুতি
আরও পড়ুন
ছাত্রদলকে ‘কুত্তার মতো পেটানোর’ হুমকি শিবির নেতার
বেপরোয়া ছাত্রশিবিরকে মুখে ও হাতে লাগাম লাগানোর পরামর্শ দিচ্ছি: নাছির
চাঁদাবাজি করে ধরা খেয়ে দল থেকে বহিষ্কার তালহা
ছাত্রলীগের ২ কর্মীকে ধরে পুলিশে দিল ছাত্রদল