
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) সংলগ্ন দপদপিয়া ব্রিজে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ ইয়াসিন আরাফাতের মৃত্যুর ঘটনায় ক্যাম্পাসে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন দপদপিয়া ব্রিজে বিআরটিসি বাস ও মাহিন্দ্রার মুখোমুখি সংঘর্ষে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে একজন নিহত এবং চারজন গুরুতর আহত হন। আহতদের মধ্যে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ ইয়াসিন আরাফাতও ছিলেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়।
তবে শেষ পর্যন্ত চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ১০টার দিকে মোহাম্মদ ইয়াসিন আরাফাতের মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া যায়। তার মৃত্যুর খবরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।
এদিকে, দুর্ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা দপদপিয়া ব্রিজ এলাকায় সড়ক অবরোধ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। তারা দুর্ঘটনার প্রতিবাদ, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা এবং আহত শিক্ষার্থীদের যথাযথ চিকিৎসার দাবি জানান।
অন্যদিকে, একই সময়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র অধিকার পরিষদের আয়োজনে নবীনবরণ অনুষ্ঠান চলছিল। সেখানে উচ্চ শব্দে গান ও কনসার্ট অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। একদিকে সহপাঠীর জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে শিক্ষার্থীদের সড়কে অবস্থান, অন্যদিকে ক্যাম্পাসে উচ্চ শব্দে কনসার্ট, এমন পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দেয়।
পরবর্তীতে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ইয়াসিন আরাফাতের মৃত্যুর সংবাদ ক্যাম্পাসে পৌঁছালে পরিস্থিতি আরও শোকাবহ হয়ে ওঠে। এরপর কনসার্টটি বন্ধ করতে বাধ্য হন আয়োজকেরা।
একজন সহপাঠীর মৃত্যুর সংবাদ আসার আগ পর্যন্ত ক্যাম্পাসে কনসার্ট চলা এবং একই সময়ে অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ ও মানববন্ধন, এই দুই বিপরীত চিত্র নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি হয়েছে।
ইয়াসিন আরাফাতের মৃত্যুতে সহপাঠী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে দপদপিয়া ব্রিজসহ বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন সড়কে দ্রুত কার্যকর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
আরটিভি/টিআর




