ঢাকা বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩

শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্টের খাতা ভাঙারির দোকানে বিক্রি হচ্ছে কেজি দরে

রাবি সংবাদদাতা, আারটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৪ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৫৩ পিএম
ছবি : আরটিভি

বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত মূল্যায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো অ্যাসাইনমেন্ট। শিক্ষকের নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষার্থীরা সময় ব্যয় করে তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও লেখালেখির মাধ্যমে এসব অ্যাসাইনমেন্ট প্রস্তুত করে থাকে। কিন্তু মূল্যায়ন শেষে এসব খাতার অনেকগুলোরই শেষ ঠিকানা হয়ে উঠছে ভাঙারির দোকান ; যেখানে সেগুলো বিক্রি হচ্ছে কেজি দরে।

সম্প্রতি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে এমন চিত্র দেখা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের ৪০ থেকে ৬০ পৃষ্ঠার অ্যাসাইনমেন্ট দিয়ে থাকেন। দিনরাত পরিশ্রম করে এসব অ্যাসাইনমেন্ট লিখতে হয়। পাশাপাশি এ-ফোর আকারের কাগজ কিনতেও একজন শিক্ষার্থীর মাসে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা খরচ হয়। কিন্তু অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেওয়ার পরই শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়। এরপর সেই অ্যাসাইনমেন্ট খাতার কী হয়, তা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থীই জানেন না।

শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একটি সেমিস্টারে বিভিন্ন কোর্সের জন্য শিক্ষার্থীদের একাধিক অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে হয়। প্রতিটি অ্যাসাইনমেন্টের জন্য শিক্ষার্থীরা লাইব্রেরি, ইন্টারনেট ও বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করে খাতা পূরণ করেন। অনেক সময় একটি অ্যাসাইনমেন্ট তৈরি করতে কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগে।

তবে মূল্যায়ন শেষ হলে এসব খাতা দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা হয় না। অনেক বিভাগে জায়গার অভাব এবং সংরক্ষণের নির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকায় কিছুদিন পরই এসব খাতা আলাদা করে জমা করা হয়। পরে সেগুলো ভাঙারির দোকানে বিক্রি করে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

ভাঙারির দোকানিদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে মাঝেমধ্যে বড় পরিমাণে খাতা ও কাগজপত্র আসে। এগুলো সাধারণত কেজি দরে কেনা হয় এবং পরে পুনর্ব্যবহার (রিসাইক্লিং) বা পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য কাগজের কারখানায় পাঠানো হয়।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বিনোদপুর এলাকার ভাঙারির ব্যবসায়ী আব্দুল খালেক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ থেকে প্রতিবছরই অ্যাসাইনমেন্ট, পরীক্ষার খাতা ও নানা ধরনের কাগজপত্র কেজি দরে বিক্রি করা হয়। আমরা সেগুলো অন্যান্য পুরোনো কাগজের মতোই কিনে থাকি। পরে এগুলো কাগজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করা হয়। এসব খাতা বা কাগজ কীভাবে ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে আমাদের কোনো ধারণা থাকে না।

আরও পড়ুন

শিক্ষার্থীদের অনেকেই বিষয়টিকে হতাশাজনক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, একটি অ্যাসাইনমেন্ট তৈরিতে যে সময় ও শ্রম দেওয়া হয়, মূল্যায়নের পর সেটির কোনো একাডেমিক সংরক্ষণ বা ডিজিটাল আর্কাইভ থাকলে তা ভবিষ্যৎ গবেষণা ও শিক্ষার কাজে লাগতে পারত।

শিক্ষার্থীদের মতে, একটি অ্যাসাইনমেন্ট তৈরিতে অনেক সময়, শ্রম ও গবেষণা জড়িত থাকে। তাই মূল্যায়ন শেষে খাতাগুলো সরাসরি ভাঙারিতে বিক্রি না করে প্রথমে শিক্ষার্থীদের কাছে ফেরত দেওয়া উচিত। এতে তারা নিজেদের ভুল-ত্রুটি পর্যালোচনা করতে পারবে এবং ভবিষ্যতে আরও ভালো কাজ করার সুযোগ পাবে।

শিক্ষার্থীদের দাবি, ভবিষ্যতে ধাপে ধাপে ডিজিটাল অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেওয়ার ব্যবস্থা চালু করা হলে কাগজের অপচয় কমবে এবং অ্যাসাইনমেন্ট দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। প্রতিটি বিভাগে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অ্যাসাইনমেন্ট সংরক্ষণের নীতিমালা থাকা উচিত। এরপর প্রয়োজন না থাকলে শিক্ষার্থীদের সম্মতি নিয়ে পুনর্ব্যবহার (রিসাইক্লিং) করা যেতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী সামিউল বাকি বলেন, ভর্তি হয়ে ক্লাস শুরু হওয়ার পর থেকেই আমাদের ৫০ পৃষ্ঠা কোনো কোনো স্যারের ক্ষেত্রে কমবেশি অ্যাসাইনমেন্ট লিখতে দেওয়া হয়। আমরা নির্ঘুম রাত কাটিয়ে, সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও পরিশ্রম দিয়ে সেগুলো হাতে লিখি এবং সুন্দরভাবে বাঁধাই করে জমা দিই। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, সেই পরিশ্রমের ফসল আমাদের হাতে লেখা অ্যাসাইনমেন্টগুলো শেষ পর্যন্ত ভাঙারির ঝুড়িতে চলে যাওয়ার কথা শুনি। অথচ বিভাগ চাইলে জমা দেওয়া অ্যাসাইনমেন্টগুলোর মধ্যে থেকে মানসম্মত ও ভালোভাবে উপস্থাপিত লেখাগুলো নির্বাচন করে বিভাগের সেমিনার লাইব্রেরিতে সংরক্ষণ করতে পারে অথবা ভুলগুলো চিহ্নিত করে আমাদের হাতে দিতে পারে। এতে আমরা উপকৃত হতাম, ভুলগুলো শুধরে নিতাম।

ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুর রহমান বলেন, প্রতি বর্ষেই আমাদের অন্তত ১০ থেকে ১৫টি অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে হয়। কিন্তু সেগুলোর যথাযথ মূল্যায়ন বা ফিডব্যাক আমরা কখনোই পাই না। অনেক ক্ষেত্রে সিজিপিএর ভিত্তিতে অ্যাসাইনমেন্টের নম্বর দেওয়া হয়। অথচ একটি অ্যাসাইনমেন্ট প্রস্তুত করতে আমাদের সময়, শ্রম ও অর্থ—সবকিছুরই প্রয়োজন হয়। এছাড়া মূল্যায়নের পর খাতাগুলো শিক্ষার্থীদের ফেরত না দিয়ে বিক্রি করে দেওয়া হয়। আমাদের খাতায় প্রয়োজনীয় সংশোধনী ও মন্তব্য লিখে ফিডব্যাক হিসেবে ফেরত দিলে তা শেখার জন্য অনেক বেশি কার্যকর হতো। পাশাপাশি অ্যাসাইনমেন্টের খাতা বিক্রি না করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সেগুলো সংরক্ষণ করলে আরও ভালো হতো।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী এবং ফোকলোর ও উন্নয়ন গবেষক এস. এম. তাহমিদ হাসান বলেন, অ্যাসাইনমেন্টের খাতাগুলো একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সংরক্ষণ করা উচিত। হতে পারে এক যুগ বা তারও বেশি সময়। এরপর প্রয়োজন হলে বিক্রি করা যেতে পারে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের হেফাজতে রেখে যদি সেগুলো বিক্রি করা হয়, তাহলে বিক্রির অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে ব্যবহার করা সম্ভব।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপকরা মনে করেন, বর্তমান সময়ে কাগজভিত্তিক অ্যাসাইনমেন্টের পরিবর্তে ধীরে ধীরে ডিজিটাল সাবমিশন ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে। এতে কাগজের অপচয় কমবে এবং শিক্ষার্থীদের কাজও দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।

তাদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলো যদি অ্যাসাইনমেন্ট সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য সুস্পষ্ট নীতিমালা তৈরি করে, তবে শিক্ষার্থীদের শ্রমের মূল্য আরও ভালোভাবে প্রতিফলিত হতে পারে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক বলেন, বর্তমানে অধিকাংশ ক্ষেত্রে অ্যাসাইনমেন্ট মূল্যায়নের মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা সময়, শ্রম ও অর্থ ব্যয় করে অ্যাসাইনমেন্ট প্রস্তুত করলেও অনেক শিক্ষক সেগুলো যথাযথভাবে পড়েন না, গঠনমূলক মন্তব্যও দেন না। মূল্যায়ন শেষে শিক্ষার্থীদের কাছে খাতা ফিরিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে ভাঙারিতে বিক্রি করে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি শুধু শিক্ষার্থীদের পরিশ্রমের প্রতি অবমূল্যায়নই নয়, বরং উচ্চশিক্ষার মান ও মূল্যায়ন ব্যবস্থার প্রতিও এক ধরনের অবহেলার প্রকাশ। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করে অ্যাসাইনমেন্ট সংরক্ষণ এবং ফিডব্যাকসহ শিক্ষার্থীদের কাছে খাতা ফেরত দেওয়া নিশ্চিত করা।

অ্যাসাইনমেন্টের খাতা আগের মতো গুরুত্ব দিয়ে মূল্যায়ন করা হয় না বলে মন্তব্য করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের সিনিয়র অধ্যাপক ড. মো. মোস্তফা কামাল আকন্দ। তিনি বলেন, অ্যাসাইনমেন্টের মূল উদ্দেশ্য হলো নির্দিষ্ট একটি বিষয়ে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও বিশ্লেষণী দক্ষতা বৃদ্ধি করা। কিন্তু ইদানীং যেমন অনেক শিক্ষার্থী অ্যাসাইনমেন্টের প্রতি যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে না, তেমনি অনেক শিক্ষকও খাতা মূল্যায়নে প্রয়োজনীয় মনোযোগ দিচ্ছেন না। একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর ভালো অ্যাসাইনমেন্ট অন্য শিক্ষার্থীদের জন্য অনুসরণীয় হতে পারে। তাই মানসম্মত অ্যাসাইনমেন্টগুলো সংরক্ষণ করা উচিত। কিন্তু আমাদের মধ্যে সেই চর্চা গড়ে ওঠেনি।

অ্যাসাইনমেন্টের খাতা কেজি দরে বিক্রি করে দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, আমার চাকরিজীবনে আমি কখনো এমনটি করিনি। এটি অবশ্যই একটি অনৈতিক কাজ। মূল্যায়নের পর খাতাগুলো শিক্ষার্থীদের কাছে ফেরত দেওয়া হলে তারা নিজেদের ভুল-ত্রুটি চিহ্নিত করে তা থেকে শেখার সুযোগ পেত। একই সঙ্গে একজন শিক্ষার্থীকে ৪০ থেকে ৫০ পৃষ্ঠার অ্যাসাইনমেন্ট করতে দেওয়া কতটা যৌক্তিক, সেটিও আমার কাছে প্রশ্নসাপেক্ষ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুনুর রশীদ বলেন, অ্যাসাইনমেন্ট, প্রেজেন্টেশন ও ভাইভা সবই শিক্ষার্থীদের পাঠদানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অ্যাসাইনমেন্ট সাধারণত নির্দিষ্ট একটি বিষয়ের ওপর করা হয়, তাই এটি অপ্রয়োজনীয়ভাবে বড় হওয়ার প্রয়োজন নেই। কোর্সের শিক্ষক মূল্যায়নের পর খাতায় শিক্ষার্থীদের ভুল ও দুর্বলতার দিকগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ফিডব্যাক দেবেন। তবে মূল্যায়ন শেষে খাতাগুলো কেজি দরে বিক্রি না করে বিভাগে সংরক্ষণ করা উচিত।

তিনি আরও বলেন, সবচেয়ে ভালো হয়, শিক্ষার্থীদের খাতায় ভুলগুলো চিহ্নিত করে সেটি তাদের কাছে ফেরত দেওয়া। এতে তারা নিজেদের ত্রুটিগুলো সহজে বুঝতে এবং ভবিষ্যতে সংশোধন করতে পারবে। পাশাপাশি মানসম্মত কিছু অ্যাসাইনমেন্ট নির্বাচন করে বিভাগের সেমিনার লাইব্রেরিতে সংরক্ষণ করা যেতে পারে। এতে নতুন শিক্ষার্থীরা সেগুলো অনুসরণ করে আরও ভালো মানের অ্যাসাইনমেন্ট তৈরিতে উৎসাহিত হবে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, অ্যাসাইনমেন্ট শিক্ষার্থীদের শেখার ও মূল্যায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই মূল্যায়নের পর খাতাগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা এবং ফিডব্যাকসহ শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরা অধিক যুক্তিযুক্ত। যদি কোথাও খাতা বিক্রির মতো কোনো ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একাধিক ককটেল বিস্ফোরণ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় রাতে পরপর তিনটি ককটেলের বিস্ফোরণ হয়েছে। আজ রাত ১০টা ৪৫ মিনিটের দিকে জগন্নাথ হলের সামনে দুটি এবং টিএসসি মেট্রোরেল স্টেশনের কাছে একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। তাৎক্ষণিকভাবে এতে কেউ হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একাধিক ককটেল বিস্ফোরণ
যবিপ্রবির ছাদে সোলার প্যানেল, মাসে ৪ লাখ টাকা সাশ্রয় 
দেশের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে রুফটপ সোলার সিস্টেম স্থাপন করে ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি)। সূর্যের আলো কাজে লাগিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার এক-তৃতীয়াংশ মেটানোর পাশাপাশি ছাদ ভাড়া থেকে প্রতি মাসে বাড়তি আয় হচ্ছে ১ লাখ ২৭ হাজার টাকা।  একই সঙ্গে ছুটির দিনে ক্যাম্পাসে অব্যবহৃত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সোলার সিস্টেম। শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন ও আর্থিক সাশ্রয়ই নয়, এই সোলার সিস্টেম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যবহারিক শিক্ষারও একটি জীবন্ত ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।  সিস্টেম থেকে পাওয়া রিয়েল টাইম তথ্য গবেষণা ও শিক্ষার কাজে ব্যবহার করছেন শিক্ষার্থীরা। ২০২৩ সালের জুন থেকে যবিপ্রবির অধিকাংশ ভবনের ছাদে রুফটপ সোলার সিস্টেম স্থাপনের কাজ শুরু হয়।  সুপারস্টার রিনিউঅ্যাবল এনার্জি লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠান অপেক্স মডেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবনগুলোর প্রায় ৬৩ হাজার বর্গফুট ছাদজুড়ে ১ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সোলার প্যানেল স্থাপন করেছে। যবিপ্রবির গবেষণাগার উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার মিজানুর রহমান জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের মাসিক বিদ্যুৎ চাহিদা প্রায় ৩ লাখ ইউনিট। এর বিপরীতে বর্তমানে সোলার প্যানেল থেকে পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ১ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ। তিনি বলেন, সরকারি নির্ধারিত দরের চেয়ে ২৬ দশমিক ৬ শতাংশ কম মূল্যে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এই বিদ্যুৎ কিনছে যবিপ্রবি। বাকি বিদ্যুৎ নেওয়া হচ্ছে পল্লী বিদ্যুৎ থেকে। কম দামে বিদ্যুৎ কেনায় প্রতি মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৩ লাখ টাকা সাশ্রয় হচ্ছে। এছাড়া ভবনগুলোর ছাদ প্রতি বর্গফুট ২ টাকা হিসেবে ভাড়া দিয়ে প্রতি মাসে আয় হচ্ছে ১ লাখ ২৭ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে বিদ্যুৎ খরচের ক্ষেত্রে প্রতি মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাশ্রয় ও আয় দাঁড়াচ্ছে ৪ লাখ ২৭ হাজার টাকা। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ভবনে সোলার প্যানেল স্থাপনের কাজ শেষ হলে এই সাশ্রয়ের পরিমাণ আরও বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। যবিপ্রবি কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতি সপ্তাহে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ে ছুটি থাকে। এ দুই দিনসহ অন্যান্য সরকারি ছুটির দিনে ক্যাম্পাসে ব্যবহার না হওয়া বিদ্যুৎ সরাসরি জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে। বর্তমানে প্রতি মাসে ২৪ থেকে ২৬ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সোলার সিস্টেম। এই পরিমাণ ভবিষ্যতে আরও বাড়ানোর লক্ষ্যে কাজ করছে কর্তৃপক্ষ। আর্থিক সাশ্রয় ও বিদ্যুৎ সরবরাহের পাশাপাশি এই প্রকল্প থেকে উপকৃত হচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের শিক্ষার্থীরা। অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী ইমরান খান বলেন, এই সোলার সিস্টেম শিক্ষার্থীদের জন্য হাতে-কলমে শেখার একটি বাস্তব ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।  এখান থেকে রিয়েল টাইম ডেটাও পাওয়া যাচ্ছে, যা গবেষণা ও শিক্ষার কাজে সহায়ক হচ্ছে। তিনি বলেন, জ্বালানি সংকটের এই সময়ে লোডশেডিং হলেও সোলার এনার্জি থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম বা গবেষণার কাজ কোনো কিছুই থেমে থাকছে না। যবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের এখনো কিছু ভবনে সোলার প্যানেল স্থাপনের কাজ বাকি রয়েছে। এসব ভবনে কাজ শেষ হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ৪০ শতাংশ সোলার প্যানেল থেকে পাওয়া যাবে। তিনি জানান, যবিপ্রবির ঝিনাইদহ ক্যাম্পাসেও সোলার প্যানেল স্থাপন করা হবে। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় করা হবে। ফলে ওই ক্যাম্পাসে উৎপাদিত বিদ্যুৎ পুরোপুরি বিনামূল্যে পাওয়া যাবে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্ট্রিট লাইটগুলোতেও সোলার প্যানেল বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। উপাচার্য বলেন, বর্তমানে যে জ্বালানি সংকট চলছে, তাতে সোলার প্যানেল স্থাপনে সরকার সবাইকে উদ্বুদ্ধ করছে এবং সহযোগিতাও করতে চাচ্ছে। সরকার প্রণোদনা দিলে যবিপ্রবির চাহিদার ১০০ শতাংশ বিদ্যুৎ সোলার থেকে উৎপাদন করা সম্ভব হবে। আরটিভি/এসআর  
যবিপ্রবির ছাদে সোলার প্যানেল, মাসে ৪ লাখ টাকা সাশ্রয় 
ছেলের ভর্তি পরীক্ষায় পরিদর্শকের দায়িত্বে রাবি অধ্যাপক, অতঃপর... 
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের ভর্তি পরীক্ষায় নিজের ছেলে পরীক্ষার্থী থাকা সত্ত্বেও পরীক্ষা পরিচালনার দায়িত্ব পালন করায় বিভাগীয় সভাপতি অধ্যাপক মোহা. মনিরুল হককে তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।   মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এ এইচ এম আসলাম হোসেন স্বাক্ষরিত পৃথক দাপ্তরিক আদেশ এ তথ্য জানানো হয়।  বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ব্যবহারিক ভর্তি পরীক্ষায় অধ্যাপক মনিরুল হকের ছেলে পরীক্ষার্থী ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো শিক্ষকের সন্তান বা নিকটাত্মীয় পরীক্ষার্থী হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে লিখিতভাবে কো-অর্ডিনেশন কমিটিকে বিষয়টি জানিয়ে পরীক্ষা-সংক্রান্ত সব দায়িত্ব থেকে বিরত থাকতে হয়। অভিযোগ উঠেছে, এই বিধান অনুসরণ না করে অধ্যাপক মনিরুল হক পরীক্ষা কো-অর্ডিনেশন কমিটির কো-অর্ডিনেটর, ব্যবহারিক পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির সদস্য ও পরিদর্শকের দায়িত্ব পালন করেন। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে বিভাগীয় সভাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়। একই আদেশে প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মতিয়ার রহমানকে নতুন বিভাগীয় সভাপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর আগে, ১৩ সেপ্টেম্বর ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে ঘটনা তদন্তে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আনিছুর রহমানকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটির অন্য ২ সদস্য হলেন- মেটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. এম. আসাদুল হক এবং দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আরিফুল ইসলাম। কমিটিকে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. আব্দুল আলিম বলেন, ‘ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’  আরটিভি/এসএস
ছেলের ভর্তি পরীক্ষায় পরিদর্শকের দায়িত্বে রাবি অধ্যাপক, অতঃপর... 
ইবিতে হল ডিবেটিং সোসাইটির নেতৃত্বে আজমেরী-ফারহানা
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা সিদ্দিকা হল ডিবেটিং সোসাইটির ২০২৬-২৭ বর্ষের কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে সভাপতি হিসেবে ল’ অ্যান্ড ল্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আজমেরী রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন একই শিক্ষাবর্ষের কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগের ফারহানা ইয়াসমিন। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. এ. কে. এম রাশেদুজ্জামান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। কমিটির অন্যান্য দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন- সহ-সভাপতি মোছা. হিতুয়ারা খাতুন ও সাহারা আক্তার সিঁথি, সাংগঠনিক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদাউস বর্ষা, দপ্তর সম্পাদক তাহিয়া সুলতানা নাদিয়া, সহ-দপ্তর সম্পাদক মুক্তা খাতুন, অর্থ সম্পাদক সুমি আক্তার, সহ অর্থ সম্পাদক জিন্নাত আলভী, প্রচার সম্পাদক হুমাইরা আছিয়া প্রীতি, সহ-প্রচার সম্পাদক সিনথিয়া সিরাত। কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন- নিশাত নাবিল্লাহ প্রাপ্তি, ইসরাত জাহান এবং হাবিবা আক্তার সিনথিয়া। দায়িত্ব পেয়ে সাধারণ সম্পাদক ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, ‘বিতর্কচর্চা শিক্ষার্থীদের যুক্তিবোধ, চিন্তাশক্তি ও নেতৃত্বের দক্ষতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নবগঠিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আমাদের হলের বিতর্কচর্চাকে আরও গতিশীল ও সুশৃঙ্খল করাই হবে আমার মূল লক্ষ্য। সবার সহযোগিতায় হল ডিবেটিং সোসাইটির এই নতুন যাত্রা আরও দূর এগিয়ে যাবে বলে আমি আশাবাদী।’ সভাপতি আজমেরী রহমান বলেন, ‘বিতর্ক অঙ্গনে যোগ্য ও দক্ষ বিতার্কিক তৈরি করার ভিত্তিমূল হিসেবে কাজ করে আমাদের হল ডিবেটিং সোসাইটিগুলো। আমি দায়িত্বশীল হিসেবে চেষ্টা করবো নিয়মিত সেশন এবং অন্যান্য বিতর্কের সুবিধার মাধ্যমে হলে ভালো বিতার্কিক সৃষ্টি করার এবং চাইবো ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতর্ক অঙ্গন তারা ভালো বিতার্কিক হিসেবে পরিচিতি পাক। একই সাথে হলের বিতর্ক অঙ্গনে সংশ্লিষ্ট সবাইকে এই পথ চলায় পাশে থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।’ আরটিভি/এসএস
ইবিতে হল ডিবেটিং সোসাইটির নেতৃত্বে আজমেরী-ফারহানা
৮ দাবি নিয়ে ইবিতে সংবাদ সম্মেলন
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আবাসিক হলগুলোতে অবৈধভাবে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের অপসারণ, মেধার ভিত্তিতে সিট বণ্টন ও শিক্ষার্থীবান্ধব আবাসিক পরিবেশ নিশ্চিত করাসহ আট দফা দাবি জানিয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা প্রাঙ্গণে ক্যাম্পাসে কর্মরত সাংবাদিকদের নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান সংগঠনটি। সংবাদ সম্মেলনে শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফির সঞ্চালনায় দাবি পেশ করেন শাখা সভাপতি ইউসুব আলী।  এ সময় ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক হাফেজ এমাদুর রহমান, স্কুল অ্যান্ড কলেজ সম্পাদক জায়েদ হোসেন, প্রচার সম্পাদক সোয়াইব আহম্মেদ, আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক ফরহাদ রেজা ওসামা এবং প্রকাশনা ও সাহিত্য সম্পাদক মুতাসিম বিল্লাহ নাকিব উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া পাঁচটি আবাসিক হলের সভাপতিসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে আট দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো— বিশ্ববিদ্যালয়ের সব আবাসিক হলে অবৈধভাবে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের দ্রুত অপসারণ; রাজনৈতিক পরিচয়, দলীয় সুপারিশ বা প্রশাসনিক প্রভাবের ভিত্তিতে সিট বরাদ্দ বন্ধ; মেধা, জ্যেষ্ঠতা ও নীতিমালা অনুসরণ করে সিট বরাদ্দ; বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত; প্রতিটি হলের সিট বণ্টনের তালিকা প্রকাশ করা; যেন কোনো শিক্ষার্থী বা সংগঠন সিট বাণিজ্য বা অনৈতিক প্রভাব বিস্তারের সুযোগ না পায়; হলগুলোতে বহিরাগত প্রবেশ ও রাজনৈতিক অপচর্চা বন্ধ করে শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত; সাম্প্রতিক ঘটনাবলির প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় কার্যকর ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং হলের ডাইনিংয়ে সুষম খাদ্য ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা। পাশাপাশি দ্রুত সময়ে মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহ ও শিক্ষিকা আসমা সাদিয়া রুনা হত্যার সঠিক তদন্ত ও বিচারের দাবি জানান তারা। সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুব আলী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল কোনো রাজনৈতিক দলের অবৈধ প্রভাব বিস্তার কিংবা দলীয় লোকজনকে নিয়মবহির্ভূতভাবে আশ্রয় দেওয়ার জায়গা হতে পারে না। হলের সিট একজন শিক্ষার্থীর অধিকার এবং তা মেধা, বৈধতা, জ্যেষ্ঠতা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নীতিমালার ভিত্তিতে বণ্টন করা উচিত। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আবাসিক হলে দীর্ঘদিন ধরে সিট বণ্টন নিয়ে বৈষম্য, অনিয়ম ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি শহীদ জিয়াউর রহমান হলে বৈধ সিট না থাকা সত্ত্বেও একজন রাজনৈতিক কর্মীর দীর্ঘদিন অবস্থানের বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। একই সঙ্গে অন্যান্য হলেও অবৈধভাবে শিক্ষার্থীদের অবস্থানের অভিযোগ সামনে এসেছে। ইউসুব আলী বলেন, একজন বৈধ শিক্ষার্থী আবাসিক সিটের জন্য অপেক্ষা করবে, অথচ রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কেউ অবৈধভাবে হলে অবস্থান করবে— এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাই, শিক্ষার্থীদের অধিকার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলার প্রশ্নে উপরোক্ত দাবি গুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নের পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। আমরা সংঘাত চাই না, আমরা ন্যায়সংগত সমাধান চাই। আমরা দখলদারিত্ব চাই না, আমরা শিক্ষার্থীদের অধিকার চাই। আমরা দলীয় প্রভাব চাই না, আমরা মেধা ও বৈধতার ভিত্তিতে আবাসিক ব্যবস্থা চাই। তিনি আরও বলেন, প্রশাসন যদি যথাযথ ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করে, আমরা তা স্বাগত জানাব। একই সঙ্গে কোনো ধরনের অনিয়ম, বৈষম্য কিংবা রাজনৈতিক প্রভাবের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অধিকার খর্ব করা হলে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। আমাদের দাবি স্পষ্ট হল হবে শিক্ষার্থীদের জন্য, সিট হবে মেধার ভিত্তিতে, প্রশাসন হবে নিরপেক্ষ, ক্যাম্পাস হবে নিরাপদ। আরটিভি/এসএস
৮ দাবি নিয়ে ইবিতে সংবাদ সম্মেলন
আরও পড়ুন
ছেলের ভর্তি পরীক্ষায় পরিদর্শকের দায়িত্বে রাবি অধ্যাপক, অতঃপর... 
ডেঙ্গু প্রতিরোধে রাবিতে ছাত্রদলের পরিচ্ছন্নতা অভিযান
রাবি শিক্ষার্থীকে হেনস্তার অভিযোগ
নির্বাচনে হারলেও কথা রাখলেন, রাবিতে ৭২৫টি গাছ দিলেন আরিফ