ঢাকা মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩

শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্টের খাতা ভাঙারির দোকানে বিক্রি হচ্ছে কেজি দরে

রাবি সংবাদদাতা, আারটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৪ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৫৩ পিএম
ছবি : আরটিভি

বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত মূল্যায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো অ্যাসাইনমেন্ট। শিক্ষকের নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষার্থীরা সময় ব্যয় করে তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও লেখালেখির মাধ্যমে এসব অ্যাসাইনমেন্ট প্রস্তুত করে থাকে। কিন্তু মূল্যায়ন শেষে এসব খাতার অনেকগুলোরই শেষ ঠিকানা হয়ে উঠছে ভাঙারির দোকান ; যেখানে সেগুলো বিক্রি হচ্ছে কেজি দরে।

সম্প্রতি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে এমন চিত্র দেখা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের ৪০ থেকে ৬০ পৃষ্ঠার অ্যাসাইনমেন্ট দিয়ে থাকেন। দিনরাত পরিশ্রম করে এসব অ্যাসাইনমেন্ট লিখতে হয়। পাশাপাশি এ-ফোর আকারের কাগজ কিনতেও একজন শিক্ষার্থীর মাসে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা খরচ হয়। কিন্তু অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেওয়ার পরই শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়। এরপর সেই অ্যাসাইনমেন্ট খাতার কী হয়, তা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থীই জানেন না।

শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একটি সেমিস্টারে বিভিন্ন কোর্সের জন্য শিক্ষার্থীদের একাধিক অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে হয়। প্রতিটি অ্যাসাইনমেন্টের জন্য শিক্ষার্থীরা লাইব্রেরি, ইন্টারনেট ও বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করে খাতা পূরণ করেন। অনেক সময় একটি অ্যাসাইনমেন্ট তৈরি করতে কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগে।

তবে মূল্যায়ন শেষ হলে এসব খাতা দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা হয় না। অনেক বিভাগে জায়গার অভাব এবং সংরক্ষণের নির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকায় কিছুদিন পরই এসব খাতা আলাদা করে জমা করা হয়। পরে সেগুলো ভাঙারির দোকানে বিক্রি করে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

ভাঙারির দোকানিদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে মাঝেমধ্যে বড় পরিমাণে খাতা ও কাগজপত্র আসে। এগুলো সাধারণত কেজি দরে কেনা হয় এবং পরে পুনর্ব্যবহার (রিসাইক্লিং) বা পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য কাগজের কারখানায় পাঠানো হয়।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বিনোদপুর এলাকার ভাঙারির ব্যবসায়ী আব্দুল খালেক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ থেকে প্রতিবছরই অ্যাসাইনমেন্ট, পরীক্ষার খাতা ও নানা ধরনের কাগজপত্র কেজি দরে বিক্রি করা হয়। আমরা সেগুলো অন্যান্য পুরোনো কাগজের মতোই কিনে থাকি। পরে এগুলো কাগজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করা হয়। এসব খাতা বা কাগজ কীভাবে ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে আমাদের কোনো ধারণা থাকে না।

আরও পড়ুন

শিক্ষার্থীদের অনেকেই বিষয়টিকে হতাশাজনক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, একটি অ্যাসাইনমেন্ট তৈরিতে যে সময় ও শ্রম দেওয়া হয়, মূল্যায়নের পর সেটির কোনো একাডেমিক সংরক্ষণ বা ডিজিটাল আর্কাইভ থাকলে তা ভবিষ্যৎ গবেষণা ও শিক্ষার কাজে লাগতে পারত।

শিক্ষার্থীদের মতে, একটি অ্যাসাইনমেন্ট তৈরিতে অনেক সময়, শ্রম ও গবেষণা জড়িত থাকে। তাই মূল্যায়ন শেষে খাতাগুলো সরাসরি ভাঙারিতে বিক্রি না করে প্রথমে শিক্ষার্থীদের কাছে ফেরত দেওয়া উচিত। এতে তারা নিজেদের ভুল-ত্রুটি পর্যালোচনা করতে পারবে এবং ভবিষ্যতে আরও ভালো কাজ করার সুযোগ পাবে।

শিক্ষার্থীদের দাবি, ভবিষ্যতে ধাপে ধাপে ডিজিটাল অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেওয়ার ব্যবস্থা চালু করা হলে কাগজের অপচয় কমবে এবং অ্যাসাইনমেন্ট দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। প্রতিটি বিভাগে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অ্যাসাইনমেন্ট সংরক্ষণের নীতিমালা থাকা উচিত। এরপর প্রয়োজন না থাকলে শিক্ষার্থীদের সম্মতি নিয়ে পুনর্ব্যবহার (রিসাইক্লিং) করা যেতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী সামিউল বাকি বলেন, ভর্তি হয়ে ক্লাস শুরু হওয়ার পর থেকেই আমাদের ৫০ পৃষ্ঠা কোনো কোনো স্যারের ক্ষেত্রে কমবেশি অ্যাসাইনমেন্ট লিখতে দেওয়া হয়। আমরা নির্ঘুম রাত কাটিয়ে, সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও পরিশ্রম দিয়ে সেগুলো হাতে লিখি এবং সুন্দরভাবে বাঁধাই করে জমা দিই। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, সেই পরিশ্রমের ফসল আমাদের হাতে লেখা অ্যাসাইনমেন্টগুলো শেষ পর্যন্ত ভাঙারির ঝুড়িতে চলে যাওয়ার কথা শুনি। অথচ বিভাগ চাইলে জমা দেওয়া অ্যাসাইনমেন্টগুলোর মধ্যে থেকে মানসম্মত ও ভালোভাবে উপস্থাপিত লেখাগুলো নির্বাচন করে বিভাগের সেমিনার লাইব্রেরিতে সংরক্ষণ করতে পারে অথবা ভুলগুলো চিহ্নিত করে আমাদের হাতে দিতে পারে। এতে আমরা উপকৃত হতাম, ভুলগুলো শুধরে নিতাম।

ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুর রহমান বলেন, প্রতি বর্ষেই আমাদের অন্তত ১০ থেকে ১৫টি অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে হয়। কিন্তু সেগুলোর যথাযথ মূল্যায়ন বা ফিডব্যাক আমরা কখনোই পাই না। অনেক ক্ষেত্রে সিজিপিএর ভিত্তিতে অ্যাসাইনমেন্টের নম্বর দেওয়া হয়। অথচ একটি অ্যাসাইনমেন্ট প্রস্তুত করতে আমাদের সময়, শ্রম ও অর্থ—সবকিছুরই প্রয়োজন হয়। এছাড়া মূল্যায়নের পর খাতাগুলো শিক্ষার্থীদের ফেরত না দিয়ে বিক্রি করে দেওয়া হয়। আমাদের খাতায় প্রয়োজনীয় সংশোধনী ও মন্তব্য লিখে ফিডব্যাক হিসেবে ফেরত দিলে তা শেখার জন্য অনেক বেশি কার্যকর হতো। পাশাপাশি অ্যাসাইনমেন্টের খাতা বিক্রি না করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সেগুলো সংরক্ষণ করলে আরও ভালো হতো।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী এবং ফোকলোর ও উন্নয়ন গবেষক এস. এম. তাহমিদ হাসান বলেন, অ্যাসাইনমেন্টের খাতাগুলো একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সংরক্ষণ করা উচিত। হতে পারে এক যুগ বা তারও বেশি সময়। এরপর প্রয়োজন হলে বিক্রি করা যেতে পারে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের হেফাজতে রেখে যদি সেগুলো বিক্রি করা হয়, তাহলে বিক্রির অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে ব্যবহার করা সম্ভব।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপকরা মনে করেন, বর্তমান সময়ে কাগজভিত্তিক অ্যাসাইনমেন্টের পরিবর্তে ধীরে ধীরে ডিজিটাল সাবমিশন ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে। এতে কাগজের অপচয় কমবে এবং শিক্ষার্থীদের কাজও দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।

তাদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলো যদি অ্যাসাইনমেন্ট সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য সুস্পষ্ট নীতিমালা তৈরি করে, তবে শিক্ষার্থীদের শ্রমের মূল্য আরও ভালোভাবে প্রতিফলিত হতে পারে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক বলেন, বর্তমানে অধিকাংশ ক্ষেত্রে অ্যাসাইনমেন্ট মূল্যায়নের মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা সময়, শ্রম ও অর্থ ব্যয় করে অ্যাসাইনমেন্ট প্রস্তুত করলেও অনেক শিক্ষক সেগুলো যথাযথভাবে পড়েন না, গঠনমূলক মন্তব্যও দেন না। মূল্যায়ন শেষে শিক্ষার্থীদের কাছে খাতা ফিরিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে ভাঙারিতে বিক্রি করে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি শুধু শিক্ষার্থীদের পরিশ্রমের প্রতি অবমূল্যায়নই নয়, বরং উচ্চশিক্ষার মান ও মূল্যায়ন ব্যবস্থার প্রতিও এক ধরনের অবহেলার প্রকাশ। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করে অ্যাসাইনমেন্ট সংরক্ষণ এবং ফিডব্যাকসহ শিক্ষার্থীদের কাছে খাতা ফেরত দেওয়া নিশ্চিত করা।

অ্যাসাইনমেন্টের খাতা আগের মতো গুরুত্ব দিয়ে মূল্যায়ন করা হয় না বলে মন্তব্য করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের সিনিয়র অধ্যাপক ড. মো. মোস্তফা কামাল আকন্দ। তিনি বলেন, অ্যাসাইনমেন্টের মূল উদ্দেশ্য হলো নির্দিষ্ট একটি বিষয়ে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও বিশ্লেষণী দক্ষতা বৃদ্ধি করা। কিন্তু ইদানীং যেমন অনেক শিক্ষার্থী অ্যাসাইনমেন্টের প্রতি যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে না, তেমনি অনেক শিক্ষকও খাতা মূল্যায়নে প্রয়োজনীয় মনোযোগ দিচ্ছেন না। একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর ভালো অ্যাসাইনমেন্ট অন্য শিক্ষার্থীদের জন্য অনুসরণীয় হতে পারে। তাই মানসম্মত অ্যাসাইনমেন্টগুলো সংরক্ষণ করা উচিত। কিন্তু আমাদের মধ্যে সেই চর্চা গড়ে ওঠেনি।

অ্যাসাইনমেন্টের খাতা কেজি দরে বিক্রি করে দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, আমার চাকরিজীবনে আমি কখনো এমনটি করিনি। এটি অবশ্যই একটি অনৈতিক কাজ। মূল্যায়নের পর খাতাগুলো শিক্ষার্থীদের কাছে ফেরত দেওয়া হলে তারা নিজেদের ভুল-ত্রুটি চিহ্নিত করে তা থেকে শেখার সুযোগ পেত। একই সঙ্গে একজন শিক্ষার্থীকে ৪০ থেকে ৫০ পৃষ্ঠার অ্যাসাইনমেন্ট করতে দেওয়া কতটা যৌক্তিক, সেটিও আমার কাছে প্রশ্নসাপেক্ষ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুনুর রশীদ বলেন, অ্যাসাইনমেন্ট, প্রেজেন্টেশন ও ভাইভা সবই শিক্ষার্থীদের পাঠদানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অ্যাসাইনমেন্ট সাধারণত নির্দিষ্ট একটি বিষয়ের ওপর করা হয়, তাই এটি অপ্রয়োজনীয়ভাবে বড় হওয়ার প্রয়োজন নেই। কোর্সের শিক্ষক মূল্যায়নের পর খাতায় শিক্ষার্থীদের ভুল ও দুর্বলতার দিকগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ফিডব্যাক দেবেন। তবে মূল্যায়ন শেষে খাতাগুলো কেজি দরে বিক্রি না করে বিভাগে সংরক্ষণ করা উচিত।

তিনি আরও বলেন, সবচেয়ে ভালো হয়, শিক্ষার্থীদের খাতায় ভুলগুলো চিহ্নিত করে সেটি তাদের কাছে ফেরত দেওয়া। এতে তারা নিজেদের ত্রুটিগুলো সহজে বুঝতে এবং ভবিষ্যতে সংশোধন করতে পারবে। পাশাপাশি মানসম্মত কিছু অ্যাসাইনমেন্ট নির্বাচন করে বিভাগের সেমিনার লাইব্রেরিতে সংরক্ষণ করা যেতে পারে। এতে নতুন শিক্ষার্থীরা সেগুলো অনুসরণ করে আরও ভালো মানের অ্যাসাইনমেন্ট তৈরিতে উৎসাহিত হবে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, অ্যাসাইনমেন্ট শিক্ষার্থীদের শেখার ও মূল্যায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই মূল্যায়নের পর খাতাগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা এবং ফিডব্যাকসহ শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরা অধিক যুক্তিযুক্ত। যদি কোথাও খাতা বিক্রির মতো কোনো ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সরকারের সাড়া না পেয়ে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে চুয়েট শিক্ষার্থীদের অবস্থান
টানা দুই সপ্তাহ ধরে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করেও সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের সাড়া না পাওয়ায় আন্দোলনের ১৫তম দিনে ক্যাম্পাস ছেড়ে চট্টগ্রাম শহরে গিয়ে নিজেদের দাবি তুলে ধরেছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষার্থীরা।  মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচির মাধ্যমে অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের দাবি জানান তারা। বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলে। চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে দীর্ঘ দুই সপ্তাহ পর চুয়েট ক্যাম্পাসের বাইরে শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। ক্যাম্পাস থেকে প্রায় ২৩ কিলোমিটার দূরে প্রেসক্লাব এলাকায় পাঁচটি বাসে করে শতাধিক শিক্ষার্থী এতে অংশ নেন। এর পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকেও চুয়েটের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী কর্মসূচিতে যোগ দেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের হাতে বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। এর মধ্যে ছিল— ‘চুয়েট সচলে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ’, ‘চুয়েট রিভোল্টস ফর সায়েম স্যার’ এবং ‘পিএম, কনসিডার আওয়ার অ্যাপিল’। পাশাপাশি ‘দফা এক, দাবি এক, অনলাইন ভিসির পদত্যাগ’ এবং ‘দাবি মোদের একটাই, সায়েম স্যারকে ভিসি চাই’ -সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন আন্দোলনকারীরা। মানববন্ধনে পেট্রোলিয়াম ও মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং (পিএমই) বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আসাদুল্লাহ হিল গালিব বলেন, আমরা দীর্ঘ ১৫ দিন ধরে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ সংকট সমাধানে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে পাচ্ছি না। আমরা এর নিন্দা জানাই। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি একটি অনন্য নজির যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা সবাই একজনকে উপাচার্য হিসেবে দেখতে চান। আশা করি, সরকার আমাদের দাবির প্রতি সম্মান দেখিয়ে সায়েম স্যারকেই উপাচার্য পদে পুনর্বহাল করবে। মানববন্ধনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন চুয়েটের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আহনাফ শাহরিয়ার অর্ণব, মাহিরা তাজরিন ও যুলকারনাইন মিহাদ। লিখিত বক্তব্যে তারা বলেন, চুয়েটের চলমান সংকট দীর্ঘায়িত হওয়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই এবং দেশের অন্যতম প্রধান এই প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় দিনের পর দিন অচল থাকায় হাজারো শিক্ষার্থীর ক্লাস, পরীক্ষা, গবেষণা ও অ্যাকাডেমিক ভবিষ্যৎ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়নি, বরং একটি ব্যাখ্যাহীন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ন্যায্য পুনর্বিবেচনা চাচ্ছে। বক্তব্যে আরও বলা হয়, কোনো বিশেষ সুবিধা নয়, বরং চুয়েটে স্বাভাবিক শিক্ষাপরিবেশ ফিরিয়ে আনাই শিক্ষার্থীদের মূল দাবি। অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমের ৫৬ দিনের কার্যকালের পরিকল্পিত উদ্যোগগুলো বিবেচনায় নিয়ে তাকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের বিষয়ে সরকারের দ্রুত ও স্পষ্ট সিদ্ধান্ত চান তারা। একই সঙ্গে সংকট নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন শিক্ষার্থীরা। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া চুয়েটের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও কৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ফাইজুল কবির আবরার বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম স্যারকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, এতদিন ধরে শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করলেও সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আমাদের দাবির বিষয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ বা স্পষ্ট বক্তব্য আসেনি। সরকারের এমন নীরবতা ও উদাসীনতার আমরা তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানাই। বাধ্য হয়েই আজ ক্যাম্পাসের বাইরে এসে আমাদের দাবি জানাতে হচ্ছে। আমরা সরকারের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি, দ্রুত শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি বিবেচনা করে চুয়েটের চলমান অচলাবস্থার অবসান ঘটানো হোক এবং অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম স্যারকে উপাচার্য পদে পুনর্বহাল করা হোক। প্রসঙ্গত, ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে চুয়েটের উপাচার্য পদ থেকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। দায়িত্ব নেওয়ার ৫৬ দিনের মাথায় উপাচার্য পরিবর্তনের প্রতিবাদে ওই দিন থেকেই আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর থেকে চুয়েটে শুরু হয় ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি। এর পর থেকে লাল কার্ড প্রদর্শন, মশাল মিছিল, মুখোশ মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা। তবে টানা ১৫ দিন ধরে আন্দোলন চললেও এখনও দাবির বিষয়ে কোনো কার্যকর সমাধান না হওয়ায় চুয়েটের অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে অচলাবস্থা অব্যাহত রয়েছে। আরটিভি/এসএস
সরকারের সাড়া না পেয়ে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে চুয়েট শিক্ষার্থীদের অবস্থান
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ
ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য, প্রধান উপদেষ্টা ও বর্তমান ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারর্সন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন-এর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল মঙ্গলবার (০৬ অক্টোবর) দুপুরে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ
‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক’-এর জন্য মনোনীত রুয়েটের ৭ শিক্ষার্থী
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) প্রবর্তিত ‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক’ ২০১৯, ২০২০ ও ২০২১-এর জন্য প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পেয়েছেন রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) সাত (৭) শিক্ষার্থী।
‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক’-এর জন্য মনোনীত রুয়েটের ৭ শিক্ষার্থী
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদ হারিয়েছেন ৬ শিক্ষক
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) শিক্ষাছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কর্মস্থলে যোগদান না করা এবং অব্যাহতির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ছয় শিক্ষকের মূল পদ শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদ হারিয়েছেন ৬ শিক্ষক
আবরার ফাহাদের মৃত্যুবার্ষিকী জকসুর দোয়া মাহফিল
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী শহীদ আবরার ফাহাদের ৭ম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) উদ্যোগে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আবরার ফাহাদের মৃত্যুবার্ষিকী জকসুর দোয়া মাহফিল
আরও পড়ুন
রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় ইবি রিপোর্টার্স ইউনিটির প্রতিবাদ
রাবি ছাত্রদল ‘হিজড়া’: বহিষ্কৃত নেতা
সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় রাবির জিয়া হলের প্রভোস্টকে অব্যাহতি
সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় রাবি ছাত্রদলের ৩ নেতা বহিষ্কার