
টানা দুই সপ্তাহ ধরে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করেও সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের সাড়া না পাওয়ায় আন্দোলনের ১৫তম দিনে ক্যাম্পাস ছেড়ে চট্টগ্রাম শহরে গিয়ে নিজেদের দাবি তুলে ধরেছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচির মাধ্যমে অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের দাবি জানান তারা। বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলে।
চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে দীর্ঘ দুই সপ্তাহ পর চুয়েট ক্যাম্পাসের বাইরে শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। ক্যাম্পাস থেকে প্রায় ২৩ কিলোমিটার দূরে প্রেসক্লাব এলাকায় পাঁচটি বাসে করে শতাধিক শিক্ষার্থী এতে অংশ নেন। এর পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকেও চুয়েটের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী কর্মসূচিতে যোগ দেন।
এ সময় শিক্ষার্থীদের হাতে বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। এর মধ্যে ছিল— ‘চুয়েট সচলে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ’, ‘চুয়েট রিভোল্টস ফর সায়েম স্যার’ এবং ‘পিএম, কনসিডার আওয়ার অ্যাপিল’। পাশাপাশি ‘দফা এক, দাবি এক, অনলাইন ভিসির পদত্যাগ’ এবং ‘দাবি মোদের একটাই, সায়েম স্যারকে ভিসি চাই’ -সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন আন্দোলনকারীরা।
মানববন্ধনে পেট্রোলিয়াম ও মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং (পিএমই) বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আসাদুল্লাহ হিল গালিব বলেন, আমরা দীর্ঘ ১৫ দিন ধরে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ সংকট সমাধানে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে পাচ্ছি না। আমরা এর নিন্দা জানাই। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি একটি অনন্য নজির যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা সবাই একজনকে উপাচার্য হিসেবে দেখতে চান। আশা করি, সরকার আমাদের দাবির প্রতি সম্মান দেখিয়ে সায়েম স্যারকেই উপাচার্য পদে পুনর্বহাল করবে।
মানববন্ধনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন চুয়েটের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আহনাফ শাহরিয়ার অর্ণব, মাহিরা তাজরিন ও যুলকারনাইন মিহাদ। লিখিত বক্তব্যে তারা বলেন, চুয়েটের চলমান সংকট দীর্ঘায়িত হওয়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই এবং দেশের অন্যতম প্রধান এই প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় দিনের পর দিন অচল থাকায় হাজারো শিক্ষার্থীর ক্লাস, পরীক্ষা, গবেষণা ও অ্যাকাডেমিক ভবিষ্যৎ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়নি, বরং একটি ব্যাখ্যাহীন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ন্যায্য পুনর্বিবেচনা চাচ্ছে।
বক্তব্যে আরও বলা হয়, কোনো বিশেষ সুবিধা নয়, বরং চুয়েটে স্বাভাবিক শিক্ষাপরিবেশ ফিরিয়ে আনাই শিক্ষার্থীদের মূল দাবি। অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমের ৫৬ দিনের কার্যকালের পরিকল্পিত উদ্যোগগুলো বিবেচনায় নিয়ে তাকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের বিষয়ে সরকারের দ্রুত ও স্পষ্ট সিদ্ধান্ত চান তারা। একই সঙ্গে সংকট নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন শিক্ষার্থীরা।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া চুয়েটের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও কৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ফাইজুল কবির আবরার বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম স্যারকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, এতদিন ধরে শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করলেও সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আমাদের দাবির বিষয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ বা স্পষ্ট বক্তব্য আসেনি। সরকারের এমন নীরবতা ও উদাসীনতার আমরা তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানাই। বাধ্য হয়েই আজ ক্যাম্পাসের বাইরে এসে আমাদের দাবি জানাতে হচ্ছে। আমরা সরকারের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি, দ্রুত শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি বিবেচনা করে চুয়েটের চলমান অচলাবস্থার অবসান ঘটানো হোক এবং অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম স্যারকে উপাচার্য পদে পুনর্বহাল করা হোক।
প্রসঙ্গত, ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে চুয়েটের উপাচার্য পদ থেকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। দায়িত্ব নেওয়ার ৫৬ দিনের মাথায় উপাচার্য পরিবর্তনের প্রতিবাদে ওই দিন থেকেই আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা।
পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর থেকে চুয়েটে শুরু হয় ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি। এর পর থেকে লাল কার্ড প্রদর্শন, মশাল মিছিল, মুখোশ মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা। তবে টানা ১৫ দিন ধরে আন্দোলন চললেও এখনও দাবির বিষয়ে কোনো কার্যকর সমাধান না হওয়ায় চুয়েটের অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে অচলাবস্থা অব্যাহত রয়েছে।
আরটিভি/এসএস



