
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের জন্য নির্মিত আবাসিক ভবনগুলোতে বসবাসে অনীহার কারণে দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা আবাসিক ভবনগুলো ছাত্রী হলে রূপান্তরের চিন্তাভাবনা করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
অবকাঠামোগত ক্ষতি ও নিরাপত্তাঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি নারী শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসনে এসব খালি ভবন সাময়িকভাবে ছাত্রী হল হিসেবে ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) কাছে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত নাগরিক সুবিধা না থাকায় শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বেতন থেকে পূর্ণ হারে বাড়িভাড়া কর্তনের বিষয়েও অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে সুস্পষ্ট নির্দেশনা চেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের কনফারেন্স রুমে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা জানান উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলী এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাব, সাংবাদিক সমিতি ও রিপোর্টার্স ইউনিটির সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে পর্যাপ্ত নাগরিক সুযোগ-সুবিধা না থাকায় কোনো শিক্ষককে আইনগতভাবে এখানে বসবাসে বাধ্য করতে পারি না। ফলে তাঁদের জন্য নির্মিত আবাসিক ভবনগুলো অলস পড়ে থাকে। দিনের পর দিন এভাবে পড়ে থাকায় ভবনগুলো একসময় পরিত্যক্ত হয়ে যাচ্ছে। এতে একদিকে বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত অবকাঠামোগুলো নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিয়েও ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।’
তিনি বলেন, আমি মাননীয় অর্থমন্ত্রীর সামনে বিষয়টি বলেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন থেকে যখন পূর্ণ হারে বাড়িভাড়া কর্তন করা হয়, তখন এর অর্ধেক টাকা দিয়েই কুষ্টিয়া বা ঝিনাইদহে আমরা ভালো বাসায় থাকতে পারি।
উপাচার্য আরও বলেন, এ বিষয়ে সরকারের কাছে এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাছে সুস্পষ্ট গাইডলাইন চেয়েছি। অবিলম্বে এ বিষয়ে একটি সুযোগ থাকা দরকার। তবে এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। আপাতত ভবনগুলোর সুরক্ষা এবং শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসনে এসব ভবন নারী শিক্ষার্থীদের আবাসনের জন্য ব্যবহার করা যায় কি না, সে বিষয়ে ইউজিসির কাছে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবটি গৃহীত হলে আশা করি অনেক নারী শিক্ষার্থীকে অন্তত আবাসন সুবিধা দেওয়া সম্ভব হবে। পাশাপাশি আমাদের আবাসিক ভবনগুলোও সুরক্ষিত থাকবে।
প্রসঙ্গত, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের জন্য নির্মিত সাতটি আবাসিক ভবনে মোট ৬৯টি ফ্ল্যাটের মধ্যে প্রায় ৫০টিই খালি পড়ে আছে। নব্বইয়ের দশকে নির্মিত পদ্মা, যমুনা ও মেঘনা ভবনের ২৪টি ফ্ল্যাটের প্রায় অর্ধেকই অব্যবহৃত। কর্ণফুলী ও কপোতাক্ষ ভবন দুটিও দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। সম্প্রতি কপোতাক্ষ ভবনে আনসার সদস্যদের থাকার ব্যবস্থা করা হলেও কর্ণফুলী ভবন এখনো খালি।
এছাড়া কয়েক বছর আগে নির্মিত ১০ তলা ভবনের ১৯টি ফ্ল্যাটের মধ্যে ১০টি এবং প্রভোস্ট কোয়ার্টারের অধিকাংশ ফ্ল্যাটও খালি। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নির্মিত কোয়েল ভবনের ১০টির মধ্যে আটটি এবং ময়না ভবনের নয়টি ফ্ল্যাট অব্যবহৃত রয়েছে।
দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় এসব ভবনের বিভিন্ন স্থানে জঙ্গল ও শ্যাওলা জমেছে। এতে ভবনগুলোর অবকাঠামোগত ক্ষতির পাশাপাশি নিরাপত্তাঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। ফলে খালি পড়ে থাকা ভবনগুলোকে ছাত্রী হল হিসেবে ব্যবহার করা গেলে একদিকে নারী শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট কিছুটা কমবে, অন্যদিকে দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকা ভবনগুলোরও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত হবে বলে মনে করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
আরটিভি/জেএমএ




