ঢাকা বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রতিষ্ঠার ৬ মাসেও আলোর মুখ দেখেনি রাবির নজরুল চর্চা কেন্দ্র

রাবি সংবাদদাতা, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৬ আগস্ট ২০২৬, ০৮:১২ পিএম
আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২৬, ০৮:১৮ পিএম
ছবি : আরটিভি

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংগীত, মানবতাবাদ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা নিয়ে নিয়মিত চর্চা ও গবেষণার প্রত্যাশায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) প্রতিষ্ঠা করা হয় ‘নজরুল চর্চা কেন্দ্র’। তবে প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কেন্দ্রটির কার্যক্রম এখনো দৃশ্যমান হয়নি। প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনাকাটা, আলোচনা সভা, সেমিনারসহ নিয়মিত কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় কেন্দ্রটির উদ্দেশ্য ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিশ্বববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি রাবিতে প্রথমবারের মতো ‘নজরুল চর্চা কেন্দ্র’ প্রতিষ্ঠা করা হয়। তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীবের উদ্যোগে নজরুল চর্চাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে প্রতিষ্ঠিত এ কেন্দ্রের মূল লক্ষ্য ছিল কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংগীত ও জীবনদর্শন নিয়ে নিয়মিত চর্চা, গবেষণা ও আলোচনা করা এবং তার মানবতাবাদ, সাম্য ও অসাম্প্রদায়িক চিন্তাধারা নতুন প্রজন্মের কাছে ছড়িয়ে দেওয়া।

ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান অহনা বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য নজরুল চর্চা কেন্দ্রের গুরুত্ব অনেক বেশি। এই কেন্দ্রের মাধ্যমে নিয়মিত আলোচনা সভা, সেমিনার ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজন করা হলে শিক্ষার্থীরা কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংগীত, দর্শন ও চিন্তাধারা সম্পর্কে আরও গভীরভাবে জানার সুযোগ পাবে।

আরও পড়ুন

তিনি আরও বলেন, বিশেষ করে নজরুলের রচনা ও তার অসাম্প্রদায়িক, মানবতাবাদী ও সাম্যের চিন্তাধারা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তার সাহিত্য তরুণদের অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে সচেতন হতে, মানবিক মূল্যবোধ ধারণ করতে এবং সমাজে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে অনুপ্রাণিত করবে। তাই শুধু নামেই নয়, নিয়মিত কার্যক্রমের মাধ্যমে নজরুল চর্চা কেন্দ্রকে সক্রিয় করা প্রয়োজন।

তৎকালীন উপাচার্য ও নজরুল চর্চা কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব বলেন, আমাদের দেশে শুধু বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে নয়, সামগ্রিক দিক বিবেচনা করলে নজরুলচর্চার গুরুত্ব অনেক বেশি। কাজী নজরুল ইসলামের মানবতার শিক্ষা, সাম্য ও অসাম্প্রদায়িক চিন্তাভাবনা আরও বেশি করে প্রচার করা উচিত।

তিনি আরও বলেন, আমাদের পরিকল্পনা অনেক ছিল। আমরা চেয়েছিলাম, এটি সত্যিকার অর্থে একটি গবেষণা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠুক। এখানে নজরুলের রচনা নিয়ে অনেক কাজ করার সুযোগ রয়েছে। সেমিনার, সিম্পোজিয়াম আয়োজন, গবেষণার সুযোগ তৈরি করা এবং রিসার্চ ফেলো রাখার মতো নানা পরিকল্পনা ছিল।

বর্তমানে এর কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি বলেন, আমার তেমন কোনো যোগাযোগ নেই। তাই এখন কী ধরনের কার্যক্রম চলছে, সে বিষয়ে আমি জানি না। এটির কাঠামো কেমন হবে বা কীভাবে পরিচালিত হবে, তা নিয়েও আমাদের চিন্তাভাবনা ছিল।

আরও পড়ুন

তিনি বলেন, বর্তমানে যারা প্রশাসনে আছেন, তারা বিষয়টি নিয়ে ভাববেন। সবাই নিশ্চয়ই স্বীকার করবেন, এ ধরনের একটি ইনস্টিটিউট বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য প্রয়োজন আছে। বিশেষ করে আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম—বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তার চিন্তাভাবনা ও রচনার গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।

জানতে চাইলে নজরুল চর্চা কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক শামীমা হামিদ জানান, আগের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নজরুল চর্চা কেন্দ্রটি গঠন করেছিল। বলতে গেলে অনেকটা জোর করেই আমাকে এর পরিচালকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে কেন্দ্রটির কার্যক্রমে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি করতে পারিনি। আমি এটি নিয়ে তেমন কিছু করতে বা কার্যক্রম শুরু করতে পারিনি। এ বিষয়ে যখন আমাকে প্রশ্ন করা হয়, তখন আমি খুবই বিব্রত বোধ করি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. আব্দুল আলীম জানান, নজরুল চর্চা কেন্দ্রটি শুধু নামমাত্র গঠন করা হয়েছে। এর কোনো অফিস নেই এবং এখন পর্যন্ত কার্যত কোনো কাজও করা হয়নি।

তিনি বলেন, এটিকে শিক্ষার্থীদের দাঁড় করাতে হবে। এটি আগে ছিল না, সম্পূর্ণ নতুন একটি কেন্দ্র। তাই এর জন্য অনুমোদন ও ইউজিসির (বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন) অনুমতি প্রয়োজন। অফিস স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ও অন্যান্য সরঞ্জামও কিনতে হবে। আমরা সামনে এসব কার্যক্রম করব।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
গাঁজাসহ দুই শিক্ষার্থী আটক, ইবির প্রক্টরিয়াল বডির ৪ সিদ্ধান্ত
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) গাঁজাসহ দুই শিক্ষার্থী আটকের ঘটনায় ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা জোরদারে চারটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রক্টরিয়াল বডি।
গাঁজাসহ দুই শিক্ষার্থী আটক, ইবির প্রক্টরিয়াল বডির ৪ সিদ্ধান্ত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একাধিক ককটেল বিস্ফোরণ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় রাতে পরপর তিনটি ককটেলের বিস্ফোরণ হয়েছে। আজ রাত ১০টা ৪৫ মিনিটের দিকে জগন্নাথ হলের সামনে দুটি এবং টিএসসি মেট্রোরেল স্টেশনের কাছে একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। তাৎক্ষণিকভাবে এতে কেউ হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একাধিক ককটেল বিস্ফোরণ
যবিপ্রবির ছাদে সোলার প্যানেল, মাসে ৪ লাখ টাকা সাশ্রয় 
দেশের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে রুফটপ সোলার সিস্টেম স্থাপন করে ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি)। সূর্যের আলো কাজে লাগিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার এক-তৃতীয়াংশ মেটানোর পাশাপাশি ছাদ ভাড়া থেকে প্রতি মাসে বাড়তি আয় হচ্ছে ১ লাখ ২৭ হাজার টাকা।  একই সঙ্গে ছুটির দিনে ক্যাম্পাসে অব্যবহৃত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সোলার সিস্টেম। শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন ও আর্থিক সাশ্রয়ই নয়, এই সোলার সিস্টেম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যবহারিক শিক্ষারও একটি জীবন্ত ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।  সিস্টেম থেকে পাওয়া রিয়েল টাইম তথ্য গবেষণা ও শিক্ষার কাজে ব্যবহার করছেন শিক্ষার্থীরা। ২০২৩ সালের জুন থেকে যবিপ্রবির অধিকাংশ ভবনের ছাদে রুফটপ সোলার সিস্টেম স্থাপনের কাজ শুরু হয়।  সুপারস্টার রিনিউঅ্যাবল এনার্জি লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠান অপেক্স মডেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবনগুলোর প্রায় ৬৩ হাজার বর্গফুট ছাদজুড়ে ১ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সোলার প্যানেল স্থাপন করেছে। যবিপ্রবির গবেষণাগার উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার মিজানুর রহমান জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের মাসিক বিদ্যুৎ চাহিদা প্রায় ৩ লাখ ইউনিট। এর বিপরীতে বর্তমানে সোলার প্যানেল থেকে পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ১ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ। তিনি বলেন, সরকারি নির্ধারিত দরের চেয়ে ২৬ দশমিক ৬ শতাংশ কম মূল্যে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এই বিদ্যুৎ কিনছে যবিপ্রবি। বাকি বিদ্যুৎ নেওয়া হচ্ছে পল্লী বিদ্যুৎ থেকে। কম দামে বিদ্যুৎ কেনায় প্রতি মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৩ লাখ টাকা সাশ্রয় হচ্ছে। এছাড়া ভবনগুলোর ছাদ প্রতি বর্গফুট ২ টাকা হিসেবে ভাড়া দিয়ে প্রতি মাসে আয় হচ্ছে ১ লাখ ২৭ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে বিদ্যুৎ খরচের ক্ষেত্রে প্রতি মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাশ্রয় ও আয় দাঁড়াচ্ছে ৪ লাখ ২৭ হাজার টাকা। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ভবনে সোলার প্যানেল স্থাপনের কাজ শেষ হলে এই সাশ্রয়ের পরিমাণ আরও বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। যবিপ্রবি কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতি সপ্তাহে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ে ছুটি থাকে। এ দুই দিনসহ অন্যান্য সরকারি ছুটির দিনে ক্যাম্পাসে ব্যবহার না হওয়া বিদ্যুৎ সরাসরি জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে। বর্তমানে প্রতি মাসে ২৪ থেকে ২৬ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সোলার সিস্টেম। এই পরিমাণ ভবিষ্যতে আরও বাড়ানোর লক্ষ্যে কাজ করছে কর্তৃপক্ষ। আর্থিক সাশ্রয় ও বিদ্যুৎ সরবরাহের পাশাপাশি এই প্রকল্প থেকে উপকৃত হচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের শিক্ষার্থীরা। অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী ইমরান খান বলেন, এই সোলার সিস্টেম শিক্ষার্থীদের জন্য হাতে-কলমে শেখার একটি বাস্তব ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।  এখান থেকে রিয়েল টাইম ডেটাও পাওয়া যাচ্ছে, যা গবেষণা ও শিক্ষার কাজে সহায়ক হচ্ছে। তিনি বলেন, জ্বালানি সংকটের এই সময়ে লোডশেডিং হলেও সোলার এনার্জি থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম বা গবেষণার কাজ কোনো কিছুই থেমে থাকছে না। যবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের এখনো কিছু ভবনে সোলার প্যানেল স্থাপনের কাজ বাকি রয়েছে। এসব ভবনে কাজ শেষ হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ৪০ শতাংশ সোলার প্যানেল থেকে পাওয়া যাবে। তিনি জানান, যবিপ্রবির ঝিনাইদহ ক্যাম্পাসেও সোলার প্যানেল স্থাপন করা হবে। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় করা হবে। ফলে ওই ক্যাম্পাসে উৎপাদিত বিদ্যুৎ পুরোপুরি বিনামূল্যে পাওয়া যাবে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্ট্রিট লাইটগুলোতেও সোলার প্যানেল বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। উপাচার্য বলেন, বর্তমানে যে জ্বালানি সংকট চলছে, তাতে সোলার প্যানেল স্থাপনে সরকার সবাইকে উদ্বুদ্ধ করছে এবং সহযোগিতাও করতে চাচ্ছে। সরকার প্রণোদনা দিলে যবিপ্রবির চাহিদার ১০০ শতাংশ বিদ্যুৎ সোলার থেকে উৎপাদন করা সম্ভব হবে। আরটিভি/এসআর  
যবিপ্রবির ছাদে সোলার প্যানেল, মাসে ৪ লাখ টাকা সাশ্রয় 
ছেলের ভর্তি পরীক্ষায় পরিদর্শকের দায়িত্বে রাবি অধ্যাপক, অতঃপর... 
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের ভর্তি পরীক্ষায় নিজের ছেলে পরীক্ষার্থী থাকা সত্ত্বেও পরীক্ষা পরিচালনার দায়িত্ব পালন করায় বিভাগীয় সভাপতি অধ্যাপক মোহা. মনিরুল হককে তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।   মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এ এইচ এম আসলাম হোসেন স্বাক্ষরিত পৃথক দাপ্তরিক আদেশ এ তথ্য জানানো হয়।  বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ব্যবহারিক ভর্তি পরীক্ষায় অধ্যাপক মনিরুল হকের ছেলে পরীক্ষার্থী ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো শিক্ষকের সন্তান বা নিকটাত্মীয় পরীক্ষার্থী হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে লিখিতভাবে কো-অর্ডিনেশন কমিটিকে বিষয়টি জানিয়ে পরীক্ষা-সংক্রান্ত সব দায়িত্ব থেকে বিরত থাকতে হয়। অভিযোগ উঠেছে, এই বিধান অনুসরণ না করে অধ্যাপক মনিরুল হক পরীক্ষা কো-অর্ডিনেশন কমিটির কো-অর্ডিনেটর, ব্যবহারিক পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির সদস্য ও পরিদর্শকের দায়িত্ব পালন করেন। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে বিভাগীয় সভাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়। একই আদেশে প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মতিয়ার রহমানকে নতুন বিভাগীয় সভাপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর আগে, ১৩ সেপ্টেম্বর ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে ঘটনা তদন্তে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আনিছুর রহমানকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটির অন্য ২ সদস্য হলেন- মেটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. এম. আসাদুল হক এবং দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আরিফুল ইসলাম। কমিটিকে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. আব্দুল আলিম বলেন, ‘ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’  আরটিভি/এসএস
ছেলের ভর্তি পরীক্ষায় পরিদর্শকের দায়িত্বে রাবি অধ্যাপক, অতঃপর... 
ইবিতে হল ডিবেটিং সোসাইটির নেতৃত্বে আজমেরী-ফারহানা
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা সিদ্দিকা হল ডিবেটিং সোসাইটির ২০২৬-২৭ বর্ষের কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে সভাপতি হিসেবে ল’ অ্যান্ড ল্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আজমেরী রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন একই শিক্ষাবর্ষের কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগের ফারহানা ইয়াসমিন। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. এ. কে. এম রাশেদুজ্জামান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। কমিটির অন্যান্য দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন- সহ-সভাপতি মোছা. হিতুয়ারা খাতুন ও সাহারা আক্তার সিঁথি, সাংগঠনিক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদাউস বর্ষা, দপ্তর সম্পাদক তাহিয়া সুলতানা নাদিয়া, সহ-দপ্তর সম্পাদক মুক্তা খাতুন, অর্থ সম্পাদক সুমি আক্তার, সহ অর্থ সম্পাদক জিন্নাত আলভী, প্রচার সম্পাদক হুমাইরা আছিয়া প্রীতি, সহ-প্রচার সম্পাদক সিনথিয়া সিরাত। কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন- নিশাত নাবিল্লাহ প্রাপ্তি, ইসরাত জাহান এবং হাবিবা আক্তার সিনথিয়া। দায়িত্ব পেয়ে সাধারণ সম্পাদক ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, ‘বিতর্কচর্চা শিক্ষার্থীদের যুক্তিবোধ, চিন্তাশক্তি ও নেতৃত্বের দক্ষতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নবগঠিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আমাদের হলের বিতর্কচর্চাকে আরও গতিশীল ও সুশৃঙ্খল করাই হবে আমার মূল লক্ষ্য। সবার সহযোগিতায় হল ডিবেটিং সোসাইটির এই নতুন যাত্রা আরও দূর এগিয়ে যাবে বলে আমি আশাবাদী।’ সভাপতি আজমেরী রহমান বলেন, ‘বিতর্ক অঙ্গনে যোগ্য ও দক্ষ বিতার্কিক তৈরি করার ভিত্তিমূল হিসেবে কাজ করে আমাদের হল ডিবেটিং সোসাইটিগুলো। আমি দায়িত্বশীল হিসেবে চেষ্টা করবো নিয়মিত সেশন এবং অন্যান্য বিতর্কের সুবিধার মাধ্যমে হলে ভালো বিতার্কিক সৃষ্টি করার এবং চাইবো ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতর্ক অঙ্গন তারা ভালো বিতার্কিক হিসেবে পরিচিতি পাক। একই সাথে হলের বিতর্ক অঙ্গনে সংশ্লিষ্ট সবাইকে এই পথ চলায় পাশে থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।’ আরটিভি/এসএস
ইবিতে হল ডিবেটিং সোসাইটির নেতৃত্বে আজমেরী-ফারহানা
আরও পড়ুন
রাবিতে পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে চালু হচ্ছে নতুন পদ্ধতি
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের সমুদ্র ভ্রমণ, স্মৃতির পাতায় নতুন গল্প
বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ারে প্রদর্শিত হচ্ছে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫ গবেষণা
শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাতে পিছিয়ে রাবি, ৩৪ বিভাগে নেই আন্তর্জাতিক মান