ঢাকা রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩

পাবনার ছয় প্রাথমিক বিদ্যালয়কে পাবিপ্রবি উপাচার্যের বুকশেলফ উপহার

‎পাবিপ্রবি সংবাদদাতা , আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১১:১০ পিএম
ছবি : আরটিভি

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার মান উন্নয়নের লক্ষে এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে পাবনা জেলার ছয়টি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে নিজের অর্থায়নে আলমারি, পড়াশোনা জন্য আধুনিক কীট এবং গুরুত্বপূর্ণ বই উপহার দিয়েছেন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহাম্মদ শামীম বিশ্ববিদ্যালয়।

শনিবার ( ২৯ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের হাতে উপহার সমগ্র তুলে দেন।

‎‎এসময় উপস্থিত ছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহাম্মদ শামীম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. শামীম আহসান, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের চেয়ারম্যান ও জুলাই-৬ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. কামরুজ্জামান, প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা।

‎‎প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান উন্নয়ন, আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত এবং ছোট শিক্ষার্থীদের শিক্ষামুখী করতেই এমন উদ্যােগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে রয়েছে মহেন্দ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খয়েরসূতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাইওনিয়ার ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজ, জহিরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাওলানা কসিম উদ্দিন স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয় ও জহিরপুর দাখিল মাদ্রাসা। উপহার দেওয়া বইগুলো মধ্যে ছিল- ইংরেজি গ্রামার ও স্পোকেন শেখার বই, ছোটগল্প, শিশু সাহিত্য এবং ধর্মীয় বইসহ ছোট শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আগ্রহ তৈরি করে এমন বই। সেই সাথে ছিল ছোট বাচ্চাদের আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার সাথে সংযুক্ত করতে পারবো এমন কীট।

আরও পড়ুন

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহাম্মদ শামীম বলেন, আমি মনে করি, একটি প্রজন্মের সঙ্গে আরেকটি প্রজন্মের সেতুবন্ধন তৈরি করা খুবই জরুরি। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শুধু নিজেদের শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করবে এমন নয়, আমাদের আশপাশের প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসাগুলোর প্রতিও আমাদের সামাজিক দায়বদ্ধতা রয়েছে। কারণ একটি দশতলা ভবন যতই সুন্দর হোক, তার ফাউন্ডেশন যদি শক্ত না হয়, তাহলে সেই ভবন টেকসই হবে না। ঠিক তেমনি একটি দেশের ভবিষ্যৎ যতই উজ্জ্বল হোক, আমাদের প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি যদি মজবুত না হয়, তাহলে সেই ভবিষ্যৎও শক্তিশালী হবে না। একটি শিশুর ভাষা, চিন্তাভাবনা, সামাজিক শিষ্টাচার, নৈতিক মূল্যবোধ ও শেখার আগ্রহ এসবের ভিত্তি তৈরি হয় প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকেই।

‎তিনি আরো বলেন, বাস্তবতা হলো আমাদের অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এখনো পর্যাপ্ত বই নেই, লাইব্রেরি নেই, শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধাও সীমিত। তাই আমি মনে করি, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা যদি নিজেদের পড়াশোনার পাশাপাশি আশপাশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু স্বেচ্ছাসেবী ক্লাস পরিচালনা করে তাদের গণিত শেখায়, ইংরেজি শেখায়, বিজ্ঞান শেখায়, নীতি-নৈতিকতা ও আত্মবিশ্বাসের শিক্ষা দেয় তাহলে এর প্রভাব অনেক দূর পর্যন্ত যাবে। আমার বিশ্বাস, এই উদ্যোগের শুরুটা হওয়া উচিত প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকেই। কারণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ই আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার ভিত্তি, আর আজকের শিশুরাই আগামী দিনের নাগরিক। সেই ভিত্তি যত শক্ত হবে, আমাদের ভবিষ্যৎও তত বেশি শক্তিশালী, সুন্দর ও সমৃদ্ধ হবে।

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বিধবা নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ রাবি অধ্যাপকের বিরুদ্ধে
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক বিধবা নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুর রহমান। তিনি ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিভাগের সভাপতি। গত ১৫ সেপ্টেম্বর অভিযোগকারী নারী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, লিগ্যাল সেল ও সাংবাদিকদের কাছে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেন। তবে এর তিন দিন পর, আজ ১৯ সেপ্টেম্বর ওই নারী অভিযোগটি প্রত্যাহার করেছেন। অভিযোগপত্রে তিনি লিখেছেন, প্রফেসর মাহবুবুর রহমান বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে গত এক বছর ধরে যৌন সম্পর্ক করেছেন, কিন্তু এখন বিয়ে নিয়ে তালবাহানা করছেন। তাই আমার অভিযোগ আমলে নিয়ে এ বিষয়ে ব্যবস্থা করার জন্য আকুল আবেদন জানাই। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী নারী বলেন, আমাদের বাসা একই এলাকায়। আমাদের মধ্যে একটা আত্মীয়তার সম্পর্কও ছিল। এ ছাড়া আমার মেয়ে রাজশাহীতে পড়াশোনা করে। আমার স্বামী মারা যাওয়ার পর আমি রাজশাহী চলে আসি। এখানে মেয়েকে নিয়ে একটা বাসায় থাকি। পরিচিত হওয়ায় মাহবুব স্যারের সঙ্গে মাঝে মধ্যে দেখা-সাক্ষাৎ হতো। এভাবে কিছুদিন চলার পর হঠাৎ তিনি আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। তখন আমি “না” করে দিই। তার স্ত্রী-সন্তান আছে, তারা বিদেশে থাকেন—এটা আমি জানতাম। আমাকে তিনি বলেন, তাদের (নিজের পরিবার) সঙ্গে পাঁচ বছর ধরে তার কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি আরও বলেন, কিছুদিন পর আমার মেয়ে গ্রামের বাসায় গেলে তিনি আমাকে তার বাসায় ডাকেন এবং বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আমার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক করেন। এরপর আরও দু-তিন দিন আমাকে বাসায় নিয়ে যান। আমি বিয়ের কথা বললে একদিন আমাকে থাপ্পড় দেন। ঘটনা জানাজানি হওয়ার ভয়ে তিনি আমাকে বিয়ে করতে রাজি হন। এরপর তিনি আমার বাড়িতে গিয়ে আমার কাছে মাফ চেয়ে বিয়ে করেন। সে সময় পাঁচজন শিক্ষার্থী সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে একজন আমাদের বিয়ে পড়ান। তবে পরদিন কাবিন রেজিস্ট্রির সময় তার আগের বৈবাহিক অবস্থার বিষয়টি সামনে এলে তিনি কাবিননামায় স্বাক্ষর না করেই চলে যান। এখন তিনি আমাকে স্ত্রীর স্বীকৃতি দিচ্ছেন না। আমি স্ত্রীর স্বীকৃতি চাই—এটাই আমার দাবি। তবে অভিযোগের তিন দিন পর তা প্রত্যাহার করেন ওই নারী। প্রত্যাহারপত্রে তিনি লিখেছেন, প্রফেসর ড. মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে আমি অবৈধ সম্পর্কের যে অভিযোগটি করেছিলাম, সেটা ব্যক্তিগত ঝামেলা এবং অন্যদের প্ররোচনায় করা হয়েছিল। উনি সম্পূর্ণ নির্দোষ, আমার আর কোনো অভিযোগ নেই। আমি অভিযোগটি প্রত্যাহার করে নিলাম। এ বিষয়ে তিনি সাংবাদিককে বলেন, একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। এখন সব ঠিক হয়ে গেছে। আপনাদের কিছু করতে হবে না। তাদের বিয়ে পড়ানো সেই সাবেক শিক্ষার্থীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমরা সেদিন পাঁচজন উপস্থিত ছিলাম। তাদের বিয়ে হয়েছিল। মাঝে একটা সমস্যা হয়েছিল, তা এখন মিটমাট হয়ে গেছে। এ বিষয়ে জানতে ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুর রহমানকে কল দিলে তিনি ‘ব্যস্ত আছি’ বলে কল কেটে দেন। পরবর্তীতে তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, অভিযোগপত্রটি আমরা পেয়েছি। আমরা এ বিষয়ে কাজ করছি। প্রাথমিক সত্যতা পেলে সিদ্ধান্ত জানাতে পারব। আরটিভি/টিআর
বিধবা নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ রাবি অধ্যাপকের বিরুদ্ধে
আওয়ামী লীগের ‘লকডাউন’ কর্মসূচির প্রতিবাদে জবি ছাত্রদলের বিক্ষোভ
নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কথিত ‘লকডাউন’ কর্মসূচির প্রতিবাদে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্রদলের একাংশ বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে।
আওয়ামী লীগের ‘লকডাউন’ কর্মসূচির প্রতিবাদে জবি ছাত্রদলের বিক্ষোভ
অপ্রতীমের জানাজা আগামীকাল সকাল ১০টায়
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে নিহত কিশোর ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের জানাজার নামাজ আগামীকাল রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের মাঠে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম।
অপ্রতীমের জানাজা আগামীকাল সকাল ১০টায়
অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে কুবিতে রোববার ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশরাত শাহরিয়ার অপ্রতিমের নৃশংস হত্যাকাণ্ডে আগামীকাল রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘সাধারণ শোক’ ঘোষণা করা হয়েছে। এদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগের ক্লাস ও পূর্বনির্ধারিত পরীক্ষা স্থগিত থাকবে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. মজিবুর রহমান মজুমদার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অপ্রতিমের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার গভীরভাবে শোকাহত ও স্তব্ধ। বিশ্ববিদ্যালয় এ বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে এবং মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছে। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামীকাল ২০ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘সাধারণ শোক’ ঘোষণা করা হয়েছে। এদিন সম্মানিত শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অবগতির জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগের ক্লাস ও পূর্বনির্ধারিত পরীক্ষাসমূহ স্থগিত থাকবে। স্থগিত পরীক্ষার নতুন সময়সূচি পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগ নোটিশের মাধ্যমে জানাবে। আরটিভি/টিআর
অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে কুবিতে রোববার ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত
ব্যাকটেরিয়ার কালচারেই যবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের ‘বৈজ্ঞানিক শিল্প’
চোখে দেখা যায় না, অথচ জীবনের প্রতিটি স্তরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে আছে—অণুজীবের সেই অদৃশ্য জগত এবার পেট্রি ডিশে দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। কখনো গোলাপ, কখনো গাছের মতো শাখা-প্রশাখা, কখনো কোষ কিংবা বিভিন্ন প্রতীকী অবয়ব। রং-তুলির আঁচড় নয়, এসব নকশা তৈরি হয়েছে বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়ার কালচার ও স্বাভাবিক বৃদ্ধিকে কাজে লাগিয়ে। আর এই ব্যতিক্রমী বৈজ্ঞানিক উপস্থাপনার পেছনে রয়েছে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের হাত। আন্তর্জাতিক অণুজীব দিবস উপলক্ষে অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত নানা কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রদর্শিত হয় এসব ব্যাকটেরিয়াল কালচার। র‍্যালি, সমাবেশ, অণুজীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের গ্র্যান্ড ফাইনাল, ইনোভেশন শোকেস, ‘মাইক্রোবস ডিসকভারি কর্নার’ ও বায়োফার্টিলাইজার প্রদর্শনীর পাশাপাশি পেট্রি ডিশে তৈরি এসব ফর্মেশন বিশেষভাবে নজর কাড়ে দর্শনার্থীদের। শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন কালচার মিডিয়ায় ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি ঘটিয়ে তৈরি করেছেন নান্দনিক এসব ফর্মেশন। কোথাও ব্যাকটেরিয়ার কলোনি ছড়িয়ে পড়েছে গাছের ডালপালার মতো, কোথাও ফুটে উঠেছে ফুলের অবয়ব। আবার কোনো পেট্রি ডিশে দেখা গেছে কোষের প্রতিকৃতি, কোনোটি যেন প্রকৃতির কোনো দৃশ্য। দূর থেকে দেখলে এগুলোকে সাধারণ শিল্পকর্ম মনে হলেও কাছে গেলেই বোঝা যায়, এসবের প্রতিটি রেখা ও নকশার পেছনে রয়েছে অণুজীবের বৃদ্ধি। প্রদর্শনীতে থাকা পেট্রি ডিশগুলোর একটিতে দেখা যায় ‘The Eternal Tree’—ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিকে ব্যবহার করে গাছের মতো একটি বিস্তৃত ফর্মেশন। অন্যটিতে ‘The Prokaryotic Cell’, যেখানে অণুজীববিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ একটি ধারণাকে শিল্পের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে। রয়েছে ‘Roses’, ‘The Phoenix’, ‘The Pursuit of Knowledge’, ‘Swimming’ ও অন্যান্য সৃজনশীল ফর্মেশনও। প্রতিটি কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কালচার মিডিয়া ও অণুজীবের পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। শুধু নান্দনিকতা নয়, এসব প্রদর্শনীতে অণুজীববিজ্ঞানের ব্যবহারিক শিক্ষাটিও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। Escherichia coli, Staphylococcus aureus, Staphylococcus epidermidis, Klebsiella pneumoniae এবং বিভিন্ন Vibrio প্রজাতির ব্যাকটেরিয়ার কালচার প্রদর্শনের পাশাপাশি E. coli-এর জন্য MacConkey ও EMB এবং Vibrio প্রজাতির জন্য TCBS-এর মতো কালচার মিডিয়ায় অণুজীবের বৈশিষ্ট্যপূর্ণ বৃদ্ধিও দেখানো হয়েছে। বিভিন্ন পেট্রি ডিশে ব্যাকটেরিয়ার কলোনির রং, আকার, বিস্তার ও বৃদ্ধির ধরনও আলাদা। ফলে একই প্রদর্শনীতে দর্শনার্থীরা যেমন অণুজীবের বৈচিত্র্য সম্পর্কে ধারণা পেয়েছেন, তেমনি শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে কালচার, পর্যবেক্ষণ ও গবেষণার অভিজ্ঞতারও একটি বাস্তব চিত্র দেখতে পেয়েছেন। অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের আয়োজিত এই প্রদর্শনীর মূল আকর্ষণ ছিল অদৃশ্যকে দৃশ্যমান করে তোলা। সাধারণত ব্যাকটেরিয়া বলতে চোখের সামনে কোনো দৃশ্যমান অবয়ব কল্পনা করা কঠিন। কিন্তু উপযুক্ত কালচার মিডিয়া ও নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে তাদের বৃদ্ধিকে কাজে লাগিয়ে শিক্ষার্থীরা সেই অদৃশ্য জগতকেই পেট্রি ডিশে নান্দনিক রূপ দিয়েছেন। এ আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতায় তাই বিজ্ঞান ও শিল্পের এক ভিন্ন ধরনের মেলবন্ধন দেখা গেছে। একদিকে তারা শিখেছেন কীভাবে নির্দিষ্ট কালচার মিডিয়ায় ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণ করতে হয়, অন্যদিকে সেই বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়াকেই ব্যবহার করেছেন দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করার মতো সৃজনশীল উপস্থাপনায়। আন্তর্জাতিক অণুজীব দিবসের মূল আয়োজনেও অণুজীবের গুরুত্ব, গবেষণা ও জনসচেতনতার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান র‍্যালিতে শিক্ষার্থীদের প্রদর্শিত ব্যানার ও প্ল্যাকার্ডে বিশেষ করে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (AMR)-সংক্রান্ত সচেতনতামূলক বার্তার প্রশংসা করেন। বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক ড. সেলিনা আক্তারও মানবদেহ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অণুজীবের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। সেই বড় আয়োজনের ভেতরে পেট্রি ডিশে তৈরি এসব ব্যাকটেরিয়াল ফর্মেশন যেন অণুজীববিজ্ঞানের আরেকটি গল্প বলেছে—যে জীবকে খালি চোখে দেখা যায় না, তাকেও বিজ্ঞান, পর্যবেক্ষণ ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে মানুষের সামনে দৃশ্যমান করে তোলা সম্ভব। যবিপ্রবির অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের এই আয়োজন তাই কেবল একটি প্রদর্শনী নয়; এটি তাদের ব্যবহারিক জ্ঞান, গবেষণামুখী চিন্তা ও সৃজনশীলতারও এক অভিনব প্রকাশ। আরটিভি/টিআর
ব্যাকটেরিয়ার কালচারেই যবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের ‘বৈজ্ঞানিক শিল্প’
আরও পড়ুন
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার সুযোগ
ভিন্নধর্মী আয়োজনে পাবিপ্রবিতে জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা শুরু
খালেদা জিয়ার জন্মদিনে পাবিপ্রবিতে দোয়া মাহফিল
‘শুধু ডিগ্রি নয়, বিশ্ববিদ্যালয় উদ্ভাবন ও পেটেন্টের জন্য পরিচিত হবে’