ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

‘শুধু ডিগ্রি নয়, বিশ্ববিদ্যালয় উদ্ভাবন ও পেটেন্টের জন্য পরিচিত হবে’

পাবিপ্রবি সংবাদদাতা, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৪৮ পিএম
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহাম্মদ শামীম । ছবি: সংগৃহীত

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান কার্যক্রম, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং নানা সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আরটিভির পাবিপ্রবি সংবাদদাতা সাজ্জাদুল ইসলামের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে বলেছেন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহাম্মদ শামীম।

‎‎আরটিভি: বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য হিসেবে প্রায় ৩ মাস হয়েছে আপনি দায়িত্ব নিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে আপনার মিশন ও ভিশন কী এবং আগামী চার বছরে এই বিশ্ববিদ্যালয়কে কোথায় দেখতে চান?

উপাচার্য: গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি সেসব ছাত্র-জনতাকে, যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুযোগ পেয়েছি। দায়িত্ব নেওয়ার এই তিন মাসকে আমি শুধু প্রশাসনিক দায়িত্ব হিসেবে দেখিনি, বরং শিক্ষার্থীদের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও হৃদয়ের স্পন্দন বোঝার সময় হিসেবে দেখেছি।

‎আমার মিশন স্পষ্ট—পাবিপ্রবিকে সত্যিকারের মানুষ গড়ার পাশাপাশি জ্ঞান-বিজ্ঞান ও গবেষণার একটি শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠে পরিণত করা। সার্টিফিকেট নির্ভরতার পরিবর্তে বাস্তবমুখী ও বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করতে চাই। আগামী চার বছরে আমার লক্ষ্য হলো এমন একটি সমৃদ্ধ গবেষণা প্ল্যাটফর্‌ম তৈরি করা, যেখানে শিক্ষার্থীরা সময়ের সর্বোত্তম ব্যবহার করে পড়াশোনা ও গবেষণায় মনোনিবেশ করবে এবং আন্তর্জাতিক মানের গবেষণার মাধ্যমে বিশ্ব-দরবারে পাবিপ্রবিকে মর্যাদার আসনে নিয়ে যাবে।

আরটিভি: আন্তর্জাতিক র‍্যাংকিং ও গবেষণায় বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে আপনার কী কী পরিকল্পনা রয়েছে?

উপাচার্য: একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাধান কাজ হলো তার গবেষণা। আমাদের শিক্ষার্থীরা অনেক মেধাবী, তারা কিউ-১ ও কিউ-২ জার্নালে গত ১ বছরে ৮৬টি আর্টিকেল প্রকাশ করছে। শুধু একটু পরিচর্যা করলে এই সংখ্যা বহুগুণ বেড়ে যাবে। আন্তর্জাতিক র‍্যাংকিংয়ে জায়গা করে নিতে ইতোমধ্যে আমরা 'রিসার্চ অ্যান্ড পাবলিকেশন সেল'-কে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছি। সম্প্রতি সিমাগো র‍্যাংকিংয়ে এনার্জি ক্যাটেগরিতে দ্বিতীয় এবং গণিতকে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে।

‎শিক্ষকদের পাশাপাশি স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদেরও গবেষণায় অনুদান দেওয়ার পরিকল্পনা করেছি। আমরা চাই আমাদের শিক্ষার্থীরা এমন গবেষণা করুক, যা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক জার্নালগুলোকে সমৃদ্ধ করবে। সেক্ষেত্রে, র‍্যাংকিংয়ে আমাদের অবস্থান স্বয়ংক্রিয়ভাবেই উচ্চতায় পৌঁছে যাবে। যদিও আমাদের ওয়েবসাইটে এখন পর্যন্ত কিছু দুর্বলতা রয়েছে। এটা নিয়ে আমরা কাজ শুরু করেছি।

আরটিভি: দেশি-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে অ্যাকাডেমিক ও গবেষণাভিত্তিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা?

উপাচার্য: চার দেয়ালে আটকে রেখে জ্ঞান কখনো বাড়ানো যায় না। আমরা চাই আমাদের শিক্ষার্থীরা বিশ্বের সেরা গবেষকদের সাথে কাজ করুক। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি দেশি-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাথে সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া শুরু করেছি। শিক্ষক ও শিক্ষার্থী বিনিময় কর্মসূচি (Exchange Program) চালু করা আমার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য, যাতে আমাদের সন্তানরা শিকড়ে পা রেখে বিশ্বমঞ্চে বিচরণ করতে পারে।

আরটিভি: সরকারি, বেসরকারি ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশীদারিত্ব জোরদারে কী পরিকল্পনা রয়েছে?

উপাচার্য: আমার বুক কেঁপে ওঠে যখন দেখি একজন মেধাবী শিক্ষার্থী পড়াশোনা শেষ করে বেকারত্বের হতাশায় ভুগছে। ইন্ডাস্ট্রি এবং অ্যাকাডেমিয়ার মধ্যকার এই বিশাল দূরত্ব আমাদের ঘোচাতেই হবে। আমরা করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে নিয়মিত 'জব ফেয়ার' এবং 'ইন্ডাস্ট্রিয়াল কোলাবোরেশন'-এর আয়োজন করব। পাঠ্যক্রমকে আমরা এমনভাবে সাজাতে চাই যেন একজন শিক্ষার্থী পাস করার আগেই নিশ্চিত থাকে যে, তার দক্ষতা দেশের সরকারি-বেসরকারি খাতের সরাসরি উপকারে আসবে। প্রস্তুতি স্বরূপ আমাদের কারিকুলাম প্রণয়নে ইন্ডাস্ট্রি থেকে একজন বিষয় বিশেষজ্ঞ অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ইন্ডাস্ট্রি থেকে রিসোর্স পার্সন আমাদের শিক্ষার্থীদের পাঠদান করবেন।

‎‎আরটিভি: বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দেড়যুগ পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়নি। সমাবর্তন নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কী?

উপাচার্য: এটি অত্যন্ত বেদনার একটি বিষয়। একজন শিক্ষার্থীর জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্নের একটি হলো সমাবর্তন। এটি সেই মাহেন্দ্রক্ষণ, যেখানে একজন বাবা বা মায়ের চোখের আনন্দাশ্রু তাদের জীবনের সব কষ্ট ভুলিয়ে দেয়। আমি আপনাদের মাধ্যমে আমার প্রাণের শিক্ষার্থীদের কথা দিচ্ছি, এই দীর্ঘ বঞ্চনার অবসান খুব শীঘ্রই হবে। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সমাবর্তন আয়োজনের আনুষঙ্গিক কাজ শুরু করেছি (আমি নিজে দায়িত্ব নিয়ে একটি কমিটি গঠন করেছি। এ নিয়ে ২টি মিটিং সম্পন্ন হয়েছে।) এবং সমাবর্তন এখন আমার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

‎‎আরটিভি: বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়তন ৭৫ একরের লক্ষ্যে ভূমি অধিগ্রহণের বিষয়ে কী ভাবছেন?

‎উপাচার্য: মুক্ত চিন্তা বিকাশের জন্য একটি উন্মুক্ত এবং সুবিশাল প্রাঙ্গণ অত্যন্ত জরুরি। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বর্তমান ৩০ একর আয়তন ক্রমবর্ধমান চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। ৭৫ একরে উন্নীত করার যে পরিকল্পনা রয়েছে, সেটি নিয়ে আমরা সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে গভীরভাবে কাজ করছি। এটি কেবল মাটি বা জমির সম্প্রসারণ নয়, এটি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উন্নতির জন্য বিশাল এক ক্যানভাস তৈরি করার লড়াই। আমি আশা করি, খুব শীঘ্রই প্রয়োজনীয় ৪৫ একর জমি।

আরটিভি: বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন মাত্র ২১টি বিভাগ রয়েছে, নতুন বিভাগ চালুর কোনো পরিকল্পনা আছে কি?

উপাচার্য: চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এই যুগে আমাদের পুরোনো ধ্যান-ধারণা নিয়ে বসে থাকলে চলবে না। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), রোবোটিক্স, বায়ো-ইনফরমেটিক্স এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির মতো বিষয়গুলো এখন সময়ের দাবি। দেশের প্রয়োজন এবং বৈশ্বিক চাহিদার কথা মাথায় রেখে, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও শিক্ষক নিশ্চিত করে আমরা যুগোপযোগী নতুন বিভাগ খোলার পরিকল্পনা করছি। স্বল্প ব্যবধানে ২-৩ টি নতুন বিভাগ (নিউক্লিয়ার সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, ফুড প্রিজারভেশন অ্যান্ড টেকনোলজি, কমানিকেশ অ্যান্ড হেল্থ কেয়ার ম্যানেজমেন্ট বিভাগ) চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

আরটিভি: বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক বিভাগে শিক্ষক সংকট রয়েছে তা নিরসনে আপনার পরিকল্পনা কী এবং নিয়োগের ক্ষেত্রে আপনি কোন বিষয়টিকে প্রাধান্য দেবেন?

উপাচার্য: ইট-পাথরের দালান কখনো বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করে না, শিক্ষকরাই বিশ্ববিদ্যালয়ের আসল রূপকার। শিক্ষক সংকট নিরসনে আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করব। তবে এখানে আমার অবস্থান অত্যন্ত কঠোর— নিয়োগের ক্ষেত্রে 'মেধা এবং যোগ্যতা' ছাড়া আর কোনো মাপকাঠি থাকবে না। স্বজনপ্রীতি বা কোনো ধরনের অনৈতিক প্রভাব এখানে স্থান পাবে না। আমি এমন শিক্ষক চাই, যারা ক্লাসরুমে শুধু পড়াবেন না, শিক্ষার্থীদের নিজের সন্তানের মতো ভালোও বাসবেন।

আরটিভি: গবেষণাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে আপনার প্রশাসন কী কী উদ্যোগ নেবে?

উপাচার্য: মুখস্থ বিদ্যার বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসা দরকার। আপনাদের মাধ্যমে একটা সুখবর দিতে চাই, গবেষণার জন্য সেন্ট্রাল ল্যাবরেটরি স্থাপনের জন্য এবার ৪৮ কোটি টাকার বাজেট পাস হয়েছে। শিক্ষকদের গবেষণায় উৎসাহ দিতে 'রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড' চালু রয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, শুধু ডিগ্রি প্রদান নয়, ভবিষ্যতে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় পরিচিত হবে তার নতুন নতুন উদ্ভাবন এবং পেটেন্টের জন্য।

‎আরটিভি: উপাচার্য হিসেবে শিক্ষার্থীদের প্রতি আপনার প্রত্যাশা কী; তাদেরকে কী বার্তা দিতে চান?

‎উপাচার্য: প্রিয় শিক্ষার্থীদের প্রতি আমার একটাই বার্তা— তোমরা স্বপ্ন দেখতে ভয় পেয়ো না। আগামীর স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার মূল দায়িত্ব তোমাদের‌ই। তোমাদের বিনয়, প্রজ্ঞা এবং সামগ্রিক অধ্যবসায় অন্যদের অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে কাজ করবে। তোমরাই হবে নতুন বাংলাদেশের অভিভাবক। মেধার বিকাশ ঘটিয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি চর্চার পাশাপাশি নিজেদের হৃদয়ে দেশপ্রেম ও মানবিকতাকে ধারণ করে গড়ে উঠবে তোমরা। মনে রাখবে, তোমাদের জন্য উপাচার্যের দরজা সবসময়ই খোলা। চলো, আমরা সবাই মিলে আমাদের প্রাণের পাবিপ্রবি-কে এমন এক উচ্চতায় নিয়ে যাই, যা নিয়ে পুরো বাংলাদেশ গর্ব করবে।

আরও পড়ুন


আরটিভি: শত ব্যস্ততার মাঝেও সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ স্যার।

উপাচার্য: আপনাকেও ধন্যবাদ।

আরটিভি/এসএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ইবির একই কক্ষের ৩ বন্ধু এখন বিচারক
ক্যাম্পাস জীবনে একই ছাদের নিচে একই কক্ষে পড়াশোনা করতেন তিন বন্ধু। নিয়মিত গ্রুপ স্টাডি করতেন তারা। ১৬তম বিজেএস-এ একজন সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পর দুইবার ব্যর্থ হলেও হাল ছাড়েননি অপর দুই বন্ধু। এবার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আইন বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের তিন শিক্ষার্থী ও সাদ্দাম হোসেন হলের একই কক্ষের তিন বন্ধুই এখন সিভিল জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। তারা হলেন—১৬তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় সুপারিশপ্রাপ্ত আরিফ হোসাইন এবং সর্বশেষ প্রকাশিত ১৮তম বিজেএস পরীক্ষায় সুপারিশপ্রাপ্ত মো. আনোয়ার হোসেন ও শাকির আলম। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদ্দাম হোসেন হলের ৪২২ নম্বর কক্ষে একসূত্রে বাঁধা পড়েছিল এই তিন সহপাঠীর স্বপ্ন ও সংগ্রামের পথচলা। ১৬তম বিজেএস পরীক্ষায় আরিফ হোসাইন প্রথম জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে বাকি দুই বন্ধুর জন্য অনুপ্রেরণার দুয়ার খুলে দেন। তিনি বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, মহান রবের প্রতি কৃতজ্ঞতা, যিনি আমাদের তিন বন্ধুকে এমন সম্মান দিয়েছেন। সকলের জন্য শুভকামনা ও ভালোবাসা। সর্বশেষ প্রকাশিত ১৮তম বিজেএস-এ সুপারিশপ্রাপ্ত শাকির আলম বলেন, প্রথমেই মহান আল্লাহ তাআলার প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা, যিনি আমাকে এই জায়গায় নিয়ে এসেছেন। টানা দুইবার ব্যর্থ হওয়ার পরও হাল ছাড়িনি। তৃতীয়বারের চেষ্টায় উত্তীর্ণ হয়েছি। কুরআনের সেই আয়াত মনে পড়ে যায় যে, শিগগিরই তোমার রব তোমাকে এত বেশি দেবেন যে তুমি খুশি হয়ে যাবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর থেকেই আমার ইচ্ছে ছিল যে একদিন বিচারক হয়ে দেশ ও দেশের মানুষের জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করব। পরিবার ও সমাজের এ ব্যাপারে উৎসাহিত করতে অবদান আছে। পাশাপাশি উৎসাহিত হয়েছি বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় ভাই-আপুদের সুপারিশপ্রাপ্ত হতে দেখে। আমার সবচেয়ে বড় ভালো লাগা, সাদ্দাম হোসেন হলের ৪২২ নম্বর কক্ষ থেকে আমরা তিনজনই জজ হয়েছি। তারা জানান, ক্যাম্পাস জীবনে সাদ্দাম হোসেন হলের ৪২২ নম্বর কক্ষটি ছিল তাদের পড়াশোনা ও একে অপরকে সহযোগিতা করার মূল কেন্দ্র। গভীর রাতের দীর্ঘ পড়াশোনা, গ্রুপ ডিসকাশন এবং লক্ষ্যপূরণের অদম্য ইচ্ছা তাদের এই যৌথ সাফল্যের পেছনের মূল শক্তি হিসেবে কাজ করেছে। আইন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হালিমা খাতুন বলেন, আমাদের বিভাগ প্রতিবছরই জুডিশিয়ারিতে ভালো করে থাকে। এবার আরও ভালো করেছে। এই ধারা অব্যাহত থাকবে, আশা করি। যারা জুডিশিয়ারিকে প্রফেশন হিসেবে নিতে চান, তাদের গাইডলাইন দেওয়া থেকে শুরু করে তাদের বেজলাইন দৃঢ় করতে আমরা কাজ করব। জুডিশিয়ারি একটি মহৎ পেশা। আমাদের বিভাগের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করছি। অন্যদিকে তিন রুমমেট বন্ধু জজ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। তারা ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেছে। তারা আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। উল্লেখ্য, বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ১৮তম জুডিশিয়াল সার্ভিসের (বিজেএস) চূড়ান্ত ফল প্রকাশিত হয়। ফলাফল অনুযায়ী, সর্বশেষ তথ্য অনুসারে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে ১৪ জন, আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগ থেকে ৪ জন এবং আল-ফিকহ অ্যান্ড ল’ থেকে ১ জন সিভিল জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। আরটিভি/টিআর
ইবির একই কক্ষের ৩ বন্ধু এখন বিচারক
শেষ ছয় জজ নিয়োগ পরীক্ষার পাঁচটিতেই প্রথম রাবির শিক্ষার্থীরা
বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় ধারাবাহিক সাফল্য ধরে রেখেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীরা। সর্বশেষ ছয়টি বিজেএস পরীক্ষার মধ্যে পাঁচটিতেই মেধাতালিকায় প্রথম স্থান অর্জন করেছেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় প্রকাশিত ১৮তম বিজেএস পরীক্ষার ফলাফলে দেশসেরা হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আরিফুল করিম সিয়াম। এর আগে ১৩তম থেকে ১৬তম বিজেএস পরীক্ষায় টানা চারবার প্রথম হন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র ও ফলাফল বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, ১৩তম থেকে ১৮তম—সর্বশেষ ছয়টি বিজেএস পরীক্ষার মধ্যে পাঁচটিতেই প্রথম হয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ সময় ১৩তম, ১৪তম, ১৫তম ও ১৬তম পরীক্ষায় টানা চারবার রাবির শিক্ষার্থীরা প্রথম হওয়ার পর ১৭তম পরীক্ষায় অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শীর্ষস্থান অর্জন করেন। ১৮তম পরীক্ষায় সিয়ামের সাফল্যের মাধ্যমে আবারও মেধাতালিকার শীর্ষে রাবি। ১৩তম বিজেএস পরীক্ষায় প্রথম হন শিউলী নাহার। ১৪তম বিজেএস পরীক্ষায় প্রথম হন সুমাইয়া নাসরিন। ১৫তম বিজেএসে প্রথম স্থান অর্জন করেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আশিক-উজ-জামান। ১৬তম বিজেএস পরীক্ষায়ও শীর্ষস্থান ধরে রাখেন রাবির শিক্ষার্থী নুসরাত জেরিন জেনি। তবে ১৭তম বিজেএস পরীক্ষায় এ ধারাবাহিকতার অবসান ঘটে। ওই পরীক্ষায় প্রথম হন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হালিমাতুস সাদিয়া। এর ফলে রাবির শিক্ষার্থীদের টানা চারবার প্রথম হওয়ার ধারাটি থেমে যায়। পরবর্তী ১৮তম বিজেএস পরীক্ষায় আরিফুল করিম সিয়ামের প্রথম হওয়ার মাধ্যমে আবারও শীর্ষস্থান ফিরে আসে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। ১৮তম বিজেএসে প্রথম হওয়া আইন বিভাগের শিক্ষার্থী আরিফুল করিম সিয়াম তার সাফল্যের বিষয়ে বলেন, আমার যতটুকু সামর্থ্য ছিল, তা দিয়ে ভালো করার চেষ্টা করেছি। বাকিটা মহান আল্লাহর দান। অনেকেই হয়তো আমার চেয়েও বেশি যোগ্য ছিলেন, কিন্তু দিন শেষে সৃষ্টিকর্তা যাকে ইচ্ছা কবুল করেন। ভবিষ্যতে এ পরীক্ষায় অংশ নিতে আগ্রহীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এই দীর্ঘ যাত্রায় যেন কেউ ধৈর্য না হারায়। প্রস্তুতি নিতে গিয়ে প্রতিদিন সমান সাফল্য আসবে না, কখনো ঘাটতি থাকবে, কখনো ভালো হবে। কিন্তু পড়াশোনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং নিয়মিত পরীক্ষার মাধ্যমে নিজেকে একটু একটু করে ঝালিয়ে নেওয়া খুবই জরুরি। সাফল্যের বিষয়ে অনুভূতি প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. সাঈদা আনজু বলেন, খুবই ভালো লাগছে শুনে। রাবির আইন বিভাগ থেকে আবারও দেশসেরা হয়েছে—এটা অবশ্যই আমার জন্য, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য গর্বের। সিয়ামসহ ১৮তম বিজেএসে যে ২০০ জন উত্তীর্ণ হয়েছে, তাদের সবাইকে প্রাণঢালা অভিনন্দন জানাচ্ছি। আরটিভি/টিআর  
শেষ ছয় জজ নিয়োগ পরীক্ষার পাঁচটিতেই প্রথম রাবির শিক্ষার্থীরা
১৮তম বিজেএস পরীক্ষায় জজ পদে সুপারিশপ্রাপ্ত খুবির ৬ শিক্ষার্থী
১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় সিভিল জজ পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) আইন ডিসিপ্লিনের ছয় শিক্ষার্থী। বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের অধীনে অনুষ্ঠিত এ পরীক্ষার বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে তারা সিভিল জজ পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। ২৩ সেপ্টেম্বর (বুধবার) ১৮তম বিজেএস পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর এ তথ্য জানা যায়। সুপারিশপ্রাপ্তরা হলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮ ব্যাচের মাহবুবা সুলতানা এবং ১৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী নাসিম বিল্লাহ, হাফসা বিনতে আইয়ুব, সজল আহমেদ বাপ্পী, কামরুজ্জামান বাদশা ও ২০ ব্যাচের নাজমুল ইসলাম সিয়াম। মেধাতালিকায় হাফসা বিনতে আইয়ুব ৭ম, সজল আহমেদ বাপ্পী ৮ম, নাজমুল ইসলাম সিয়াম ৩০তম, কামরুজ্জামান বাদশা ৫৭তম এবং নাসিম বিল্লাহ ৬৫তম স্থান অর্জন করেছেন। বিজেএস পরীক্ষায় সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে নাসিম বিল্লাহ বলেন, “সর্বপ্রথম সৃষ্টিকর্তার নিকট অশেষ শুকরিয়া। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর আমরা ছিলাম তৃতীয় ব্যাচ। আমাদের সিনিয়র ব্যাচ যখন জুডিশিয়ারির পরীক্ষা দিতেন, আমরা খুবই আগ্রহ নিয়ে তাদের সাফল্যের খবর শোনার জন্য অপেক্ষা করতাম। অনেক পরিশ্রমের পরও আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে এ সাফল্য ধরা দিচ্ছিল না। কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ, ১৮তম বিজেএস পরীক্ষায় আমাদের ছয়জন সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছি।” তিনি আরও বলেন, আমাকে এই দিনে নিয়ে আসার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান আমাদের শিক্ষকদের, আমাদের সিনিয়রদের, আমার জুনিয়রদের, আমার খাজা হলের সকল মানুষের এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি মানুষের। অনেক অনেক ধন্যবাদ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়। সকলের নিকট দোয়া চাই, যেন বিচারক হিসেবে ন্যায় ও সুষ্ঠু বিচার প্রতিষ্ঠিত করতে পারি। এছাড়াও সজল আহমেদ বাপ্পী বলেন, আইন ডিসিপ্লিন তথা খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অনন্য ইতিহাসের সাক্ষী হতে পেরে নিজেকে গর্বিত মনে করছি। আমার সকল শুভাকাঙ্ক্ষীর কাছে দোয়া চাই, যাতে সারাজীবন ন্যায়ের পথে থাকতে পারি এবং মানুষের জন্য সবসময় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারি। এ বিষয়ে আইন ডিসিপ্লিনের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক পুনাম চক্রবর্তী বলেন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এবারই প্রথমবারের মতো বিচারক হিসেবে কয়েকজন শিক্ষার্থী সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। আইন ডিসিপ্লিন প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই প্রথম ১৪ জন ভাইভায় অংশগ্রহণ করে তাদের মধ্যে ছয়জন জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। এটি শুধু আইন ডিসিপ্লিনের জন্য নয়, পুরো খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যও অত্যন্ত গর্বের বিষয়। আমরা আশা করি, ভবিষ্যতেও এই সাফল্যের ধারা অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি বর্তমান শিক্ষার্থীরাও যেন এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে ভালো করতে পারে, সে জন্য আইন ডিসিপ্লিনের শিক্ষকরা তাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনা দিয়ে যাবেন। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন দেশের অধস্তন আদালতের বিচারক নিয়োগের জন্য বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষা আয়োজন করে। প্রাথমিক, লিখিত ও মৌখিকসহ বিভিন্ন ধাপের পরীক্ষার মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থীদের বাছাই করা হয়। আরটিভি/টিআর  
১৮তম বিজেএস পরীক্ষায় জজ পদে সুপারিশপ্রাপ্ত খুবির ৬ শিক্ষার্থী
ছাত্রীকে ডাকাডাকি করেও মেলেনি সাড়া, দরজা ভাঙতেই সামনে ‘অপ্রত্যাশিত দৃশ্য’
হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি) সংলগ্ন একটি ছাত্রীনিবাস থেকে এক ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। জানা গেছে, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন বিসিএস গলির শেষপ্রান্তে অবস্থিত ফজিলা ছাত্রীনিবাসের তৃতীয় তলার ৩০১ নম্বর কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে মেসে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ওই ছাত্রীকে সর্বশেষ দেখা যায়। এরপর থেকে তাকে আর বাইরে দেখা যায়নি। বুধবার সন্ধ্যায় বারবার ডাকাডাকি করেও তার কোনো সাড়া না পাওয়ায় মেসের মালিক ও কয়েকজন ছাত্রী হাতুড়ি দিয়ে দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় তারা তাকে জানালার সঙ্গে কাপড় দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। তিনি প্রায় ৮-৯ মাস ধরে ওই ছাত্রীনিবাসে অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে। এর আগে তিনি দিনাজপুর শহরের অন্য একটি মেসে থাকতেন। খবর পেয়ে দিনাজপুর সদর কোতোয়ালি থানা পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়, ছাত্রীর পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে। আইনগতভাবে পরিবারের সম্মতিতে বাকি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। পুলিশের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। দিনাজপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল হালিম বলেন, প্রাথমিক লক্ষণগুলো দেখে আমাদের কাছে আত্মহত্যা বলে মনে হয়েছে। তবে পোস্টমর্টেম রিপোর্ট পাওয়ার আগে আমরা নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছি না। তার মধ্যে আত্মহত্যার কিছু প্রাথমিক লক্ষণ ছিল। পোস্টমর্টেমের পর এসব বিষয় নিশ্চিত করে বলা যাবে। ছাত্রীর পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে। তারা এলে বাকি প্রক্রিয়া শুরু হবে। আরটিভি/টিআর
ছাত্রীকে ডাকাডাকি করেও মেলেনি সাড়া, দরজা ভাঙতেই সামনে ‘অপ্রত্যাশিত দৃশ্য’
১৬তম বিজেএস পরীক্ষায় স্বামী, এবার জজ হলেন স্ত্রী
বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের (বিজেএস) ১৮তম পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বিচারক হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী চৈতি বিশ্বাস। এর আগে একই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া তার স্বামী উদাস গোস্বামী একই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কর্মজীবনে আছেন। এবার স্ত্রীর সাফল্যে পরিবারে যোগ হয়েছে নতুন আনন্দ। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন সচিবালয়ের ওয়েবসাইটে ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। ১৮তম বিজেএস পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর জানা গেছে, চৈতি বিশ্বাস পরীক্ষায় সফল হয়ে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসে যোগ দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। তার স্বামীও এর আগে একই পরীক্ষার মাধ্যমে বিচারক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন। দুজনের এই সাফল্যের গল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ও আইন অঙ্গনে প্রশংসা কুড়াচ্ছে। একই পরিবারের স্বামী-স্ত্রী দুজনের বিচার বিভাগে যুক্ত হওয়াকে অনেকে অনুপ্রেরণাদায়ক ঘটনা হিসেবে দেখছেন। স্ত্রীর সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট উদাস গোস্বামী লিখেছেন, জজ-ম্যাজিস্ট্রেট দেখার প্রতি ছোটবেলা থেকেই খুব আগ্রহ ছিল। এখন ঘুম থেকে উঠেই একজন জজ দেখার সৌভাগ্য হবে। স্রষ্টার অশেষ কৃপায় তোমার (তার স্ত্রী) পরিশ্রম তোমাকে সম্মানিত করেছে। স্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি লিখেছেন, ১৮তম জুডিশিয়ারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ায় তোমাকে অভিনন্দন, প্রিয়তমা সহধর্মিণী চৈতি বিশ্বাস। বাবা তার এত প্রিয় বউমার এই সাফল্য অল্প সময়ের ব্যবধানে দেখতে পারলেন না—এটাই আফসোস। যাহোক, আবারও অভিনন্দন, জজ সাহেবা। আরটিভি/টিআর
১৬তম বিজেএস পরীক্ষায় স্বামী, এবার জজ হলেন স্ত্রী
আরও পড়ুন
পাবিপ্রবির প্রথম সমাবর্তনের তারিখ ঘোষণা
বাস্তবসম্মত ও কর্মমুখী শিক্ষা দানে বিশেষ জোর দিতে রাষ্ট্রপতির আহ্বান
জাফর ইকবাল ও মাকসুদ কামালসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার সুযোগ