
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সময় ব্যাকগ্রাউন্ড ডিজিটাল স্ক্রিনে শেখ হাসিনার ছবি প্রদর্শনের ঘটনায় অণুজীববিজ্ঞান (মাইক্রোবায়োলজি) বিভাগের চেয়ারম্যান ও আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ‘নীল দলের’ সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. ফিরোজ আহমেদকে অব্যাহতির নির্দেশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এবং পুরো বিষয়টির সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত ওই বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম। এ ছাড়া ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ তামজিদ হোছাইন চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।
অফিস আদেশে বলা হয়, গত ১৭ সেপ্টেম্বর মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ কর্তৃক বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘ইন্টারন্যাশনাল মাইক্রোঅর্গানিজম ডে-২০২৬’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাতীয় সংগীত চলাকালে ডিজিটাল স্ক্রিনে সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিকভাবে শেখ হাসিনার ছবি প্রদর্শন করা হয়। এ ঘটনায় অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ফিরোজ আহমেদ এবং অনুষ্ঠান আয়োজন কমিটির আহ্বায়ক সহযোগী অধ্যাপক ড. খন্দকার ফাহমিদা সুলতানাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল এবং তারা ইতোমধ্যে সেই কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব দিয়েছেন।
পুরো বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন প্রদানের জন্য তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দিনকে আহ্বায়ক, জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. গাজী মো. মহসিনকে সদস্য এবং প্রক্টর অধ্যাপক এ এফ এম আরিফুর রহমানকে সদস্য-সচিব করা হয়েছে।
বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে নোবিপ্রবি রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ তামজিদ হোছাইন চৌধুরী জানান, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তদন্তের স্বার্থে এ সময়কালে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের দুই দিনব্যাপী কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাতীয় সংগীতের সময় ব্যাকগ্রাউন্ড ভিডিওর শেষ অংশে শেখ হাসিনার ছবি ভেসে ওঠে। বিষয়টি উপস্থিত অতিথিদের নজরে এলে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানান ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন। পরবর্তীতে পুনরায় শুধু অডিওর মাধ্যমে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়।
ঘটনাটিকে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের প্রতি অবমাননাকর এবং চাকরির শৃঙ্খলার পরিপন্থী হিসেবে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্টদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে ঘটনার বিষয়ে অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ও আয়োজকেরা জানান, অনুষ্ঠান আয়োজনের ব্যস্ততায় প্রজেক্টরে চালানো ইউটিউব ভিডিওটি আগে পর্যালোচনা করা হয়নি। এ কারণে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে এই ভুলটি ঘটে যায়।
আরটিভি/টিআর




