ঢাকা শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

শেষের পথে রাকসুর মেয়াদ, কতটা পূরণ হলো প্রতিশ্রুতি

রাবি সংবাদদাতা, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৩৭ পিএম
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (রাকসু) বিল্ডিং । ছবি: আরটিভি

দীর্ঘ ৩৬ বছর পর অনুষ্ঠিত হয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (রাকসু) নির্বাচন। নির্বাচন ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৈরি হয়েছিল নতুন আশাবাদ। প্রত্যাশা ছিল, নির্বাচিত ছাত্রসংসদ শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক, প্রশাসনিক ও শিক্ষার্থীসেবামূলক কার্যক্রমে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।

কিন্তু দায়িত্ব গ্রহণের প্রায় ১১ মাস পর প্রশ্ন উঠেছে, রাকসু কতটা সফল হয়েছে? নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতিগুলোর কতটুকু বাস্তবায়িত হয়েছে? শিক্ষার্থীরা কি তাদের কার্যক্রমে সন্তুষ্ট? দলীয় বা লেজুড়ভিত্তিক রাজনীতির ঊর্ধ্বে থাকার যে অঙ্গীকার করা হয়েছিল, বাস্তবে রাকসু কতটা তা ধরে রাখতে পেরেছে?

নির্বাচনের আগে বিভিন্ন প্যানেলের ইশতেহারে আবাসন সংকট নিরসন, পরিবহন ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন, প্রশাসনিক ডিজিটালাইজেশন, গবেষণা সহায়তা বৃদ্ধি, হলের খাবারের মানোন্নয়ন, সাংস্কৃতিক বিকাশ ও শিক্ষার্থী কল্যাণসহ নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। ফলে দীর্ঘদিন পর নির্বাচিত ছাত্রসংসদকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশাও ছিল অনেক বেশি।

গত বছরের ১৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত রাকসু নির্বাচনে ২৩টি পদের মধ্যে ২০টিতে জয় পায় ছাত্রশিবির-সমর্থিত ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’। তাদের মূল নির্বাচনী ইশতেহার ছিল ‘১২ মাসে ২৪ সংস্কার, ৭টি হ্যাঁ ও ৭টি না’। অন্যদিকে, স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচিত বর্তমান সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মারের ইশতেহারে পূর্ণাঙ্গ আবাসিকতা, আধুনিক মেডিকেল সেন্টার, প্রশাসনিক ডিজিটালাইজেশন, হল ডাইনিংয়ের মানোন্নয়ন ও পূর্ণাঙ্গ টিএসসিসি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার ছিল।

নির্বাচনের পর শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা ছিল, এসব প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাকসু একটি কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক ছাত্রসংসদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

যেসব উদ্যোগ দৃশ্যমান

দায়িত্ব গ্রহণের প্রায় ১১ মাসে রাকসুর বেশ কিছু উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের নজরে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে রাকসুর উদ্যোগে প্রশাসনের সহযোগিতায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণযন্ত্র স্থাপন, বিভিন্ন হলের পাঠকক্ষে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণযন্ত্র স্থাপন, বিশুদ্ধ পানির ফিল্টার বসানো, ক্যাম্পাসে প্রথমবারের মতো ফার্মেসি চালু, নারী উদ্যোক্তা মেলা ও থিসিস প্রণোদনা।

এছাড়া বিদেশি শিক্ষকদের অংশগ্রহণে সেমিনার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল নিরাপত্তা, তথ্য যাচাই, অ্যাপ তৈরি, ওয়েবসাইট তৈরি ও গবেষণা পদ্ধতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। জুলাই ম্যারাথন, বিনামূল্যে আইইএলটিএস প্রস্তুতি, খেলাধুলার আয়োজন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ভেন্যুর ফি কমানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

এসব উদ্যোগকে অনেক শিক্ষার্থী ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তবে তাঁদের অনেকে মনে করছেন, নির্বাচনে অন্যতম বড় প্রতিশ্রুতি ছিল আবাসন সংকট নিরসন। সেই তুলনায় দৃশ্যমান অর্জন এখনো সীমিত।

যেসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি

রাকসুর আলোচিত প্রতিশ্রুতিগুলোর অধিকাংশই এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। দীর্ঘদিনের অন্যতম দাবি ছিল আবাসন সংকটের সমাধান অথবা অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য ভাতা চালু করা। এ ছাড়া বাসের ট্রিপ ও রুট ব্যবস্থাপনা, মেডিকেল সেন্টারের সংস্কার, অন-ক্যাম্পাস চাকরির সুযোগ এবং পূর্ণাঙ্গ টিএসসিসি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতিও ছিল।

নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করা, নারী শিক্ষার্থীদের অধিকার সুরক্ষা, অপরাধ দমন, মেস নীতিমালা প্রণয়ন, গবেষণা অনুদান ও বৃত্তি বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়া প্রশিক্ষক নিয়োগ, হলগুলোর ইন্টারনেট সমস্যার সমাধান এবং প্রশাসনিক ডিজিটালাইজেশনের মতো প্রতিশ্রুতিগুলোর বেশির ভাগই এখনো আংশিক বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য।

প্রত্যাশা ও হতাশা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া

রাকসুর ১১ মাসের কার্যক্রম নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একাংশের মতে, নির্বাচনের সময় যেভাবে উচ্চাভিলাষী প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, বাস্তব অগ্রগতির সঙ্গে তার বড় ব্যবধান রয়েছে।

সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী আরিফ আলবী বলেন, দীর্ঘদিন পর ছাত্রসংসদ নির্বাচন হওয়ায় শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা অনেক ছিল। কিন্তু ১১ মাস পেরিয়ে গেলেও পরিবহন, আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা কিংবা হলের খাবারের মানে দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন হয়নি। শিক্ষার্থী হিসেবে মনে হয়, ইশতেহারের অনেক প্রতিশ্রুতিই বাস্তবায়িত হয়নি। অন্তত হলের খাবারের মান ভালো হবে, এমন আশা ছিল। কিন্তু সে জায়গায়ও আমরা হতাশ। বাকি সময়ে রাকসু নেতারা তাদের ইশতেহারগুলো কতটুকু বাস্তবায়ন করতে পারবেন, সেটাই এখন মুখ্য বিষয়।

ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মো. ফেরদৌস বলেন, রাকসু নির্বাচনকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের অন্যতম প্রত্যাশা ছিল, নির্বাচিত প্রতিনিধিরা আবাসন সংকট নিরসন, নিরাপদ ক্যাম্পাস বিনির্মাণ, মানসম্মত খাবার নিশ্চিতকরণ এবং নারী শিক্ষার্থীদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখবেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, নির্বাচনের প্রায় ১১ মাস অতিক্রান্ত হলেও ছাত্রসংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা ইশতেহার অনুযায়ী বেশ কিছু ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে পুরোপুরি ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছেন।

আইন বিভাগের শিক্ষার্থী জিহাদ হোসেন বলেন, রাকসুর কার্যক্রম দেখে মনে হয়েছে, তারা শিক্ষার্থীদের ইশতেহারের চেয়ে দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নেই বেশি মনোযোগী। প্রায় ১১ মাস হয়ে গেলেও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির উল্লেখযোগ্য অংশ এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।

তবে আরেক অংশের শিক্ষার্থীর মতে, দীর্ঘদিন পর ছাত্রসংসদ পুনরায় কার্যক্রম শুরু করায় প্রশাসনিক জটিলতা, আর্থিক সীমাবদ্ধতা ও নীতিগত অনুমোদনের কারণে সব প্রতিশ্রুতি অল্প সময়ে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়।

প্রশাসনিক ও আর্থিক সীমাবদ্ধতা

বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারের অনেক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য বড় অঙ্কের বাজেট, সিন্ডিকেটের অনুমোদন ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। ফলে এসব প্রতিশ্রুতির অনেকগুলো এককভাবে রাকসুর পক্ষে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়।

তাদের মতে, দীর্ঘদিন ছাত্রসংসদ অকার্যকর থাকায় বাস্তবতার তুলনায় কিছু নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল বেশ উচ্চাভিলাষী। ফলে প্রত্যাশা ও বাস্তবতার মধ্যে একটি ব্যবধান তৈরি হয়েছে।

বছরজুড়ে বিতর্ক

রাকসুর ১১ মাসের কার্যক্রমে বিভিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে আলোচনা-সমালোচনাও হয়েছে। বিতর্কিত মন্তব্য, হুমকি ও রাজনৈতিক অবস্থানসহ বিভিন্ন ঘটনায় আলোচনায় ছিলেন রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার।

আম্মার বলেন, আমি এখন শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি। আমার শিক্ষার্থীরা আমাকে কীভাবে দেখছে, সেটাই মূল বিষয়। তারা যদি আমার কোনো কর্মকাণ্ডকে ভুল হিসেবে দেখে, তাহলে আমি দুঃখিত। কে কী দেখছে, কোনো সুশীল সমাজ, এমপি-মন্ত্রী কিংবা রাজনৈতিক দল কীভাবে দেখছে—সেটা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়।

এছাড়া রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের নিউজ সংগ্রহ করে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। সাংস্কৃতিক সম্পাদক জাহিদ হাসান জোহাকে শহীদজননী জাহানারা ইমাম সম্পর্কে অশোভন মন্তব্যের অভিযোগেও সমালোচনার মুখে পড়তে হয়।

লেজুড়ভিত্তিক রাজনীতি থেকে কতটা মুক্ত রাকসু

নির্বাচনের আগে বিভিন্ন প্যানেলই ক্যাম্পাসে লেজুড়ভিত্তিক ছাত্ররাজনীতির বাইরে গিয়ে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচিত জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারও একই অঙ্গীকার করেছিলেন।

তবে গত ১১ মাসে বিভিন্ন ইস্যুতে রাকসুর অবস্থান নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। একাংশের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ইস্যুতে ছাত্রসংসদের অবস্থান দলীয় প্রভাবমুক্ত বলে মনে হয়নি। প্রশাসনের কিছু সিদ্ধান্তেও তারা প্রত্যাশিত দৃঢ়তা দেখাতে পারেনি বলে অভিযোগ রয়েছে।

অনেক শিক্ষার্থীর মতে, ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেল থেকে ভিপি, এজিএসসহ অধিকাংশ প্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ায় তাদের কিছু কার্যক্রমে দলীয় অগ্রাধিকারের প্রতিফলন দেখা গেছে।

ওপরদিকে, রাকসু নেতাদের দাবি, তারা দলীয় পরিচয়ের বাইরে গিয়ে শিক্ষার্থীদের স্বার্থেই কাজ করছেন। বিভিন্ন সিদ্ধান্তে প্রশাসনিক বাস্তবতা ও সীমাবদ্ধতাও বিবেচনায় নিতে হয়েছে বলে জানান তারা।

যা বলছেন ছাত্রসংসদ নেতারা

রাকসু নিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, হতাশা ও বাস্তবতা সম্পর্কে জানতে চাইলে রাকসুর সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, লাল ফিতার দৌরাত্ম্যের কারণে অনেক কাজ নির্ধারিত সময়ে করা সম্ভব হচ্ছে না। আগের উপাচার্যের সময়ে অনেক বিষয় গুছিয়ে ফেলেছিলাম। কিন্তু নতুন উপাচার্য দায়িত্ব নেওয়ার পর সেগুলো নিয়ে আবার নতুন করে কাজ শুরু করতে হয়েছে।

নিজের ইশতেহার বাস্তবায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে যেসব সমস্যার মুখোমুখি হয়েছিলাম, সেগুলোই ইশতেহারে তুলে ধরেছি। আমি কোনো অবাস্তব প্রতিশ্রুতি দিইনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অঙ্গ ও দপ্তর যদি সমন্বিতভাবে কাজ করত, তাহলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হতো।

তিনি বলেন, আমার ইশতেহারের অধিকাংশ প্রতিশ্রুতিই দীর্ঘমেয়াদি। আবাসন, মেডিকেল সেবার উন্নয়ন ও শিক্ষক মূল্যায়নের মতো বিষয়গুলো নিয়ে আলাদাভাবে কাজ করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আম্মার বলেন, আলোচনা-সমালোচনা থাকলেও প্রতিবছর রাকসু নির্বাচন হওয়া উচিত। রাকসু থাকলে শিক্ষার্থীদের কোনো নির্দিষ্ট ছাত্রসংগঠন বা দলের ওপর নির্ভর করতে হবে না। যখন রাকসু থাকবে না, তখন শিক্ষার্থীরা বুঝবে রাকসু কেন দরকার ছিল।

রাকসুতে শিবির-সমর্থিত ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোটের’ নির্বাচিত সহ-সভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, রাকসুকে শতভাগ সফল করার জন্য আমরা চেষ্টা করছি। আমরা আমাদের ইশতেহারের প্রায় ৭৩ শতাংশ কাজ সম্পূর্ণ করতে পেরেছি, আর বাকিটা করতে পারিনি।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের বড় চাহিদাগুলোর মধ্যে অন্যতম অনাবাসিক ভাতা। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৩৫ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় ২০ হাজারই অনাবাসিক। এ ছাড়া অনেক অসচ্ছল শিক্ষার্থী বিভাগীয় ফি, মেসের ভাড়া এমনকি খাবারের টাকাও জোগাড় করতে পারছেন না। আমরা অনাবাসিক ভাতার বিষয়ে কাজ করার কথা বলেছিলাম। তবে এটি বাস্তবায়নে প্রশাসনের সহযোগিতা প্রয়োজন। প্রশাসন বিষয়টিকে গুরুত্ব দিলে শিক্ষার্থীদের এই হতাশা অনেকটাই দূর করা সম্ভব হতো।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অসহযোগিতাকে দায়ী করে জাহিদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের চরমভাবে অসহযোগিতা করেছে। প্রথমে যেমন অসহযোগিতা করেছে, এখন সেটা আরও বেড়ে গেছে। অনাবাসিক ভাতা, মেডিকেল সংস্কার ও ডাইনিংয়ে খাদ্য ভর্তুকির ব্যাপারে আমরা প্রশাসনকে বারবার বলেছি। কিন্তু প্রশাসন এসব ব্যাপারে বারবার “ইগনোর পলিসি” অবলম্বন করছে। বিশেষ করে অনাবাসিক ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের ভাতা দেওয়ার ব্যাপারে কোনো ভ্রুক্ষেপই করছে না। দুই মাস ধরে রাকসুর কোনো অধিবেশন হচ্ছে না। এটা প্রতিনিধিদের জন্য চরম ভোগান্তির।

লেজুড়ভিত্তিক ছাত্ররাজনীতি থেকে রাকসু কতটা মুক্ত—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা রাকসুকে দলীয় লেজুড়বৃত্তি থেকে মুক্ত রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। আমরা ছাত্রশিবিরের প্যানেল থেকে নির্বাচিত হলেও আমাদের কাজগুলো দল-মত নির্বিশেষে সবার জন্য ছিল। কোনো দল বা মতকে আমরা বলিনি যে তাদের কোনো সেবা দেওয়া হবে না।

রাকসুর ১১ মাসের পথচলায় যেমন কিছু দৃশ্যমান উদ্যোগ রয়েছে, তেমনি অপূর্ণ প্রতিশ্রুতি নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন ও হতাশা। শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, প্রশাসনিক বাস্তবতা এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দাবির সমন্বয়েই ছাত্রসংসদের কার্যক্রমের মূল্যায়ন নিয়ে আলোচনা চলছে। মেয়াদের বাকি সময়ে বড় প্রতিশ্রুতিগুলোর কতটা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়, এখন সেদিকেই নজর শিক্ষার্থীদের।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
যবিপ্রবি শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে টার্গেট করে প্রতারণার চেষ্টা, দাবি করা হচ্ছে বড় অঙ্কের টাকা
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে প্রতারণার চেষ্টা করছে একটি চক্র। বিকাশ, নগদ ও রকেটের এজেন্ট কিংবা স্থানীয় দোকানদারের পরিচয় ব্যবহার করে ফোনে জাল নোট লেনদেনের অভিযোগ তোলা হচ্ছে। পরে থানায় মামলা করার হুমকি দিয়ে চক্রটি দাবি করছে বড় অঙ্কের টাকা।
যবিপ্রবি শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে টার্গেট করে প্রতারণার চেষ্টা, দাবি করা হচ্ছে বড় অঙ্কের টাকা
বেরোবিতে ‘নবম বাংলাদেশ মার্কেটিং দিবস’ উদ্‌যাপন
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) মার্কেটিং বিভাগের আয়োজন এবং ‘মার্কেটার্স ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ’ (এমআইবি)-এর উদ্যোগে জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে পালিত হয়েছে ‘নবম বাংলাদেশ মার্কেটিং দিবস’।
বেরোবিতে ‘নবম বাংলাদেশ মার্কেটিং দিবস’ উদ্‌যাপন
রাবিতে ব্যাডমিন্টন কোর্ট তৈরি নিয়ে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ
ব্যাডমিন্টন খেলার কোর্ট তৈরি নিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই বিভাগের তিন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী ভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে।  আহত শিক্ষার্থীরা হলেন— নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের মো. আলী চৌধুরী আবিদ ও শাওন এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের তানভীর হোসাইন। প্রত্যক্ষদর্শী ও দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভবনটির সামনে ব্যাডমিন্টন খেলার কোর্ট তৈরি নিয়ে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়।  এক পক্ষের দাবি, কয়েক দিন আগে তারা সেখানে কোর্ট তৈরির জন্য বাঁশ পুঁতে জায়গা নির্ধারণ করে রেখেছিলেন। পরে অন্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা একই জায়গায় কোর্ট তৈরির উদ্যোগ নিলে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। একপর্যায়ে কথাকাটাকাটি থেকে মারামারির ঘটনা ঘটে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের আহত এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, ঘটনার সময় অন্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা দলবদ্ধ হয়ে তাদের ওপর হামলা চালান। এ সময় ব্যাডমিন্টন কোর্টের বাঁশ দিয়ে তাকে আঘাত করা হয়। এতে তার নাক ও চোখের নিচে আঘাত লাগে এবং নাক দিয়ে রক্তপাত হয়। পরে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।  ওই শিক্ষার্থীর দাবি, কয়েক দিন আগে তারা সেখানে কোর্ট তৈরি করেছিলেন। অন্য পক্ষের কোর্ট তৈরির দাবির পক্ষে কোনো দৃশ্যমান চিহ্ন বা প্রমাণ ছিল না। অন্যদিকে নৃবিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা কোর্ট তৈরি করব বলে সেখানে বাঁশ পুঁতে জায়গাটি নির্ধারণ করে রেখেছিলাম। কিছুদিন আগে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অ্যালামনাই অনুষ্ঠানের কারণে সেখানে আরও কিছু বাঁশ পোঁতা হয়। পরে অনুষ্ঠান শেষে তাদের বাঁশের সঙ্গে আমাদের বাঁশও তুলে নেওয়া হয়। এরপর আমাদের নির্ধারিত জায়গায় তারা কোর্ট তৈরি করতে চায়। বিষয়টি জানালে তারা মেনে নেওয়ার কথা বলে।  ‘কিন্তু আজ আমাদের বিভাগের কয়েকজন জুনিয়র কোর্ট তৈরি করতে গেলে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ১৫-২০ জন শিক্ষার্থী তাদের সঙ্গে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে মারধর করেন। পরে প্রক্টর স্যার এসে বিষয়টি মীমাংসা করলে আমরা চলে যেতে চাই। এ সময় আবারও আমাদের ওপর হামলা করা হয়।’ এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক এএইচএম খুরশিদ আলম বলেন, এ ঘটনায় মোট তিন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজনের নাকে আঘাত লেগেছে, একজনের মাথায় সামান্য ক্ষত হয়েছে এবং অন্যজনের হাতে ব্যথা পেয়েছেন। আহতদের বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।  ‘হাতে আঘাত পাওয়া শিক্ষার্থীর হাড় ভাঙার আশঙ্কায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে এক্স-রে করানো হয়। তবে পরীক্ষার ফল স্বাভাবিক এসেছে। মাথায় আঘাত পাওয়া শিক্ষার্থীর ক্ষতেও ব্যান্ডেজ করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনজনই প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে নিজ নিজ আবাসস্থলে ফিরেছেন। তাদের কারও অবস্থা গুরুতর নয়।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক স্বপ্নিল রহমান বলেন, পরিস্থিতি শান্ত করতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষকদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আলোচনায় বসেছেন। এখনো ঘটনার চূড়ান্ত মীমাংসা হয়নি। আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি ঘটনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।  আরটিভি/এসআর  
রাবিতে ব্যাডমিন্টন কোর্ট তৈরি নিয়ে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ
অধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন নারী শিক্ষার্থীরা, ঘটনা কী
রাজধানীর গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্সের (সাবেক হোম ইকোনমিকস কলেজ) অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মেহেরুন্নেছার পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে প্রশাসনিক ভবনে তার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে একপর্যায়ে কক্ষে তালা দিয়ে তাকে অবরুদ্ধ করেন তারা। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত প্রায় আট ঘণ্টা ধরে অধ্যক্ষ কার্যালয়ের ভেতরে অবস্থান করছিলেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, একটি বিদায় অনুষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি চলায় দুই আবাসিক শিক্ষার্থীর আসন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে আসন ফিরিয়ে দেওয়ার শর্ত হিসেবে অডিটোরিয়ামের এক রাতের বিদ্যুৎ বিল বাবদ ১২ হাজার ৬০০ টাকা দাবি করা হয়। এসব সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে অধ্যক্ষের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে আন্দোলনে নামেন তারা। বিক্ষোভ চলাকালে শিক্ষার্থীদের ‘দফা এক দাবি এক, প্রিন্সিপালের পদত্যাগ’ এবং ‘প্রিন্সিপালের কালো হাত, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়। আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও কলেজ প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, পূজার ছুটির আগে কলেজ অডিটোরিয়ামে তিনটি আবাসিক হলের পাঁচ বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের মাস্টার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানটি রাত ১০টার মধ্যে শেষ করার নির্দেশনা থাকলেও শিক্ষার্থীদের অনুরোধে সময় বাড়িয়ে রাত ১২টা করা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠান শেষ হতে ভোর ৪টা থেকে ৫টা বেজে যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে অনুষ্ঠানের সমন্বয়কারী দুই শিক্ষার্থীর আবাসিক হলের আসন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেন অধ্যক্ষ। শিক্ষার্থীদের দাবি, পরে তারা অধ্যক্ষের কাছে ক্ষমা চাইতে গেলে আসন ফিরিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে এক রাতের এসি ও বিদ্যুৎ বিল বাবদ ১২ হাজার ৬০০ টাকা পরিশোধ করতে বলা হয়।  এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানাতে বৃহস্পতিবার সকালে অধ্যক্ষের কার্যালয়ে যান তারা। কলেজের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের মাস্টার্স প্রথম পর্বের শিক্ষার্থী তাবাসসুম বলেন, দুই শিক্ষার্থীর আসন বাতিলের সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক মনে করেই তারা প্রতিবাদ শুরু করেছেন।  আরটিভি/এসআর  
অধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন নারী শিক্ষার্থীরা, ঘটনা কী
বেরোবি কর্মকর্তাদের মারধরের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন 
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) উপাচার্যের কার্যালয়ে এক কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগের ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বেরোবি কর্মকর্তাদের মারধরের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন 
আরও পড়ুন
দ্রুত সময়ে রাকসু নির্বাচন আয়োজনের দাবি ছাত্রনেতাদের
ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে দপ্তর ছাড়লেন রাকসুর সাবেক জিএস আম্মার 
রাবিতে চার দিনব্যাপী পর্যটন মেলা ও ফুড ফেস্টিভ্যালের উদ্বোধন
এবার রাবি প্রশাসনকে ‘ননসেন্স ও গাম্বাট’ বললেন সালাহউদ্দিন আম্মার