
টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) স্মার্ট ক্যাম্পাস বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ২০২৩–২৪ শিক্ষাবর্ষের তিন শিক্ষার্থীর উদ্যোগে MIFARE DESFire EV3 প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট স্টুডেন্ট আইডি কার্ড সিস্টেম সফলভাবে ডেভেলপ ও বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
উচ্চ নিরাপত্তাসম্পন্ন এই স্মার্ট কার্ড শিক্ষার্থীদের পরিচয়পত্রের পাশাপাশি ডিজিটাল অথেনটিকেশন ও ক্যাশলেস লেনদেনের মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে। প্রকল্পের অংশ হিসেবে একটি পিওএস (POS) মেশিন এবং আধুনিক ডায়নামিক ওয়েব পোর্টালও তৈরি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ায় শিক্ষার্থীরা স্টুডেন্ট আইডি কার্ড ব্যবহার করে নগদ অর্থ ছাড়াই পেমেন্ট করতে পারবেন।
প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় লাইব্রেরি থেকে বই ইস্যু ও ফেরত, মেডিকেল সেন্টারে টপ-আপ ও চেক-ইন, ডিজিটাল উপস্থিতি, আবাসিক হলে প্রবেশ এবং খাবারের টোকেন ক্রয়সহ বিভিন্ন সেবাকে একই স্মার্ট কার্ডের আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রকল্পটির ব্যাকএন্ড লিড হিসেবে কাজ করেছেন নূর মাহমুদ উল আলম তাসিন, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট ও ইউআই/ইউএক্স ডিজাইন লিড হিসেবে মো. তাহের শেখ এবং হার্ডওয়্যার লিড হিসেবে অনিমেষ বড়ুয়া মুগ্ধ।
প্রকল্পের প্রিন্সিপাল ইনভেস্টিগেটর ছিলেন অধ্যাপক ড. এএসএম দেলোয়ার হোসাইন এবং কো-ইনভেস্টিগেটর ছিলেন অধ্যাপক ড. মতিউর রহমান ও অধ্যাপক ড. মেহেদী হাসান তালুকদার।
সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট ও ইউআই/ইউএক্স লিড মো. তাহের শেখের বাড়ি সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার খাগা গ্রামে। তিনি ২০২০ সালে এসএসসি এবং ২০২২ সালে ময়মনসিংহ সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। বর্তমানে তিনি সিএসই বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।
নিজের উদ্ভাবন সম্পর্কে তাহের শেখ আরটিভিকে বলেন, যেকোনো সমস্যাই নতুন সমাধানের পথ দেখায়। আমাদের ক্যাফেটেরিয়ায় লাঞ্চ টাইমে টোকেনের জন্য নগদ টাকা দেওয়া ও খুচরা ফেরত নেওয়ার কারণে প্রতিদিন দীর্ঘ লাইন তৈরি হতো। তখনই মনে হয়েছে, প্রযুক্তির মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। শিক্ষকদের সহযোগিতায় আমরা সিএসই ল্যাবেই POS মেশিন থেকে শুরু করে পুরো ক্যাশলেস সিস্টেম নিজেরাই তৈরি করেছি। আমাদের লক্ষ্য শুধু স্মার্ট পেমেন্ট নয়, একই কার্ডের মাধ্যমে হলের টোকেন, লাইব্রেরি, মেডিকেল সেন্টার ও উপস্থিতিসহ একটি পূর্ণাঙ্গ স্মার্ট ক্যাম্পাস গড়ে তোলা।
ব্যাকএন্ড লিড নূর মাহমুদ উল আলম তাসিনের বাড়ি রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার বালিয়াঘাট্টা গ্রামে। তিনি ২০২১ সালে হরিমোহন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ২০২৩ সালে নিউ গভর্নমেন্ট ডিগ্রি কলেজ, রাজশাহী থেকে এইচএসসি পাস করেন। বর্তমানে তিনিও সিএসই বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।
তাসিন বলেন, প্রকল্পের শুরুটা ছিল বেশ চ্যালেঞ্জিং। প্রথমে ড. মতিউর রহমান স্যারের পরামর্শে আমরা আইডিয়াটি আইসিটি ডিভিশনে পাঠাই, কিন্তু নতুন কম্পিউটার ইকুইপমেন্ট কেনার বাজেট না থাকায় সেটি অনুমোদন পায়নি। পরে স্যার নিজস্ব অর্থায়নে একটি প্রোটোটাইপ তৈরির সুযোগ দেন। সেই প্রোটোটাইপ উপাচার্যের কাছে উপস্থাপনের পর চূড়ান্ত বাস্তবায়নের জন্য অর্থায়ন পাওয়া যায়।
হার্ডওয়্যার লিড অনিমেষ বরুয়া মুগ্ধের বাড়ি চট্টগ্রামে। ২০২৩ সালে এইচএসসি পাস করে তিনি মাভাবিপ্রবির সিএসই বিভাগে ভর্তি হন।
মুগ্ধ বলেন, “প্রথম বর্ষে ক্যাফেটেরিয়ায় প্রতিদিন টোকেনের জন্য বিপুল পরিমাণ কাগজের অপচয় দেখে এই প্রকল্পের ভাবনা আসে। শুরুতে লক্ষ্য ছিল একটি ক্যাশলেস পেমেন্ট সিস্টেম তৈরি করা, পরে হলের টোকেন ব্যবস্থাও এতে যুক্ত করার পরিকল্পনা করি। তখনই বুঝতে পারি, এসব সেবার জন্য একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ব্যাকবোন প্রয়োজন—আর সেটিই আমরা তৈরি করেছি।
তিনি আরও বলেন, এই প্রকল্পের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এর স্কেলেবিলিটি। ভবিষ্যতে নতুন শিক্ষার্থীরা সহজেই এতে নতুন ফিচার যুক্ত করতে পারবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিচ্ছিন্ন ডিজিটাল সিস্টেম একটি কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্মে পরিচালিত হবে। হার্ডওয়্যার লিড হিসেবে আমি হার্ডওয়্যার ডিজাইন, থ্রিডি মডেলিং এবং সফটওয়্যার–হার্ডওয়্যার ইন্টারফেসিংয়ের কাজ করেছি।
উল্লেখ্য, গত ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের ১ নম্বর সভাকক্ষে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম, প্রো-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনিছুর রহমানকে সঙ্গে নিয়ে স্মার্ট স্টুডেন্ট আইডি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এ সময় ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের মাঝে স্মার্ট কার্ড বিতরণ করা হয়। একই অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরোনো ওয়ার্ডপ্রেসভিত্তিক ওয়েবসাইটের পরিবর্তে সম্পূর্ণ ডায়নামিক নতুন ওয়েব পোর্টালেরও উদ্বোধন করা হয়।
আরটিভি/এসআর


