
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সাথে মতবিনিময়ের লক্ষ্যে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) প্রশাসন থেকে পাঠানো ১১ সদস্যের শিক্ষক প্রতিনিধি তালিকা নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় বইছে।
বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্টার স্বাক্ষরিত চিঠি সুত্রে জানা যায়, সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সাথে মতবিনিময়ের জন্য জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিশেষ অবদান রাখা শিক্ষক সমাজের প্রতিনিধিদের তালিকা চেয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। এর ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে ১১ সদস্যের তালিকা ইউজিসির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক মোঃ গোলাম মোস্তফা বরাবর প্রেরণ করা হয়।
তবে তালিকাটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে জোর সমালোচনা শুরু হয়। জুলাই আন্দোলনের সক্রিয় সমন্বয়ক ও প্রতিনিধিরা অভিযোগ তুলেছেন এ তালিকাটি নিয়ে।
জুলাই আন্দোলনে অন্যতম আরমান হোসেন বলেন,আরমান হোসেন বলেন, এখানে যাদের নাম দেখতেছি ২/১জন ছাড়া তাদের কোনো অবদান ছিলো না এই জুলাইয়ে, থাকলে প্রমাণ দেখাক। বরং এই লিস্টে সেই সকল শিক্ষকদের নাম নেই যাদের থেকে আমরা অনেক সাপোর্ট পেয়েছি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনকে পরিষ্কার করতে হবে কিসের ভিত্তিতে তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হলো।
শামসুর রহমান সুমন বলেন, নিজের চোখে দেখা, নেতৃত্ব দেয়া জুলাইয়ের এত বড় বিকৃতি কখনোই মেনে নিতে পারবো না! ধিক্কার জানাই! বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এতটাও নিচে নামবেন ভাবতে পারি নাই। এই তালিকায় অধিকাংশ ব্যক্তি আছেন যারা আওয়ামী খোলস পাল্টিয়ে নব্য বিএনপি হয়েছেন, প্রশাসনিক পদ পদবি নিতে নিয়েছেন , সংবিধান সংশোধন কমিটি সংক্রান্ত্র মতবিনিময় সভায় অংশ নিতে পারেন, কোন আপত্তি নাই। কিন্তু "জুলাই গণঅভ্যুত্থানে" অবদান রেখেছেন এটা মানতে পারব না। অনতিবিলম্বে এই তালিকা প্রত্যাহার ও সংশোধন করুন।
ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিফাত রাফি বলেন, আজ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অবদান রাখা শিক্ষকদের তালিকা প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু কী মানদণ্ডে, কী প্রক্রিয়ায় এই তালিকা করা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নয়, এটি ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের ইতিহাস। তাই প্রকৃত অবদানকারীদেরই স্বীকৃতি দেওয়া হোক।"
বেরোবি শিবির সভাপতি রাকিব মুরাদ বলেন, জুলাই গনঅভ্যুত্থান নিয়ে বিকৃতি কোনভাবেই কাম্য নয়। জুলাইয়ে অবদান ছিল না এমন শিক্ষকের সংখ্যায় তালিকায় বেশি। এটাও প্রকাশ করুণ- জুলাইয়ে তাদের কি কি অবদান ছিলো নতুবা এই তালিকা আগে সংশোধন করতে হবে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার(অতিরিক্ত দায়িত্ব) ড.ফেরদৌস রহমানকে একাধিকবার ফোন দেয়া হলেও ফোন ধরেননি।
প্রেরণকৃত তালিকায় যে, ১১ শিক্ষক আছেন: অধ্যাপক মধ্যে থেকে ড. মো. মতিউর রহমান, ড. মো. ফেরদৌস রহমান , ড. মো. ইলিয়াছ প্রামানিক। সহযোগী অধ্যাপকদের মধ্যে ড. মো. তানজিউল ইসলাম, মাসুদ রানা, ড.মনিরুজ্জামান, মাসুদ উল হাসান। সহকারী অধ্যাকদের মধ্যে থেকে মোঃ ইউসুফ, ফারজানা জান্নাত তসি, ইফ্ফাত আরা বাধঁন, শরিফা আক্তার নিপা নামও রয়েছে।
আরটিভি/ এসকেডি


