ঢাকা বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩

৩০০ প্রার্থীর কেউই পাননি সুযোগ; রুয়েটে ইমাম নির্বাচন ঘিরে নানা অনিয়মের অভিযোগ

রুয়েট সংবাদদাতা, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৪৩ পিএম
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) : ছবি সংগৃহীত

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক হলের মসজিদে সম্প্রতি নিয়োগপ্রাপ্ত ইমামের বিরুদ্ধে অশুদ্ধ তিলাওয়াত, মাসআলা সংক্রান্ত ভুল, বেশি ছুটি কাটানো, অসময়ে আজান দেওয়াসহ রয়েছে নানা অনিয়মের অভিযোগ। বিষয়টি কেন্দ্র করে হল শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ ও বিভিন্ন প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। নিয়োগে অস্বচ্ছতা, প্রার্থীর যোগ্যতা এবং দায়িত্ব পালনে অনিয়মের অভিযোগে বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রশাসনিক ব্যাখ্যা দাবি করেছেন তারা।

জানা গেছে, প্রায় ৮ শতাধিক শিক্ষার্থীর আবাসিক হলটিতে দীর্ঘদিন স্থায়ী ইমাম না থাকায় শিক্ষার্থীরা নিজেরাই শুদ্ধভাবে তিলাওয়াতে পারদর্শীদের নিয়ে প্রায় ১বছর নিয়মিত ইমামতির দায়িত্ব পালন করাতেন। পরবর্তীতে হল মসজিদে স্থায়ী ইমাম নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হলে শিক্ষার্থীরা তাদের মতামত প্রশাসনের কাছে তুলে ধরেন।

এ বিষয়ে এমটিই বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের সাজিদ জানান, হল প্রশাসন তখন জানায়, হলের ফান্ডে অমুসলিম শিক্ষার্থীদের ফি অন্তর্ভুক্ত থাকায় প্রশাসনিক অনুমোদন ব্যতীত এবিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব না। তারই প্রেক্ষিতে আমরা ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম সরকার বরাবর ইমাম নিয়োগে লিখিত আবেদন করি। এতে কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকভাবে জানায়, রুয়েটে কেন্দ্রীয় মসজিদ থাকায় হল ভিত্তিক পৃথক ইমামের প্রয়োজন নেই। তবে শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দেন তারা।

এরপরও ২-৩ মাসে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় প্রায় ১৫০ শিক্ষার্থীর স্বাক্ষরসহ পৃথক আবেদন দেওয়া হয়। সেখানে প্রস্তাব করা হয়, শিক্ষার্থীদের থেকে মাসে ৫০-১০০ টাকা সংগ্রহ করে ইমামের ব্যয় বহন করা হোক। পাশপাশি ইমামের আবাসন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার অনুরোধও করা হয়।

এমন প্রেক্ষাপটে রুয়েট প্রশাসন তিনজন ইমাম ও দুইজন মুয়াজ্জিন নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। প্রায় ৪০০ আবেদনকারীর মধ্য থেকে ৩০০ জনকে পরীক্ষা বা ভাইভার জন্য প্রাথমিকভাবে বাছাই করা হয়। তবে আনুষ্ঠানিক নিয়োগ পরীক্ষার আগেই হঠাৎ হল মসজিদে নতুন একজনকে ইমামের দায়িত্ব দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ জানান শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে হল প্রশাসনের কাছে জানতে চাইলে শিক্ষার্থীদের জানানো হয়, নিয়োগের বিষয়টি তাদের পূর্বে জানানো হয়নি। ওপরের নির্দেশে ঐ ইমামকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং তার বেতন ও আবাসন ব্যয় হলের ফান্ড থেকে বহনের নির্দেশনা রয়েছে। এতে নির্ধারিত নিয়োগ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই কীভাবে তাকে দায়িত্ব দেওয়া হলো—প্রশ্ন শিক্ষার্থীদের।

উল্লেখ্য দায়িত্ব গ্রহণের পর ঐ ইমামের কিরাত, তাজবিদ ও নামাজ-সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মাসআলায় ভুল পরিলক্ষিত করে হল শিক্ষার্থীরা। এতে আপত্তি ওঠায়, হল প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে রাজশাহী নগরীর তালিমুদ্দীন একাডেমির দুই শিক্ষকের মাধ্যমে তার মান যাচাই করা হয় বলে জানা যায়।

কিন্ত মান যাচাইকরণের নথি অনুযায়ী, ১০০ নম্বরের মূল্যায়নে ঐ ইমাম মাত্র ৩১ নম্বর পেয়েছেন। এর মধ্যে কিরাতে ২৫ নম্বরে ১০, তাজবিদে ২৫ নম্বরে ৫ এবং মাসআলায় ৫০ নম্বরে ১৬ নম্বর পেয়েছেন। মূল্যায়নের প্রিন্ট ও সফট কপি প্রশাসনের কাছে ইতিমধ্যেই জমা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

তবে প্রশ্ন থেকেই যায়, যেখানে প্রায় ৩০০ প্রার্থীকে পরীক্ষা বা ভাইবারের জন্য বাছাই করা হয়, আনুষ্ঠানিক পরীক্ষার আগেই কী প্রক্রিয়ায় ইমাম নিয়োগ দেওয়া হলো? এদিকে তার মূল্যায়নে ফলাফলে পরিলক্ষিত হলে, নিয়োগ পূর্ববর্তী যাচাই-বাছাই নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন ধর্মপ্রাণ মুসলিম শিক্ষার্থীরা। বর্তমান ইমামের ধর্মীয় জ্ঞান ও প্রয়োজনীয় যোগ্যতা কীভাবে যাচাই করা হয়েছিল-তা প্রশাসনকে স্পষ্ট করার দাবি তাদের।

নিয়োগ বিষয় এবং হলের অন্যান্য অভিযোগের প্রতিকার চেয়ে শিক্ষার্থীরা টানা ২দিন উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করলেও ২য় দিনও মেলেনি অনুমতি। এ বিষয়ে পুরকৌশল বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের মুস্তাফিজ বলেন, আমরা ইমাম সাহেবের ভুলসমূহ এবং নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে গত ৫-৬ মাসে ২বার উপাচার্যের কাছে, ২বার ছাত্রকল্যাণ দপ্তরে এবং ৫-৬ বার হল প্রভোস্ট এর কাছে গিয়েছি; ইমাম সাহেবের সঙ্গে বসেছি, ছাত্রদের মতামত নিয়েছি; এসবের পিছনে আমাদের সম্মিলিতভাবে ১০০০ নিরেট ঘন্টার বেশি সময় অপচয় হয়েছে।

অন্যদিকে ঐ ইমামের দায়িত্ব পালনে অসঙ্গতিতে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম সপ্তাহের পর থেকে তিনি নিয়মিত আজান না দিয়ে শুধু নামাজের সময় আসতেন। ফলে বিভিন্ন ওয়াক্তে শিক্ষার্থীদেরই আজান দিতে হয়। কোনো ওয়াক্তে পূর্বঘোষণা ছাড়াই অনুপস্থিতি এবং সপ্তাহের শুক্র-শনি ২ দিন ছুটি কাটানোর বিষয়টিও জানান তারা।

এ প্রসঙ্গে যন্ত্রকৌশল বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ইকবাল জানান, এসব ছুটিতে প্রক্সি ইমাম হিসেবে একজন হল শিক্ষার্থীর নাম ও স্বাক্ষর ব্যবহার করে হল প্রশাসনে আবেদন করতেন। প্রথম সপ্তাহে ঐ শিক্ষার্থীর সম্মতি নিলেও পরবর্তী সপ্তাহগুলোতে তার অজ্ঞাতসারেই নাম ও রেফারেন্স ব্যবহার করেছেন ইমাম সাহেব।

আবাসন ও খাবার ব্যবস্থাপনার বিষয়ে হল শিক্ষার্থী সাজিদ জানান, ইমামের দায়িত্ব গ্রহণের শুরু থেকেই তার ছেলেসহ হলে কক্ষ বরাদ্দ এবং হল ডাইনিংয়ে বিনামূল্যে খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। কিন্ত যখন শিক্ষার্থীদের পৃথক অর্থায়নে ইমামের ব্যয় বহনের প্রস্তাব ও কেবল কক্ষের ব্যবস্থার অনুরোধ জানানো হয়, তখন সে প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়নি। অথচ পরবর্তীতে অস্বচ্ছতা প্রক্রিয়ায় নিয়োগ প্রাপ্ত ইমামের জন্য আবাসন ও খাবার উভয়ই ব্যবস্থাই কী প্রক্রিয়ায় করা হলো—এ নিয়ে প্রশাসনের ব্যাখ্যা স্পষ্ট নয়।

এছাড়াও সংশ্লিষ্ট ইমাম নিয়োগে হেফজ ও কারীয়ানা কোর্সের সনদ জমা এবং তার যোগ্যতা নিয়ে সন্দিহান হলে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চান মুসলিম শিক্ষার্থীরা। তখন ঐ ব্যক্তি কারীয়ানা কোর্স করতে হল প্রশাসনের কাছে প্রায় এক মাসের ছুটির আবেদন করেন বলে জানা যায়। অর্থাৎ তার নিয়োগে যোগ্যতা ও সনদ যাচাই না করার, প্রসঙ্গে আবারও প্রশ্নবিদ্ধ প্রশাসন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগের বিষয়ে শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. আল-আমিন-আল-আজাদুল ইসলাম জানান, যে ব্যক্তিকে ইমামের দায়িত্বে রাখা হয়েছিল তিনি এখন হল মসজিদে নেই। এছাড়াও উক্ত ব্যক্তিকে ইমামতির জন্য না রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সার্বিক বিষয়ে শিক্ষার্থীদের মূল দাবি, নিয়োগে যথাযথ প্রক্রিয়া, যোগ্যতা যাচাই, দায়িত্ব পালনে অসঙ্গতি এবং ইমামের সুবিধা প্রদানের বিষয়গুলো প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্বচ্ছভাবে ব্যাখ্যা করা হোক। একই সঙ্গে উত্থাপিত অভিযোগের নিরপেক্ষ যাচাই ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সামনের স্থায়ী ইমাম স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় যোগ্য ব্যাক্তিকে প্রত্যাশা করেছেন শিক্ষার্থীরা।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
চবিতে বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবসে হৃদরোগ-স্ট্রোক প্রতিরোধে নিয়মিত শরীরচর্চার তাগিদ
হৃদরোগ ও স্ট্রোক প্রতিরোধে নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপ এবং আক্রান্ত রোগীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে ফিজিওথেরাপি ও পুনর্বাসনের গুরুত্ব তুলে ধরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস ২০২৬ উদ্‌যাপিত হয়েছে।
চবিতে বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবসে হৃদরোগ-স্ট্রোক প্রতিরোধে নিয়মিত শরীরচর্চার তাগিদ
সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হাবিপ্রবির শিক্ষার্থী সেই জিতু মারা গেছেন
সড়ক দুর্ঘটনায় আহত দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) শিক্ষার্থী অনন্যা চৌধুরী জিতু সহপাঠী, শিক্ষক, সিনিয়র-জুনিয়র সকলকে কাঁদিয়ে পাড়ি জমিয়েছেন না ফেরার দেশে। 
সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হাবিপ্রবির শিক্ষার্থী সেই জিতু মারা গেছেন
কুবিকে একটি টেকসই ও পরিবেশবান্ধব বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করতে চাই: উপাচার্য
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে (কুবি) একটি টেকসই ও পরিবেশবান্ধব মডেল বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম।  তিনি বলেন, নতুন ক্যাম্পাসকে এমনভাবে গড়ে তুলতে চান, যাতে এটি দেশের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য একটি অনুসরণীয় মডেল হয়ে ওঠে। একই সঙ্গে নতুন ক্যাম্পাসকে ‘গ্রিন ক্যাম্পাস’ হিসেবে গড়ে তোলারও কথাও ইচ্ছে পোষণ করেন তিনি। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে অনুষ্ঠিত ‘ডেভেলপিং স্ট্র্যাটেজিক ফ্রেমওয়ার্ক ফর সাসটেইনেবল গ্রিন ক্যাম্পাস অব কুমিল্লা ইউনিভার্সিটি’ শীর্ষক একটি কর্মশালায় এসব কথা বলেন তিনি। আইকিউএসি’র পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সৈয়দুর রহমানের সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন। এছাড়া কর্মশালায় বিশেষজ্ঞ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ও সাবেক উপাচার্য ড. জসিম উদ্দিন আহমদ, রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ আহসান হাবিব, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. শফি মোহাম্মদ তারেক, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান শাখার সাবেক প্রধান অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ হারুণ চৌধুরী এবং অর্থনীতি শাখার সাবেক প্রধান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হায়দার এবং বিভিন্ন অনুষদের ডিন ও বিভাগের বিভাগীয় প্রধানবৃন্দ। বিশেষজ্ঞরা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই গ্রিন ক্যাম্পাসে রূপান্তরের লক্ষ্যে বর্জ্যব্যবস্থাপনা, বৃক্ষ রোপনের মাধ্যমে ক্যাম্পাস সবুজায়ন, আশেপাশের পর্যটনশিল্পের কারনে পরিবেশের উপর তৈরী চাপ কমাতে বিভিন্ন পরিকল্পনা প্রণয়নের দিক নির্দেশনা প্রদান করেন। অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম বলেন, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে নতুন ক্যাম্পাসকে শুধু নামেই নয়, বাস্তব অর্থেই একটি গ্রিন ক্যাম্পাসে পরিণত করা। তারই ধারাবাহিকতায় এ বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ক্যাম্পাসে প্রায় পাঁচ হাজার বৃক্ষরোপণ করেছি। আমরা প্রথম ক্যাম্পাসে পাহাড় ও প্রাকৃতিক ভূপ্রকৃতি যতটা সম্ভব অক্ষুণ্ণ রেখে স্থাপনা নির্মাণ ও আনুষঙ্গিক কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করে যাচ্ছি । তিনি আরও বলেন, আমরা নতুন ক্যাম্পাসে যাওয়ার ছয় মাস বা এক বছর আগে থেকেই পরিবেশবান্ধব ক্যাম্পাসের প্রস্তুতি গ্রহণ করতে চাই। প্রযুক্তির ব্যবহার, কার্যকর নীতিমালা, পর্যাপ্ত বাজেট এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি টেকসই ও পরিবেশবান্ধব মডেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করতে চাই, যা দেশের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের জন্যও একটি অনুসরণযোগ্য মডেল হতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘Learn, Create, Connect and Lead’ এই চারটি মূল দর্শনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষার্থীদের শুধু জ্ঞান অর্জন নয়, পরিবেশ ও সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবেও গড়ে তুলতে চাই। আরটিভি/এসআর
কুবিকে একটি টেকসই ও পরিবেশবান্ধব বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করতে চাই: উপাচার্য
নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাশবনে দুর্বৃত্তের আগুন
নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকের পাড়ে কাশবনে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাশবনে দুর্বৃত্তের আগুন
রাবি শিক্ষার্থীদের চিকিৎসাসেবায় অ্যাম্বুলেন্স উপহার দিল শাখা ছাত্রশিবির 
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীদের চিকিৎসাসেবা আরও সহজতর করতে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার পক্ষ থেকে একটি আধুনিক অ্যাম্বুলেন্স হস্তান্তর করা হয়েছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রের প্রধান চিকিৎসক ডা. মাফরূহা সিদ্দিকা লিপির কাছে অ্যাম্বুলেন্সটি হস্তান্তর করেন ছাত্রশিবিরের নেতৃবৃন্দ। অ্যাম্বুলেন্স হস্তান্তর শেষে রাবি শাখা ছাত্রশিবির সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল বলেন, মেডিকেল সংস্কারের জন্য ইসলামী ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে ২০২৫ সালের শুরুতেই সংস্কার প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছিল। শিবির সমর্থিত সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোটেরও মেডিকেল সংস্কার নিয়ে ইশতেহার ছিল। সেই উপলক্ষে আজকে আমাদের পক্ষ থেকে একটা অ্যাম্বুলেন্স বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে হস্তান্তর করলাম। আমরা মনে করি এর মধ্যে দিয়ে মেডিকেল সংস্কারের একটি ধাপ অতিক্রান্ত হলো। তিনি আরও বলেন, আমরা এর মধ্যে মেডিকেলে লজিস্টিক সাপোর্ট, বিশেষায়িত ডাক্তারের বিষয়ে বারবার প্রশাসন এবং মেডিকেলের পরিচালকের সাথে বসেছি। আশা করি মেডিকেলটি খুব দ্রুতই পূর্ণাঙ্গ মেডিকেলে রূপ নিবে। আমরা ইশতেহারে বলেছিলাম এখানে যেন ১০ শয্যার পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল করা হয়। আশা করি এই প্রশাসনের হাত ধরেই সেটি বাস্তবায়ন হবে। এ সময় ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সমাজসেবা সম্পাদক ও রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, আমরা রাবি শাখা ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে এই অত্যাধুনিক অ্যাম্বুলেন্সটি শিক্ষার্থীদের জন্য দিয়েছি। শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বড় একটা সমস্যা হচ্ছে মেডিকেল সেন্টারের সমস্যা। এই সমস্যা উন্নতির জন্য আমরা আজকে এই অ্যাম্বুলেন্সটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করেছি। আমরা দলমত নির্বিশেষে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যেই এই উপহারটা দিলাম। তিনি বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বোঝাতে চাচ্ছি যে, এ কাজগুলো করা দরকার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যেন এই কাজগুলোতে এগিয়ে আসে। শিক্ষার্থীদের কষ্টগুলো যেনো প্রশাসন বারবার দেখে। প্রতিষ্ঠার এত বছর পরও একটা পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল প্রতিষ্ঠা করতে না পারা এটা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বড় ব্যর্থতা। বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারের প্রধান কর্মকর্তা ডা. মাহফুজা সিদ্দিকা লিপি বলেন, রাজশাহী মেডিকেল অনেক কাছে হওয়ায় আমাদের সবসময় যাতায়াতের মধ্যেই থাকতে হয়। অনেক সময় দেখা যায় একটা অ্যাম্বুলেন্স রোগী নিয়ে যাওয়ার পর অ্যাম্বুলেন্সের সংকট দেখা যায়। এখন নতুন যে অ্যাম্বুলেন্সটি যুক্ত হলো এটাতে প্রশাসন একটা ড্রাইভার নিয়োগ দিলেই আমাদের আর সংকট থাকবে না। আমি তাদের পক্ষ থেকে একটা উপহার পেয়েছি এটা অবশ্যই শিক্ষার্থীদের কাজে লাগবে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলীম, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো. মামুনুর রশীদ, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এএইচএম খুরশীদ আলম, রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, রাবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল, সেক্রেটারি হাফেজ মেহেদী হাসানসহ অন্যান্যরা।  আরটিভি/এসআর
রাবি শিক্ষার্থীদের চিকিৎসাসেবায় অ্যাম্বুলেন্স উপহার দিল শাখা ছাত্রশিবির 
আরও পড়ুন
নিয়োগে অনিয়ম-দলীয়করণের প্রতিবাদে ইবিতে শিবিরের বিক্ষোভ
ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মতামতকে প্রাধান্য দিতে চাই: রুয়েট উপাচার্য
সবাইকে কাঁদিয়ে বিদায় নিলেন রুয়েটের রাফিদ
আধুনিক রোবোটিক্স নিয়ে সেরা গবেষণার স্বীকৃতি পেল রুয়েট