ঢাকা বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩

মারামারির ঘটনায় ইবি শিক্ষার্থীদের সংবাদ সম্মেলন, জানালেন ‘কঠিন সিদ্ধান্ত’

ইবি সংবাদদাতা, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:০৭ পিএম
ছবি: আরটিভি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) বাংলা ও আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যকার সংঘর্ষ ও মারামারির ঘটনায় সংবাদ সম্মেলন করেছে আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ঘটনার বিচার না হলে আমরণ অনশনে বসার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ইবনে সিনা ভবনের নিচতলায় ক্যাম্পাসে কর্মরত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বক্তব্য দেন আইসিটি বিভাগের ২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ, সিয়াম ও শামীম।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা জানান, বাসের আসন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে এর আগে উভয় বিভাগের সভাপতি ও কয়েকজন শিক্ষার্থীকে নিয়ে প্রক্টর দপ্তরে একটি মীমাংসা সভা হয়েছিল। সভা শেষে বের হওয়ার মুহূর্তেই তাদের ওপর অতর্কিত সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, ওদের (বাংলা বিভাগ) উদ্দেশ্য ছিল পুরোপুরি হত্যার। সেখানে আমরা মাত্র আটজন শিক্ষার্থী এবং তিনজন শিক্ষকসহ মোট ১১ জন ছিলাম। বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা আমাদের ওপর একটি মব কালচার সৃষ্টি করে নির্মমভাবে হত্যা করার চেষ্টা চালায়। তারা আরও জানান, হামলায় বারি নামের এক শিক্ষক গুরুতর আহত হয়েছেন এবং আরেকজন শিক্ষককে বুকে লাথি মারা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আস্থা রেখে শিক্ষার্থীরা বলেন, আজকের এই অতর্কিত হামলার পর প্রশাসন অতি অল্প সময়ের মধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রতিবেদন দিয়েছে এবং তিনজন শিক্ষার্থীকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করেছে। আমরা প্রশাসনের প্রতি দৃঢ় আস্থা রাখতে চাই।

তারা আরও বলেন, প্রশাসন যেন পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে কেবল প্রকৃত দোষীদেরই বিচারের আওতায় আনে। আমরা চাই না, এখানে কোনো তৃতীয় পক্ষের নাম জড়ানো হোক। এছাড়া, বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যানসহ অন্যান্য শিক্ষকদের প্রতি ধন্যবাদ জানাই, কারণ তারা অত্যন্ত আন্তরিক ছিলেন এবং ঘটনার মাত্র তিন ঘণ্টার মধ্যে তিনজনকে দোষী সাব্যস্ত করে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।

সাময়িক বহিষ্কার হওয়া শিক্ষার্থী ছাড়াও আরও কয়েকজনকে হামলার সঙ্গে জড়িত বলে শনাক্ত করেছেন আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, বাংলা বিভাগের ২১-২২ শিক্ষাবর্ষের আকো, ২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের চয়েজ কুমার ও রনি এই হামলায় জড়িত। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জন শিক্ষার্থী সন্ত্রাসী কায়দায় মারধর করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়।

হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে শিক্ষার্থীরা বলেন, যাদের আমরা শনাক্ত করতে পেরেছি এবং যারা এখনও বাইরে আছে, তাদের সবাইকে সুষ্ঠু বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। এটিই আমাদের একমাত্র দাবি। যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রশাসন ব্যর্থ হয়, তবে পুরো আইসিটি বিভাগ ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে আমরা আমরণ অনশনে যেতে বাধ্য হবো।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘গোধূলি’ নামের ডাবল ডেকার বাসে বাংলা ও আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও মারামারির ঘটনা ঘটেছিল। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ আনে। পরদিন বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দুই বিভাগের মীমাংসা সভা শেষে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। এতে দুই শিক্ষকসহ অন্তত পাঁচজন আহত হন। এই ঘটনার পর আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিকেল ৩টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক আটকে রেখে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।

আরটিভি/এসএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
রামেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ঘোষণা
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের তীব্র সংকট, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তাহীনতা এবং হাসপাতালের অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটি, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পক্ষ থেকে আগামীকাল বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে এ কর্মবিরতি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সংগঠনটির অভিযোগ, হাসপাতালের ভর্তি ওয়ার্ডগুলোতে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের তীব্র সংকট রয়েছে। পাশাপাশি রোগীর স্বজনদের অবাধ প্রবেশ এবং দায়িত্বরত আনসার সদস্যদের দায়িত্ব পালনে অবহেলার কারণে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের প্রতিনিয়ত অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ও সংঘবদ্ধ হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে। ইতোমধ্যে একাধিক ইন্টার্ন চিকিৎসককে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এমনকি রোগীর স্বজনদের হুমকির মুখে একজন নারী ইন্টার্ন চিকিৎসককে নিরাপত্তার স্বার্থে সাধারণ পোশাকে ওয়ার্ড ত্যাগ করতে হয়েছে বলেও জানিয়েছে সংগঠনটি। এ ছাড়া হাসপাতালের অবজারভেশন রুম ও ক্যাজুয়ালটি বিভাগ চালু না থাকায় ভর্তি ওয়ার্ডগুলোতে রোগীর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। ফলে সীমিত জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জাম নিয়ে রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের। ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দাবি, এসব সমস্যা সমাধানে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একাধিকবার আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত অসন্তোষ ও নিরাপত্তাহীনতার পরিপ্রেক্ষিতে তাঁরা কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ইন্টার্ন চিকিৎসকদের পাঁচ দাবি হলো ১. হাসপাতালের ভর্তি ওয়ার্ডগুলোতে পর্যাপ্ত ওষুধ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের সরবরাহ নিশ্চিত করা। ২. কর্মরত ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ৩. একজন রোগীর সঙ্গে সর্বোচ্চ দুজন স্বজনের হাসপাতালে প্রবেশের নিয়ম কার্যকর করা। ৪. রোগী ভর্তির দিন ও পরবর্তী দিন সংশ্লিষ্ট সব ওয়ার্ডে আনসার সদস্যদের সক্রিয় উপস্থিতি নিশ্চিত করা। ৫. অনতিবিলম্বে হাসপাতালের ক্যাজুয়ালটি বিভাগ চালু করা। ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটি জানিয়েছে, ঘোষিত কর্মবিরতির মধ্যেও দাবিগুলোর কার্যকর সমাধান না হলে পরবর্তী সময়ে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। আরটিভি/টিআর
রামেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ঘোষণা
‘বাইক চালানোর কারণে’ শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায় তরিকুলের, অতঃপর...
শ্বাসকষ্টজনিত কারণে মারা গেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তরিকুল ইসলাম। তার মৃত্যুতে বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তারা শোক প্রকাশ করেছেন। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে দ্রুত ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তরিকুলের বাড়ি চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলায়। তিনি ঝিনাইদহ শহরের পাগলা কানাই এলাকার একটি মেসে থাকতেন। পারিবারিক ও বিভাগীয় সূত্রে জানা গেছে, তরিকুল দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। এর আগে গত কোরবানির ঈদের সময় প্যানিক অ্যাটাকের কারণে তাকে তিন দিন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন থাকতে হয়েছিল। সে সময় চিকিৎসা শেষে তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও মঙ্গলবার আবার একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি ঘটে। শারীরিক জটিলতা বেড়ে গেলে সহপাঠী ও বন্ধুরা তাকে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে চিকিৎসকদের সর্বাত্মক চেষ্টা সত্ত্বেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। জার্নালিজম বিভাগের প্রভাষক জাকির হোসেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে শোক প্রকাশ করে লেখেন, তরিকুলের অকালপ্রয়াণে গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত। কিছু বিদায় মেনে নেওয়া খুবই কঠিন। মহান আল্লাহ তরিকুলকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। এ বিষয়ে কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক তন্ময় সাহা জয় বলেন, বিভাগের শিক্ষার্থী তরিকুলের মৃত্যুতে আমরা উদ্বিগ্ন। জানতে পেরেছি, এর আগেও তার এমন সমস্যা হয়েছিল। গতকাল বাইক চালানোর কারণে ঠান্ডা লেগে শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়। আজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আমরা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছি। আরটিভি/টিআর
‘বাইক চালানোর কারণে’ শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায় তরিকুলের, অতঃপর...
এক বছরেও শুরু হয়নি ছাত্রদল নেতা জোবায়েদ হত্যার বিচার
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ছাত্রদল নেতা জোবায়েদ হোসেন হত্যার এক বছর পূর্ণ হয়েছে। তবে এখনো শুরু হয়নি মামলার বিচার কার্যক্রম। সন্তান হত্যার বিচার দেখতে অপেক্ষার প্রহর গুনছেন তার বৃদ্ধ বাবা-মা।
এক বছরেও শুরু হয়নি ছাত্রদল নেতা জোবায়েদ হত্যার বিচার
জবিতে জিমনেসিয়ামের জন্য জায়গা বরাদ্দ, সরঞ্জাম কিনবে জকসু
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) জিমনেসিয়াম স্থাপনের জন্য জায়গা বরাদ্দ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সাজিদ ভবনের নিচে গ্যারেজের একটি অংশে এ জিমনেসিয়াম স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু)।
জবিতে জিমনেসিয়ামের জন্য জায়গা বরাদ্দ, সরঞ্জাম কিনবে জকসু
এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় নেওয়া হচ্ছে সেই রাবি শিক্ষার্থীকে
পূজার দাওয়াত খেয়ে ফেরার পথে ট্রাকের ধাক্কায় গুরুতর আহত হয়ে আইসিউতে থাকা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী চেসি ত্রিপুরাকে জরুরি ভিত্তিতে এয়ার এম্বুলেন্সে ঢাকায় স্থানান্তর করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।  
এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় নেওয়া হচ্ছে সেই রাবি শিক্ষার্থীকে
আরও পড়ুন
‘বাইক চালানোর কারণে’ শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায় তরিকুলের, অতঃপর...
স্কুলে মারামারি: সেই শিক্ষক দম্পতি দুই প্রান্তে বদলি
দুই প্রান্তে বদলি করা হলো অফিসকক্ষে মারামারি করা সেই শিক্ষক দম্পতিকে
স্কুলে প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষিকার মারামারি, ভিডিও ভাইরাল