
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) বাংলা ও আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যকার সংঘর্ষ ও মারামারির ঘটনায় সংবাদ সম্মেলন করেছে আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ঘটনার বিচার না হলে আমরণ অনশনে বসার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ইবনে সিনা ভবনের নিচতলায় ক্যাম্পাসে কর্মরত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বক্তব্য দেন আইসিটি বিভাগের ২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ, সিয়াম ও শামীম।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা জানান, বাসের আসন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে এর আগে উভয় বিভাগের সভাপতি ও কয়েকজন শিক্ষার্থীকে নিয়ে প্রক্টর দপ্তরে একটি মীমাংসা সভা হয়েছিল। সভা শেষে বের হওয়ার মুহূর্তেই তাদের ওপর অতর্কিত সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, ওদের (বাংলা বিভাগ) উদ্দেশ্য ছিল পুরোপুরি হত্যার। সেখানে আমরা মাত্র আটজন শিক্ষার্থী এবং তিনজন শিক্ষকসহ মোট ১১ জন ছিলাম। বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা আমাদের ওপর একটি মব কালচার সৃষ্টি করে নির্মমভাবে হত্যা করার চেষ্টা চালায়। তারা আরও জানান, হামলায় বারি নামের এক শিক্ষক গুরুতর আহত হয়েছেন এবং আরেকজন শিক্ষককে বুকে লাথি মারা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আস্থা রেখে শিক্ষার্থীরা বলেন, আজকের এই অতর্কিত হামলার পর প্রশাসন অতি অল্প সময়ের মধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রতিবেদন দিয়েছে এবং তিনজন শিক্ষার্থীকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করেছে। আমরা প্রশাসনের প্রতি দৃঢ় আস্থা রাখতে চাই।
তারা আরও বলেন, প্রশাসন যেন পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে কেবল প্রকৃত দোষীদেরই বিচারের আওতায় আনে। আমরা চাই না, এখানে কোনো তৃতীয় পক্ষের নাম জড়ানো হোক। এছাড়া, বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যানসহ অন্যান্য শিক্ষকদের প্রতি ধন্যবাদ জানাই, কারণ তারা অত্যন্ত আন্তরিক ছিলেন এবং ঘটনার মাত্র তিন ঘণ্টার মধ্যে তিনজনকে দোষী সাব্যস্ত করে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।
সাময়িক বহিষ্কার হওয়া শিক্ষার্থী ছাড়াও আরও কয়েকজনকে হামলার সঙ্গে জড়িত বলে শনাক্ত করেছেন আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, বাংলা বিভাগের ২১-২২ শিক্ষাবর্ষের আকো, ২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের চয়েজ কুমার ও রনি এই হামলায় জড়িত। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জন শিক্ষার্থী সন্ত্রাসী কায়দায় মারধর করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়।
হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে শিক্ষার্থীরা বলেন, যাদের আমরা শনাক্ত করতে পেরেছি এবং যারা এখনও বাইরে আছে, তাদের সবাইকে সুষ্ঠু বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। এটিই আমাদের একমাত্র দাবি। যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রশাসন ব্যর্থ হয়, তবে পুরো আইসিটি বিভাগ ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে আমরা আমরণ অনশনে যেতে বাধ্য হবো।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘গোধূলি’ নামের ডাবল ডেকার বাসে বাংলা ও আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও মারামারির ঘটনা ঘটেছিল। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ আনে। পরদিন বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দুই বিভাগের মীমাংসা সভা শেষে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। এতে দুই শিক্ষকসহ অন্তত পাঁচজন আহত হন। এই ঘটনার পর আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিকেল ৩টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক আটকে রেখে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
আরটিভি/এসএস




