
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) উপাচার্যের দপ্তরের ভেতরে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে কর্মকর্তাদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. রফিকুল ইসলামকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা ফোরামের সভাপতিসহ পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) রাতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলীর দপ্তরে এ ঘটনা ঘটে। এতে আহত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের বাম চোখের নিচ থেকে রক্ত ঝরতে দেখা যায়। পরবর্তীতে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, দুই শিক্ষকের মধ্যে অভ্যন্তরীণ চিঠি আদান-প্রদান নিয়ে আলোচনা চলছিল। এ সময় রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। একপর্যায়ে তাকে কথা বলতে নিষেধ করা হলে কর্মকর্তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। পরে তা মারামারিতে গড়ায়।
এ বিষয়ে আহত কর্মকর্তা বাংলা বিভাগের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. রফিক ইসলাম বলেন, মজনু স্যার ও ইউসুফ স্যারের বিষয়ে বিভিন্ন বিষয়ে চিঠি পাঠানো নিয়ে কথা চলছিল। এ সময় আমি বলি, এসব চিঠি কারা পাঠায়। তার একটা বিহিত করা দরকার। যাতে পরবর্তীতে এরকম না ঘটে। মজনু স্যার নাকি ইউসুফ স্যারের বিরুদ্ধে চিঠি পাঠিয়েছে। সেখানে জীবন স্যার মজনু স্যারকে সহায়তা করেছে।
আলোচনার এক পর্যায়ে তারেক বললেন, আপনি সিনিয়র-জুনিয়র বুঝেন না। সিনিয়র সিনিয়রের জায়গায় থাকবে জুনিয়র থাকবে জুনিয়রের জায়গায়। এর পরবর্তীতে জিয়া আমাকে মারতে চলে আসেন। তিনি প্রথমে ঘুষি মারেন। এরপর রোকন ও জিয়া এসে একসঙ্গে মারতে শুরু করেন।
তিনি আরও বলেন, পরিকল্পিত ও অতর্কিতভাবে ভাবে এসে জিয়া, তারেক, মামদুদুর, রোকনুজ্জামান, লাবু এরা আমাকে মারে। ভিসি স্যারের সামনে কথা হচ্ছিল।
মারধরের অভিযোগে অভিযুক্ত কর্মকর্তারা পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, দুই শিক্ষকের মধ্যে একটি বিষয় নিয়ে কথা হচ্ছিল। এ সময় কর্মকর্তা রফিক শিক্ষকদের কথার মাঝখানে কথা বলায় আমরা তাকে কথা বলতে নিষেধ করি। পরে তিনি আমাদের দিকে আক্রমণাত্মকভাবে এগিয়ে আসেন। তখন আমরা তাকে বাধা দিই। একপর্যায়ে তার সঙ্গে আমাদের ধাক্কাধাক্কি হয়। তবে আমাদের মধ্যে কোনো মারামারির ঘটনা ঘটেনি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, এ বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সিদ্ধান্ত হলে জানানো হবে।
আরটিভি/এসএস


