
আর্থিক সংকটে থাকা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা অব্যাহত রাখতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) পরিবারের যাকাত ও কল্যাণ তহবিলের উদ্যোগে ৫৬ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেওয়া হয়েছে। নবমবারের মতো আয়োজিত এ বৃত্তি কার্যক্রমে বিভিন্ন বিভাগের নানা ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তার জন্য নির্বাচিত করা হয়।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান ভবন-২-এর নিচতলায় সমাজকর্ম বিভাগের ১০১ নম্বর শ্রেণিকক্ষে বৃত্তি বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষার্থীদের হাতে বৃত্তির বরাদ্দপত্র তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন বলেন, এ উদ্যোগের তাৎপর্য কেবল আর্থিক সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে শিক্ষার্থীদের প্রতি আন্তরিকতা ও সহমর্মিতা। বৃত্তির অর্থের পরিমাণ তুলনামূলক কম হলেও শিক্ষার্থীদের জীবনে এর গুরুত্ব অনেক বেশি।
তিনি বলেন, বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা প্রত্যেকেই জীবনসংগ্রামী। প্রতিকূলতার সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে যারা সফলতা অর্জন করতে পারে, তারাই ভবিষ্যতে দেশ ও জাতির কল্যাণে ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। তাই বাধা অতিক্রম করে শিক্ষার্থীদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তহবিল সূত্রে জানা গেছে, দুই ক্যাটাগরিতে মোট ৫৬ শিক্ষার্থীকে এ বৃত্তির আওতায় আনা হয়েছে। ‘এ’ ক্যাটাগরিতে ১৪ জন শিক্ষার্থী দুই কিস্তিতে তিন হাজার টাকা করে মোট ছয় হাজার টাকা এবং ‘বি’ ক্যাটাগরিতে ৪২ জন শিক্ষার্থী দুই কিস্তিতে দুই হাজার টাকা করে মোট চার হাজার টাকা পাবেন। অনুষ্ঠানে বৃত্তিপ্রাপ্ত তিন শিক্ষার্থী নিজেদের অনুভূতি তুলে ধরেন এবং এ উদ্যোগের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
যাকাত ও কল্যাণ তহবিলের সভাপতি এবং সমাজকর্ম বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোস্তফা হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. শাওলী মাহবুব। বৃত্তিপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করেন তহবিলের সদস্য সচিব ও রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আবদুল আউয়াল।
এ সময় তহবিলের কমিটির সদস্য পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আশরাফ-উল-আলম এবং উপপরিচালক (ফান্ড ও বাজেট) খন্দকার হাবিবুর রহমান বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সমাজকর্ম বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মামুনুর রশীদ শেখ।
সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, তহবিলের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হলে ভবিষ্যতে অধিকসংখ্যক শিক্ষার্থীকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে আর্থিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা অব্যাহত রাখার সুযোগ তৈরি হবে।
আরটিভি/এমএম



