
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম প্রায় ২৪ ঘণ্টা ধরে উপাচার্য ভবনে অবরুদ্ধ রয়েছেন। সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর ১২টা থেকে তিনি ভবনটির ভেতরে অবস্থান করছেন। এ অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে বুকে ব্যথা অনুভব করার কথা চিকিৎসকদের জানিয়েছেন তিনি। তবে চিকিৎসকদের পরীক্ষায় তার রক্তচাপের পরিমাপে ভিন্নতা দেখা গেছে।
সোমবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে চুয়েটের চিকিৎসাকেন্দ্রের চিকিৎসকদের তালাবদ্ধ উপাচার্য ভবনে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়। এ সময় কয়েকটি গণমাধ্যমের প্রতিনিধিও ভবনের ভেতরে প্রবেশ করেন। তবে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও উপাচার্যের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে না পেরে প্রথমে ফিরে যান কর্তব্যরত চিকিৎসক।
পরে দুপুর দেড়টার দিকে উপাচার্য পুনরায় চিকিৎসক দেখানোর আগ্রহ প্রকাশ করলে চুয়েটের চিকিৎসাকেন্দ্রের চিকিৎসক ডা. মো. সাহাবউদ্দিনকে সেখানে নেওয়া হয়। তিনি উপাচার্যের নাড়ির স্পন্দন ও রক্তচাপ পরীক্ষা করেন।
ডা. সাহাবউদ্দিন বলেন, আমি তার নাড়ির স্পন্দন ও রক্তচাপ মেপে দেখেছি। বর্তমানে তা স্বাভাবিক রয়েছে। তিনি আমার কাছে বুকে ব্যথা অনুভবের কথা বলেননি। হাসপাতালে যাওয়ারও ইচ্ছা প্রকাশ করেননি।
এরপর দুপুর ২টার দিকে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. টিবলু কান্তি দে উপাচার্যের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। এ সময় তিনি উপাচার্যের নাড়ির স্পন্দন ও রক্তচাপ পরিমাপ করেন। বুকে ব্যথা অনুভব করছেন কি না, জানতে চাইলে উপাচার্য তাকে জানান, সকাল ১০টা থেকে তার বুকে ব্যথা হচ্ছিল, তবে ধীরে ধীরে তা কমে এসেছে।
এ সময় উপাচার্য আরও জানান, তিনি নিয়মিত রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ওষুধ সেবন করেন না। তবে কোন ওষুধ সেবন করেন, তা জানতে চাইলে ওষুধটির নাম স্মরণ করতে পারেননি।
পরীক্ষার সময় ডা. টিবলু কান্তি দে প্রথমে উপাচার্যের রক্তচাপ ১৪০/১০০ মিলিমিটার পারদচাপ (মিমি পারদ) পান বলে জানা যায়। পরে ভবনের বাইরে এসে তিনি রক্তচাপ ১৫০/১০০ মিমি পারদ বলে জানান। একইসঙ্গে উপাচার্যের বুকে ব্যথা অনুভবের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
দুই দফায় স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর রক্তচাপের পরিমাপ ও উপাচার্যের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্যে ভিন্নতা দেখা দেয়। এ কারণে শিক্ষার্থীরা পুনরায় স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা করেন। পরে চুয়েটের চিকিৎসাকেন্দ্রের চিকিৎসক ডা. মো. সাহাবউদ্দিন এবং রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. টিবলু কান্তি দে’কে আবারও উপাচার্যের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে পাঠানো হয়।
দ্বিতীয় দফায় পরীক্ষার সময়ও দুই চিকিৎসকের পরিমাপে কিছুটা পার্থক্য দেখা যায়। রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক উপাচার্যের ডান হাতে রক্তচাপ ১৪৫/১০০ মিমি পারদ পরিমাপ করেন। অন্যদিকে, চুয়েটের চিকিৎসক ডা. সাহাবউদ্দিন একই হাতে রক্তচাপ পান ১৩৯/১০০ মিমি পারদ।
বাম হাতে রক্তচাপ পরিমাপের ক্ষেত্রেও দুই চিকিৎসকের ফলাফলে পার্থক্য পাওয়া যায়। রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকের পরিমাপে উপাচার্যের রক্তচাপ ছিল ১৩৫/১০০ মিমি পারদ। বিপরীতে, চুয়েটের চিকিৎসক ডা. সাহাবউদ্দিনের পরিমাপে তা ছিল ১২০/৮০ মিমি পারদ।
দীর্ঘ সময় ধরে ভবনে অবরুদ্ধ থাকা, বুকে ব্যথার কথা জানানো এবং রক্তচাপের পরিমাপে চিকিৎসকদের মধ্যে পার্থক্য দেখা দেওয়ায় উপাচার্যের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
আরটিভি/এমএম



