
রাজধানীর মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন ও সংঘর্ষের মধ্যে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগামী দুই দিন অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি (বিএমইউ) স্টুডেন্টস প্ল্যাটফর্ম।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) প্রকাশিত এক স্মারকলিপিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি এ দাবি জানানো হয়।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, টানা তিন দিন ধরে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেও শিক্ষার্থীদের সশরীরে ক্লাসে উপস্থিত থাকতে হচ্ছে। এর মধ্যে গত সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের পদ্মা ভবনে বহিরাগতদের হামলার ঘটনা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপের অভাবেও হতাশা প্রকাশ করেছে প্ল্যাটফর্মটি।
এদিকে, মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় তৈরি পোশাকশ্রমিকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে চলমান আন্দোলন ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। মঙ্গলবার সকালেও মিরপুর-১১ নম্বর এলাকায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এ সময় টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়। সংঘর্ষের কারণে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, মিরপুর ১০, ১১, ১১.৫ ও ১২ নম্বর এলাকায় চলমান বিক্ষোভ, হামলা ও সংঘর্ষের কারণে শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন যাতায়াত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ ছাড়া টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেডের ব্যবহারে কয়েকজন শিক্ষার্থী সাময়িকভাবে আহত হয়েছেন বলেও উল্লেখ করা হয়।
বাংলাদেশ নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছ থেকে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেছে প্ল্যাটফর্মটি। বর্তমান পরিস্থিতিতে সে ধরনের পদক্ষেপের অভাব হতাশাজনক বলেও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।
এ অবস্থায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগামী দুই দিন অনলাইনে ক্লাস চালুর দাবি জানিয়েছে প্ল্যাটফর্মটি। একই সঙ্গে পরিস্থিতি স্থিতিশীল হওয়া এবং নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত হওয়ার পর সশরীরে ক্লাস পুনরায় চালুর আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের জীবন ও নিরাপত্তা সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক বিবেচনার ঊর্ধ্বে। নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো আপস করা যায় না।
আরটিভি/ এসকেডি


