
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটির (আইইউডিএস) সভাপতির বিরুদ্ধে নিয়মবহির্ভূত কমিটি গঠন ও অর্থ গোপনের অভিযোগ প্রমাণিত হলেও কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ সংগঠনটির সদস্যরা। সংগঠনটির মডারেটর ও সহকারী মডারেটরের এমন ‘একপাক্ষিক’ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আলোচনাস্থল ওয়াকআউট করেছে সাদ্দাম হোসেন হল ডিবেটিং সোসাইটি। অন্যদিকে উদ্ভূত এ পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য হল ডিবেটিং সোসাইটি।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল ডিবেটিং সোসাইটির অফিশিয়াল পেইজ থেকে এসব তথ্য জানা যায়।
সাদ্দাম হোসেন হল ডিবেটিং সোসাইটি সূত্রে জানা গেছে, ইবি ডিবেটিং সোসাইটির বর্তমান সভাপতির বিরুদ্ধে নিয়মবহির্ভূতভাবে কমিটি গঠন ও অর্থের তথ্য গোপনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া সত্ত্বেও মডারেটর ও সহকারী মডারেটর একপাক্ষিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। এ সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সংগঠনটি অনুষ্ঠান ও কার্যক্রম থেকে ওয়াকআউটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র বলছে, মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটির অফিসে কার্যনির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় সংগঠনের সভাপতি ইয়াছিন আলীর বিরুদ্ধে নিয়মবহির্ভূত কমিটি গঠন, অর্থ গোপন-সহ আনীত নানা অভিযোগ নিয়ে আলোচনা হয়। এতে নিয়মবহির্ভূত কমিটি গঠন, অর্থের তথ্য গোপনের অভিযোগ প্রমাণিত হলেও অভিযুক্ত ইয়াছিনকে ভবিষ্যতে দায়িত্ব অবহেলা বা সাংগঠনিক দায়িত্বে গাফিলতি না করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় বলে জানা গেছে। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক এক-পাক্ষিক সিদ্ধান্ত দাবি করে সভা ওয়াকআউট করে সাদ্দাম হোসেন হল ও জুলাই-৩৬ হল ডিবেটিং সোসাইটির প্রতিনিধি।
এদিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটির এমন অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে শাহ আজিজুর রহমান হল ডিবেটিং সোসাইটি ও লালন শাহ হল ডিবেটিং সোসাইটি।
শাহ আজিজুর রহমান হল ডিবেটিং সোসাইটির পক্ষ থেকে বলা হয়, ইবি ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ও মডারেটরের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অচলাবস্থায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে। এরকম পরিস্থিতির দীর্ঘায়ন আইইউডিএস ও হল ডিবেটিং সোসাইটিগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা সৃষ্টি করতে পারে, যার প্রভাব পড়তে পারে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক বিতর্ক অঙ্গনে। তাই পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে সংকটের সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য সমাধানের আহ্বান জানাচ্ছে শাহ আজিজুর রহমান হল ডিবেটিং সোসাইটি।
একইভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করে লালন শাহ হল ডিবেটিং সোসাইটি জানায়, অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া সত্ত্বেও গৃহীত সিদ্ধান্ত একপাক্ষিক হওয়ায় বিতর্ক অঙ্গনে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। বিতর্ক অঙ্গনের সুশৃঙ্খল পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্টদের দ্রুত কার্যকর ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
এবিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী মডারেটর সাদিউর রহমান বলেন, মিটিং-এ উপস্থিত ছিলাম। নানান বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ‘বিস্তারিত পরে জানাবো’ বলে মুঠোফোন ফোন কেটে দেন তিনি।
একপাক্ষিক সিদ্ধান্তের অভিযোগ প্রসঙ্গে ইবি ডিবেটিং সোসাইটির মডারেটর অধ্যাপক ড. জুলফিকার আলী বলেন, একপাক্ষিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগ উঠলে দ্বিপাক্ষিক সিদ্ধান্ত বলতে কী বোঝায়? দুজন সদস্য সিদ্ধান্তের সাথে একমত না হয়ে চলে যাওয়া তাদের ব্যক্তিগত বিষয়। আইইউডিএস-এর (IUDS) সঙ্গে হলগুলোর সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই। কারো কথামতোই মতামত দিতে হবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। এক্সিকিউটিভ বডি ও মডারেটর প্যানেল বিচার-বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অতীতে অনিয়ম হয়ে থাকলেও এখন মডারেটর ও অ্যাসিস্ট্যান্ট মডারেটররা ওয়াচডগ হিসেবে কাজ করবেন।
টাকা আত্মসাতের বিষয়ে তিনি বলেন, দুই-তিন মাস টাকা দিচ্ছে না, চাচ্ছে কিন্তু দিচ্ছে না। সেটা হতে পারে, সে দেবে না, দিচ্ছে না। একে কি আত্মসাৎ বলব? ইয়াসিন আলী আমার কে? তো আমার তো কাউকে বাঁচানোর কিছু নেই।
ওয়াকআউট ও অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মিটিং থেকে ওয়াকআউট করা সদস্যদের অধিকার। ব্যক্তিগত কোনো অভিযোগ থাকলে তা বিভাগ, প্রক্টরিয়াল বডি বা স্টুডেন্ট অ্যাডভাইজারের কাছে জমা দেওয়া যেতে পারে; সেখানে দোষ প্রমাণিত হলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর ইয়াসিন আলী আমাদের দায়িত্ব নেওয়ার আগে কমিটিতে যুক্ত হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ থাকায় আমরা তাকে সতর্ক করেছি এবং ভবিষ্যতে সবার মতামত নিয়ে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছি।
হল ডিবেটিং সোসাইটির উদ্বেগ প্রকাশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দুজন সদস্য ৫০ জনকে একত্র করে উদ্বেগ প্রকাশ করতেই পারে। কিন্তু দুজনের কথায় সংগঠন চললে বছরজুড়ে ঝামেলা লেগে থাকবে এবং কাজ ব্যাহত হবে। যার ক্ষোভ প্রকাশের সে করবেই, তবে সংগঠনবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ড চোখে পড়লে অবশ্যই প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরটিভি/এমএম


